23/08/2026
MSS-এর সহায়তায় অভাবকে জয় করে স্বাবলম্বী পারভীন বেগম
একসময় রেলবস্তিতে বসবাস করা রংপুর সদর উপজেলার পারভীন বেগমের পরিবারের জীবন ছিল নানা অভাব ও অনিশ্চয়তায় ভরা। সংসারের দৈনন্দিন খরচ মেটানোই ছিল কঠিন। সীমিত আয়ের কারণে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে তাকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হতো।
এই কঠিন সময়ে পারভীন বেগমের পাশে দাঁড়ায় মানবিক সাহায্য সংস্থা। MSS-এর কাছ থেকে তিনি প্রথমে ৩০,০০০ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। সেই অর্থ দিয়ে তিনি ফুটপাতে পেঁয়াজু, সিঙ্গারা ও পিঠার ছোট ব্যবসা শুরু করেন।
ছোট পরিসরে শুরু করা এই ব্যবসাই ধীরে ধীরে তার পরিবারের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়। কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য এবং ব্যবসার প্রতি আন্তরিকতার মাধ্যমে পারভীন বেগম তার আয় বাড়াতে সক্ষম হন। একসময়ের অভাব-অনটনের জীবন থেকে ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন একজন স্বাবলম্বী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা।
ব্যবসা থেকে অর্জিত আয়ের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের সংসার পরিচালনাই করছেন না, বরং পরিবারের ভবিষ্যৎও গড়ে তুলছেন। তার উপার্জনের অর্থ দিয়ে ছেলের জন্য একটি অটোরিকশা কিনে দিয়েছেন। বর্তমানে ছেলে অটোরিকশা চালিয়ে আয় করছেন এবং পারভীন বেগমের ব্যবসার আয় মিলিয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থারও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
আজ পারভীন বেগমের সংসারে আগের মতো অভাব-অনটন নেই। নিজের পরিশ্রম ও MSS-এর আর্থিক সহায়তাকে কাজে লাগিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন—সঠিক সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে একজন সাধারণ মানুষও নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিবারের ভবিষ্যৎকে আরও নিরাপদ করতে পারেন।
তার এই পথচলা শুধু একজন নারী উদ্যোক্তার সাফল্যের গল্প নয়; এটি আত্মনির্ভরতা, পরিশ্রম এবং সঠিক সময়ে পাওয়া সহায়তার মাধ্যমে একটি পরিবারের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।
পারভীন বেগমের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—একটি ছোট উদ্যোগও একটি পরিবারের জীবনে বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।