17/08/2026
‘ইসলাম ও জ্ঞান’—এটি শুধুমাত্র একটি বই নয়; বরং তুর্কি ইসলামী জাগরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইশতেহার।
একসময় যে উসমানী রাষ্ট্র তিন মহাদেশজুড়ে তার শাসন ও সভ্যতার বিস্তার ঘটিয়েছিল, সেই রাষ্ট্রের উত্তরসূরি মুসলিম সমাজ যখন পরাজয়, হীনমন্যতা ও আত্মবিস্মৃতির গভীরে নিমজ্জিত—তখন তাদের আত্মপরিচয়, আত্মবিশ্বাস ও ঐতিহাসিক চেতনাকে পুনর্জাগ্রত করার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছিলেন তরুণ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. নাজমুদ্দিন এরবাকান।
তিনি শুধু বক্তৃতা দেননি; বরং তুরস্কের শহর থেকে প্রান্তর, শিক্ষাঙ্গন থেকে জনসমাবেশ—সর্বত্র মানুষের সামনে তুলে ধরেছিলেন ইসলামী সভ্যতার গৌরবময় ইতিহাস, মুসলিম মনীষীদের বৈজ্ঞানিক অবদান এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সভ্যতা নির্মাণে ইসলামের ঐতিহাসিক ভূমিকা।
তাঁর আহ্বান ছিল আত্মবিস্মৃত একটি জাতিকে তার অতীতের সঙ্গে পুনরায় পরিচিত করা এবং সেই অতীতের শক্তি থেকেই ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা গ্রহণ করা।
‘ইসলাম ও জ্ঞান’ সেই জাগরণেরই একটি বুদ্ধিবৃত্তিক দলিল—যেখানে ইসলামকে কেবল একটি ধর্মীয় পরিচয় হিসেবে নয়, বরং জ্ঞান, বিজ্ঞান, সভ্যতা ও মানবকল্যাণের একটি পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এই চিন্তা ও আহ্বান তুর্কি সমাজে নতুন আত্মবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছিল। মানুষ তার ইতিহাসকে নতুন চোখে দেখতে শুরু করেছিল, নিজের সভ্যতাগত পরিচয়কে নতুনভাবে উপলব্ধি করেছিল এবং একটি নতুন ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল।
আর এভাবেই শুরু হয়েছিল ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়—একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মবিশ্বাস ও সভ্যতাগত চেতনার পুনর্জাগরণের অধ্যায়।