03/10/2024
বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক একটি বিষয়। মুসলিম উম্মাহ আজ বিভিন্ন কারণে বিভক্ত হয়ে আছে—রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় মতভেদ এর মধ্যে অন্যতম। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত, দখলদারিত্ব, সাম্রাজ্যবাদ এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ মুসলিম জাতির ঐক্যকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এছাড়া, সাম্প্রদায়িকতা, জাতিগত বিদ্বেষ এবং মতবাদের ভিত্তিতে দলাদলি উম্মাহর মধ্যে ফাটল ধরিয়েছে।
মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:
1. আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাহর প্রতি প্রত্যাবর্তন: কুরআন ও হাদিস মুসলিমদের জন্য প্রধান জীবন বিধান। এই দুটি ভিত্তির ওপর ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। আল্লাহর নির্দেশ ও রাসূলের সুন্নাহ অনুসরণ করলে মতভেদ কমে আসবে এবং মুসলিমরা একটি শক্তিশালী জাতিতে পরিণত হবে।
2. ইসলামের মৌলিক আদর্শে ঐক্যবদ্ধ থাকা: মুসলিমদের উচিত ইসলামি শিক্ষার মৌলিক আদর্শে ঐক্যবদ্ধ থাকা, যেমন তাওহীদ, রিসালাত, আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস। মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, তবে সেই পার্থক্যগুলোকে উগ্রভাবে মোকাবিলা না করে, সহনশীলতার মাধ্যমে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।
3. আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সংহতি: ওআইসি (ইসলামী সম্মেলন সংস্থা) এবং অন্যান্য মুসলিম সংগঠনগুলোকে আরো কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, যাতে মুসলিম রাষ্ট্রগুলো একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকে এবং একে অপরের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে।
4. দলাদলি ও সাম্প্রদায়িকতাকে পরিহার করা: মতাদর্শের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও মুসলিমদের উচিত নিজেদের মধ্যে বিভাজন তৈরি না করা। শিয়া-সুন্নি, বিভিন্ন মাজহাবের অনুসারীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া বৃদ্ধি করা উচিত।
5. শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিনিয়োগ: মুসলিম উম্মাহর শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি না থাকলে ঐক্য প্রতিষ্ঠা কঠিন। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন ও ইসলামের শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে মুসলিম জাতির উন্নয়ন ঘটাতে হবে।
6. সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক চক্রান্ত প্রতিরোধ: বাইরের শক্তি ও সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত থেকে উম্মাহকে রক্ষা করতে হবে, কারণ এই চক্রান্তগুলো মুসলিম উম্মাহকে দুর্বল করার অন্যতম হাতিয়ার।
মোটকথা, কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ থাকা, মতপার্থক্য মিটিয়ে মুসলিম উম্মাহকে একটি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী জাতিতে পরিণত করতে হবে।