28/07/2026
আপনি কি জানেন? হেপাটাইটিস প্রতিরোধযোগ্য; তবুও প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ এতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে হেপাটাইটিসজনিত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১.৩ মিলিয়নে পৌঁছেছে।
"হেপাটাইটিস" লিভারের একটি প্রদাহ, যা বিভিন্ন সংক্রামক ভাইরাস এবং অসংক্রামক জীবাণুর কারণে হয়ে থাকে। এর ফলে লিভার মারাত্মক ক্ষতি এবং ক্যান্সারসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়, যার মধ্যে কয়েকটি প্রাণঘাতীও হতে পারে। হেপাটাইটিস ভাইরাস ৫ ধরনের হয়ে থাকে, যাদেরকে টাইপ A, B, C, D এবং E বলা হয়।
হেপাটাইটিস ছড়াতে পারে:
* আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত বা শরীরের তরলের মাধ্যমে।
* অপরিষ্কার সিরিঞ্জ ব্যবহারে।
* মা থেকে নবজাতকের শরীরে।
প্রতিরোধের উপায়:
* সময়মতো টিকা গ্রহণ।
* নিরাপদ রক্ত গ্রহণ নিশ্চিত করা।
* ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিস যেমন নখ কাটার বা টুথব্রাশ অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি না করা।
লক্ষণ সমূহ: হেপাটাইটিস রোগে আক্রান্ত অনেকের শুরুতে কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে:
* অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা।
* জ্বর বা অসুস্থ বোধ করা।
* ক্ষুধামন্দা ও পেটে অস্বস্তি।
* চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)।
* মলমূত্রের রং পরিবর্তন।
শনাক্ত হলে:
* দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
* প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে লিভারের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করুন।
* স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন এবং লিভারের ক্ষতি করে এমন অভ্যাস পরিত্যাগ চলুন।
* পরিবারের সদস্যদের পরীক্ষা ও টিকা গ্রহণে উৎসাহিত করুন।
সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও সচেতনতার মাধ্যমে হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই আসুন নিজে সচেতন হই, অন্যকেও সচেতন করি। একসাথে সুস্থ থাকি, নিরাপদ থাকি।
-তথ্যসূত্র: WHO