24/08/2026
প্রোজেক্ট আপডেট | খুশির দেয়াল
আমাদের সাস্টেইনেবল উদ্যোগগুলোর মধ্যে “খুশির দেয়াল” এমন একটি প্রজেক্ট, যা আমরা প্রতি শীতে নতুন করে স্থাপন করি। কিন্তু এর প্রভাব শুধু শীতের কয়েকটি মাসে সীমাবদ্ধ নয় এটা মানুষের অভ্যাস, সচেতনতা এবং মানবিকতার মাধ্যমে এর সুফল সমাজে থেকে যায় পুরো বছরজুড়ে।
বছরব্যাপী শহরের বিভিন্ন প্রান্তে স্থাপিত আমাদের খুশির দেয়ালগুলোতে এলাকাবাসী তাদের অপ্রয়োজনীয় কিন্তু ব্যবহারযোগ্য কাপড় রেখে যান। সেই কাপড়গুলোই খুব সহজে সংগ্রহ করে নিতে পারেন এমন মানুষ, যাদের কাছে একটি ভালো পোশাকও অনেক বড় প্রয়োজন। কোনো আবেদন নেই, কোনো পরিচয় নেই শুধু প্রয়োজন আর মানবিকতার এক নীরব সেতুবন্ধন।
কারো অপ্রয়োজনীয় জিনিসই হতে পারে অন্য কারো প্রয়োজন।
এই উদ্যোগটি শুধু অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়, এটি পরিবেশ রক্ষারও একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। পুরোনো কাপড়ের বড় একটি অংশ ব্যবহার না করে ফেলে দেওয়া হলে তা ল্যান্ডফিলে জমা হয় এবং সময়ের সঙ্গে পরিবেশ দূষণ ও বর্জ্য সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। অথচ একটি পোশাকের ব্যবহারকাল বাড়িয়ে দিলে নতুন বর্জ্য তৈরি কমে, অপ্রয়োজনীয় অপচয়ও কিছুটা রোধ করা যায়।
খুশির দেয়ালের মাধ্যমে আমরা একটি সুন্দর recycling circle তৈরি করার চেষ্টা করছি যেখানে ব্যবহারযোগ্য জিনিস ফেলে না দিয়ে আবার মানুষের প্রয়োজনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে এই অভ্যাসটি এলাকাবাসীর দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে, যা একদিকে বস্ত্রবর্জ্য কমাতে সাহায্য করছে, অন্যদিকে অসংখ্য মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে।
একটি কাপড় হয়তো আপনার কাছে আর প্রয়োজন নেই, কিন্তু সেটিই হয়তো কারও জন্য একটুখানি স্বস্তি।
মানবিকতা তখনই সবচেয়ে সুন্দর হয়ে ওঠে, যখন আমাদের অপ্রয়োজনীয় জিনিস অন্য কারও প্রয়োজন পূরণ করে।
ছবি: শান্তিনগর খুশির দেয়াল
(পুরাতন গ্রীন বার্ড স্কুলের গলির সামনে, বাজার থেকে বটগাছ গলির দিকে যাওয়ার পথে)
— সাম্যতা