18/03/2026
মাঝেমধ্যে মসজিদগুলোতে সিটি করপোরেশন ও সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি আসে, ঘোষণাপত্র আসে; সেগুলো প্রচার করার জন্য ইমাম-খতীবদের অনুরোধ করা হয়। এই কাগজগুলো ইমাম সাহেব বা মুয়াজ্জিন সাহেব অফিসে গিয়ে আনেন না৷ স্থানীয়ভাবে কাউন্সিলরগণ নিজস্ব লোক দিয়ে মসজিদে মসজিদে পৌঁছে দেন। এই কাজটি তারা সুন্দরভাবেই সম্পাদন করেন।
সারা বছর তাদের প্রয়োজনীয় কাজের ঘোষণাগুলো ইমাম-মুয়াজ্জিনরা করে থাকেন। বিনা বেতনে তাদের কাজে সহযোগিতা করে থাকেন। বিনিময়ে বছরে একবার সিটি করপোরেশন তাদেরকে সম্মানিত করে থাকে। ঈদ উপলক্ষে উপহার বা পারিশ্রমিক দেয়। এই সম্মানী দেয়ার পদ্ধতির পরিবর্তন নিয়ে বিগত সরকারের সময় থেকে কথা বলে আসছিলাম। প্রচলিত পদ্ধতি পরিবর্তন করার জন্য একাধিকবার দায়িত্বশীলদের প্রস্তাব দিয়েছি।
প্রচলিত পদ্ধতি হলো,
১। এন আই ডি কার্ড সহ স্থানীয় সিটি করপোরেশনের অফিসে গিয়ে লাইন ধরে দাড়িয়ে থাকা। দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থেকে উপহার সংগ্রহ করা।
২। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের অফিসে ডেকে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রেখে
এন আই ডি ফটোকপি জমা নিয়ে সবার সামনে উপহার তুলে দেয়া।
এই দুটো পদ্ধতিতেই আত্মমর্যাদা ক্ষুন্ন হয় বলে মনে করেন ওলামায়ে কেরাম।
ইমামগণ পদ্ধতির পরিবর্তন চান। কীভাবে?
১। সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীলগণ নিজেদের কাগজ দিতে যেভাবে মসজিদে এসে থাকেন, এভাবে মসজিদেই আসবেন। ইমাম-মুয়াজ্জিন (পরিবর্তন হলে) তথ্যাদি যাচাই করে খামে ভরে সসম্মানে উপহার দিয়ে যাবেন।
২। অথবা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সম্মানের সাথে উপহার প্রদান করবেন। (যেভাবে বর্তমানে সরকারি ও মানসম্মত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পেমেন্ট করে থাকে)।
খুশীর খবর হলো, দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি আজ আমাদের এলাকায় বাস্তবায়িত হয়েছে। মেয়র/প্রশাসক ও এমপি সাহেবের তত্ত্বাবধানে সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীলগণ আজ মসজিদে এসে উপহার দিয়ে গেছেন আলহামদুলিল্লাহ।
দেশের কয়েকটি এলাকায়/ওয়ার্ডে এমন হয়েছে খবর পাচ্ছি। তবে এখনো পুরনো পদ্ধতির বিলুপ্তি ঘটেনি।
আশাকরি, নতুন বাংলাদেশে পরিবর্তনের ছোয়া লাগবে। ইমাম-খতীব, মুয়াজ্জিনরা তাদের অধিকার প্রাপ্তিতে অসম্মানিত হবেন না। আমাদের অধিকার ও আত্মমর্যাদার সমন্বয় ঘটুক।
আ ফ ম আকরাম হুসাইন
মহাসচিব,
জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশ
১৮/০৩/২০২৬ ইং