18/09/2025
"(হে মানুষ!) এরপর কিসে তোমাকে কৰ্মফল দিবস সম্পর্কে অবিশ্বাসী করে? আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক নন?"
- সূরা ত্বীন : (৭, ৮)
জীবনে যতো যাই হয়ে যাক না কেনো, একমাত্র আল্লাহর ফয়সালার অপেক্ষা করুন। ধৈর্য ধরে সময় নিয়ে আল্লাহর হিসেব অনুযায়ী তাঁর বিচারের অপেক্ষা করুন। আল্লাহর বিচার ভয়ঙ্কর কঠিন, যা আপনার-আমার ধারণার বাহিরে। কেউ আপনার ক্ষতি করেছে বলেই তার পাল্টা শোধ নিতে যাবেন না। এই দায়িত্ব আমাদের না। যার যার কর্মের হিসেব রাখার জন্য আল্লাহ যেমন প্রত্যেকের দুই কাঁধে দুই ফিরিশতা দিয়ে রেখেছেন, তেমনি 'আল্লাহ' তিনি নিজেই সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক হয়ে হাশরের মাঠে কঠিন বিচারের ব্যবস্থা রেখেছেন। আমরা কারো নির্ভুল বিচার করার বা প্রাপ্য শাস্তি দেওয়ার কতটুকুই বা ক্ষমতা রাখি? বরং সবকিছুর ভার আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিন। সময় নিন আর দেখুন কি হয়? মানুষের কর্মফল আল্লাহ কিছুটা হলেও দুনিয়াতেই ভোগ করিয়ে ছাড়েন, সাথে আখিরাতের চিরস্থায়ী ভোগান্তি তো থাকবেই। কারো সাথে যদি এক সরিষা পরিমাণ ও প্রতারনা করেছেন, বেইমানি করেছেন, বিশ্বাস ঘাতকতা করেছেন, মুনাফিকি করেছেন, কারো হক নষ্ট করেছেন, আপনার মধ্যে যদি বিন্দু পরিমাণ ও ঈমান থেকে থাকে তাহলে এর শাস্তি আপনি পাবেনই। আর যাদের ঈমান নেই তারা তো সরাসরি চিরস্থায়ী জাহান্নামি হবেন, ওদের কথা ভিন্ন। কিন্তু বিশ্বাস করুন কাউকে ঠকানোর শাস্তি, কষ্ট দেওয়ার শাস্তি দুনিয়াতে যখন পেতে শুরু করবেন তখন দুনিয়াটা কবরের চেয়েও ভয়াবহ রুপ ধারণ করবে।
"আর সীমালংঘনকারীদের জন্য আখেরাতে কোনো সাহায্যকারী থাকবে না।"
- সুরা মায়েদা : ৭২
আল্লাহ সর্বোচ্চ ক্ষমাশীল হওয়া সত্ত্বেও মানুষের সাথে মানুষের এসকল লেনদেন হাশরের মাঠে ততক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমা করবেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহর এক বান্দা অপর বান্দাকে ক্ষমা করবে। আর আপনি কিনা ভাবছেন কারোর জীবনে চরম ক্ষতি করা সত্ত্বেও সে চুপচাপ আছে বলেই আপনি পার পেয়ে গেছেন, তাহলে সত্যিই বোকার স্বর্গে বাস করছেন। জানেন তো একের পাপে দশে ভোগে। আপনি আজকে যেই অন্যায়টা আরেকজনের সাথে করেছেন, সেই পাপের ফল শুধু আপনিই না, আজ হোক বা কাল আপনার পরিবার, এমনকি বংশধরদেরও কঠিন ভাবে ভোগ করতে হবে, হবেই। সৃষ্টিকর্তা কারো একার নন। সৃষ্টিকর্তার বিধান ও কারো কিনে নেওয়া সম্পত্তি না। অন্যের হক নষ্ট করার আগে, ক্ষতি করার আগে, কারো জীবন ধ্বংস করার আগে হাজারবার ভাবুন যে এর ফলাফল সহ্য করার ক্ষমতা আপনার আছে তো? একটা কথা মাথায় রাখুন, বান্দা যতো অধমই হোক না কেনো তার ছোট্ট একটা পূণ্যও যেমন হিসেবের খাতা থেকে বাদ পড়বে না, ঠিক তেমনি কোনো ওলি-আউলিয়াও যদি ছোট্ট কোনো পাপ করে থাকে সেটাও তার হিসেবের খাতায় ঠিক লিখা হয়ে থাকবে। ভুল কে ভুল আর অন্যায়কে অন্যায় বলতে শিখুন। অপরাধ করে সেটাকে অপরাধ না মনে করাটা আরো বড়ো একটা অপরাধ। সমাজে কিছু কিছু গদ্দার থাকে যারা আপনার উপর জুলুম করে উল্টো বলে বসবে 'আল্লাহ না চাইলে কি আমার কারো ক্ষতি করার সাধ্য আছে?' আবার কিছু কিছু ফাসিক থাকে যারা আপনাকে নানান উদাহরন দেখাবে যেমন 'অমুক আলেম এর মেয়ে নাচ-গান করে, তাই এটা জায়েজ। সৌদিতে মদ্যপান হয়, তাই এটা সহীহ। অমুক স্কলার বলছে মুসলিমদের শুকর খেতে কোনো বাধা নেই, তাই শুকর হালাল।' নাউজুবিল্লাহ! মনে রাখবেন হুজুর চুরি করেছে বলেই সেটা পূণ্যের কাজ হয়ে যাবে না। একজন ইমাম কারো সাথে প্রতারণা করেছে বলেই সেটা হালাল হয়ে গেলো না। একজন মাওলানা কোনো জালিয়াতি করেছে বলেই সেটা জায়েজ হয়ে যাবে না। আর যদি সেটা মেনে নিতে না পারেন তাহলে প্রস্তুত থাকুন আল্লাহর নিয়মের বিপক্ষে নেমে শাস্তি ভোগ করার জন্য। আল্লাহর বিধান অস্বীকার করার শাস্তি, মানুষের উপর জুলুম করার শাস্তি, মানুষের দীর্ঘশ্বাস এর শাস্তি বড্ড ভয়াবহ। আল্লাহ আখিরাতে সবচেয়ে দূর্বল মানুষটার প্রাপ্য যেমন সযত্নে বুঝিয়ে দিবেন, তেমনি সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষটার পাপের বোঝা ও ঠিকঠাক চাপিয়ে দিবেন।
"ঐ দিনকে ভয় করো, যে দিন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে। অতঃপর প্রত্যেকেই তার কর্মের ফল পুরোপুরি পাবে এবং তাদের প্রতি কোনো রূপ অবিচার করা হবে না।"
- সূরা বাকারাহ্ : ২৮১
✍️ Ummun Ferdous ✍️
*Please don't copy the post. Share if necessary.*