01/10/2026
#ইভ্যালি
#মহামান্য_হাইকোর্ট_বিভাগ
#বাংলাদেশের_সুপ্রিম_কোর্ট
#ইভ্যালি_ভুক্তভোগী_গ্রাহক
#ন্যায়বিচারের_প্রত্যাশায়
মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি
বাংলাদেশের আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির দীর্ঘদিনের একজন ভুক্তভোগী গ্রাহক হিসেবে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে কিছু প্রশ্ন, বাস্তবতা ও আশঙ্কা তুলে ধরতে চাই।
আমাদের বিনীত অনুরোধ—ইভ্যালির ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু কাগজে-কলমে উপস্থাপিত পরিকল্পনা বা যুক্তি নয়, বরং গ্রাহকদের প্রকৃত পাওনা, প্রতিষ্ঠানের বাস্তব আর্থিক অবস্থা, সম্পদের পরিমাণ, নিরীক্ষিত হিসাব, পূর্বের কর্মকাণ্ড এবং দীর্ঘদিনের ভুক্তভোগী গ্রাহকদের বাস্তব অভিজ্ঞতাও যেন যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়।
ইভ্যালির বর্তমান পরিকল্পনা নিয়ে কিছু মৌলিক প্রশ্ন রাখতে চাই—
ইভ্যালির বর্তমান পরিকল্পনায় গ্রাহকদের পাওনার একটি অংশ শেয়ারের মাধ্যমে সমন্বয়, অবশিষ্ট অংশের বিপরীতে ঐচ্ছিকভাবে পণ্য কেনার সুযোগ এবং কোম্পানির ভবিষ্যৎ মুনাফা থেকে পাওনা পরিশোধের কথা বলা হচ্ছে।
একজন ভুক্তভোগী গ্রাহক হিসেবে আমি জানতে চাই—
একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সম্পদ, দায়, আয়, ব্যয়, মুনাফা এবং শেয়ারের প্রকৃত মূল্যায়ন সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের আগে কীভাবে শত শত কোটি টাকার গ্রাহক পাওনার সঙ্গে শেয়ারকে সমন্বয়ের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে?
একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমার উপলব্ধি—কাগজে কোনো শেয়ারের মালিক হওয়া এবং সেই শেয়ার থেকে বাস্তবে পাওনা অর্থ উদ্ধার করতে পারা এক বিষয় নয়।
কোম্পানির ভবিষ্যৎ আয় অনিশ্চিত হলে, সম্পদের প্রকৃত মূল্য স্পষ্ট না হলে এবং গ্রাহকের পাওনা নির্ধারণের ভিত্তি পুরোপুরি স্বচ্ছ না হলে, শুধু শেয়ার গ্রহণ করলেই কি একজন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের পাওনা অর্থ পরিশোধ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়?
২০২১ সালের অভিজ্ঞতা কি আমরা ভুলে যাব?
২০২১ সালের সংকটের পর আমরা ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও সমাধানের আশ্বাস পেয়েছি।
জামিন, আপস, বিনিয়োগকারী, ভবিষ্যৎ ব্যবসা—বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের আশ্বাস সামনে এসেছে।
কিন্তু একজন ভুক্তভোগী গ্রাহক হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা হলো— আশ্বাসের চেয়ে বাস্তব পাওনা ফেরত পাওয়াই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আজ যদি আবার নতুন কোনো পরিকল্পনার মাধ্যমে গ্রাহকদের পাওনা নিষ্পত্তির কথা বলা হয়, তাহলে সেই পরিকল্পনার প্রতিটি ধাপের স্বচ্ছতা, বাস্তবতা ও আইনগত ভিত্তি যাচাই করা কি জরুরি নয়?
ইভ্যালি গ্রাহকের পাওনার বিপরীতে ৫০% শেয়ারের কথা বলেছেন। বিষয়টি আমার কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ।
২০২২ সালে মহামান্য হাইকোর্ট ইভ্যালির ৫০% শেয়ার পরিবারের তিন সদস্যের কাছে হস্তান্তরের অনুমতি দিয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয় ইভ্যালির রাসেল ও শামিমা নাসরিন কত ভাগ শেয়ার এর মালিক আছেন?
একজন ভুক্তভোগী গ্রাহক হিসেবে তাই আমার একটি সরল প্রশ্ন—
বর্তমানে কি সেই তিনজনই ইভ্যালির ৫০% শেয়ারের মালিকানায় অন্তর্ভুক্ত আছেন?
যদি থাকেন, তাহলে বর্তমান মালিকানা ও শেয়ার কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ তথ্য কি গ্রাহকদের সামনে প্রকাশ করা হয়েছে?
আর ভবিষ্যতে যদি আবার গ্রাহকদের পাওনা নিষ্পত্তির সঙ্গে ইভ্যালির শেয়ার হস্তান্তর বা শেয়ার গ্রহণের বিষয়টি মহামান্য হাইকোর্টের সামনে উপস্থাপন করা হয়, তাহলে আমার বিনীত প্রশ্ন—
শেয়ারের প্রকৃত মূল্য এবং কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা স্বাধীনভাবে যাচাই না করে গ্রাহকদের পাওনার সঙ্গে সেই শেয়ারকে কীভাবে সমন্বয় করা হবে?
শেয়ার গ্রহণ করার পর একজন সাধারণ গ্রাহক বাস্তবে কীভাবে এবং কখন তার পাওনা অর্থ ফেরত পাবেন?
যদি সেই শেয়ারের প্রকৃত মূল্য প্রত্যাশা অনুযায়ী না থাকে বা ভবিষ্যতে কোম্পানি প্রত্যাশিত মুনাফা করতে না পারে, তাহলে গ্রাহকের আর্থিক ঝুঁকির দায় কে নেবে?
আমার সবচেয়ে বড় আশঙ্কা এখানেই
আমি কোনো নতুন সুবিধা চাই না।
আমি কোনো কোম্পানির শেয়ার, মুনাফা বা মালিকানা পাওয়ার লোভেও নেই।
আমি শুধু আমার পাওনা অর্থ এবং ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়ার একটি বাস্তব, স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য পথ চাই।
ইভ্যালির বর্তমান পরিকল্পনাকে একজন ভুক্তভোগী গ্রাহক হিসেবে আমি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দেখছি।
আমার কাছে পরিকল্পনাটির গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ এখনো যথেষ্ট স্বচ্ছ নয়। তাই এটিকে গ্রাহকের পাওনা নিষ্পত্তির নিশ্চিত সমাধান হিসেবে গ্রহণ করার আগে প্রতিটি হিসাব, প্রতিটি সম্পদ, প্রতিটি দায় এবং শেয়ারের মূল্যায়নের ভিত্তি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করি।
বিশেষ করে আশঙ্কা করছি, ভবিষ্যতে ইভ্যালির নিযুক্ত ল’ ফার্ম বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ যদি গ্রাহকদের পাওনা নিষ্পত্তির সঙ্গে কোম্পানির শেয়ার গ্রহণ বা হস্তান্তরের বিষয়টি মহামান্য হাইকোর্টের সামনে উপস্থাপন করেন, তাহলে বিষয়টি যেন শুধু উপস্থাপিত যুক্তির ভিত্তিতে নয়, বরং গ্রাহকদের বাস্তব স্বার্থ, আর্থিক নিরাপত্তা এবং পূর্বের অভিজ্ঞতার আলোকে বিবেচনা করা হয়।
একজন ভুক্তভোগী গ্রাহক হিসেবে আরও কিছু প্রশ্ন
এখন পর্যন্ত আমি স্পষ্টভাবে জানতে পারিনি—
ইভ্যালির গ্রাহক ও মার্চেন্টদের সর্বমোট প্রকৃত পাওনা কত?
বর্তমানে কোম্পানির মোট সম্পদের মূল্য কত?
এখন পর্যন্ত আমি তাদের দৃশ্যমান কোন সম্পদ দেখিনি।
কোন স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য অডিট ফার্ম ইভ্যালির বর্তমান আর্থিক অবস্থা নিরীক্ষা করেছেন কি?
ইভ্যালির বর্তমান মাসিক বিক্রি কত এবং প্রকৃত মাসিক মুনাফা কত?
গ্রাহকদের পাওনার বিপরীতে কত টাকার শেয়ার দেওয়া হবে এবং সেই মূল্য কীভাবে নির্ধারণ করা হবে?
একজন গ্রাহক তার পাওনার বিপরীতে কত টাকা মূল্যের পণ্য কিনতে পারবেন?
এই হিসাব ও পরিকল্পনার বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা কত?
গ্রাহকদের পুরোনো অর্ডার, পেমেন্ট, রিফান্ড ও পাওনার তথ্য কীভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হবে?
এই প্রশ্নগুলোর সুস্পষ্ট উত্তর ছাড়া একজন ভুক্তভোগী গ্রাহক কীভাবে নিশ্চিত হবেন যে বর্তমান পরিকল্পনা তার দীর্ঘদিনের পাওনা অর্থ উদ্ধারের বাস্তব ও নিরাপদ পথ?
মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের কাছে একজন ভুক্তভোগী গ্রাহকের বিনীত আবেদন
ইভ্যালির যেকোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা শেয়ার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আগে—
১. গ্রাহক ও মার্চেন্টদের প্রকৃত মোট পাওনা নির্ধারণ করা হোক।
২. কোম্পানির বর্তমান সম্পদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা হোক।
৩. স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য অডিটের মাধ্যমে কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা যাচাই করা হোক।
৪. ইভ্যালির শেয়ারের মূল্যায়নের ভিত্তি স্পষ্ট করা হোক।
৫. গ্রাহকের পাওনার বিপরীতে শেয়ারের পরিমাণ ও মূল্য নির্ধারণের স্বচ্ছ পদ্ধতি প্রকাশ করা হোক।
৬. ভবিষ্যৎ মুনাফা থেকে গ্রাহকের পাওনা পরিশোধের পরিকল্পনা থাকলে তার বাস্তবসম্মত হিসাব ও নির্দিষ্ট সময়সীমা প্রকাশ করা হোক।
৭. সর্বোপরি, যেকোনো সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে যেন থাকে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ গ্রাহকের ন্যায্য অধিকার ও আর্থিক নিরাপত্তা।
কারণ আমরা কারও দয়া চাই না।
আমরা আমাদের ন্যায্য পাওনা চাই।
আমরা চাই না, একটি অনিশ্চিত পরিকল্পনার মাধ্যমে আমাদের পুরোনো পাওনা নতুন কোনো অনিশ্চয়তার মধ্যে চলে যাক।
আমরা চাই না, আজকের পাওনার পরিবর্তে এমন কোনো শেয়ার গ্রহণ করতে বাধ্য হই, যার প্রকৃত মূল্য, ভবিষ্যৎ মূল্য এবং বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট ধারণা নেই।
আমরা চাই স্বচ্ছ হিসাব, বাস্তবসম্মত সমাধান এবং আইনসম্মত ন্যায়বিচার।
মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের প্রতি একজন সাধারণ ভুক্তভোগী গ্রাহক হিসেবে আমার বিনীত আবেদন—
ইভ্যালির বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কাগজে-কলমের পরিকল্পনার পাশাপাশি বাস্তবতা, অতীতের অভিজ্ঞতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হোক।
কোনো সিদ্ধান্তের অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক বোঝা যেন আবারও সাধারণ ভুক্তভোগী গ্রাহকের কাঁধে না পড়ে।
ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায়,
"বাংলাদেশ ই-কমার্স কনজ্যুমার সোসাইটি"
লিখেছেন 'মোঃ রেজাউল করিম',
ইভ্যালির একজন ভুক্তভোগী গ্রাহক।