14/01/2025
**সাকরাইন উৎসব: রঙিন ঘুড়ির আড়ালে অন্ধকার দিক**
** #সাকরাইন** বা **পৌষ সংক্রান্তি**, যা পুরান ঢাকায় ঘুড়ি উৎসব নামে পরিচিত, একসময় শুধুই একটি ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে এ উৎসবটি ঘিরে এক ভিন্ন রূপ দেখা যায়। ঘুড়ির রঙিন আকাশ, আতশবাজি, ফানুস, ডিজে পার্টি—সবকিছু মিলে এটি একটি বর্ণিল আয়োজন হলেও, এর অন্তর্নিহিত কিছু বিষয় আমাদের ভাবনায় ফেলতে বাধ্য করে।
**ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে সাকরাইন**
সাকরাইনের উৎস মূলত **হিন্দু ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের** সঙ্গে জড়িত। পশ্চিম ভারতের গুজরাটে এটি সূর্য দেবতার উদ্দেশ্যে ঘুড়ি ওড়ানোর মাধ্যমে উদযাপন করা হয়। এটি মূলত সূর্যের কাছে প্রার্থনার প্রতীক। কিন্তু ইসলামে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
وَلَا تَدْعُ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنْفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ فَإِنْ فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذًا مِنَ الظَّالِمِينَ
> **"আল্লাহ ব্যতীত এমন কাউকে ডাকা যাবে না, যে তোমার ভালো বা মন্দ করতে পারবে না।"** (সুরা ইউনুস: আয়াত ১০৬)
ঘুড়ি ওড়ানোর এই উৎসবের অন্তর্নিহিত অর্থ যদি সূর্যের কাছে প্রার্থনা হয়, তবে এটি সরাসরি **শিরক** বলে গণ্য।
**আধুনিক উৎসবের অন্ধকার দিক**
পুরান ঢাকার সাকরাইন এখন শুধুই একটি ঘুড়ি উৎসব নয়। দিন শেষে রাতের আকাশে আতশবাজি, ডিজে পার্টি, আর বেহায়াপনায় মেতে ওঠা যুবসমাজ আমাদের চিন্তায় ফেলে দেয়।
**ডিজে পার্টি ও নাচ-গান**
বিদেশি সংস্কৃতির এই অনুকরণ আমাদের ইসলামী মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সঙ্গে কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন:
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
> **"যে ব্যক্তি কোনো জাতির অনুকরণ করবে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।"** (আবু দাউদ: ৪০৩১)
**ফানুস ওড়ানো**
ফানুসের ইতিহাস খুঁজলে দেখা যায়, এটি মূলত **বৌদ্ধ ধর্মের প্রবারণা পূর্ণিমার অংশ**, যেখানে স্বর্গীয় চুলামনি জাদীর উদ্দেশ্যে ফানুস উড়িয়ে পূজা করা হয়। আমাদের জন্য এটি স্পষ্টতই বর্জনীয়।
**আমাদের করণীয়**
আধুনিক সময়ে এই উৎসবটি মিডিয়া ও মোবাইল অপারেটরদের প্রচারণায় একটি **সার্বজনীন উৎসবে** পরিণত হওয়ার পথে। কিন্তু মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা, যা **শিরক**, **জাহেলিয়াত** বা ইসলামবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত।
**আসল আনন্দ কোথায়?**
আনন্দ করুন, উৎসব পালন করুন, কিন্তু **নিজের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বজায় রেখে**। সাকরাইনের মতো উৎসবে জড়ানোর আগে একবার ভাবুন—এই আনন্দ কি আল্লাহর সন্তুষ্টি নিয়ে আসবে, নাকি তাঁর অসন্তুষ্টি?
** **