29/08/2026
শ্রমিকের কষ্টে নীরব, মালিকের ক্ষতিতে আহাজারি!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াকালীন সময়ে আমার এক শিক্ষক বলেছিলেন গরিব মানুষ যখন মাথা উঁচু করে মর্যাদা নিয়ে বুক টানটান করে দাঁড়ায় তখন পৃথিবীর সব সৌন্দর্য সেখানে লুটোপুটি খায়, আর গরিব মানুষ যদি পা-চাটা কুকুর হয়ে যায় তার চেয়ে কুৎসিত ব্যাপার আর দুনিয়ার দ্বিতীয়টি হয় না। এই কথাটি মনে হলো কতিপয় 'শ্রমিক নেতাদের' বিদ্যুৎ-গ্যাস না থাকার কারণে মালিকদের সীমাহীন ক্ষতি হচ্ছে, তাই নিয়ে কান্না-কাটি দেখে! এদের একটু চক্ষু লজ্জা বলতে কিছু নেই! এরাও একদিন দরিদ্র অসহায় শ্রমিকের মতোই গ্রাম বা মফস্বল শহর থেকে ঢাকা শহরে এসেছে, অসহায় হয়ে ঘুরে বেড়াতো এক সময়, তিন বেলা খাবার জুটতো না, এখন হয়েছে 'শ্রমিক নেতা'! দিনের বেলায় শ্রমিক অধিকারের ফুলঝুরি, আর রাতে মালিকের সাথে চাটাচাটি। বিষয়টি এখানে সীমাবদ্ধ থাকলেও চলতো, কিন্তু যখন মালিকদের হয়ে গ্যাস সংকট ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আহাজারি করে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে দিচ্ছে তখন এদের নৈতিক চরিত্র নিয়ে কথা বলা জরুরি।
সমাজবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ বা যে কোনো মানুষ যার কমনসেন্স আছে, সেসব মানুষ জানে একটি দেশে যখন কোনো সংকট তৈরি হয়, তখন এর অভিঘাত সবচেয়ে যাঁদের উপর বেশি আঘাত করে, তাঁরা হলো গরিব শ্রমিক। এই অবস্থায় নানামুখী অনিশ্চয়তায় মধ্যে পড়ে একটি শ্রমিকের জীবন।শ্রমিক বকেয়া বেতন পাচ্ছে না, জানেনা কিভাবে ঘরভাড়া দেবে, কিভাবে সংসারের খরচ চালাবে, বৃদ্ধ বাবা-মা'র ওষুধ কিনবে, অনেকে চাকুরী ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছে, রিক্সা চালাচ্ছে, বেতন নিয়ে প্রতারিত হচ্ছে। শ্রমিকের ইনকাম বাড়েনি এক টাকাও, মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে, বেড়েছে খাদস্ফীতি, সাথে গ্যাসের দাম, বেড়েছে বিদ্যুতের দাম। যে শ্রমিক আগে বিদ্যুতের বিল দিতো ৭ শ টাকা, সে এখন দেয় ১২-১৫০০ টাকা, গ্যাসের দামও বেড়েছে প্রায় একই হরে। কিন্তু তাঁর বেতন বাড়েনি, মজুরি পর্যালোচনা করার কথা এ বছরেই, বছর প্রায় শেষের দিকে এখনো মজুরি বোর্ডই গঠন হয়নি! এখন এই গরিব শ্রমিক অতিরিক্ত এক দেড় হাজার টাকা কোথায় পাবে? কে দেবে অতিরিক্ত মূল্যের গ্যাসের দাম? এই বাড়তি টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে শ্রমিককে খাবার খরচ কমাতে হচ্ছে। এমনিতেই সে বাজারের পচা মাছ-কচু-ঘেচু খেয়ে কোনো রকম বেঁচে আছে, সেই ন্যূনতম খাবার তালিকা আরো কমিয়ে তাকে বিদ্যুৎ বিল বা গ্যাসের বিল দিতে হচ্ছে, এই কম খেয়েই ওভারটাইম করতে হচ্ছে। রাতের বেলায় বিদ্যুৎ থাকে না, গরমে ঠিকমতো ঘুম হয় না, এই নির্ঘুম অবস্থায় আবার সকালে কাজে যেতে হচ্ছে। প্রোডাক্শন টার্গেট মেটাতে না পারলে "খানকি" মাগি বলে গালি দিচ্ছে। একের পর এক শ্রমিক মারা যাচ্ছে এসব কারণে। এই নিস্ঠুরতা নিয়ে এই তথাকথিত নেতাদের মুখে আলাপ নেই!! অথচ গগনবিদারী আওয়াজ তুলেছে গ্যাসের কারণে মালিকের ক্ষতি নিয়ে! কি বিস্ময়কর এক নির্লজ্জ কুকুর এরা! চাটাচাটির তো একটি সীমা থাকা দরকার। তবে খুব শীগ্রই শ্রমিকরা এসব পা-চাটা কুকুরদের শ্রমিক আন্দোলন থেকে উচ্ছেদ করবে।
২৯ আগস্ট ২০২৬।শনিবার
ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটজিপিটি দিয়ে তৈরী