10/06/2024
বাজেট নিয়ে অনেক জ্ঞানগর্ভ আলোচনা ও বিশ্লেষণ দেখি ফেসবুকে।
যদিও ফেসবুকের অধিকাংশই লেখাই চোট্টামী। কোন এক পন্ডিত(!) অথবা পন্ডিত বর্গ (!) লম্বা চওড়া মনগড়া বিশ্লেষণ প্রসব করেছেন আর অন্যরা সেটা নির্দ্বিধায় সেটা কপি করে নিজের টাইম লাইন এর গুরুত্ব বাড়াচ্ছেন।
একটা দেশ কীভাবে চলে, বাজেট কীভাবে প্রণয়ন হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা কি? -এগুলো কারো বিবেচনায় নেই।
তল্লাশি করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যাবে - যিনি বা যারা বড় বড় বুলি ছাড়ছেন তার নিজের করযোগ্য আয় থাকলেও তিনি বা তারা এক পয়সাও আয়কর দিচ্ছেন না- ভাবছেন এই ‘চোরদের’ কর দিয়ে কি লাভ - নিজের পকেটে থাকলে বরং লাভ।
অথচ, ভ্যাট বাড়লে বা ট্যাক্স বাড়লে আবার ঠিকই খুব কষ্ট লাগে। বাংলাদেশে কয়েককোটি মানুষের আয়করযোগ্য আয় আছে। অথচ, আমাদের দেশে আয়কর দেয়ার জন্য নিবন্ধন নেয়া মানুষের সংখ্যা মাত্র কয়েক লক্ষ। এমনকি যেসব বিশিষ্ট ভদ্রলোকেরা বিভিন্ন সুবিধার জন্য আয়কর নিবন্ধন নিয়েছেন তারা আয়কর নিবন্ধন নাম্বার কাজে লাগিয়ে নিজেদের আখের গোছাচ্ছেন ঠিকই কিন্তু আয়কর দেয়া তো দূরের কথা বছর শেষে আয়কর রিটার্ণ (আয় ব্যায়ের হিসাব) দেয়ার প্রয়োজন বোধ করেন না।
এখন নূন্যতম কর ৩০০০ টাকা আর নূন্যতম আয়কর সীমা 2,50,০০০ টাকা। একজন মানুষ ২,৫০,০০০ টাকা আয় করে সরকারকে (ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৫০০০ এবং অন্য সর্বত্র ৩,০০০) টাকা দিতে অন্তরটা টুকরা টুকরা হয়ে যায়। অথচ, মাসে যার ২১,০০ টাকা রোজগার সে মাসে ২৫০-৪০০ টাকা সরকারকে আয়কর দিতে কেন এতো আপত্তি সেটা আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে ধরে না। এমনকি পাড়ার একজন মুদির দোকানদারও সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিমাসে লাভ করে ৫০ হাজার টাকার উপরে। সে কিন্তু আয়কর দেয়ার কথা ভাবতেও পারে না। বাস্তবতা হচ্ছে, বাধ্য না হলে কেউ কর দিতে চায় না (এবং কর কর্মকর্তারা বাধ্য করলে তারা আবার দূর্নীতিবাজ ঘুষখোর হিসেবে চিহিৃত হবেন) ।
অথচ রাষ্ট্র পরিচালনা ও উন্নয়নের জন্য টাকা, হয় ভ্যাট-ট্যাক্স (পরোক্ষ কর), নাহয় আয়কর (প্রত্যক্ষ কর) -যেকোন এক খাত থেকে আসতেই হবে। নাহলে বাড়বে ঋণের বোঝা (আভ্যন্তরিন বা আন্তর্জাতিক)।
ভ্যাট ট্যাক্স দিচ্ছেন বলে গর্ব করার কিছু নেই। আমরা যে প্রতিভাধর জাতি, যদি সম্ভব হতো তাহলে সেটাও আমরা ঠিকই ফাঁকি দিতাম। নেহায়েত কোনভাবে সম্ভব নয় বলে দিতে পারছি না। তাই সরকার ও যেটা আদায় করা সহজ সেখান থেকেই রাজস্ব সংগ্রহ করবে -সেটাই স্বাভাবিক। সেই পথে আমরা নিজেরা সরকারকে ঠেলে দিয়ে আবার, নিজেরাই চরম সুবিধাবাদ ও মুক্ত বাকস্বাধীনতার অন্যায় সুযোগ নিয়ে সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স নিয়ে গালিগালাজ করে নিজেকে স্মার্ট (?) ফেসবুকার হিসেবে প্রমাণ হয়তো করতে পারবো।
কিন্তু, যদি বিবেক বলে আদৌ যদি কিছু অবশিষ্ট থেকে থাকে তাহলে আগে
“সুনাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্যটুকু পালন করে” তারপর নিজের পরিচিতদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করাটা বোধহয় সত্যিকারের স্মার্ট মানুষ হিসেবে এবং বিবেক কান্ড জ্ঞান সম্পন্ন মানুষ হিসেবে, নিজের কাছে অনন্তঃ, বিবেচিত হবে। তারপর না হয় সরকারের কাছে হিসেব চাওয়ার আমার অধিকার অর্জিত হবে যে, আমার আয়করের টাকার সুষ্ঠ ু ব্যবহার সরকার করতে পারলো কি পারলো না।
বিঃদ্রঃ- আমার এই লেখার উদ্দেশ্য আওয়ামী সরকারের কোন অপকর্মের বা অন্যায় বাজেট প্রস্তাবের পক্ষে অথবা সুশাসনের অভাব ও দূর্নীতির পক্ষে সাফাই গাওয়া নয়। শুধু মাত্র এই প্যারার উপরের প্যারায় যা বলেছি সেই দায়িত্বটুকু পালন করার চেষ্টা।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে নীতি ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে জীবন পরিচালনার সামর্থ দান করুন। আমীন।