10/03/2026
বয়স বাড়তে বাড়তে মানুষটা ধীরে ধীরে যেন সময়ের প্রান্তে গিয়ে দাঁড়ায়।
একসময় যার কাঁধে ভর করে একটি পরিবার দাঁড়িয়ে ছিল, যার ঘাম আর পরিশ্রমে গড়ে উঠেছিল একটি ঘর, একটি সংসার—
সময় গড়িয়ে গেলে সেই মানুষটাই ধীরে ধীরে সবার কাছে বোঝা হয়ে যায়।
যে হাত একদিন সন্তানের হাত ধরে হাঁটতে শিখিয়েছিল,
সেই হাত কাঁপতে শুরু করলে অনেকের চোখে তা বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে।
যে কণ্ঠ একদিন ঘর ভরিয়ে রাখত সাহস আর আশ্বাসে,
বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেই কণ্ঠ যেন সবার কাছে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে।
ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়,
চারপাশের মানুষদের আচরণ বদলে যেতে থাকে।
চেনা মুখগুলো অচেনা হয়ে যায়,
আপন মানুষগুলো দূরে সরে যায়।
একসময় যে বাড়িটি তিনি নিজের স্বপ্ন, শ্রম আর ভালোবাসা দিয়ে গড়ে তুলেছিলেন,
সেই বাড়িটিই একদিন ভাগ হয়ে যায় সন্তানের মাঝে।
আর সেই ঘরের কোন এক কোণে
তিনি নিজেই যেন অতিথি হয়ে থাকেন—
নিজ বাড়িতেই কুটুম হয়ে যান।
কেউ মুখে কিছু না বললেও
নীরবতার ভেতর অনেক কথা লুকিয়ে থাকে।
মাঝে মাঝে মনে হয়,
তার উপস্থিতি যেন আর কারও প্রয়োজন নয়।
আর হয়তো তার অনুপস্থিতিতেই সবাই একটু স্বস্তি খুঁজে পায়।
জীবনের সবচেয়ে কঠিন সত্যটা হয়তো এখানেই—
একসময় যে মানুষটি সবার জন্য ছিল আশ্রয়, ভরসা আর শক্তি,
বয়সের ভারে নুয়ে পড়লে
সেই মানুষটিই ধীরে ধীরে সবার জীবনের প্রান্তিক গল্প হয়ে যায়।
তবু মনে রাখা দরকার—
আজ যে মানুষটিকে আমরা বৃদ্ধ বলে অবহেলা করি,
একদিন ঠিক সেই পথেই আমাদেরও হাঁটতে হবে।
সময় কারও জন্য থেমে থাকে না।
আজকের তরুণই একদিন আগামী দিনের সেই নীরব বৃদ্ধ।