16/06/2026
Daily dose of Thalassemia ( 11)
আজকের বিষয়ঃ সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনুদান
সমাজসেবা অধিদপ্তরের “ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা” কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে এককালীন ৫০,০০০ টাকা অনুদান দেওয়া হয়।
তবে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই সহায়তা ৫০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,০০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী ৩০ জুন বাজেটটি পাশ হলে আবেদনকারী যোগ্য বাছাইকৃত রোগীরা এককালীন ১ লাখ টাকা সহায়তা পাবেন।
আবেদন করলে টাকা পাওয়া যায়?
আবেদন করলেই যে টাকা পাবেন, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
সাধারণত প্রক্রিয়াটি এমন:
1. আবেদন জমা দিতে হয়।
2. ডাক্তারি সনদ ও প্রয়োজনীয় রিপোর্ট যাচাই করা হয়।
3. আবেদনকারী সত্যিই অসহায়/দুঃস্থ এবং রোগে আক্রান্ত কিনা তা যাচাই করা হয়।
4. উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বাছাই শেষে অনুমোদিত তালিকা করা হয়।
5. বরাদ্দের মধ্যে যাদের নাম অনুমোদিত হয়, তারাই অনুদান পান।
6. অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাছাই করা হয়। যেমন শিশু, নিঃস্ব, উদবাস্তু, ভুমিহীন, বয়োজ্যেষ্ঠ, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, বিপত্নীক, নিঃসন্তান, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদেরকে ক্রমানুসারে অগ্রাধিকার দেয়া হয়।
এ কারণে অনেক সময় যোগ্য আবেদনকারীও বরাদ্দ সীমিত হওয়ার কারণে ওই অর্থবছরে অনুদান নাও পেতে পারেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাছাই ও বরাদ্দের ওপর নির্ভর করে।
অর্থাৎ আবেদন করলেই নিশ্চিত টাকা পাওয়া যায় না। কিন্তু কাগজপত্র ঠিক থাকলে সুযোগ ভালো থাকে।
কীভাবে আবেদন করতে হয়?
1. আবেদন ফরম সংগ্রহ করুন
সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্ধারিত ফরম উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে পাওয়া যায়, অথবা অনলাইনে ডাউনলোড করা যায়। লিংক কমেন্টে।
2. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করুন :
o জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধন ফটোকপি (সত্যায়িত)
o রোগী বা অভিভাবকের (আবেদনকারীর) দুইকপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি, এবং রোগীর অতিরিক্ত আরেক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি ফর্মে গাম দিয়ে লাগানোর জন্য। (সবগুলো সত্যায়িত)
o থ্যালাসেমিয়া প্রমাণের জন্য Hemoglobin Electrophoresis রিপোর্ট ফটোকপি (সত্যায়িত)
o রেজিস্টার্ড বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের স্বাক্ষরিত প্রত্যায়নপত্র (ফর্মে আছে)
o চিকিৎসার কাগজপত্র (রিপোর্ট/প্রেসক্রিপশন) ফটোকপি (সত্যায়িত)
o রোগী বা আবেদনকারীর স্বাক্ষরিত প্রত্যায়নপত্র (ফর্মে আছে)
o রোগী বা আবেদনকারী সোনালী ব্যাংকে একটি একাউন্ট খুলবে এবং এই আকাউন্টের তথ্য আবেদন ফর্ম এ নির্ধারিত ঘরে লিখতে হবে।
3. ফরম পূরণ করে জমা দিন
আপনার উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।
4. যাচাই-বাছাই
সমাজসেবা অফিস আবেদন, রোগের সত্যতা এবং আর্থিক অবস্থা যাচাই করবে। এরপর যোগ্য আবেদনকারীদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়।
5. অনুমোদন ও টাকা প্রাপ্তি
আবেদন অনুমোদিত হলে অনুদানের টাকা সাধারণত আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাব বা সরকারি নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রদান করা হয়।
আবেদনপত্রে সাধারণত ঘোষণা দিতে হয় যে আপনি এর আগে এই কর্মসূচি থেকে আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করেছেন কিনা।
কোথায় আবেদন জমা দিব?
বাংলাদেশে ৪৯৫টি উপজেলা আছে। প্রায় প্রতিটি উপজেলাতেই উপজেলা সমাজসেবা অফিস আছে। আপনি যে উপজেলায় বসবাস করেন সেখানকার উপজেলা সমাজসেবা অফিসে গিয়ে আবেদন জমা দিতে হবে।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসের ঠিকানা কোথায় পাব?
প্রতিটি জেলার সমাজসেবা কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে-
“আমাদের সম্পর্কে” বা “অন্যান্য কার্যালয়” নামক মেনুতে গেলে পাবেন-
“উপজেলা সমাজসেবা অফিস কর্মকর্তাগণ” পেইজ যেখানে তাদের ঠিকানা ও ফোন নম্বর থাকে।
যেমন আপনি যদি গাজিপুর জেলার হোন, গুগলে সার্চ দিবেন Gazipur DSS. তাহলে পাবেন “জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, গাজীপুর” এর ওয়েবসাইট। সেখানে “আমাদের সম্পর্কে” মেনুতে গেলে পাবেন “উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ” এর লিস্ট।
রোগীদের সুবিধার্থে সাতটি বিভাগের সব উপজেলা অফিসের কর্মকর্তাগণ এর লিস্ট এর লিংক কমেন্টে দেয়া হল। কোনো উপজেলা অফিসের ফোন নম্বর বা ঠিকানা খুঁজে পেতে সমস্যা হলে উক্ত জেলার (বা বিভাগের) সমাজসেবা অফিসে জিজ্ঞাসা করলে তারা ওই উপজেলার ঠিকানা দিয়ে দেবে।
একবার টাকা পেলে আবার আবেদন করা যায়?
প্রতি অর্থবছরে একবার আবেদন করা যাবে। অর্থাৎ একবার টাকা পেলে আইনগতভাবে পরের বছর আবার আবেদন করা নিষিদ্ধ না। তবে সাধারণত যিনি একবার টাকা পেয়েছেন তাকে আবার তালিকায় রাখা হয় খুব কম। কারণ বাছাই কমিটি সাধারণত অগ্রাধিকার দেয় নতুন রোগীকে, যারা আগে কোনো সহায়তা পায়নি, এবং বেশি দুঃস্থ পরিবারকে। ফলে একবার পেলে আবার পাওয়া কঠিন।