জীবন জীবনের জন্যে I Jibon Jiboner Jonnya

জীবন জীবনের জন্যে I Jibon Jiboner Jonnya بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيم
BISMILLAHIRRAHMANIRRAHIM

ٱ?

17/03/2026

ক্ষমা প্রার্থনার ক্ষেত্রে এক ধরণের কৃত্রিমতা রয়েছে: "আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ..." যা কিছু মানুষের কাছে খুবই কৃত্রিম। যেমন আলী (রা.) এক ব্যক্তিকে এভাবে করতে দেখে বলেছিলেন, "তোমার এই ইস্তিগফারের জন্যই আবার ইস্তিগফার প্রয়োজন।" কারণ ওটা কেবল তোমার জিহ্বার ওপর দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে।

​এমন কিছু বিষয় আছে যা আপনাকে এবং আমাকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। এটি প্রত্যাশার সাথে জড়িত। কিছু মানুষ মনের গভীরে গেঁথে নিয়েছে যে— "আমি বড্ড বেশি উল্টোপাল্টা কাজ করে ফেলেছি," "আল্লাহ বোধহয় আমাকে খুব একটা পছন্দ করেন না।" কিছু লোক তো এতোদূর পর্যন্ত বলে যে— "আল্লাহ আমাকে ঘৃণা করেন," "আল্লাহ আমাকে পছন্দ করেন না," "আল্লাহ আমাকে রাগান্বিত, আমি অনেক খারাপ কাজ করেছি।" "আমি জানতাম আল্লাহ এটা চান না, তবুও আমি এটা করেছি এবং বারবার, বারবার, বারবার করেছি।" "তাই আমি মূলত আল্লাহর ভালো খাতা থেকে বাদ পড়ে গেছি।" "আমার নামাজের কোনো মানে হয় না।"

​আর মানুষ যখন এটা মনে গেঁথে নেয়, তখন তারা কী করে জানেন? তারা বলে— "আমি একজন খারাপ মানুষ, আপনি কি আমার জন্য একটু দোয়া করবেন? কারণ আমি তো ইতোমধ্যেই অযোগ্য হয়ে গেছি।" "তাই আপনার আমার জন্য দোয়া করা দরকার কারণ আমি আশা করি আল্লাহ অন্তত আপনার কথা শুনবেন।" "হয়তো আমার একটা সুযোগ হতে পারে, কারণ কোনোভাবেই আল্লাহ আমার কথা শুনবেন না।" "আল্লাহর সাথে আপনার যোগাযোগ আমার চেয়ে অনেক বেশি ভালো মনে হয়।"

​আমি আপনাদের একটু অতীতে নিয়ে যাই। একটি ছোট মনে করিয়ে দেওয়া— নূহ (আ.) এই অফার কাদের দিয়েছিলেন? নূহ (আ.) এই অফার দিয়েছিলেন পৃথিবীর অন্যতম এক বিদ্রোহী জাতির কাছে। যারা ক্রমাগত অবাধ্য ছিল। তিনি বলেছিলেন, "তোমরা যদি কেবল এসে ক্ষমা চাও, আল্লাহ শুধু তোমাদের ক্ষমাই করবেন না, তিনি তোমাদের জন্য পুরো পৃথিবী উন্মুক্ত করে দেবেন।" অন্য কথায়, আপনি নিজেকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিতে পারেন না। আপনি নিজের সম্পর্কে এটা বলতে পারেন না যে— "আমি অনেক দূরে চলে গেছি।" ক্ষমা চাওয়া হয়তো অন্যের জন্য, কিন্তু "আমি একটা হারিয়ে যাওয়া কেস," "আমি একজন টার্মিনাল কেস," "আমি আশার অতীত," "আমি ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছি।" "বড়জোর আমার মা আমার জন্য দোয়া করবে, আমি নিজের জন্য দোয়া করব না।"

​ঠিক এই সময়ই শয়তান আসে। শয়তান এর সুযোগ নেয়। যখন শয়তান... সে মানুষের এই হতাশাকে ব্যবহার করে এবং এটিই শিরকের অন্যতম একটি দরজা। আপনি কি তা জানেন? শিরকের একটি দরজা। কেন? কারণ তখন ভ্রান্ত ধর্মগুলো আসে যারা বলে— "তুমি বড্ড বেশি অপরাধী, যিশুকে তোমার হয়ে ক্ষমা করতে দাও।" "তুমি যিশুর প্রতি ভালো হও, সে আল্লাহর কাছে তোমার ব্যাপারটা সামলে নেবে।" সে মাঝখানে থাকবে অথবা অন্য কাউকে মাঝখানে বসিয়ে দেবে। "এই যে সাধু বা পীর, তার কবরে যাও।" "তার কাছে গিয়ে চাও, তার প্রতি ভালো হও, তার কবরের সামনে কিছু চকোলেট রাখো এবং সে আল্লাহর কাছে তোমার সমস্যাগুলো মিটিয়ে দিতে বলবে।" "কারণ তুমি বড্ড বেশি অপরাধী, তুমি সরাসরি আল্লাহর মোকাবিলা করতে পারবে না, তিনি তোমার ওপর বড্ড রাগান্বিত।" "কিন্তু তিনি (সাধু) আল্লাহর ভালো খাতায় ছিলেন, তাই তুমি তাঁর মাধ্যম হয়ে যাও।" এভাবেই শিরক জন্ম নেয়।

​অন্য কথায়, আল্লাহর সাথে আমাদের সরাসরি যোগাযোগের যে নির্যাস—যা মূলত ঈমান, যা তাওহীদ, যা মূলত 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'—তার নির্যাস হলো: আপনি আপনার যা প্রয়োজন তার জন্য সরাসরি আল্লাহর কাছে চাইবেন। এবং আমি বলছি, আমি নিজেকেও মনে করিয়ে দিচ্ছি, আমাদের সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন—কারণ এটি আমাদের সব প্রয়োজন মিটিয়ে দেবে—তাহলো ইস্তিগফার।

​এখন, এক ধরণের ইস্তিগফার আছে জিহ্বা দিয়ে, আর এক ধরণের ইস্তিগফার আছে অন্তর দিয়ে। মানুষ সাধারণত খুব আত্মরক্ষণশীল বা অজুহাত দেওয়া স্বভাবের হয়। আমি যদি আপনার কোনো সমালোচনা করি— "হে, আমি দেখলাম তুমি ওটা বললে, কেন ওটা বললে?" আপনি সাথে সাথে বলবেন— "আমি ওটা ওভাবে বোঝাতে চাইনি!", "তুমি জানো না আমি কিসের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলাম!", "মাফ করবেন, আপনি পুরো ঘটনাটা জানেনই না!" আপনি সাথে সাথে আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। (কুরআন ৭৫:১৪-১৫): "মানুষ নিজের সম্পর্কে খুব ভালো জানে, যদিও সে প্রচুর অজুহাত পেশ করতে থাকে।" তারা অজুহাত ছুড়তে থাকে।

​আপনি যদি আল্লাহর ক্ষমা পেতে চান, তবে আপনাকে একটি সময় খুঁজে বের করতে হবে। আপনি আরবি জানেন না তাতে কিছু যায় আসে না। আপনি কেবল পাঞ্জাবি, বাংলা, বাহাসা, ইংরেজি বা উর্দু যা-ই জানেন—তাতে কোনো সমস্যা নেই। আপনি আল্লাহর সাথে কথা বলুন এবং আপনার ভুলের কথাগুলো স্পষ্টভাবে তাঁর কাছে স্বীকার করুন, এবং কোনো অজুহাত দেবেন না।

​এটা করা অনেক কঠিন। কারণ এমনকি যখন আপনি আয়নার সামনে দাঁড়ান, তখনও আপনি নিজের কাছে মিথ্যা বলেন। আপনি নিজেকে বলেন— "আমি অতোটাও খারাপ না," "আমি যা করেছি তার পেছনে কারণ ছিল," "আমি অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে গিয়েছি।" কিন্তু যখন আপনি আল্লাহর সামনে আসবেন, তখন সব ধরণের অজুহাত দেওয়া ভুলে যান। কারণ আপনার সব অজুহাত তিনি ইতোমধ্যেই জানেন। তিনি জানতেন আপনি কিসের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলাম, ওটা একটা কঠিন সময় ছিল, এটা আপনাকে অস্থির করে তুলেছিল, ওটা আপনাকে অস্থির করে তুলেছিল—সবই তিনি জানতেন। "হে রব, আমি অনেক মানসিক চাপে ছিলাম তাই আমি মদ খেয়েছি"—তাঁকে এসব কারণ দর্শাতে যাবেন না। তিনি আপনার কারণগুলো আপনার চেয়েও ভালো জানেন।

​আপনাকে তাঁর কাছে আসতে হবে কোনো ফিল্টার ছাড়া, কোনো দ্বিধা ছাড়া, কোনো ঢাল ছাড়া এবং কোনো লজ্জা ছাড়া। যে বিষয়গুলো আপনি অন্য কারো কাছে স্বীকার করতে লজ্জা পান, সেগুলো আল্লাহর কাছে একদম খোলাখুলিভাবে স্বীকার করুন যে আপনি কতটা ভুল করেছেন। একদম খোলাখুলিভাবে। এবং আমি বলছি, যখন আপনি এই কথাগুলো মুখে বলতে শুরু করবেন, আমার বিশ্বাসই হয় না যে আপনার চোখ দিয়ে পানি পড়বে না। একজন মানুষের পক্ষে আল্লাহর সামনে—বিশেষ করে আল্লাহর সামনে—নিজেকে এতোটা অসহায়ভাবে মেলে ধরা এবং এরপর চোখ দিয়ে পানি না পড়া অসম্ভব, কারণ এটি দুর্বলতার একটি মুহূর্ত। দুনিয়ার সামনে আপনাকে শক্তিশালী এবং আত্মবিশ্বাসী দেখাতে হয়, সবাই আপনাকে দেখে ভাবে আপনি ঠিক আছেন। কিন্তু একমাত্র আল্লাহই জানেন যে কিছুই ঠিক নেই, অনেক সমস্যা আছে।

​আপনাকে তাঁর কাছে খোলাখুলিভাবে সব বলতে হবে, তখনই আপনি ক্ষমা চাওয়ার মতো অবস্থানে পৌঁছাবেন। তখন সেজদায় গিয়ে আপনার মিনতি অন্য রূপ নেবে। এটা কেবল "আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ..." থাকবে না। এটা হবে আল্লাহর সাথে এক সত্যিকারের কথোপকথন, আল্লাহর সাথে এক সত্যিকারের স্বীকারোক্তি। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি বিষয়।

​নিজের জন্য এটি চেষ্টা করে দেখুন। আপনাকে একাকী সময় বের করতে হবে। নিশ্চিত করুন যেন কেউ আপনাকে শুনতে না পায়। এমনকি মাঝরাতেও বিছানায় বসে এটি করবেন না যদি আপনার স্ত্রী পাশে থাকে। আপনি বিছানা থেকে উঠুন, পাশে বসে দোয়া করবেন আর সে শুনবে—এমনটা করবেন না। প্রয়োজনে গাড়িতে একা থাকুন, তাতে সমস্যা নেই। এটি শুধু আপনার আর আল্লাহর সময়। কথাগুলো মুখে বলুন, নিজের কানে শুনুন। কেবল মনে মনে ফিসফিস করবেন না। আর যদি কেবল মুখস্থ করা কিছু আরবি দোয়া পাঠ করেন যার অর্থ আপনি জানেন না এবং কেবল সেগুলো আওড়াতে থাকেন—তবে মনে রাখবেন, সেই দোয়াগুলো সুন্দর এবং শক্তিশালী, কিন্তু আপনার অন্তর যদি সেগুলো না বলে কেবল জিহ্বা বলে—তবে আপনি এখনো ইস্তিগফার করছেন না। আপনি যে জিকির করছেন তার জন্য আল্লাহ আপনাকে সওয়াব দিন, কিন্তু ওটা ইস্তিগফার নয়। ইস্তিগফার অন্য কিছু।

​আর যখন এই চোখের পানি ঝরবে, যখন এই অনুভূতিগুলো কাজ করবে, তখনই আসমানের দরজা খুলে যাবে। ইনশাআল্লাহ্।

20/01/2026

~~ জাহান্নামের ভয়টাও আল্লাহর দয়ার প্রকাশ! ~~

আল্লাহ বলেন,

هٰذِهِۦ جَهَنَّمُ

﴾এটাই জাহান্নাম।﴿ নির্যাতনের জায়গা!

الَّتِى يُكَذِّبُ بِهَا الْمُجْرِمُونَ

﴾যেটাকে অপরাধীরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করতো﴿ [আর-রাহমান : ৪৩]

তারা এটাকে নিয়ে হাসতো। ভাবতো যেন রসিকতা এটা।

يَطُوفُونَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ حَمِيمٍ ءَانٍ

﴾তারা জাহান্নামের আগুন ও ফুটন্ত পানির মাঝখানে তাওয়াফ করতে থাকবে﴿ [আর-রাহমান : ৪৪]

আপনারা তাওয়াফ বুঝেন? তাওয়াফের আক্ষরিক অর্থ আপনি যেখানে শুরু করেছেন সেখানেই ফিরে আসা। রাউন্ড ট্রিপ দিলেন।

তারা সর্বক্ষণ রাউন্ড ট্রিপ দিতে থাকবে। কীসের মধ্যে? জাহান্নাম, যেটা আগুনের তৈরি। আর ‘হামিম আন’ অর্থ ফুটন্ত গরম পানি। তারা আগুনে যাবে, এরপর বলবে আর নিতে পারছি না। এরপর পানি দেখবে, সেখানে ছুটে যাবে। কিন্তু পানিও ফুটন্ত গরম। সেটা তাদের গায়ে ঢেলে দেয়া হবে।

ذُقْ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْكَرِيمُ

﴾আস্বাদন গ্রহণ কর (জাহান্নামের টগবগে ফুটন্ত গরম পানি), তুমি তো (দুনিয়াতে) ছিলে সম্মানিত, সম্ভ্রান্ত।﴿ [সূরা দোখান : ৪৯]

পানি তাদের উপর ঢেলে দেয়া হবে। ফলে, ফুলে তাদের চেহারায় ফোস্কা পড়ে যাবে। প্রচণ্ড জ্বলবে। তারা বলবে, ফুটন্ত গরম পানি আর নিতে পারছি না। আগুনই এর থেকে ভালো ছিল। তাই তারা আগুনে ফিরে যাবে। সেই আগুনও তাদের পোড়াতে থাকবে, ফোস্কা বসিয়ে দেবে। ‘আগুনও নিতে পারছি না আমি আর!! ওখানে আবার পানি দেখছি!’ তারা আবার পানির দিকে ফিরে আসবে। এভাবে তারা ফুটন্ত গরম পানি আর আগুনের মাঝে ঘুরপাক খেতে থাকবে।

পানি>আগুন>পানি>আগুন। এভাবেই তাওয়াফ চলতে থাকবে অবিরাম।

فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

আজকে আর অকৃত হতে মন চাচ্ছে? অকৃতজ্ঞতার শাস্তি দেখতে পাচ্ছো? তোমরা একে না দেখে বিশ্বাস করতে চাইতে না যুক্তি দেবার পরও।

ইসলাম ত্যাগকারী সেই তরুণ নারীর কথা মনে আছে? সে বলেছিল, আল্লাহ কেন এসব কঠিন শাস্তি নিয়ে বলেন? এসব কথা বললে তিনি কীভাবে দয়াময় হন?

আমি বললাম, আচ্ছা, আপনাকে বোঝাচ্ছি। ধরুন আপনি একটি রুমে আছেন। এখানে এইদিকে একটি দরজা আছে, আর ওদিকে আরেকটি দরজা। আপনি জানেন না এই দরজার পেছনে কী আছে, আর ঐ দরজার পেছনে কী সেটাও জানেন না।

তো আমি এই দরজা খুলে দেখালাম এটার পেছনে আছে জান্নাত। সাথে আপনাকে বর্ণনাও করে দিলাম। এরপর ওই দরজা খুলে দেখালাম সেটার পেছনে আছে জাহান্নাম।

আমি কি আপনাকে কোনো দরজার ভেতরে ধাক্কা দিয়েছি? না। আপনাকে শুধু দেখিয়েছি। এখন ধরুন, আমি আপনাকে চোখ দিয়ে না দেখিয়ে শব্দ দিয়ে দেখালাম। চিন্তা করে দেখুন, জাহান্নাম দেখাকে আপনি অগ্রাধিকার দিবেন নাকি বর্ণনা শুনতে বেশি পছন্দ করবেন? আপনি কি জাহান্নাম নিজ চোখে দেখতে চাবেন নাকি আমার মুখেই শুনে ক্ষান্ত হবেন?

আমি তো এটার বর্ণনা শোনাটাকেই পছন্দ করবো। আমি ওটা দেখতেও চাই না। আমি জাহান্নামের আগুন দেখলে পাগল হয়ে যাবো। মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়বো। আপনারা জানেন, অনেকে ভয়ানক কিছু দেখার পর মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে, যেমন যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে অনেক সৈনিক মানসিক সমস্যাগ্রস্ত হয়ে অসুস্থ হয়, আত্মহত্যা পর্যন্ত করে বসে। জাহান্নাম থেকে ভয়ের আর কীই-বা আছে?

আল্লাহ চাইলে তিনি আমাদের দেখাতেই পারতেন। কিন্তু আমরা তা সহ্য করতে পারতাম না। তাই তিনি বরং আমাদের উপর বড় এহসান করেছেন, দয়া করেছেন যে এটা সত্যি। এমনটাই হবে। বাস্তব এটা।

আল্লাহর রহমত তো এটাই যে আল্লাহ আগে থেকেই আপনাকে জানিয়ে দিচ্ছেন। আল্লাহর রহমত এটা নয় যে আপনি তাঁকে প্রশ্ন করবেন। আপনি আল্লাহকে প্রশ্ন করতে পারেন না কেন তিনি জাহান্নাম বানালেন। আপনি প্রশ্ন করার কে? কে আপনি? তিনি আল্লাহ!! فَعَّالٌ لِّمَا يُرِيدُ ﴾তিনি যা ইচ্ছে তাই করেন। ﴿[সূরা বুরুজ : ১৬] তিনি কেন ঘূর্ণিঝড় বানালেন, কেন ভুমিকম্প বানালেন? কারণ তিনি পারেন! আপনি প্রশ্ন করবার কে?

আপনার গাড়ি থামালে তো আপনি পুলিশকে প্রশ্ন করেন না! আমাকে থামালেন কেন? এমন তো করেন না। আপনি তো সরকারের কাছে গিয়ে বলেন না, আমার কাছে ট্যাক্স চাও কেন? অ্যাঁ?

আপনি কর্তৃপক্ষকে সম্মান করেন। যখন বিচারক বলেন, তুমি ছয় মাসের জন্য জেলে যাবে।

—এই বিচারক গাধা! আমি কেন ছয়মাস জেলে যাবো!?

এমন করলে কী হবে?

—ষাট মাস জেলে থাকবেন।

জানেন আসল বিষয়টা? মানুষ কিন্তু মানুষের কর্তৃত্ব সম্মান করে। কিন্তু যখন আল্লাহ বিধিনিষেধ দেন তখন বলে—আরে! কেন?

তুমি কী? তোমার কাছে তাঁর কৈফিয়ত দিতে হবে? নাকি তোমাকে জবাব দিতে হবে কেন তিনি রব আর আমরা আবদ (দাস)?

তিনি খালিক। তিনি আপনার রব্ব! তাঁর কর্তৃত্ব আপনাকে সম্মান করতে হবে।

আচ্ছা, যদি আপনাকে আমি বলি, খবরে এসেছে একটি ঝড় আসছে!

এখন আপনি আমার উপর রেগে গেলেন!

—“আরে! ঝড় কেন আসবে?”

আরে গর্ধব! ঝড় আসছে, পালাও!

সে উল্টো বলছে—আমার ঝড় পছন্দ না। আমি ঝড়ে বিশ্বাস করবো না কারণ আমি ঝড় পছন্দ করি না। তাই আমি এখানেই বসে থাকবো। আমার দোষ না এটা। ঝড় আমার ভালো লাগে না।

এভাবেই যদি থাকতে চান, ভালো। আপনাকে সতর্ক করা হয়েছে যেন আপনি নিজেকে বাঁচাতে পারেন। আল্লাহ চাইলে সতর্ক নাও করতে পারতেন।

আচ্ছা জানেন? খৃষ্টান আর ইহুদিদের ধর্মে কিন্তু জাহান্নামের কোনো বর্ণনাই নেই। তারা সব মুছে দিয়েছে। বলতে গেলে কিছুই নেই। তাই এটা নিয়ে মানুষ কার্টুন বানায়। ওখানে অনেক আগুনের ফুলকি ছুড়ে আর হেভি মেটাল গান চলতে থাকে। সবাই চামড়ার জ্যাকেট পড়ে ইত্যাদি। তাদের মাথায় এগুলোই। তাদের কাছে এটা তামাশা হয়ে গেছে।

কিন্তু আমাদের মুসলিমদের কাছে এটা কখনোই তামাশা নয়। কখনোই কৌতুক করি না এটা নিয়ে। জানেন কেন? কারণ যেভাবে আল্লাহ জাহান্নামের বর্ণনা দিয়েছেন। ইহুদি আর খৃষ্টানদের মতো যদি এটা তামাশা হয়ে যেতো, আমাদের জন্যও যদি তামাশা হতো, তবে আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমরা কখনোই মুক্তি পেতাম না। জাহান্নামের ভয়টাও আমাদের পাপ থেকে বাঁচিয়ে রাখে, তাই এটাও আমাদের জন্য রহমত, আল্লাহর দয়া।

জাহান্নাম দেখিয়ে ভয় দেখাবার তুলনায় তিনি যে আমাদের বর্ণনা দিয়ে জাহান্নামের ভয় দেখাচ্ছেন, এটাই বরং রহমত। তাঁর কথাই রহমত। তিনি আর-রাহমান হিসেবে এই জাহান্নামের ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়েছেন। তাই আল্লাহর কথা ও দয়ায় বিশ্বাস না করলে আপনি চাইলে ওই দরজা দিয়ে যেতে পারেন।

তিনি যদি ওই দরজার ভয়াবহতা না দেখান, আপনারা যদি দরজার ওপাশে যা আছে সেটার ভয়াবহতা দেখতে না পান, তবে তাঁর দেয়া সতর্কবার্তাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে পারবেন না।

কুরআন আল্লাহর সতর্কতা ও দয়ায় ভরপুর। এই সতর্কতা না নিলে যেমন জাহান্নামের কঠিন ও ভয়াবহ শাস্তির মুখোমুখি হবো, তেমনি এই ভয়াবহতা পূর্বেই জানিয়ে দেওয়া সেই জাহান্নামের কঠিন আযাব থেকে রক্ষার প্রশ্ন ফাঁস! তাই, আল্লাহর কিতাব ও এর সঠিক বিশ্লেষণ জানা প্রচন্ড জরুরী। জানতে চান আল্লাহর সেই আশা ও ভালোবাসার অপূর্ব ওহীর অসাধারণ বিশ্লেষণ?

তবে আল্লাহর কুরআন বুঝে পড়ুন।

অথবা আমাদের সঙ্গে থাকুন।

20/01/2026

একটি ভালো দিন...আপনি সকালে উঠে মসজিদে গেলেন। কিছু কুরআন তিলাওয়াত করলেন। অন্তর বিগলিত করে অকৃত্রিম কিছু দোয়া করলেন। কিছু খারাপ কাজ আপনার অভ্যাসের অংশ হয়ে গিয়েছে কিন্তু আজ সেগুলো থেকেও দূরে থাকলেন। মানুষকে কষ্ট দিয়ে কোনো কথা বললেন না। কোনোভাবে কারো কোনো ক্ষতি করলেন না।

এভাবে যোহর পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন। এখন, অনুভব করছেন আপনি আগের চেয়ে আল্লাহর অনেক কাছাকাছি আছেন। অন্তরে এক ধরণের স্বর্গীয় প্রশান্তি অনুভব করছেন। নিজের উদ্বেগ উৎকণ্ঠাগুলো কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।

এরপর... কেমন করে যেন মনোবল কমে গেল। ভাবলেন, আমার হাতে কিছুটা ফ্রি সময় আছে। মুভি বা কিছু একটা দেখে একটু বিনোদন করি এবং শুরু করলেন। ব্যাস! সিরাতল মুস্তাকিম থেকে অন্যদিকে মোড় নিলেন। শয়তান বিশাল এক সুযোগ পেয়ে গেলো। শয়তান সাথে সাথে আপনাকে অনুসরণ করা শুরু করে, পথভ্রষ্ট করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে থাকে। আপনি হয়ে পড়েন তার এক নম্বর প্রজেক্ট। সে সবকিছু ছেড়ে আপনার পেছনে লাগে। এতক্ষণ সে কিন্তু পারেনি। কারণ, আমাদের রাসূল (স) বলেছেন— "আল্লাহর জিকির হলো 'হিসনুল হাসিন' একটি সংরক্ষিত দুর্গ যা তোমাদেরকে বিতাড়িত শয়তান থেকে রক্ষা করবে।" মনে করুন, চারপাশে শক্ত দেয়াল তুলে আপনার প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আল্লাহর জিকির ঠিক এ কাজটাই করে। আল্লাহর জিকিরে মগ্ন থাকা মানে আপনি 'হিসনুল হাসিন' সংরক্ষিত দুর্গের ভেতরে আছেন।

কিন্তু যখনই কোনো হারামের পথ অবলম্বন করেন, যখন আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি যে, আমরা আল্লাহর বিধান অমান্য করবো। যখন আল্লাহ্‌ বলেন অমুক কাজ থেকে দূরে থাকো। কিন্তু আপনি তার থেকে দূরে থাকেন না। তখন, ধীরে ধীরে কিন্তু নিশ্চিতরূপে আপনি আপনার লজ্জাশীলতা হারিয়ে ফেলবেন। আপনি আপনার হায়া-শরম হারিয়ে ফেলবেন। কারণ শয়তান তখন আপনাকে অশ্লীল কাজের আদেশ করে। আল্লাহ যেমন কুরআনে বলেছেন- اَلشَّیۡطٰنُ یَعِدُکُمُ الۡفَقۡرَ وَ یَاۡمُرُکُمۡ بِالۡفَحۡشَآءِ ۚ শয়তান তোমাদেরকে দরিদ্রতার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং অশ্লীল কাজের আদেশ করে। (২:২৬৮)

নির্লজ্জ কিছুর দিকে তাকাতে তখন আপনার মনে কোনো সংকোচ আসবে না। চোখ নিচু রাখতে আপনার খুব কষ্ট হবে। জিহ্বা দিয়ে নোংরা শব্দ বের হবে, এর উপর নিজের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। আপনি নির্লজ্জ হয়ে পড়বেন কথায়, নির্লজ্জ হয়ে পড়বেন দৃষ্টিতে, নির্লজ্জ হয়ে পড়বেন কাজের ক্ষেত্রে— এভাবে শুধু পতন হতে থাকবে।

আর এ সবকিছুর শুরু হয়েছিলো আপাতদৃষ্টিতে এর সাথে সম্পর্কহীন একটি ব্যাপার থেকে। আদম হাওয়ার ক্ষেত্রে, একটি গাছের ফল খাওয়া থেকে। আর আমাদের ক্ষেত্রে, যখন কোনো ব্যাপারে আমরা আল্লাহকে অমান্য করবো, তাঁর নিষিদ্ধকৃত বস্তুর নিকটে যাবো​​— আমাদেরকে দেওয়া আল্লাহর শ্রেষ্ঠ উপহার আমাদের হায়া, আমাদের লজ্জা, আমাদের শালীনতা, আমাদের সংকোচের চেতনা চুরমার হয়ে যাবে। আমরা এর অযোগ্য হয়ে পড়বো।

এখন, আপনি আবার পিছিয়ে যাচ্ছেন। উন্নতি অর্জন করছিলেন কিন্তু এখন আবার নিচের দিকে নামা শুরু করলেন। এমনটা সবসময় ঘটে আসছে। কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেন এরপর আবার পিছিয়ে পড়েন। কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেন এরপর আবার পিছিয়ে পড়েন।

আমাদের অধিকাংশের ক্ষেত্রে দেখা যায়, আমরা এমনসব কাজে যুক্ত হয়ে পড়ি যা আমাদেরকে ধীরে ধীরে আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আর কদাচিৎ আমরা কিছু ভালো কাজ করি যা আমাদের আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে আসে।

এখন, আপনি যদি অবিরত নীচের দিকে নামতে থাকেন, আর কালেভদ্রে একটুখানি উপরে উঠেন- আপনি কি তখন নিজের উন্নতি অনুভব করেন? না। তখন উন্নতি অনুভূত হয় না। ফলে, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করার মধুরতা কখনো ফিল করেন না, তাই আপনি শুধু নিচের দিকেই নামতে থাকেন। এটি সর্পিল অবনতি।

ব্যাপারটা ঠিক এমন, আপনি নিয়মিত জাঙ্ক ফুড আহার করেন, শরীরের স্থানে স্থানে মেদ জমে গেছে। বছরে দুই একটা বুক ডন বা পুশ আপ তো আর কোনো পরিবর্তন আনবে না।

আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার ব্যাপারটাও এরকম। এটা আপনার লক্ষ্য। আপনি ইঞ্চি ইঞ্চি করে এগিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি নতুন দিন একটি নতুন সুযোগ পূর্বের অবস্থানের চেয়ে আরেকটু এগিয়ে যাওয়ার। নিজের অগ্রগতির দিকে লক্ষ্য রাখুন। এবং সরল সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হবেন না। একটু একটু করে অগ্রসর হতে থাকুন। যদি কখনো ছোটো খাটো ভুল হয়ে যায় সাথে সাথে তাওবা করে ফিরে আসুন। ওখানে পড়ে থাকবেন না।

এরকম অগ্রগতি অর্জন করা মানুষদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন- اُولٰٓئِکَ الۡمُقَرَّبُوۡنَ - তারাই (আল্লাহর) নৈকট্যপ্রাপ্ত। فِیۡ جَنّٰتِ النَّعِیۡمِ - (তারা থাকবে) নেয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাতে। [সূরা ওয়াকিয়া, আয়াত ১১-১২]

20/12/2025

ধর্মীয় উগ্রবাদীরা সূরা আশ-শূআরা ২৬:২২৪-২২৬ আয়াত দেখিয়ে বলে,
"আর বিভ্রান্তরাই কবিদের অনুসরণ করে"। এই একটি আয়াতকে আলাদা করে ব্যবহার করে তারা কাজী নজরুল ইসলামসহ কবিদের অসম্মান করে। এটি কুরআনের ব্যাখ্যা নয়; এটি কুরআনের বক্তব্যকে কেটে-ছেঁটে নিজের উগ্র মানসিকতা চাপিয়ে দেওয়ার কৌশল।

কারণ কুরআন নিজেই নির্দেশ দেয় আয়াতকে ধারাবাহিকভাবে বুঝতে। যদি কেউ সূরা আশ-শূআরা ২৬:২২১–২২৭ আয়াত একসাথে পড়ে, তাহলে পরিষ্কার বোঝা যায়—
এখানে শয়তানি প্রভাব, মিথ্যাচার এবং দায়িত্বহীন বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়েছে, কোনো শিল্পমাধ্যম বা কবিতাকে নির্বিচারে নিন্দা করা হয়নি।

এই ধারাবাহিক আলোচনার শেষেই কুরআন ২৬:২২৭ আয়াতে স্পষ্ট ব্যতিক্রম করেছে—
"তবে তারা নয়, যারা ঈমান আনে, সৎকর্ম করে এবং আল্লাহকে বেশি স্মরণ করে....…"

অর্থাৎ কুরআন নিজেই বলছে, সব কবি নিন্দিত নয়;
নিন্দা তাদের যারা মিথ্যা বলে, যা বলে তা করে না, এবং বিভ্রান্তি ছড়ায়।

অতএব যে কবি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, জুলুমের বিরুদ্ধে কলম ধরে, মানুষের বিবেক জাগায়—তাকে এই আয়াত দিয়ে আক্রমণ করা মানে কুরআনের পূর্ণ বক্তব্য অস্বীকার করা।

** আজ আমরা নবীর অপমানে যতটা গর্জে উঠি, নবীর চরিত্র কি ততটা ধারণ করি? **পবিত্র কুরআনের পাতায় পাতায় সাক্ষ্য রয়েছে—কাফেররা ...
20/12/2025

** আজ আমরা নবীর অপমানে যতটা গর্জে উঠি, নবীর চরিত্র কি ততটা ধারণ করি? **

পবিত্র কুরআনের পাতায় পাতায় সাক্ষ্য রয়েছে—কাফেররা আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ-কে কী না বলেছে! তাঁকে ‘পাগল’, ‘জাদুকর’, ‘কবি’, ‘মিথ্যাবাদী’ বলে উপহাস করেছে। তাঁর শরীরে আঘাত করেছে, চলার পথে কাঁটা বিছিয়েছে, এমনকি হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে।

কিন্তু নবীজি ﷺ কি কখনো এই অপমানের জবাবে কাউকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন?

তিনি কি কাউকে জীবন্ত আগুনে পোড়াতে বলেছেন?

তিনি কি কখনো বিচারহীনভাবে কাউকে জনতার হাতে তুলে দিয়েছেন?

**না! কখনো না।**

বরং তিনি দেখিয়েছেন ধৈর্য, ক্ষমা ও উত্তম চরিত্রের অতুলনীয় দৃষ্টান্ত। মক্কা বিজয়ের দিন তাঁর চরম শত্রুদেরও বলেছেন:

“আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো তিরস্কার নেই। যাও, তোমরা মুক্ত।”

📖 আল্লাহ তাআলা নবীজিকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন:

> “আমি জানি, তাদের কথা তোমাকে দুঃখ দেয়... কিন্তু তারা তোমাকে মিথ্যাবাদী বলছে না, বরং যালিমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করছে।”

> — (সূরা আল-আন‘আম: ৬:৩৩)

> “তাদের কথায় তুমি দুঃখিত হয়ো না। নিশ্চয় আমি জানি যা তারা গোপনে করে এবং যা প্রকাশ্যে করে।”

> — (সূরা ইয়াসিন: ৩৬:৭৬)

🔥 **আজকের এই বর্বরতা কার শিক্ষা?**

‘ধর্ম অবমাননা’র নামে মানুষকে পিটিয়ে বা জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা—এটা ইসলামের শিক্ষা নয়। এটা জাহেলিয়াতের পুনরাবৃত্তি। নবীজি ﷺ স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন:

📜 “আগুন দিয়ে শাস্তি দেওয়া আল্লাহ ছাড়া কারো জন্য বৈধ নয়।”

— (সহিহ বুখারী: ৩০১৬)

যারা ধর্মের নামে এই ধ্বংসাত্মক কাজ করে, তাদের সম্পর্কে কুরআনের কঠোর সতর্কবাণী:

📖 সূরা আল-বাকারাহ (২:৮-৯, ১১-১২, ১৪) এর আলোকে:

> “মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা বলে, ‘আমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনেছি’, অথচ তারা মুমিন নয়। তারা আল্লাহ ও মুমিনদের ধোঁকা দিতে চায়...” (২:৮-৯)

> “যখন তাদের বলা হয় ‘পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করো না’, তারা বলে ‘আমরা তো সংস্কারক’। সাবধান! তারাই ফাসাদ সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা বোঝে না।” (২:১১-১২)

> “যখন তারা মুমিনদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে ‘আমরা ঈমান এনেছি’। কিন্তু যখন আড়ালে তাদের শয়তানদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে ‘আমরা তো তোমাদের সাথেই আছি’...” (২:১৪)

**এরা প্রকৃত মুমিন নয়—এরা মুনাফিক।** মুখে ইসলামের দাবি করে, কিন্তু কাজে ধ্বংস, অশান্তি ও দ্বিমুখী আচরণ। তারা মুসলিমের ভেষ ধারণ করে সমাজে ফিতনা ছড়ায়, অথচ নিজেরাই শয়তানের সাথী।

আসুন, আবেগের আগুনে দ্বীনকে কলঙ্কিত না করি। নবীজি ﷺ-এর সত্যিকার প্রেমিক হতে হলে তাঁর ধৈর্য, ক্ষমা ও উত্তম আচরণ ধারণ করতে হবে—উগ্রতা ও নৈরাজ্য নয়। বিচার আইনের হাতে ছেড়ে দিয়ে শান্তির পথে চলি।

🤲 আল্লাহ আমাদের সবাইকে কুরআনের সঠিক বুঝ দান করুন, মুনাফিকির ছদ্মবেশ থেকে হেফাজত করুন এবং নবীর আদর্শ অনুসরণের তৌফিক দান করুন।

ধর্ম আজ শিক্ষিতের নামে মূর্খ জালিমের হাতে জিম্মি।

আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন। আমাদের কে জিম্মিদের হাত থেকে রক্ষা করুন হেফাজত করুন।

ধর্ম আজ অধর্মের হাতে জিম্মি।একজন অন্য ধর্মের মানুষকে পেটাতে পেটাতে মেরে ফেলে গাছে ঝুলিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দিলেন। তারপর, কেমন...
20/12/2025

ধর্ম আজ অধর্মের হাতে জিম্মি।

একজন অন্য ধর্মের মানুষকে পেটাতে পেটাতে মেরে ফেলে গাছে ঝুলিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দিলেন। তারপর, কেমন বোধ হচ্ছে? অপার্থিব তৃপ্তি? ধর্ম রক্ষা হলো? ধর্মের সম্মান বাড়লো? ধর্ম অবমাননার সকল দায় ঘুচে গেলো?

যাঁর অবমাননার দায়ে এই জঘন্য কাজটা করলেন, সেই মহামানবকেই যখন তায়েফের লোকজন পাথরের পর পাথর মেরে আঘাতে আঘাতে জর্জরিত করে ফেলেছিলো, জিবরাইল (আঃ) তাদের উপর পাহাড় ফেলে পিষে দেয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন কিন্তু তিনি সেই অনুমতি দেন নাই। ওই বর্বরতাকে মাফ করে দিয়েছিলেন। হেদায়েতের দোয়া করেছিলেন। প্রতিশোধপরায়ণতা দেখাননি। মক্কায় তাঁর উপর অবর্ণনীয় অত্যাচার হবার পরেও মক্কা বিজয়ের পর সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।

আর আপনারা?
কে আপনারা?
কী আপনারা?
কাকে অনুসরণ করেন আপনারা?

নিজেরাও জানেন???

ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল প্রশাসন এর হাতে তুলে দেয়া।

আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকেন। আমি এই জালিমদের দলে ছিলাম না। আমার ক্ষুদ্র চেষ্টা প্রতিবাদের এই লেখা।

25/07/2025

সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, বিপর্যয় অথবা কঠিন আযার তাদেরকে গ্রাস করবেই।
জেনে রাখ, আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা আল্লাহরই। তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ তা জানেন।
যেদিন তারা তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে সেদিন তারা যা করত তিনি তা জানিয়ে দেবেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।
সূরা নূর-২৪ > ৬৩,৬৪

18/07/2025

আমলে সলিহা বলতে কি সৎ কর্মকে বুঝায়? এত দিন তো তাই জানতাম। আজ দেখছি ভিন্ন! চলুন দেখি এই বিষয়ে কুরআন কি বলছে। কারণ কুরআনের ব্যাক্ষা কুরআন থেকেই নিতে হবে। দুনিয়ার ব্যাক্ষা দিয়ে কুরআন ব্যাক্ষা করা যাবে না। চলুন কুরআনের কাছে যাই। দেখি এই বিষয়ে কুরআন কি বলছে।

ভূমিকা:
আরবের কাফেররাও আল্লাহকে বিশ্বাস করত। তার প্রমাণ ইসলামের পূর্ব যুগেও তারা তাদের নাম আব্দুল্লাহ রাখত, তারা অবশ্যই আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী ছিল কিন্তু আল্লাহর বিধান মেনে চলতো না। আল্লাহর নির্দেশ না মেনে শুধুমাত্র আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস হলো - একটি পৌত্তলিক ধারণা।

সুতরাং আল্লাহর প্রতি ঈমান দ্বারা শুধুমাত্র আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করা বুঝায় না, বরং এর দ্বারা আল্লাহর আনুগত্য, আল্লাহর নির্দেশনা মানা এবং প্রতিটি কাজে আল্লাহর নির্দেশ মত চলাকে বুঝায়। এ কারণেই যারা আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয়ের মাধ্যমে নিজেদেরকে সংশোধন করে আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু ধর্মজীবী মোল্লারা তাদের ব্যবসাকে চাঙ্গা রাখতে কোরআনে বর্ণিত জান্নাতি হওয়ার শর্ত দুটিকে বিকৃত করেছে। কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে বলা হয়েছে:

اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَہُمۡ جَنّٰتٌ (৮৫:১১)

প্রায় সব অনুবাদকই এই আয়াতের নিম্নোক্ত গৎবাঁধা অনুবাদ করেছেন।

নিশ্চয় যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। (বায়ান ফাউন্ডেশন)

যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। (ফজলুর রহমান)

তারা জানে যে, কেউ আল্লাহর বিধান পালনে দৃঢ় প্রত্যয়ী হোক বা না হোক তাকে আরবের কাফেরদের মত বিশ্বাসী বানানো সহজ। এবং তারা তার থেকে কিছু ফায়দা পাওয়ার আশায় সংশোধনের পরিবর্তে “আমলে সলেহা” - কে সৎকাজ বলে জান্নাতের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়। মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা বানিয়ে তাতে দান করতে উৎসাহিত করে এবং নিজেই নিজেকে যাকাত সদকা খাওয়ার উপযুক্ত কর্মচারী (وَالۡعٰمِلِیۡنَ ৯:৬০) নিযুক্ত করে যাকাত / সদকা সংগ্রহ করে। এজেন্সি খুলে সহজে হজ্জ ও ওমরা করার ফর্মুলা দেয়। যত পশম তত সাওয়াব বলে বড় পশু কুরবানীর প্রতিযোগিতা বাড়ায়। আর বলে বেড়ায় এগুলো আমলে সলেহার অন্তর্ভুক্ত।

অন্ধ অনুসারীরা ভাবে মোল্লাদের দেওয়া লিস্টের ৭ বিষয়কে আমিতো না দেখে বিশ্বাস করি-ই। এখন অপকর্ম যাই করি না কেন, যদি কিছু সৎ কাজ করা যায়, তাহলে অপকর্মের শাস্তি পেলেও জান্নাত তো নিশ্চিত! এখন সে নিয়মিত নামাজ পড়ার চেষ্টা করে, তাই জামাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কায় ঘুষ আদায়ে তাড়া দেয়। উপার্জন অবৈধ হলেও মসজিদ মাদ্রাসা এতিমখানায় বেশি বেশি দান করে, ফি বছর হজ্জে যায়, মদিনায় এতেক্বাফ করে, প্রতিবছর কুরবানির পশুর সাইজ বাড়ায়, কিন্তু নিজ কর্মের কোন সংশোধন করে না।

এগুলোর কোনটি সৎকাজ, আর কোনটি সৎকাজ নয়, তা আজকের আলোচ্য বিষয় নয়। কিন্তু "আমলে সলেহা" দ্বারা যে সৎকর্ম বুঝায় না এটা নিশ্চিত। আল কুরআনে সৎকর্মকে "খইরাত" (কল্যাণকর কাজ) ও "হাসানাত" (ভালো / উত্তম কাজ) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

فَاسۡتَبِقُوا الۡخَیۡرٰتِ (২:১৪৮, ৫:৪৮)

অতএব, তোমরা সৎ কাজে প্রতিযোগিতামূলকভাবে এগিয়ে যাও। (মহিউদ্দিন খান)

مَنۡ جَآءَ بِالۡحَسَنَۃِ فَلَہٗ عَشۡرُ اَمۡثَالِہَا (৬:১৬০)

যে একটি সৎ কর্ম করবে সে তার দশ গুণ পাবে। (মহিউদ্দিন খান)

আরবি عَمِلُوا শব্দের অর্থ যারা কর্ম সম্পাদন করে, যারা কাজ করে। নির্দিষ্ট বাচক বিশেষ্য الصّٰلِحٰتِ শব্দটি صلح মূল থেকে আগত যার অর্থ: সমন্বয় সাধন করা / মীমাংসা করা (reconcile), সংশোধন করা (amend)। প্রচলিত অনুবাদেও শব্দটির বিভিন্ন ডেরিভেটিভ এর অর্থ “সংশোধন/মীমাংসা” ইত্যাদি হিসেবে নেয়া হয়েছে। যেমন: ২:১৬০ اَصۡلَحُوۡا তারা সংশোধিত হয়েছে, ২:২৮২ فَاَصۡلَحَ অতঃপর মীমাংসা করে দেয়, ৪:১২৯ تُصۡلِحُوۡا তোমরা সংশোধিত হও, ৩৩:৭১ یُّصۡلِحۡ তিনি সংশোধন করেন, ২৮:১৯ الۡمُصۡلِحِیۡنَ সংশোধনকারী।

অতএব, عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ অর্থ- যারা সংশোধন কার্যক্রম সম্পাদন করে/ যারা সংশোধনকারী।

অতএব, প্রকৃত আরবি অর্থ অনুসারে আয়াতের প্রকৃত অনুবাদ হবে:

اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَہُمۡ جَنّٰتٌ (৮৫:১১)

Those who take an oath of adherence and do the amendments, Jannat is for them. (85:11)

যারা আনুগত্যের শপথ নিয়েছে এবং (নিজেকে) সংশোধন করেছে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত।(৮৫:১১)

যারা (আল্লাহর বিধানের) বিশ্বস্ত অনুসারী এবং সংশোধন সম্পাদনকারী, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। (৮৫:১১)

যারা আল্লাহর বিধান পালনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং নিজ কার্যক্রমের সংশোধনকারী, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। (৮৫:১১) (সরল অনুবাদ)

অর্থাৎ যারা আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয়ের মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রমকে সংশোধন/শুদ্ধ করে আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মূলত: যারা আল্লাহর বিধানের সাথে যুক্ত থেকে নিজেদেরকে শুদ্ধ করে তারা আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে অবশ্যই সৎকর্মশীল। অর্থাৎ সৎকর্ম সালেহীনদের একটি বৈশিষ্ট্য হতে পারে কিন্তু সালেহীন মানে সৎকর্মশীল নয়।

শির্ক যে অতি বড় অপরাধ তার প্রমাণ আপনি নিজেই। [শির্ক—এটি শুধু একটি ধর্মীয় অপরাধ নয়, এটি চরম অবিচার ও যুক্তিবিরোধিতার নাম...
17/07/2025

শির্ক যে অতি বড় অপরাধ তার
প্রমাণ আপনি নিজেই।

[শির্ক—এটি শুধু একটি ধর্মীয় অপরাধ নয়, এটি চরম অবিচার ও যুক্তিবিরোধিতার নাম। ভাবুন তো, আপনি কী চান, আপনার সিদ্ধান্তে কেউ হস্তক্ষেপ করুক?আপনার ক্ষমতায় কেউ ভাগ বসাক?আপনার অধীন কেউ আপনার ‘প্রভু’ সেজে বসুক? আপনার লেখা বা উদ্ভাবনকে কেউ কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দিক?
আপনি নিশ্চয়ই বলবেন—না, একদম না! তাহলে যেটা আপনি নিজের জন্য পছন্দ করেন না তা কিভাবে আল্লাহর জন্য পছন্দ করতে পারেন। শির্ক মানে এটাই।]

এক, আশ্চর্যের কথা হলো, আপনি যা নিজের জন্য সহ্য করতে রাজি নন, ঠিক সেটাই আল্লাহর জন্য করছেন—আপনি তাঁর সাথে অন্যকে ভাগ বসাতে চাইছেন! এটা কি ন্যায্য? এটা কি যুক্তিসঙ্গত? এটা আমার কথা নয়, মহান আল্লাহর বাণী।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“আশ্চর্য! ওরা আল্লাহর সাথে শরিক করে, অথচ নিজেদের জন্য তা (শরিক করাকে) একেবারেই অপছন্দ করে।”— সূরা নাহল, আয়াত: ৬২

এটা একটা এমন বাস্তবতা, যা আপনি নিজেই প্রমাণ করেন—আপনি নিজেই শির্কের অন্যায় ও অযৌক্তিকতাকে মেনে নিতে পারেন না। তাহলে আপনি কীভাবে এটা আল্লাহর ওপর চাপাতে পারেন?

দুই, যদি একাধিক ইলাহ থাকত…

ধরুন এই বিশ্বজগতের যদি একাধিক স্রষ্টা থাকত—একজন বলল দিন হোক, অন্যজন বলল না, এখন রাত! একজন বলল পানি বর্ষুক, অন্যজন বলল না, রোদের তাপ পড়ুক।
তাহলে কী হতো? বিশৃঙ্খলা। বিশাল ধ্বংস।
শৃঙ্খলিত এই মহাবিশ্ব মুহূর্তেই ভেঙে পড়ত। এটা আমার কথা নয়, মহান আল্লাহর বাণী।

কুরআনে আল্লাহ বলেন:

“আল্লাহর কোনো উপাস্য নেই; যদি থাকত, তবে প্রত্যেকটি স্রষ্টা নিজের সৃষ্টি নিয়ে আলাদা হয়ে যেত এবং তারা একে অপরের উপর আধিপত্য বিস্তার করত।”— সূরা মু’মিনূন, আয়াত: ৯১

অর্থাৎ, বিশ্বজগতের শৃঙ্খলা নিজেই সাক্ষ্য দেয়—এখানে একমাত্র একজনই মালিক, বিধানদাতা, সর্বশক্তিমান স্রষ্টা। তিনি এক, অদ্বিতীয়—এটাই তাওহীদ।

“কৃপণতা করবেন না, দান করুন, দান হৃদয়ের প্রশান্তি এনে দেয়।” মসজিদ মাদ্রাসায় দান করে ভেবে রেখেছেন পার পেয়ে গেছেন? এর একট...
17/07/2025

“কৃপণতা করবেন না, দান করুন, দান হৃদয়ের প্রশান্তি এনে দেয়।”

মসজিদ মাদ্রাসায় দান করে ভেবে রেখেছেন পার পেয়ে গেছেন? এর একটাও আল্লাহর স্বীকৃত আল্লাহর এজেন্ট নম্বর নয়। এমনকি এতিম খানাও নয়। অতিম খানায় দেবেন টা দিয়ে এতিম খানার ট্রিপল কিনবে।

আপনাকে এতিম খুঁজে বের করে তার পর অতিমের হতে দিতে হবে।

এতিম খানার নামে ধোকাবাজি থেকে সতর্ক হন। আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর ভয় করুন

হে বিশ্বাসী ও বিশ্বাসীগণ, “হিসাবের দিন খুব নিকটে, গাফিলতা থেকে জেগে উঠুন!”
16/07/2025

হে বিশ্বাসী ও বিশ্বাসীগণ, “হিসাবের দিন খুব নিকটে, গাফিলতা থেকে জেগে উঠুন!”

15/07/2025

সন্তানের সুশিক্ষা: কুরআনের নির্দেশনা, আর আমাদের অবহেলা

[আজকাল ঘরে ঘরে এক অদ্ভুত চিত্র—সন্তানের সুখের জন্য পিতা-মাতা সর্বস্ব ত্যাগ করছেন, অথচ সন্তানের আচরণে তারা শঙ্কিত, ক্লান্ত, হতাশ। তাদের মুখে একদিকে জিপিএ-ফাইভের গৌরব — অন্যদিকে সন্তানের নৈতিকতা বা চরিত্রের কথা উঠলেই মুখ কালো হয়ে যায়। অথচ সন্তানের ভবিষ্যৎ গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত একটিই—আদর্শ শিক্ষা। আর সেই শিক্ষা প্রথমেই আসে মায়ের কোলে, বাবার ছায়ায়।]

পবিত্র কুরআনে হযরত লোকমান (আঃ)-এর উপদেশ আমাদের দেখিয়ে দেয়, কীভাবে সন্তানকে প্রকৃত মানুষ বানাতে হয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর কথাগুলো সূরা লোকমানে সংরক্ষণ করেছেন—যাতে প্রতিটি মা-বাবা তা হৃদয়ে ধারণ করেন।

সূরা লোকমান, আয়াত ১৩–১৯ অনুযায়ী সন্তানের সুশিক্ষার মূলনীতি:

এক: তাওহীদের শিক্ষা — সন্তানকে শিরকমুক্ত, এক আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল জীবন শিখাও (১৩, ১৫, ১৬)।

দুই: মাতা-পিতার প্রতি বিনয় ও কৃতজ্ঞতা — এমনকি যদি তারা অন্য ধর্মাবলম্বীও হন (১৪)।

তিন: সালাত কায়েম — শুধু নামাজ পড়া নয়, এর শিক্ষা ও শৃঙ্খলা জীবনজুড়ে প্রতিষ্ঠা করা (১৭)।

চার: সৎকাজে উৎসাহ, অসৎ কাজে বাধা — আগে নিজের জীবনে তা প্রমাণ করো (১৭)।

পাঁচ: দুর্দিনে ধৈর্য শেখা — দৃঢ় মনোবল ছাড়া এটি সম্ভব নয় (১৭)।

ছয়: অহংকার পরিহার — মানুষের সঙ্গে ব্যবহার সহজ ও ভদ্র হওয়া (১৮)।

সাত: সংযত আচরণ ও নম্র ভাষা — কথাবার্তায় কোমলতা ও শান্ত স্বর (১৯)।

যদি আমরা ঘরের ভেতরেই এ শিক্ষাগুলো চর্চা করি, সন্তান হবে চোখের শীতলতা। আর যদি তাও না হয়, তবু অন্তত আমরা আল্লাহর দরবারে দায়মুক্ত থাকব।

সুতরাং সন্তানের জন্য গর্বের সনদ কাগজে নয়, তার চরিত্রে গড়ে উঠুক—এটাই আসল সাফল্য।

হে আল্লাহ! আমাদের পরিবারগুলোকে আপনার নির্দেশনা অনুযায়ী গড়ে তোলার তাওফিক দিন, আমাদের সন্তানদেরকে দিন নৈতিক বলিষ্ঠতা, হোক তারা আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের শান্তির কারণ। আমিন!

Address

UTTARA
Dhaka
1230

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when জীবন জীবনের জন্যে I Jibon Jiboner Jonnya posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to জীবন জীবনের জন্যে I Jibon Jiboner Jonnya:

Share