28/03/2024
বাংলাদেশের প্রতি বিশেষ আহবান করলেন ফিলিস্তিন ওলামা পরিষদের প্রধান শাইখুল হাদীস আল্লামা ড. নাওয়াফ তাকরুরী হাফি.[Bangla Subtitle]
[আমাদের আজকের বার্তাটি আমাদের প্রিয় মুসলিম দেশ বাংলাদেশের জনগণের উদ্দেশ্যে, দেশটির মানুষ তাদের স্বচ্ছ চেতনায় উদ্ভাসিত। এ দেশের ওলামায়ে কেরাম তাদের সততা ও প্রশস্ততার গুণে বৈশিষ্ট মন্ডিত।
হে বাংলাদেশের মানুষ! আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন,
আজ আমরা আপনাদেরকে গৌরাবান্বিত গাজা ও জেরুজালেমের ব্যাপারে আপনাদেরকে সম্বোধন করছি।
এই বরকতময় ভূমিটি আজ দখলদার ইহুদি ও তাদের সীমালঙ্গনকারী মিত্র এবং তাদের বিশ্বাসঘাতক ও প্রতারক দালালদের পৈশাচিক কর্মকান্ডের বীভৎস শীকার।
অনাহার, ধ্বংসযজ্ঞ, শিশু ও নারী হত্যার শিকার আজ এই পবিত্র ভূমিটি।
গাজার আজ প্রয়োজন উম্মাহর দরদী দৃষ্টিভঙ্গির। জীবন তো কিছু দৃষ্টিভঙ্গি ও অবস্থান পরিবর্তনেরই নাম।
নিশ্চয় সর্বশক্তিমান আল্লাহর রাস্তায় দান, নিপীড়িতদের সহযোগিতা করা, ক্ষুধার্তদের খাওয়ানো, এবং বিবস্ত্রদের পোশাক দেয়া ও গৃহহীনদের আশ্রয় দেওয়া- এর প্রতিটিই সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে একেকটি মহান কাজ।
এতগুলো মহান কাজ এক জায়গায় জমা হলে তা কতইনা সৌভাগ্যের বিষয়!
এমন নিপীড়িত জায়গায় কিছু দান করা নিঃসন্দেহে একটি মহান প্রচেষ্টা এবং একটি মহান দান।
হে বাংলাদেশের মানুষ! আমরা আপনাকে সম্বোধন করছি। আমরা জানি যে বাংলাদেশের জনগণ ধনী নয়, কিন্তু তারা উদার। তারা খাঁটি মানুষ। তাদের স্বচ্ছতা, বিশ্বাস ও তাদের ভাই-বোন ও মুসলমানদের প্রতি বিশেষ ভালবাসার গুণে গুনান্বিত।
আমরা রমজানে অবস্থান করছি। রমজান বরকতময় মাস। দান ও উদারতার মাস। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের প্রতি সবচেয়ে উদার ছিলেন। রমজানে তিনি আরও বেশি উদার ছিলেন। রমজানে, যখন জিব্রাইল (আঃ) তাঁর সাথে দেখা করতেন, তাঁর সাথে কুরআন শুনাশুনি করতেন তখন তিনি অনেক বেশি দান করতেন। তিনি প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও কল্যাণের ব্যাপারে উদার ছিলেন।
হে বাংলাদেশের মানুষ! আমরা আপনাদেরকে ফিলিস্তিনিদের জন্য দানের ব্যাপারে আমন্ত্রণ জানাই। আপনার আছে যে সামান্য অর্থ রয়েছে সেটাকে সামান্য মনে করবেন না। কারণ সামান্যের উপর সামান্যই বেশি হয়ে যায়। নেক কাজ অল্প সঞ্চয় করলেও সেটা আল্লাহর কাছে ফলবান হয়।
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এই ধারণাটি বিশ্বময় ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে যে আপনাদের অর্থ সঠিক জায়গায় পৌঁছায় না। সেখানে যাতে ফিলিস্তিনি জনগণকে তাদের ভাইদের সাহায্য-সহযোগিতা থেকেও বিরত ও দূরে রাখতে পারে।
এজন্য আমরা দৃঢ়-চিত্তে স্পষ্টভাবে বলছি : আর আপনাদের দেশে এমন অনেক ফাউন্ডেশন রয়েছে , এবং আহলুল খাইর ব্যক্তিবর্গ রয়েছে যারা আপনাদের এই সাহায্য সহযোগিতা আমাদের নিকট পৌঁছে দেন ! এবং ফিলিস্তিনের ওলামায়ে কেরাম আপনারা যেভাবে আপনাদের এই দানগুলো পাঠাচ্ছেন হুবহু সেভাবেই গাজাবাসীদের নিকট সেগুলো হস্তান্তর করছে।
এবং আপনাদের এই সাহায্য সহযোগিতা গুলো ক্ষুধার্ত কে আহার দান করছে পিপাসার্তকে পানি পান করাচ্ছে , এবং নিঃস্ব অসহায় ব্যক্তিকে আশ্রয় দান করছে , এবং সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আপনাদের এই সাহায্য সহযোগিতা গুলো তাদের অবস্থানকে সর্বোচ্চভাবে দৃঢ় করছে তাদের দেশ ফিলিস্তিনে , এবং এই সহযোগিতার কারণেই তারা শত্রুর মোকাবেলা করতে পারছে ।
এজন্য আপনারা আল্লাহর রাস্তার এই জিহাদে আপনারাও ধন সম্পদ দান করে শরিক থাকবেন আশা করি ইনশাআল্লাহ ।
সর্বোপরি মসজিদুল আকসা থেকে জয়নবাদের প্রতিহত করতে আপনারা বড় ভূমিকা রাখছেন ।
আর এই বাইতুল মাকদিস তো আপনাদেরই মসজিদ , আপনাদেরই আকসা , আপনাদেরই পবিত্র ভূমি ,
সুতরাং হে আমার মুসলিম ভাইয়েরা ! আপনারা এমন কোন শত্রুর জন্য এই মসজিদুল আকসাকে রেখে দিবেন না , যারা মসজিদুল আকসা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে চায় মসজিদুল আকসা কে দখল করতে চায় ।
আর আমাদের মুসলমান ভাইদের মাঝে এমন কিছু গাদ্দার খেয়ানতকারী ব্যক্তিবর্গ রয়েছে যারা তাদের অপর মুসলিম ভাইদের সাথে খেয়ানত করেছে এবং বায়তুল মুকাদ্দাস এর সাথে গাদ্দারি করেছে , তাদেরকে এই উম্মত কখনোই ক্ষমা করবে না ।
সুতরাং প্রিয় ভাইয়েরা আমার আপনারা বেশি বেশি দান করুন আপনাদেরই প্রিয় গাজার অধীবাসিদের জন্য ।
আর বস্তুত যে ব্যক্তি কল্যাণ অগ্রে-পেশ করে সে মূলত তার নিজেরই জন্য পেশ করে ।
সুতরাং আপনারা আপনাদের সহযোগিতার হাত প্রসার করুন। যে আল্লাহর রাস্তায় দান করে সে কেবল নিজের জন্য দেয়। যারা আল্লাহর পথে তাদের অর্থ ব্যয় করে, তাদের দানগুলো একটি শষ্যদানার মতো, যা সাতটি শীষ উৎপন্ন করে। এর প্রতিটি শীষে থাকে একশটি দানা। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আরও বাড়িয়ে দেন। পক্ষান্তরে, যে কৃপণতা করে সে নিজের ব্যাপারেই কৃপণতা করে।। আল্লাহই একমাত্র ধনী আর আমরা সবাই দরিদ্র।
যারা দান করে এবং যারা গ্রহণ করে সকলেই আল্লাহর মুখাপেক্ষী, আর দান তো কেবলমাত্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে।
সুতরাংই আমার প্রিয় ভাইয়েরা আপনারা দান করুন ,সহযোগিতা করুন, সর্বোচ্চ কল্যাণ আপনাদেরই জন্য নির্ধারিত ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ বাংলাদেশ ও এর জনগণকে সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুক। শান্তি, রহমত ও বারাকাহ বর্ষণ করুন।]
-----শাইখুল হাদীস আল্লামা ড. নাওয়াফ তাকরুরী হাফি.