22/02/2024
ঈদ অর্থ ও ঐতিহাসিক তথ্য
----------------------মুফতী মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ী
'ঈদ'(عید)আরবী শব্দ।‘আউদুন’ (عود) মাসদার থেকে এসেছে (মেরকাত শরহে মেশকাত- ৩/৪৭৭) যার অর্থ ফিরে আসা। আভিধানিক অর্থ ما یعاود مرۃ بعد اخر “একের পর এক যা বারবার আসে।” শাব্দিক অর্থ হলো ‘বারবার ফিরে আসা’ (عَادَ-يَعُوْدُ-عِيْدًا) এ দিনটি বারবার ফিরে আসে বলেই 'ঈদ' নামকরণ হয়েছে। ইতিহাসে আরবে 'ঈদ' খুশি, আনন্দ, অনুষ্ঠান, উৎসব, মৌসুম, প্রত্যাবর্তন, প্রত্যাগমন ও ঋতু উৎসব ইত্যাদি অর্থেই প্রচলিত হয়ে আসছে। আরবের ধর্ম-বর্ণের সর্বজনীন শব্দও বটে। শব্দের মূল রূপ হলো আওদ, যার অর্থ ফিরে আসা। (আনওয়ারুল মিশকাত - ৩/৬০৫)। 'ঈদে'র পারিভার্ষিক অর্থ আরবদের কাছে 'ঈদ'এমন সময়কে বুঝূয় , যে সময় আনন্দ ও দুঃখ ফিরে আসে। (লিসানুল আরব, ইবনে মুনজির : ৬/৫১০)। এছাড়াও অভিধানে আরো বলা হয়েছে, 'ঈদ' এমন দিনকে বলা হয়, যাতে লোকজনের সমাগম হয় বা কোনো সম্মানিত ব্যক্তি অথবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনার স্মৃতিচারণা করা হয়। (আল মুনজিদ পৃ. ১০৩৮)। উল্লেখ্য মুসলিম উম্মার মধ্যে বছরে যে দুটি দিবসকে ( ফিতর-আযহা) আনন্দ ও উৎসবের দিবস হিসেবে পালন করে থাকে, তাকেও ইসলামি পরিভাষায় 'ঈদ' বলা হয় (আনওয়ারুল মিশকাত-৩/৬০৫)। আরো একটি মত হচ্ছে আরবের প্রচলিত সাধারণ 'ঈদ' শব্দকে ফিতর এবং আযহাকে ইসলামে 'ঈদ' নামকরণ করার কারণ হলো, তা প্রত্যেক বছরে ফিরে আসে।
বিভিন্ন সূত্রের আলোকে আমরা বুঝলাম 'ঈদ' ইসলামি বিধান বা শরীয়ায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পূর্বেও আরবে 'ঈদ' শব্দটির ব্যাপক প্রচলন ছিলো। তখন 'ঈদ' শব্দের সাথে ধর্ম বা ইসলামের সম্পৃক্ততা ছিলোনা। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায়ে মোকাররমা থেকে মদিনায়ে মনোয়ারে হিজরত করার পর নতুন আঙ্গিকে তিনি ঈদের প্রবর্তন করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা মদিনায় পৌঁছে দেখতে পান যে মদিনায় বসবাসকারীরা শরতের পূর্ণিমায় নওরোজ উৎসব ও বসন্তের পূর্ণিমায় মেহেরজান উৎসব উদযাপন করছে। তারা এ উৎসবগুলোতে নানা আয়োজন, আচার-অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন আনন্দ উৎসব করে থাকতো। নূরনবী সরকারে কাইয়্যিনাত মুসলমানদের এ দুটি উৎসব পালন করতে নিষেধ করেন। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ সোবহানাহু তা'য়ালা তোমাদের ঐ উৎসবের বিনিময়ে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মতো পবিত্র দুটি দিন দান করেছেন। এতে তোমরা পবিত্রতার সঙ্গে উৎসব পালন করো। আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খাতামুন্নাবী রাউফুর রাহীম যখন মদিনায় আগমন করেন, তখন তাদের দুটি দিন ছিল, ঐ নিদিষ্ট দিনে তারা উৎসব পালন করত। তিনি জিজ্ঞেস করেন, এ দুটি কিসের দিন? তারা বলল, আমরা জাহেলি যুগে এ দুই দিন খেলাধুলা ইত্যাদি উৎসব পালন করতাম। এ নিয়মই চলে আসছে। তখন রাসূলে মাকবুল বলেন, মহান আল্লাহ তোমাদের জন্য এ দুটির পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন। তা হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা (নাসায়ি, হাদিস : ১৫৫৬, আবু দাউদ, হাদীস ( ১১৩৪)। ঈদের নামাজ প্রবর্তিত হওয়ার সময় সম্পর্কে দুটি অভিমত পাওয়া যায়-আদ-দুররুল মুখতার গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে প্রথম হিজরিতে ঈদের নামাজের বিধান প্রবর্তিত হয়েছে। বেশির ভাগ আলেমের মতে, দ্বিতীয় হিজরিতে তার বিধান প্রবর্তিত হয়। মুসলমানরা মদিনায় প্রথম ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়ে দ্বিতীয় হিজরি মোতাবেক ৬২৪ খ্রিস্টাব্দের ৩০ বা ৩১ মার্চ। এই অভিমতই অধিক যুক্তিযুক্ত। কেননা দ্বিতীয় হিজরির শাবান মাসে রোজা ফরজ হয়। এ হিসাবে দ্বিতীয় হিজরিতেই ঈদের নামাজের বিধান প্রবর্তিত হয়। (মেরকাত শরহে মেশকাত : ৩/৪৭৭; আনওয়ারুল মিশকাত : ৩/৬০৫; আল বিদায়া ওয়ান নেহায়া : ৫/৫৪)। তখনকার ঈদে বর্তমান ঈদের মতো নতুন জামাকাপড়, কেনাকাটার ধুমধাম ছিল না। তবে আনন্দ-খুশি কম ছিল না। মহানবী ঈদের দিন ছোট-বড় সবার আনন্দের প্রতি খেয়াল করতেন। মদিনার ছোট ছোট শিশু-কিশোরের সঙ্গে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আনন্দ করতেন। ইসলামের অন্তর্ভুক্ত সব আনন্দ করার অনুমতি দিতেন।
মূলত পুরো এক মাস রোজা রাখা ও তারাবি পড়ার পর ঈদের দিন আল্লাহ রোজাদারদের তাদের মেহনতের সওয়াব ও পুরস্কার দান করবেন। জাহান্নামিদের তালিকা থেকে তাদের নাম মুছে দেবেন। তাই রোজাদাররা খুশি হয়ে শুকরিয়াস্বরূপ দান-সদকা করে এবং ঈদের নামাজ আদায় করে। এই নামাজকে নবীজি এতটাই গুরুত্ব দিতেন যে ইসলামের শুরু যুগে নারী ও শিশুদেরও ঈদগাহে নিয়ে যাওয়া হতো। এমনকি ঋতুমতী নারীও ঈদগাহে উপস্থিত হয়ে এক পাশে অবস্থান করত। ইমাম তাহাবি রহঃ বলেন, ইসলামের শুরুতে মহিলাদের ঈদের জামাতে অংশগ্রহণের অনুমতির প্রেক্ষাপট হলো যাতে ইসলামের শত্রুদের কাছে মুসলমানদের সংখ্যা অধিক মনে হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আর তাদের জন্য ঈদগাহে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল না। আয়েশা রাঃ বলেন, যদি রাসুলে আকরাম শাফিউল মাশহার জীবিত থাকতেন, তাহলে এ জামানায় মহিলাদের মসজিদে নামাজ পড়ার জন্য যাওয়ার অনুমতি দিতেন না। (মুয়াত্তা ইমাম মালেক,পৃ. ১৮৪ - দরসে তিরমিজির সূত্রে)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল আনসারি রহঃ বলেন, আমাদের সময়ে দুই ঈদের জন্য যুবতী নারীদের বের হওয়ার প্রচলন ছিল না। (আল আওসাত ৪/৩০২; উমদাতুল কারী ৩/৩০৫)। একমাসে রোজার কষ্টের পর, ফেতরার দায়িত্ব পালনের পর আসে ঈদুল ফিতরের আনন্দ। আবার কোরবানির ত্যাগ, হজ্বের কষ্টের পর আসে ঈদুল আযহার আনন্দ। আর জীবনে বারবার কষ্টের পর আনন্দ ফিরে আসে, এটাই কিন্তু ঈদের প্রকৃত শিক্ষা।
سَيَجۡعَلُ اللّٰهُ بَعۡدَ عُسۡرٍ يُّسۡرًا
আল্লাহ কষ্টের পর সুখ দেবেন ( সূরা তালাক,আয়াত-৭ )।
إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا
নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে ( সূরা ইনশিরাহ, আয়াত-৬)।
প্রাসঙ্গিক আরো একটি বিষয় পরিস্কার হওয়ার জন্য বলা। ঈদুল ফিতর(রমযানের ঈদ) রমযানের পরে ঈদুল ফিতর আসে ।এটাকে ঈদ এ কারনে বলা হয় যে,বান্দা এক মাস রোযা রাখার পর আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বান্দাকে ঈদগাহে নামায শেষে পুরস্কার দান করবেন এবং আল্লাহর রেযামন্দী ফেরেস্তাদের মাধ্যমে প্রকাশ করেন;এ জন্য ঐ দিন বান্দাদের জন্য ‘আনন্দের দিন’, ‘খুশির দিন’ তথা ‘ঈদের দিন’ ঈদুল আযহা (কোরবাণীর ঈদ) কোরবানীর মাধ্যমে যেহেতু বান্দা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে এবং আল্লাহ তায়ালার নেয়ামত স্বীকৃতি জানায় আর আল্লাহ তায়ালাও এর প্রতিফলন দিয়ে থাকে।সেহেতু ঈদুল আযহাও কোরবানীর ঈদ হিসেবে সাব্যস্থ।এটা বান্দার আমলের বিনিময়ে হয়। সাপ্তাহিক ঈদ (জুমারদিন) প্রাগুপ্ত আমলী দু’ঈদ ছাড়াও অনেক ঈদ রয়েছে, তন্মধ্যে জুমার দিন মুসলমানের জন্য ‘সাপ্তাহিক ঈদ’। যা জুমার নামাযের মাধ্যমে পালিত হয়। মাসয়ালা-জুমা দিবস-ই ঈদে মিলাদুন্নাবী প্রবর্তনের অন্যতম দলীল। ঈদ ও আযহা দুটিই আরবী শব্দ। ঈদ অর্থ আনন্দ; আর আযহা অর্থ নৈকট্য অর্জন। অতএব ঈদুল আযহা অর্থ হলো নৈকট্য অর্জনের আনন্দ। ঈদুল আযহার দিনে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎসর্গকৃত পশুকে কোরআনে কুরবান নামে অভিহিত করা হয়েছে। হাদীসে কুরবান শব্দের পরিবর্তে উযহিয়াহ ও যাহিয়া শব্দ দুটি রয়েছে। যার অর্থ নৈকট্য। আর আযহা শব্দটি এসেছে উযহিয়াহ ও যাহিয়া শব্দ থেকে। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ কৃত পশু অর্থাৎ উযহিয়াহ ও যাহিয়া এর নামে এই দিনের নামকরণ করা হয়েছে ঈদুল আযহা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করলেন তখন মদীনাবাসীদের মধ্যে বিশেষ দুটি দিবস ছিল, যে দিবসে তারা খেলাধুলা করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন এ দু’টি দিনের তাৎপর্য কী? মদীনাবাসীরা উত্তর দিল আমরা জাহেলী যুগ থেকে এ দু’দিনে খেলাধুলা করে আসছি। তখন রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ দু’দিনের পরিবর্তে এর চেয়েও উত্তম দুটি দিন তোমাদেরকে দান করেছেন। আর সেই দিন দু’টি হল : ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর।
আরো বিস্তারিত করে যদি বলি, ইসলামি শরীয়াতে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা ছাড়াও আরো বহু ঈদের অস্তিত্ব রয়েছে ।
عن حضرت عبيد بن السباق رضي الله عنه مرسلا قال قال رسول الله صلي الله عليه و سلم في جمعة من الجمع يا معشر المسلمين ان هذا يوم جعله الله عيدا
অর্থ : হযরত ওবায়িদ বিন সাব্বাক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেন, হাবীবুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক জুমুয়ার দিন বলেন, হে মুসলমান সম্প্রদায় ! এটি এমন একটি দিন যাকে মহান আল্লাহ তা'য়ালা 'ঈদ' স্বরূপ নির্ধারণ করেছেন
(মিশকাত, ইবনে মাজাহ ও মুয়াত্তা ইমাম মালেক)।
আরো বর্ণিত হয়েছে-
عن حضرت عبيد بن عباس رضى الله تعالى عنه انه قرا اليوم اكملت لكم دينكم الاية وعنده يهودى فقال لو نزلت هذه الاية علينا لاتخذناها عيدا فقال ابن عباس رضى الله تعالى عنه فانها نزلت فى يوم عيدين قى يوم جمعة ويوم عرفة
অর্থাঃ “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি একদা-“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিলাম”
اليوم اكملت لكم دينكم
এ আয়াত শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন । তখন তিনার নিকট এক ইহুদী ছিল সে বলে উঠলো, “যদি এমন আয়াতে কারীমা আমাদের ইহুদী সম্প্রদায়ের প্রতি নাযিল হতো, আমরা আয়াত নাযিলের দিনটিকে ঈদের দিন হিসেবে ঘোষণা করতাম ।” এটা শুনে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু বললেন, এ আয়াত সেই দিন নাযিল হয়েছে যেদিন এক সাথে দু’ঈদ ছিল-জুমুয়ার দিন এবং আরাফার দিন” ( তিরমিযী শরীফ )। উপরোক্ত হাদীসে নবীবি-এ জুমুয়ার দিন ও আরাফার দিন অর্থাৎ ৯ই যিলহজ্জের দিনকে ঈদের দিন বলা হয়েছে। অন্য হাদীসে রাসূলে এসেছে মাহবুবে রাব্বুল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
لكل مؤمن في كل شهر اربعة اعياد اوخمسة اعياد
অর্থঃ মু’মিন মুসলমানদের প্রতি মাসে চারটি অথবা পাঁচটি ঈদ রয়েছে। অর্থাৎ প্রতিমাসে চারটি অথবা পাঁচটির সাথে সোমবারকেও ইঙ্গিত করে ঈদের দিন বলা হয়েছে (কিফায়া শরহে হিদায়া ২য় খন্ড বাবু সালাতিল ঈদাইন, হাশিয়ায়ে লখনবী আলাল হিদায়া)।
অন্য হাদীসে মুস্তফা সাল্লাহু তা'য়ালা আলাইহিতে উল্লেখ বর্ণিত হয়েছে-
للصاءم فر حتان فرحة عند فطره و فرحة عند لقاء ربه
অর্থঃ রোযাদারের জন্য দুটি ঈদ বা খুশি । একটি হলো তার প্রতিদিনের ইফতারের সময় । আর অন্যটি হলো মহান আল্লাহ সোবহানাহু তা'য়ালার সাক্ষাতের সময় ( বুখারী, মুসলিম, মিশকাত)। উপরোক্ত হদীস নববীসমূহ দ্বারা জানা গেল যে, শুক্রবার দিন, সোমবার দিন এবং আরাফার দিন এবং প্রতি রোযাদারের রোযা রাখার দিনটি হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর জন্য ঈদ যেভাবে হাদীস শরীফের দ্বারা প্রমাণিত ঠিক সেভাবেই তৃতীয় ঈদ হিসেবে “জুমুয়ার দিন আর চতুর্থ ঈদ হিসেবে সোমবারকে পঞ্চম ঈদ হিসেবে আরাফার দিন হাদীস দ্বারায় প্রমাণিত । সুতরাং ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা ছাড়াও বছরে প্রায় ১৭৭/১৮০ টি ঈদ রয়েছে । আর তা হচ্ছে বছরে "৫২টি শুক্রবার, ৫২টি সোমবার, রমাযান ৩০টি, বাকী ১১ মাসের প্রতিমাসে ৩ টি করে ৩৩ টি, যিলহজ্জের ১ম ৯ দিন ৯টি, মুহাররর মাসে ২টি, পহেলা রজব ১টি, ২৭ শে রজব ১টি, ১৫ই শা’বান ১টি অর্থাৎ ১৮০টি ঈদ রয়েছে । যা সবগুলোই হাদীস দ্বারা প্রমাণিত ।”
শাব্দিক দৃষ্টিতে মিলাদের অর্থ হল জন্ম সাল (ইসমে জরফে জামান)। আর বর্তমান মিলাদের অর্থ হুজুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শুভাগমনের দিনকে স্মরণ করে ঐ তারিখ বা ঐ মাসে বা যে কোন সময়ে অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে আনন্দ উদযাপন করা।এ মিলাদ,মৌলুদ বা মিলাদুন্নাবী অনুষ্ঠান যেহেতু যুগযুগ ধরে পালিত হয়ে আসছে তাই একে “ঈদে মিলাদুন্নাবী”নামে নামকরণ করা হয়েছে। সামগ্রিক অর্থ ঈদ মানে খুশি,আনন্দ,প্রসন্নতা,যা বার বার আসে ইত্যাদি।সুতরাং মিলাদুন্নাবী যেহেতু বছরের চাকা ঘুরে শান্তির বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে বার বার আবির্ভূত হয়;সেহেতু একে “ঈদে মিলাদুন্নাবী” নামে নামকরণ অধিক যুক্তিসঙ্গত। ঈদে মিলাদুন্নাবী অর্থ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার শুভাগমন উপলক্ষে খুশি উদযাপন করা। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার শুভাগমনকে নেয়ামত হিসেবে গ্রহণ করা এবং আহাম্মদ মুহাম্মাদ মুস্তফা হাবীবে কিবরিয়া সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার শুভ আগমন সম্পর্কে আলোচনা করা। ইসলামি শরীয়তে অনেক প্রকার ঈদ রয়েছে। যথাঃ- ঈমানী ঈদ, আমলী ঈদ, সাপ্তাহিক ঈদ, ‘যে ঈদের সাথে মুসলিম উম্মার ঈমানের সম্পর্ক রয়েছে;সেটাই ঈমানী ঈদ’ ঐ ঈদের মাধ্যমে ঈমানের বাগানে সজীবতা আসে এবং ঐ ঈদ পালনের মাধ্যমে ঈমানী জজবা সৃষ্টি হয়।এ ঈমানী ঈদের নাম “পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নাবী ” হযরত ফারুকে আযম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
من عظم مولد النبی صلی اللہ تعالی علیہ و سلم فقد احی السلام
“যে মিলাদুন্নাবী কে মহামর্যাদার সাথে পালন করে এবং যথাযথ সম্মানের মাধ্যমে সমর্থন করে,সে যেন ইসলামকে জিন্দা করল (সুবহানাল্লাহ)।”
কেননা মিলাদুন্নাবী’র মাধ্যমে ইসলাম জিন্দা ও মুসলমানের মধ্যে এক অনাবিল আনন্দ উৎসাহ ও প্রেরণার সৃষ্টি হয়। সুতরাং ঈদ মিলাদুন্নবী সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার অর্থৎ রাহমাতুল্লিল আ'লামীনের আবির্ভাবের দিনকে অস্বীকার করে তাদের সাথে দ্বীন-ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই এবং তারা নবীর উম্মত দাবী করলেও তা মিথ্যা দাবীর শামিল। ফলে ঈমানদারদের সাথে উক্ত বিষয়ে বিতর্ক সৃষ্টিকারীদের কোন সম্পর্ক থাকাটা সমীচীন না এটাই শরীয়তের ফায়সালা। অন্যান্য আমলী ঈদ মুসলামানের জীবনে শুধু দুই ঈদ নয়,বরং অনেক ঈদ (খুশির দিবস) রয়েছে। প্রাপ্ত ঈদগুলোও ছাড়াও অন্যান্য আমলী ঈদ হচ্ছে, সন্তানের জন্মের দিন (ঈদের দিন), বিবাহের দিন (ঈদের দিন), পরীক্ষা পাশের দিন(ঈদের দিন), চাকরী পদপ্রাপ্তির দিন(ঈদের দিন), সম্মানী পদপ্রাপ্তির দিন(ঈদের দিন), দেশ ও মাতৃভূমি স্বাধীনতা লাভের দিন(ঈদের দিন), কলেমা পড়ে ঈমান নিয়ে ইহকাল ত্যাগের দিন(ঈদের দিন)। আল্লাহর বান্দা যে দিন কলেমা পড়ে ঈমান নিয়ে ইহকাল ত্যাগ করবে ঐ দিনই তার জন্য খুশী বা ঈদের দিন।
আশা করি লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে একটু চিন্তা করলে ঈদের বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝে আসবে। এছাড়াও ঈদের অর্থ ও ঐতিহাসিক তথ্যের পর্যালোচনায় ঈদের সার্বজনীনতা এবং ধর্মীয় দিক পরিস্কার করার চেষ্টা করেছি লেখায়। ইসলামি বিধানে ঈদের প্রবর্তন কেনো তাও বুঝতে কষ্ট হবে বলে মনে হয়না। কেননা লেখাটির মধ্যে তথ্য ও তত্ত্বের ভিত্তিতে ঐতিহাসিক সূত্র তোলে ধরা হয়েছে। আয় আল্লাহ সোবহানাহু তা'য়ালা আমরা যেনো ইজমের শিকার হয়ে যেকোন সঠিক বিষয় থেকে পদচ্যুত না হয়। আপনি আপনার হাবীবের সদকায় আমাদের সে তাওফিক দান করুন আমীন ছুম্মা আমীন।
লেখকঃ
সভাপতি, বাংলাদেশ সোস্যাল অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম