দাওয়াম - আমার সংগ্রাম

দাওয়াম - আমার সংগ্রাম || "প্রফেসর ড. নাজমুদ্দিন এরবাকান"-এর সংগ্রামকে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সামনে তুলে ধরা ||

১৯৯৭ সালের ১৫ জুন ডি-৮ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উন্নয়নশীল মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর সামনে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়।বাংল...
15/06/2026

১৯৯৭ সালের ১৫ জুন ডি-৮ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উন্নয়নশীল মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর সামনে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়।

বাংলাদেশ, তুরস্ক, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, মিশর ও নাইজেরিয়াকে নিয়ে গঠিত এই জোটের উদ্দেশ্য ছিলো অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈষম্য, শোষণ ও আধিপত্যনির্ভর বৈশ্বিক ব্যবস্থার বিকল্প একটি রূপরেখা হাজির করা।

ডি-৮-এর স্বপ্ন ছিলো এমন এক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে শক্তির পরিবর্তে ন্যায় ও আদালত, প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সহযোগিতা ও মারহামাত এবং আধিপত্যের পরিবর্তে পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে। সদস্য দেশগুলোর শিল্প, কৃষি, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক সক্ষমতাকে একত্রিত করে আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাবান একটি ভবিষ্যৎ নির্মাণই ছিলো এর প্রধান লক্ষ্য।

প্রফেসর নাজমুদ্দিন এরবাকানের দৃষ্টিতে, ডি-৮ ছিলো বঞ্চিত ও উন্নয়নশীল জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর—এমন একটি উদ্যোগ, যা বিশ্ব রাজনীতিকে ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে সরিয়ে আদালত ও মারহামাতের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলো।

আজ, যখন বৈশ্বিক শোষণ, বৈষম্য ও অর্থনৈতিক নির্ভরতার প্রশ্ন আরও তীব্র, তখন ডি-৮-এর সেই স্বপ্ন আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়- আরও ন্যায়সঙ্গত, ভারসাম্যপূর্ণ ও মানবিক একটি বিশ্ব কি সত্যিই সম্ভব?

📖 ডি-৮ এর এই মূলনীতি, দর্শন ও স্বপ্ন সম্পর্কে বিস্তর জানতে পড়ুন ‘দাওয়াম’ গ্রন্থটি।

নতুন বিশ্বব্যবস্থার প্রথম প্রস্তাবনা D-8-এর আজ ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।জুলুম ও শোষণমুক্ত এক নতুন দুনিয়া বিনির্মাণের লক্ষ...
15/06/2026

নতুন বিশ্বব্যবস্থার প্রথম প্রস্তাবনা D-8-এর আজ ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

জুলুম ও শোষণমুক্ত এক নতুন দুনিয়া বিনির্মাণের লক্ষ্যকে সামনে রেখে ১৯৯৭ সালের ১৫ জুন তুরস্কের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রফেসর ড. নাজমুদ্দিন এরবাকানের নেতৃত্বে প্রভাবশালী ৮টি মুসলিম দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতিতে ইস্তানবুলের চিরায়ান প্যালেসে D-8-এর ঘোষণা দেওয়া হয়।

উস্তাদ নাজমুদ্দিন এরবাকান D-8 সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন—
“D-8 হলো বিংশ শতাব্দীর মুসলমানদের পক্ষ থেকে একবিংশ শতাব্দীর মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার।”

ইস্তানবুলের বিজয় এবং মুসলিম উম্মাহর করণীয় | নাজমুদ্দিন এরবাকানআজ নতুন একটি যুগের এবং নতুন একটি বিজয়ের প্রয়োজন, যা সমগ্র ...
11/06/2026

ইস্তানবুলের বিজয় এবং মুসলিম উম্মাহর করণীয় | নাজমুদ্দিন এরবাকান

আজ নতুন একটি যুগের এবং নতুন একটি বিজয়ের প্রয়োজন, যা সমগ্র মানবতা আজ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। নতুন একটি শান্তিময় দুনিয়া গঠন করার জন্য আমাদের এই মুসলিম জাতি পুনরায় নেতৃত্ব দেবে। একটি সম্মানিত জাতি এবং সম্মানিত ইতিহাসের উত্তরাধিকারীগণ এই বিজয়ের পতাকাবাহী হিসেবে কাজ করবে।

ইস্তানবুল বিজয়ের খুব বেশি আগে নয়, মাত্র ৫০ বছর পূর্বে ১৪০০ সালের শুরুর দিকে তিমুর লং যখন আনাতোলিয়ায় (Anatolia) আক্রমণ করছিলেন, তখন সবাই ভেবেছিল সবকিছুই ধ্বংস হয়ে গেছে। মুসলিম বিশ্ব সবচেয়ে বড় দুর্দশায় নিপতিত হয়েছিল। কিন্তু মাত্র ৫০ বছরের মধ্যে আমাদের এই জাতি সবকিছু আবার সাজিয়ে-গুছিয়ে ইস্তানবুল বিজয়ের মধ্য দিয়ে একটি যুগের অবসান ঘটিয়ে নতুন এক সোনালী যুগের সূচনা করেছিল। তেমনি আজও একটি নতুন যুগের এবং নতুন একটি বিজয়ের প্রয়োজন।

কিন্তু এর জন্য ইস্তানবুলের বিজয়কে খুব ভালোভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

আমাদের প্রিয়নবী, মানবতার মুক্তির দূত মুহাম্মদ (সা.) এই হাদিসের মাধ্যমে আমাদেরকে ইস্তানবুল বিজয়ের সুসংবাদ দান করেছিলেন—

لَتُفْتَحَنَّ الْقُسْطَنْطِينِيَّةُ فَلَنِعْمَ الْأَمِيرُ أَمِيرُهَا وَلَنِعْمَ الْجَيْشُ ذَلِكَ الْجَيْشُ

অর্থাৎ: “অবশ্যই কনস্টান্টিনোপল (ইস্তানবুল) বিজিত হবে। সেই সেনাপতি কতই না উত্তম, আর সেই সেনাবাহিনী কতই না উত্তম।” (মুসনাদে আহমাদ)

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। এখানে বলা হয়েছে: لَتُفْتَحَنَّ الْقُسْطَنْطِينِيَّةُ (লাতুফতাহান্নাল কুস্তানতিনিয়্যাহ)। এখানে লাম-এ তাওকিদ এবং নূন-এ সাকিলার মাধ্যমে বক্তব্যকে জোরালো করা হয়েছে। অর্থাৎ ইস্তানবুল অবশ্যই বিজিত হবে। বিজয়ের মৌলিক শর্ত হলো দৃঢ় বিশ্বাস।

অর্থাৎ যদি বিজয় করতে চাই, তাহলে অবশ্যই আমাদের বিশ্বাস করতে হবে—দৃঢ়ভাবে এবং সন্দেহাতীতভাবে।

মুহাম্মদ (সা.) “অবশ্যই বিজয় হবে” এই কথা বলার কারণে মুসলমানগণ বহুবার বিজয়াভিযান পরিচালনা করেছে। মহান আল্লাহ তাআলা তাদের মধ্য থেকে সুলতান মুহাম্মদ ফাতিহকে এই মহান সম্মান দান করেছেন।

সুলতান মুহাম্মদ ফাতিহ তাঁর বাল্যকাল থেকেই ইস্তানবুল বিজয়ের স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে উঠেছিলেন। এই বিরল সম্মানের অংশীদার হওয়ার জন্য তিনি রাত-দিন কঠোর সাধনা করেছিলেন। বলা যায়, ইস্তানবুল বিজয়ের জন্য তিনি পাগলপ্রায় হয়ে গিয়েছিলেন। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁকেই এই মহান সম্মান দান করেন।

সুতরাং আমরা যে দাওয়াত ও আন্দোলনে বিশ্বাস করি, সেটিকে লক্ষ্যপানে পৌঁছাতে আমরাও সেই আন্দোলনের জন্য নিবেদিত হতে হবে।

সুলতান মুহাম্মদ ফাতিহ সিংহাসনে আরোহণের সাথে সাথে দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করে ইস্তানবুল বিজয়ের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। তিনি দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দর শহর ইস্তানবুল বিজয়ের জন্য সবকিছু সুসংগঠিত করেন। প্রায় ২ লক্ষ সৈন্যের একটি বিশাল সেনাবাহিনী গঠন করেন। পাশাপাশি তিনি প্রচুর পরিমাণে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ তৈরি করেন, যা সেই সময়ের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ছিল।

“ঈমান খাঁটি ছাগল থেকেও দুধ দোহাতে পারে”—এই বিশ্বাস নিয়ে তিনি পাহাড়ের উপর দিয়ে জাহাজ পরিচালনা করেছিলেন।

যদি বিজয় চাই, তাহলে ঈমান, আত্মবিশ্বাস ও আগ্রহের পাশাপাশি সময়ের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তি ও পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।

১৪৫৩ সালের ৬ এপ্রিল তিনি বাইজান্টাইন সম্রাটকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। এটি মুসলমানদের নীতি—রক্তপাত এড়ানোর জন্য। কিন্তু বাইজান্টাইনরা তা গ্রহণ না করে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এরপর সুলতান ফাতিহ আক্রমণের নির্দেশ দেন।

এর আগে তিনি সেনাবাহিনী নিয়ে নামাজ আদায় করেন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। দোয়ার সময় তিনি এক অসহায় বান্দার মতো বিনীতভাবে প্রার্থনা করেন। এরপর তিনি আক্রমণের নির্দেশ দেন।

২৯ মে ফজরের সময় প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়। ইস্তানবুল বিজয় নিশ্চিত হয়ে যায়। উলুবাতলি হাসান সর্বপ্রথম ইসলামের পতাকা প্রাচীরে উত্তোলন করেন। সেনাবাহিনী ভেঙে দেওয়া প্রাচীর দিয়ে প্রবেশ করে। এভাবেই একটি যুগের পতন হয়ে নতুন যুগের সূচনা হয়।

বিজয়ের পর সুলতান মুহাম্মদ ফাতিহ আয়াসোফিয়াকে (Hagia Sophia) মসজিদে রূপান্তর করেন এবং দুই রাকাত শুকরানা নামাজ আদায় করেন। এরপর তিনি হযরত আইয়ুব আল-আনসারী (রা.)-এর কবর জিয়ারত করেন।

আজ আমরা মুসলিম হিসেবে প্রাচীরের সামনে অবস্থানকারী সেই সেনাবাহিনীর মতো। আমরা নতুন বিজয়ের স্বপ্নে বিভোর।

ইস্তানবুল বিজয় থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো হযরত আইয়ুব আল-আনসারী (রা.)-এর ত্যাগ।

তিনি ৯০ বছর বয়সে যুদ্ধের ময়দানে গিয়েছিলেন। তাঁর সন্তানরা তাঁকে বাধা দিলেও তিনি বলেছিলেন, “আমি কুরআন পড়লে কুরআন আমাকে জিহাদের নির্দেশ দেয়।”

তিনি যুদ্ধের ময়দানে এসে শাহাদাত বরণ করেন।

ইসলামের প্রকৃত রূপ হলো ত্যাগ, সংগ্রাম ও দায়িত্ববোধ।

হযরত আকশেমসেদ্দিন ছিলেন একজন মহান আলেম ও ফাতিহের উস্তাদ। তিনি সৈন্যদের অনুপ্রেরণা দিতেন।

সুলতান মুহাম্মদ ফাতিহ মাত্র ২১ বছর বয়সে এই মহান বিজয় অর্জন করেছিলেন।

একটি জাতির প্রকৃত শক্তি ট্যাঙ্ক, ক্ষেপণাস্ত্র বা অর্থ নয়; বরং ঈমানদার ও আদর্শবান যুব সমাজ।

মানব সভ্যতার প্রতি ইসলামী সভ্যতার অবদান
09/06/2026

মানব সভ্যতার প্রতি ইসলামী সভ্যতার অবদান

মানব সভ্যতার ইতিহাসকে যদি খুব ভালো ভাবে বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখতে পাই যে এক সভ্যতা আরেক সভ্যতা দ্বারা অনেক বেশী প্....

প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে মুসলিম দেশগুলোর করণীয়প্রফেসর ড. নাজমুদ্দিন এরবাকানমানবতার মুক্তি ও মানুষের শান্তির জন্য আমাদের অস্...
08/06/2026

প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে মুসলিম দেশগুলোর করণীয়

প্রফেসর ড. নাজমুদ্দিন এরবাকান

মানবতার মুক্তি ও মানুষের শান্তির জন্য আমাদের অস্ত্র তৈরি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। কারণ তারা মানবসভ্যতাকে ধ্বংস করার জন্য এগুলো ব্যবহার করছে। আমেরিকা লোহিত সাগরে তার রণতরী মোতায়েন করে ইরাকের বাগদাদে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে।

একবার একটি আমেরিকান রণতরী ইস্তানবুলে এলে আমরা সেটি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি পার্লামেন্টারি গ্রুপ পাঠিয়েছিলাম। তারা ফিরে এসে আমাকে তাদের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছিল।

তারা বলল, প্রথমে তাদের ক্যাপ্টেনের কক্ষ দেখানো হয়। এরপর রণতরীর ভেতরে ক্যাপ্টেনের অতিথিকক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নারী-পুরুষ সবাই একসঙ্গে বসে আছে। পেছনে কফি গরম করার চুলা, সামনে টেবিল। সবাই আরাম করে কফিতে চুমুক দিচ্ছে এবং গল্প করছে।

এরপর তাদের বলা হলো, “এখন আমরা আপনাদের আমাদের কার্যপ্রণালী প্রদর্শন করব।”

ক্যাপ্টেন বললেন, “এই রণতরী থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ১০ হাজার মাইল দূরের যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।”

এ কথা বলার পর উপস্থিত একজন তার সামনের পর্দার দিকে সতর্কভাবে তাকাল। তখন ক্যাপ্টেন তার কাছে এসে বললেন, “কফির কাপটি রেখে আমার কথা শুনুন। আপনি এই ক্ষেপণাস্ত্রটি অমুক মহাসাগরের অমুক স্থানে নিক্ষেপ করবেন।”

লোকটি কফির কাপটি টেবিলে রেখে ডান পাশে ফিরে একটি নিয়ন্ত্রণ বোতামে চাপ দিল। কিছুক্ষণ পর আবার পর্দার দিকে তাকানো হলো। পরে আমাদের টেলিভিশনে দেখানো হয় যে ক্ষেপণাস্ত্রটি ঠিক নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত হেনেছে।

অর্থাৎ সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, কফির কাপ টেবিলে রেখে শুধু ডানে-বামে ফিরেই তারা হাজার হাজার মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মতো প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছে।

এখন বলুন, আমরা আমাদের অধিকার কীভাবে রক্ষা করব?

আমেরিকার ৪০টি রণতরী আছে। তাহলে কি আপনিও ৪০টি রণতরী বানাবেন? আপনি ৪০টি বানাতে বানাতে আমেরিকা আরও ৮০টি বানিয়ে ফেলবে। তাহলে আমরা কীভাবে তাদের মোকাবিলা করব?

আমার দিকে তাকান। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।

আপনারা কি জানেন প্রযুক্তি কী?

প্রযুক্তি হলো, আপনি সেই রণতরীর ভেতরে এমন একটি যন্ত্র পাঠাবেন, যার ফলে ক্যাপ্টেন কোনো সংকেতই বুঝতে পারবে না।

১. তার নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশেই নিজের হাতে নিয়ে সেটিকে উল্টো তার দিকেই ফিরিয়ে দেবেন এবং তার যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করে দেবেন।

২. প্রযুক্তি আল্লাহ তাআলার একটি বড় নিয়ামত। অনুন্নত দেশগুলো এর সাহায্যে উন্নত দেশের হুমকি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে। রণতরী না বানিয়েও তারা নিজেদের দেশকে সুরক্ষিত রাখতে পারে। শত্রুর সেই রণতরী তোমার আওতায় এলে তুমি ইচ্ছামতো সেটিকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারো।

আপনারা হয়তো ভাবছেন, “উস্তাদ, আপনি এসব কী আজব কথা বলছেন?”

না, এটি আজব কথা নয়। আপনারা কি জানেন না, আমি একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও প্রযুক্তি অধ্যাপক?

বছরের পর বছর আমি এসব বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছি। আমি সব প্রযুক্তিগত বিষয় এখানে বলা নিরাপদ মনে করছি না। তবে আপনি এমন একটি যন্ত্র আবিষ্কার করতে পারেন, যার মাধ্যমে তার রণতরীকে সহজেই ধ্বংস করা সম্ভব।

তাদের শত শত বিমানঘাঁটি ও রণতরী রয়েছে। কিন্তু তাদের ১০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদকে আপনি মাত্র ৫ লাখ ডলার ব্যয়ে তৈরি একটি যন্ত্রের মাধ্যমে ধ্বংস করে দিতে পারবেন।

কীভাবে?

আপনার ঈমান দিয়ে, ঈমান দিয়ে।

আমরা যখন এই প্রযুক্তি আবিষ্কার করে তাদের বলব, “এখন আসো”, তখন তারা তাদের মান-সম্মানের স্বার্থে অনিচ্ছা সত্ত্বেও আসবে।

আমি তাকে বলব,

“এখানে বসো, আমাকে দেখো। তোমরা এখন পর্যন্ত কত রক্তপাত ঘটিয়েছ, কত মানুষকে হত্যা করেছ। কিন্তু আমরা উমার ইবনুল খাত্তাব-এর উত্তরসূরি; আমরা সালাহুদ্দিন আইয়ুবী-এর উত্তরসূরি; আমরা মুহাম্মাদ আল-ফাতিহ-এর উত্তরসূরি।

আমরা তোমাদের ধ্বংস করার জন্য আসিনি।

আমরা দয়ার সাগর মুহাম্মাদ (সা.)-এর উম্মত। আমরা তোমাদের অধিকারও তোমাদের ফিরিয়ে দিতে চাই। আমাদের পূর্বপুরুষরা যেমন তোমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেননি, আমরাও তোমাদের বঞ্চিত করব না। আমরা সবার অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই।”

“আমরা হককে সবসময় সবার উপরে স্থান দিই। কিন্তু আমরা শক্তির প্রয়োজনীয়তাও জানি।”

“শক্তি যখন হকপন্থীদের হাতে থাকে, তখনই শক্তি সবচেয়ে সম্মানজনক অবস্থায় থাকে।”

আমরা এভাবেই সবচেয়ে শক্তিশালী হব। একটি শক্তিশালী উম্মাহ গড়ব এবং একটি নতুন পৃথিবী নির্মাণ করব, ইনশাআল্লাহ।

প্রযুক্তি যতই উন্নতি লাভ করুক না কেন, সকল প্রকার উন্নতি-অগ্রগতির মূল হলো মানুষ। মানুষ যত বেশি শক্তিশালী হবে, তার চরিত্র ...
05/06/2026

প্রযুক্তি যতই উন্নতি লাভ করুক না কেন, সকল প্রকার উন্নতি-অগ্রগতির মূল হলো মানুষ। মানুষ যত বেশি শক্তিশালী হবে, তার চরিত্র এবং নৈতিকতা যত বেশি সুন্দর হবে, উন্নয়ন ও অগ্রগতি ও ততো বেশি শক্তিশালী হবে। মানুষের নৈতিক চরিত্র বিনষ্ট হয়ে গেলে এটি দিয়ে গঠিত কোনোকিছুই টেকসই হবে না। বরং শুধু শুধু সময়, অর্থ, শ্রম এবং শক্তি ব্যয় হবে।

— প্রফেসর ড. নাজমুদ্দিন এরবাকান
তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মিল্লি গরুশ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা

“একটি ফুল দিয়ে বসন্ত হয় না, কিন্তু প্রতিটি বসন্তই একটি ফুল দিয়ে শুরু হয়।”এই অনুপ্রেরণাদায়ী উক্তির মাধ্যমে তুরস্কে পরিবর্...
05/06/2026

“একটি ফুল দিয়ে বসন্ত হয় না, কিন্তু প্রতিটি বসন্তই একটি ফুল দিয়ে শুরু হয়।”

এই অনুপ্রেরণাদায়ী উক্তির মাধ্যমে তুরস্কে পরিবর্তনের সূচনা করা এবং মুসলিম উম্মাহর আত্মবিশ্বাস ও জাগরণকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে যিনি অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন, তিনি হলেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, চিন্তাবিদ ও রাষ্ট্রনায়ক নাজমুদ্দিন এরবাকান।

মুসলিম বিশ্বে আত্মমর্যাদা, রাজনৈতিক সচেতনতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক পুনর্জাগরণের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আজও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে। তিনি শুধু একজন নেতা নন; বরং এক মহৎ চিন্তানায়ক, যিনি একটি আদালতভিত্তিক সমাজ ও সভ্যতার স্বপ্ন দেখেছেন এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

এই মহান মনীষীর জীবন, চিন্তা ও কর্মধারাকে আরও বিস্তৃতভাবে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করার লক্ষ্যে মক্তব প্রকাশন প্রকাশ করেছে “এরবাকান সমগ্র”। তাঁর চিন্তাধারা ও নেতৃত্বের দর্শন নতুন প্রজন্মের আত্মবিশ্বাসকে জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আপনিও এই মহান চিন্তানায়ক ও নেতার গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করে নিজের চিন্তা, আত্মবিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত করে তুলতে পারেন।

আমাদের এই জীবন সত্যের সাথে মিথ্যার, সুন্দরের সাথে অসুন্দরের, উপকারের সাথে অপকারের এবং আদালতের সাথে জুলুমের দ্বন্দ্বের জী...
04/06/2026

আমাদের এই জীবন সত্যের সাথে মিথ্যার, সুন্দরের সাথে অসুন্দরের, উপকারের সাথে অপকারের এবং আদালতের সাথে জুলুমের দ্বন্দ্বের জীবন। ইসলাম শুধু মুসলমানদের জন্য নয়। সমগ্র দুনিয়ায় শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উপাদান ইসলামে রয়েছে। আর যুবকেরাই হলো এই শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি। শান্তি, ভালোবাসা, ন্যায়পরায়ণতা এবং সমৃদ্ধি সমগ্র মানবতার চাহিদা। মুসলিম যুব সমাজের কর্তব্য এসব গুণাবলি বুকে ধারণ করে এগিয়ে চলা।"

প্রফেসর ড. নাজমুদ্দিন এরবাকান

02/06/2026
আরাফাতের ময়দানে এরবাকানের ঐতিহাসিক ভাষণআসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আজ সোমবার, (৩১শে মে ১৯৯২ সাল)। আল্লাহ তায়ালার ...
26/05/2026

আরাফাতের ময়দানে এরবাকানের ঐতিহাসিক ভাষণ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আজ সোমবার, (৩১শে মে ১৯৯২ সাল)। আল্লাহ তায়ালার মেহমান, হাজীদের সাথে পবিত্র স্থান জাবালে রহমতে এসে একত্রিত হয়েছি।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের শুকরিয়া আদায় করছি যে, তিনি আমাদেরকে পবিত্র এই দিনে এই পবিত্র স্থানে একত্রিত হয়ে তার কাছে দোয়া করার সুযোগ দান করেছেন। আমরা কেন আজ এখানে একত্রিত হয়েছি? কেন হজ্জে এসেছি? আজ আমি এই সম্পর্কে আপনাদের সামনে কিছু বক্তব্য রাখতে চাই।

আমরা সকলেই একথা জানি যে, আদম এবং হাওয়া (আঃ) যখন জান্নাত থেকে নেমে দুনিয়ায় এসেছিলেন তখন তারা এই আরাফার ময়দানে (জাবালে রহমত) এসেই একত্রিত হয়েছিলেন। হযরত আদম (আঃ) এখানে পৌঁছে দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনও তাঁর তওবা কবুল করে রাতের মধ্যেই হযরত হাওয়া (আঃ) এর সাথে তাকে এই পাহাড়ে সাক্ষাৎ করান।

এই পবিত্র স্থানেই আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সঃ) বিদায় হজ্জের ভাষণ দেন। মুহাম্মাদ (সঃ) এই চূড়ায় উঠেন এবং তার সেই মহামূল্যবান ভাষণের একটি এখান থেকে দেন।

তিনি বলেন, “সুদকে হারাম করা হয়েছে, সকল সুদ আমার পায়ের নিচে।”

তিনি এই পবিত্র স্থানে দাঁড়িয়ে, এই জাবালে রহমতে দাঁড়িয়ে এই কথা বলেছিলেন। যে স্থানে দাঁড়িয়ে রাসূল (সঃ) এই কথাগুলো বলেছিলেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে সেই একই স্থানে সমবেত হওয়ার সুযোগ দান করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ।

আমরা সকলেই মুসলমান আলহামদুলিল্লাহ। এই মুসলিম নামটি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনই আমাদেরকে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআনে বলেছেন “তোমরা মুসলিম”। এই কথা বলে তিনি সকলের থেকে আমাদেরকে আলাদা করেছেন। আচ্ছা, অন্যরা কারা? অন্যরা হলো তারা যারা নফসের গোলাম, যারা নফসের চাওয়া অনুযায়ী জীবনযাপন করে তারা।

আলহামদুলিল্লাহ, আমরা মুসলমান। মুসলমান কাকে বলে? যত কঠিনই হোক না কেন, অথবা আমাদের মনপুত হোক বা না হোক, “মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যা নির্দেশ করেছেন, যে তার সেই নির্দেশের অনুগামী হয় সেই মুসলমান”।

আমরা সকলেই একথা জানি যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য এই দুনিয়াতে প্রেরন করেছেন। আমাদের নিঃশ্বাস বায়ু সীমিত। সকল জীবকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতেই হবে। এজন্য আমাদের উচিত হল, আমাদের এই সীমিত সময়কে সবচেয়ে ভাল কাজে ব্যয় করে, এই দুনিয়ার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া।

আমাদের মহান রব কিভাবে এই পরীক্ষা নেন?

আমাদের মহান রব, “হক্ব ও বাতিলের” সংঘাতের মাধ্যমে এই পরীক্ষা করে থাকেন। এই পরীক্ষায় সব চেয়ে সম্মানজনক স্থান হল, “সত্য দ্বীনকে প্রতিষ্ঠার জন্য জান-মাল দিয়ে কাজ করা”।

এই পরীক্ষায় নিজেকে ‘ভাল মানুষ’ হিসাবে প্রমানিত করতে হলে, সর্বপ্রথম কর্তব্য হলো: অপর মানুষের কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করা। দেখুন, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) কে বিশ্ব জাহানের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করা হয়েছে। নবী করীম (সঃ) একটি হাদীসে বলেছেন, خير الناس من ينفع الناس অর্থাৎ মানুষের মধ্যে উত্তম হলো সেই ব্যক্তি, যে মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে। এই জন্য দ্বীন ইসলাম এসেছে মানুষের কল্যাণ সাধনের জন্য।

ইসলাম, সমগ্র মানবতার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ কামনা করে। একজন মানুষকে মুসলমান হতে হলে, لا اله إلا الله محمد رسول الله এই কালেমার বাণীটির অর্থ বুঝে, বিশ্বাসের সাথে এবং মৌখিক স্বীকৃতির মাধ্যমে পড়তে হয়।

আচ্ছা, لا اله إلا الله محمد رسول الله ( লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ) এই কালিমাটি যখন আমরা পড়ি,তখন আমরা আসলে কিসের স্বীকৃতি দান করি?

আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (সঃ) তার রাসুল। আমরা এই কথা বলি বলেই মুসলমান হয়ে থাকি।

‘আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই’, এর অর্থ কি?

‘ইলাহ’ শব্দটি একটি আরবী শব্দ। এই দুনিয়াতে যত ভাষা আছে তার মধ্যে সব চেয়ে সমৃদ্ধ ভাষা হল আরবি ভাষা। এর অর্থ এবং এর ব্যাকরণকে সম্মানিত আলেমগণ গণিতের মত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের দিক থেকেও এই ভাষা সব চেয়ে সমৃদ্ধ একটি ভাষা। আরবি ভাষার এই ‘ইলাহ’ শব্দটিতে চারটি মৌলিক অর্থ লুকায়িত আছে।

১, মানুষ তার দাসত্ব করবে,

এই অর্থ বুঝায় যখন আমরা বলি, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ তখন আমরা মূলত একথা স্বীকার করি যে, ‘ইয়্যাকা না’বুদু’। অর্থাৎ ‘ইয়া রাব্বী আমরা কেবলমাত্র তোমারই ইবাদত করি’ ।

২, তার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি। এই অর্থে,

‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর অপর একটি অর্থ হল, ‘ইয়্যাকা নাস্তায়ীন’। অর্থাৎ ‘ইয়া রাব্বী আমরা কেবলমাত্র তোমারই কাছেই সাহায্য চাই’।

৩, তার সন্তুষ্টির প্রত্যাশা করা অর্থে।

‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এই বাক্যের মধ্যে ‘ ওয়া রিজাকা মাতুলবী’। অর্থাৎ ইয়া রাব্বী আমাদের আকাংখা হল তোমার সন্তুষ্টি, এই অর্থটিও নিহিত রয়েছে।

৪, আইন প্রণেতা, অর্থে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর অর্থ হল, ‘ইয়া রাব্বী হক্ব, বাতিল এবং আদালত এগুলোকে একমাত্র তুমিও সূক্ষ্মভাবে নিরূপণ করতে পার। কোন বিধান মানুষের সাফল্য বয়ে নিয়ে আসবে কেবলমাত্র তুমিই জান’। মানবতার মুক্তির জন্য তুমি তোমার সেই বিধানকে তোমার প্রিয় রাসূল এবং প্রিয় বান্দা মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর মাধ্যমে পাঠিয়েছ। এই জন্য কোরআনে পাকে বর্ণিত ‘হক্ব ও আদালতের বিধান’ তুমিই তোমার প্রিয় রাসূলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করিয়েছ। আমরা আল্লাহ তায়ালাকে কথা দিয়েছি যে, ‘তোমার বিধানকে এই দুনিয়ার বুকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আমরা জান-মাল দিয়ে প্রচেষ্টা চালাব’, এই জন্যই আমরা মুসলমান। উপরে বর্ণিত সকল অর্থই ‘লা ইলাহা ইল্লাহ’ এই বাক্যটির মধ্যে পাওয়া যায়।

কোরআনে কারীমে বর্ণিত, ‘হক্ব ও ন্যায়ের বিধান’ দুনিয়ার বুকে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে পরিচালিত সংগ্রামকে জিহাদ বলে। এই জন্য একজন মুসলিম যখন কালেমায়ে তাওহীদের বাণী উচ্চারন করে,তখনই সে জিহাদ করবে বলে আল্লাহ তায়ালার কাছে ওয়াদা করে।
“ ইয়া রাব্বী, আমি আমার সকল শক্তি দিয়ে জিহাদ করব। সমগ্র মানবতার কল্যাণের জন্য তোমার প্রেরিত হক্ব ও আদালতের এই বিধানকে দুনিয়ার বুকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমার সকল যোগ্যতা দিয়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।”
“লা ইলাহা ইল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুল্লাহ” এই বাক্যের মূল কথা হল এটি।
যে ব্যক্তির জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হেদায়েত নাসিব করেছেন। সে ব্যক্তি যদি অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করে এবং অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝে কালেমায়ে তাওহীদ মুখে উচ্চারন করে তাহলেই সে মুসলমান হিসাবে গণ্য হবে। এমন মুসলমানের উপরেই হজ্জ ফরজ হয়েছে।
আচ্ছা, হজ্জ কি?

প্রথমত, আমাদের দায়িত্ব হল, আল্লাহর দেওয়া বিধানকে দুনিয়ার বুকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সর্বাত্মক ভাবে প্রচেষ্টা চালাব। আল্লাহ বলেছেন “তোমরা একটি উম্মত হিসাবে, এক সাথে জিহাদ করবে”। আমরা এই কথার উপর বিশ্বাস করেই মুসলমান হয়েছি এবং আল্লাহর করুনায় “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” র এই বিশাল সমাবেশ হজ্জে এসে উপস্থিত হয়েছি।

আমরা কেন এই ফরজ হজ্জকে অন্য স্থানে আদায় করতে পারি না? মদীনা কিংবা বাইতুল মুকাদ্দাসে না গিয়ে কেন কাবায় এসে সমবেত হই? কেননা কাবা হলো এমন স্থান, যেখানে আমাদের আদি পিতা, সর্ব প্রথম মানব হযরত আদম (আঃ) এই কাবাতে এসে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এই বাণীটি উচ্চারন করেছিলেন। অর্থাৎ মানব কর্তৃক এই পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কালেমায়ে তাওহীদের এই বানী এই কাবাতেই উচ্চারিত হয়।

তাওহীদের মূলনীতির উপর ভিত্তি করে সর্বপ্রথম ইবাদত গৃহ হলো এই কাবা, যা দুনিয়ার বুকে প্রতিষ্ঠিত সর্বপ্রথম মসজিদ। এই জন্য এই কাবা হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র প্রতীক। এই জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমরা মুসলমানরা এসে এই মহাপবিত্র স্থানে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” র পতাকা তলে সমবেত হই।

কাবা শরীফকে তাওয়াফ করি। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের মহান প্রভু আমাদেরকে ফরজ পালনের সুযোগ করে দিয়েছেন। এখন আমরা কাবার বাগান হিসাবে পরিচিত আরাফাতে অবস্থান করছি। আরাফাত হলো, মুজাহিদ বাহিনীর মিলনস্থল। এখানে আমরা ৩০ লক্ষ মুসলমান আজ এক পতাকা তলে সমবেত হয়েছি।

এ সমাবেশের উদ্দেশ্য কি?

এ সমাবেশ হলো, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” র সমাবেশ। অর্থাৎ আমরা এ সমাবেশে এসে আমাদের মহান প্রভুকে এই কথা দিচ্ছি যেঃ

“হে আল্লাহ তোমার প্রেরিত বিধান আল কোরআনের রাজকে এই দুনিয়ার বুকে কায়েম করার জন্য আমরা আমাদের সকল শক্তি দিয়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব”।

আমি যখন মুসলমান হয়েছিলাম তখনও তোমাকে আমি এই কথা দিয়েছিলাম। আজ আমি ৩০ লক্ষ ইসলামী সেনাবাহিনীর এই সৈন্য সমাবেশে সমবেত হয়ে একজন সৈনিক হিসাবে একই কথা ঘোষণা করছি। এ সৈন্য বাহিনী দেড়শকোটি মুসলমানের প্রতিনিধিত্ব করছে। তোমার প্রেরিত সত্য বিধানকে এই দুনিয়ার বুকে প্রতিষ্ঠিত করব এই ওয়াদা দেওয়ার জন্য তোমার ডাকে সাড়া দিয়ে আজকের এই সমাবেশে এসে হাজির হয়েছি। আমরা যে কাজ করছি তা হল মূলত এই কাজ। এই জন্য আমরা যখন এখানে সমবেত হই, তখন

لبيكَ اللَّهمّ لبّيك،

لبّيك لا شريك لك لبّيك،

إن الحمد والنعمة لك والمُلك

لا شريك لك

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক,

লাব্বাইক লা শারিকালাকা লাব্বাইক

ইন্নাল হামদা, ওয়ান নিয়’মাতা লাকা ওয়াল মূলক

লা শারীকা লাকা।

এই শ্লোগান দিয়ে দিয়ে এখানে সমবেত হই।

আমরা যে কথা গুলো মুখে উচ্চারণ করছি এর অর্থ কি?

প্রথমে একবার “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক” আদেশ করো ইয়া রাব্বী (হে প্রভু)। তোমার জিহাদের সৈন্য বাহিনীর একজন সৈন্য হিসাবে এখানে এসে হাজির হয়েছি। কালেমায়ে তাওহীদের এই সমাবেশে এসে হাজির হয়েছি। “ লাব্বাইক! আল্লাহুম্মা লাব্বাইক!” যখন জোর দিয়ে বলি তখন এর অর্থ দাঁড়ায়, ‘আমি কেবলমাত্র তোমার গোলামী করার জন্যই হাজির হয়েছি। তুমি আদেশ করো, আমি কেবলমাত্র তোমারই গোলাম। কেবল তোমার আদেশেরই অনুগামী হব’।

এরপর আমরা কী বলি? আমরা বলি যে, “ লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক”। লা শারিকা লাকা এর অর্থ কি? এর অর্থ হল, ‘ ইয়া রাব্বী, তোমার কোন শরীক নেই। তুমি একমাত্র প্রভু’। কোন বিধান মানবতার কল্যাণ বয়ে আনবে এটা কেবলমাত্র তুমিই জান, আর কেউ নয়। তুমি আমাদেরকে যে কোরআনী বিধান দিয়েছ কেবলমাত্র এর মাধ্যমেই মানবতা মুক্তি পেতে পারে। মানব রচিত আইন কোন দ্বীন মানবতার কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। মানব রচিত বিধান মানুষকে ধংসের দিকে ধাবিত করে।

দেখুন, কম্যুনিজমের পতন হয়েছে। খেয়াল করে শুনুন, আমাদের নবী মানবতার মুক্তির দূত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সঃ) এই আরাফাতের ময়দানে তার শেষ ভাষণে কি বলেছেন?

তিনি বলেছেন “জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে ’সুদ’ কে চির দিনের জন্য হারাম ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। সকল সুদ আমার পায়ের নিচে”। কেন তিনি ১৪১৪ বছর পূর্বে আমাদেরকে এই কথা বলেছেন? তিনি এই জন্য বলেছেন যে, কম্যুনিজমের পতন হয়েছে বলে তোমরা সুদ-ভিত্তিক পুঁজিবাদের দিকে ঝুকে পড়োনা।

“সুদে কোন প্রকার কল্যাণ নেই” এই কথা তিনি আমাদেরকে এত আগে বলে দিয়েছেন। এই সতর্কবানী যাতে সকলেই খুব সতর্কতার সাথে গ্রহন করে সেই জন্য তিনি এই কথা বলার সময় উটের পীঠ থেকে নেমে পড়েছিলেন।

সাবধান, এটা মনে রেখো যে সুদ থেকে কোন কল্যাণ আসতে পারে এটা ধারনাও করো না। এটা কেবলমাত্র মানুষকে নির্যাতন করতে পারে। এই জন্য সকল ধরণের সুদকে রহিত করা হল, সকল সুদ আমার পায়ের নিচে। সাবধান সুদকে কোন কিছু মনে করে এই পথে অগ্রসর হয়ো না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কোরআনে কারীমের মাধ্যমে যে সিরাতে মুস্তাকিমের পথ দেখিয়েছেন সেই পথে চল। কেবল মাত্র এই কোরআনের বিধানের মাধ্যমেই তোমরা নিজেরা সফলতা লাভ করতে পারবে, দেড়শ কোটি মুসলমান সফলতা লাভ করবে এবং সর্বোপরি সাতশত কোটি মানুষ সফলতা লাভ করবে।

এই জন্য আমরা যখন এইখানে ‘ লাব্বাইক! আল্লাহুম্মা লাব্বাইক!’ বলতে বলতে দৌড়িয়ে এসে উপস্থিত হই তখন আমরা একথা বলি যে, “ হে আল্লাহ আমরা কেবলমাত্র তোমারই গোলামী করি”। যখন বলি ‘লা শারিকালাকা লাব্বাইক’ তখন আমরা বলি যে, “হে আল্লাহ তুমি যে বিধান পাঠিয়েছ আমরা কেবলমাত্র সেটার মাধ্যমেই সফলতা লাভ করতে পারি, অন্য কোন বিধান আমাদেরকে কল্যাণের পথ দেখাতে পারে না। তোমার কোন শরীক নেই।” এই কথা আমরা বার বার উচ্চারণ করে থাকি।

এর পর বলি যে, “ওয়া নিয়’মাতা লাকা ওয়াল মূলক” সকল নিয়ামত এবং সম্পত্তির মালিক কেবলমাত্র তুমি। এই জন্য আমরা যখন সাহায্য চাই তখন কেবলমাত্র তোমার কাছেই সাহায্য চাই।

এর পড় আমরা বলি যে, “লা শারিকা লাকা” ইয়া রাব্বী, তোমার কোন শরীক নেই।

এই বাক্যগুলো মূলত “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” র তাফসীর। পূর্বে আমি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” র যে চারটি অর্থ উল্লেখ করেছি সে চারটি অর্থই হজ্জের এই “ লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নিয়’মাতা লাকা ওয়াল মূলক, লা শারিকা লাকা” তালবিয়ার মধ্যে পাওয়া যায়। কালেমায়ে তাওহীদের চারটি অর্থই আমরা সকাল থেকে বার বার উচ্চারণ করছি।

আমি কেন আপনাদের সামনে এসে এই বিষয়ে কথা বলছি?

দেখুন আপনারা আল্লাহর অনুগ্রহে আরাফাতে এসেছেন, এখানে হজ্জ করতে এসে ইসলামী সৈন্য বাহিনীর সৈনিকে পরিণত হয়েছেন। আল্লাহ আপনাদের রক্ষা করুন আপনারা কেও যেন দেশে ফিরে সুদকে সমর্থন না করেন।সাবধান আপনারা দেশে ফিরে গিয়ে যালিমদেরকে সমর্থন করবেন না। যদি দেশে গিয়ে যারা সুদভিত্তিক পুজিবাদকে সমর্থন করে এমন দলকে সমর্থন করেন তাহলে আপনার এই হজ্জের অর্থটা কি থাকল? দেখুন আমি এখানে রাজনীতি করছি না।

আমি আপনাদের একজন ভাই হিসাবে আপনাদের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসাবে এই কথা বলছি। আপনাদের হজ্জ যাতে কবুল হয়, অর্থপূর্ণ হয়, এই জন্য আপনাদের সামনে এই কথার মর্মার্থকে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। একজন মুসলিম হিসাবে এটা আমার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া আপনি এখানে হজ্জ করতে এসে, তিন দিন, পাঁচ দিন, দশ দিন, এক মাস সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা, ওয়ান নিয়’মাতা, লাকা ওয়াল মূলক লা শারিকা লাকা” পড়বেন এরপর ফিরে গিয়ে মানবরচিত বিধান থেকে সফলতা আশা করবেন। তাহলে তো আপনার সেই হজ্জের কোন মর্যাদাই রইল না। আপনি কাবায় এসে বললেন এক কথা আর গিয়ে করছেন ভিন্ন কাজ! এই জন্য আমরা এখানে কেন আসছি, এই কথা ভালোভাবে বুঝতে হবে। এইখানে এসে আমরা যখন হজ্জের এই তালবিয়া পাঠ করি, তখন আমরা “লা ইলাহা ইল্লাহ” কালেমায়ে তাওহীদের এই বাণীর মর্মার্থ আরও ভালোভাবে বুঝতে পারি।

প্রতি বছর সমগ্র দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসলমানরা এসে এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে। যাতে মুসলিম উম্মাহর অন্তরে এই চেতনা চির জাগরূক থাকে। মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি যে, তিনি আমাদেরকে এই সুযোগ দান করেছেন এবং “ইসলামের এই আধ্যাত্মিক সৈন্যবাহিনীতে” একজন সৈন্য হিসাবে অংশগ্রহন করার সুযোগ দিয়েছেন। আল্লাহর নিকট তালবিয়া পাঠ করেছি। “হে আল্লাহ তুমি আমাকে নির্দেশ কর, আমি তোমার এই জিহাদী কাফেলার একজন সৈনিক। তোমার প্রেরিত বিধানকে দুনিয়ার বুকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আমি আমার সকল শক্তি ও যোগ্যতা দিয়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবো।” আল্লাহকে আমরা এই কথা দিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ি। কেন? যাতে করে আমরা দুনিয়ার সকল স্থানে মহান রাব্বুল আলামীন কর্তৃক প্রেরিত সেই বিধানকে বাস্তবায়ন করতে পারি।

আমি আবারও বলছি যে, যারা সুদ কে প্রশ্রয় দিয়ে দেশ পরিচালনা করে তাদের থেকে কখনও কল্যাণ আসবে না। দেখুন! আল্লাহর রাসুল এই বিদায় হজ্জের ভাষণেই এই কথা বলেছেন। সাবধান, কম্যুনিজম থেকে মানবতার কল্যাণ আসবে না বলে, মুক্তির আশায় সুদ-ভিত্তিক পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার দিকে ছুটে চলো না। পবিত্র কোরআনের বিধান ছাড়া এবং আল্লাহ ও তার রাসুল (সঃ) প্রদর্শিত পথ ছাড়া মুক্তির আর কোন পথ নেই। আলহামদুলিল্লাহ সকাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত আমরা এই কথাই বারংবার উচ্চারণ করছি। এই সত্যটি আমাদের মনের মধ্যে গেঁথে নিয়ে পৃথিবীর সকল জায়গায় ছড়িয়ে যাচ্ছি।

আমরা এখানে ফরজ হজ্জ আদায় করলাম। এরপর আমরা যেখানেই যাব দাওয়াত ও তাবলীগের যে ফরজ আমাদের উপর আরোপিত হয়েছে সেটাও আদায় করব। আমাদের সামনে যারাই আসবে, যাদেরকেই আমরা কাছে পাব তাঁদের সামনেই এই সত্যকে তুলে ধরব। মানুষকে দাওয়াত দিয়ে বলব “ সত্য ও সুন্দরের শাশ্বত এই বিধানকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তুমিও আমাদের সাথে আসো”। আমাদের উপর যে জিহাদ ফরজ এই ফরজটিকেও আদায় করব। সকলেই মিলে দুনিয়ার বুকে হক্ব ও আদালতকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। যদি আজকের দেড়শ কোটি মুসলমান হজ্জের এই মর্মার্থ বুঝতে সক্ষম হয় এবং এই অনুযায়ী কাজ করে তাহলে অতীতের মত পৃথিবীতে আবারও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠিত হবে সমগ্র মানবতা এই জুলুম নির্যাতন থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মুসলমানদেরকে এই সত্য সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হয় না। মুসলমানের সত্যিকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য কি এটা শিক্ষা দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাতিল শক্তি মানবতাকে শোষণ করার জন্য তার এবং দুনিয়ার বুক থেকে ইসলামকে বিলীন করার জন্য তার সকল শক্তি দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। অপর দিকে, মুসলিমগণ যাতে ইসলামের মূল শিক্ষা না পায় সেই জন্য সকল প্রকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এজন্য সে বলে যে আমি মুসলমান, কিন্তু পরে গিয়ে সুদী মহাজনদের সমর্থন দেয়। মুসলমান হওয়ার অর্থ কি এটাই সে জানে না। এখানে হজ্জ করতে আসে হজ্জ থেকে ফিরে গিয়ে সুদ কে সমর্থন করে এমন পার্টিকে সাপোর্ট করে। সে ধারনা করে যে, আমি মুসলমানও হব আবার সুদী মহাজন ও হব। না, তা হতে পারে না। আমি আবার বলছি। রাসুল (সঃ) বলেছেন, “সকল ধরণের সুদ রহিত করা হলো, সকল সুদ আমার পায়ের নিচে।”

সাবধান! যারা সুদ-ভিত্তিক পুঁজিবাদকে বাস্তবায়ন করতে চায় তাদেরকে সমর্থন করবে না!

সাবধান! যারা পাশ্চাত্য সভ্যতার দালাল তাদের পেছনে ছুটে বেড়াবে না!

এই সতর্কবাণী যেখানে উচ্চারিত হয়েছিল আজ আমরা সকলেই সেখানে। এই জন্য এর অর্থকে আমাদের খুব ভাল ভাবে উপলব্ধি করতে হবে। যদি পৃথিবীতে বসবাসকারী দেড়শ কোটি মুসলমান এর অর্থ উপলব্ধি করতে সক্ষম হতো তাহলে সমগ্র দুনিয়ায় আজ যে জুলুম নির্যাতন তা অবশিষ্ট থাকত না।

দেখুন! আজ বসনিয়াতে আমাদের মুসলিম ভাইদের উপর গণহত্যা চালানো হচ্ছে, আমাদের মা-বোনদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। কেন মুসলিম দেশগুলো আজ একত্রিত হয়ে এই জুলুম বন্ধে কোন পদক্ষেপ নিতে পারছে না? কেন বলছে না যে আমরা আমাদের এই ভাইদের উদ্ধার করার জন্য আমরাও অভিযান চালাবো?

মুসলমানরা বলে যে, “আমরা পাশ্চাত্যের সাথে মিশে যাব, ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ করব, আমাদের আইন কানুন হবে ইউরোপীয়দের আইন ও কানুনের মতই, তখন আমরা বেশী ভাল থাকতে পারব।”

দেখুন এ কেমন গাফিলতি, এ কেমন বুদ্ধিহীনতা। যারা এমন কথা বলে এরকম লোকদেরকেই আজ অনেকেই সমর্থন দিচ্ছে। না, তুমি পারবে না এমন কাউকে সমর্থন করতে। ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে শিক্ষা করা সকল রোগের মহা-ঔষধ। এই জন্যই এখানে আসি এই জন্যই সত্যটা তুলে ধরার চেষ্টা করি। আজ ফিলিস্তিনের দিকে তাকিয়ে দেখুন সেখানে ৪০ বছর যাবত জুলুম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। কাশ্মীর, আজারবাইজানের দিকে তাকিয়ে দেখুন। এই সকল সমস্যার একমাত্র সমাধান হলো ইসলাম এবং ইসলাম। যদি দেড়শ কোটি মুসলমান চায় তাহলে বসনিয়াকে রক্ষা করতে পারে।

আলবেনিয়ার প্রেসিডেন্ট জেদ্দার ইসলামিক কনফারেন্সে এসে তার বক্তৃতায় বলেন “বসনিয়ার গণহত্যার পর সিরিয়াল আমাদের”। এই মুসলিম দেশের নেতৃবৃন্দ আপনারা কোথায়? তিরানা এয়ারপোর্ট আপনাদের হাতে। ১০০ টি বিমান পাঠান দেখেন ১৫ মিনিটের মধ্যেই জালিম সার্বিয়াকে শায়েস্তা করে বসনিয়ান ভাইদের মুক্ত করতে পারবে। কিন্তু মুসলিম বিশ্বের উদাসীন নেতৃবৃন্দ বলে যে, “আমরা আপনাদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে পারব না। কেননা পাশ্চাত্য এরকম কাজ পছন্দ করবে না” । এসকল নেতারা বলতে চায় যে, “আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি নয় পাশ্চাত্যের সন্তুষ্টি চাই”

তারা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর অর্থ জানে না বলেই এমন আচরণ করছে। “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর অর্থ হলো “আমি কেবল মাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টিই চাই।” যদি এই চেতনাকে লালন করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মুসলিম দেশগুলো তিরান এয়ারপোর্ট থেকে কয়েকশ বিমান পাঠায়, তাহলে এই জালিম সার্বিয়ানরা পালিয়ে যাওয়ার জন্য গুহা খুঁজে বেড়াবে। ফলশ্রুতিতে বসনিয়ার গণহত্যাও বন্ধ হবে, মুসলিম উম্মাহও শান্তি ফিরে পাবে। এটি একটি উদাহরণ হিসাবে বললাম। এটা বর্তমানের একটি বিষয় হওয়ার কারণে এমন উদাহরণ দিলাম। এরকম জরুরি অবস্থায় আমরা এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য। সকল সমস্যার মূল সমাধান হলো ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে জানা এবং সে অনুযায়ী আমল করা। সচেতন মুসলমান হিসাবে সব কিছু খেয়াল করা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে আমাদের দায়িত্ব পালন করার তওফিক দান করুন। আল্লাহর দ্বীনকে দুনিয়ার বুকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সর্বাত্মকভাবে প্রচেষ্টা চালানোর তওফিক দান করুন। এই আরাফাতের যে শিক্ষা এই শিক্ষাকে বুকে ধারণ করে চলার তওফিক দান করুন।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআনে বলেছেন, “তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ উম্মাহ”। অর্থাৎ এই মানবতা তোমাদের হাতে আমানত। মানবতার কল্যাণের জন্য এবং দুনিয়াতে আল্লাহর দ্বীনকে কে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করবে। এই পবিত্র স্থানে দাঁড়িয়ে মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে দোয়া করছি যে, হে আল্লাহ তুমি মুসলিম উম্মাহকে ইসলামের সঠিক বুঝ দান কর। তাঁদেরকে চেতনা সম্পন্ন হওয়ার তওফিক দান কর। দুনিয়ার বুকে তোমার দেওয়া দ্বীন ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমাদেরকে তওফিক দান কর।

Address

Dhaka
1200

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when দাওয়াম - আমার সংগ্রাম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share