Amader Mili - আমাদের মিলি

Amader Mili - আমাদের মিলি আমি একজন দক্ষ পেশাদার হতে চাই, তাই আমি বর্তমানে স্কিল ট্রেনিং নিচ্ছি। আমি আমার যাত্রা সবার সাথে ভাগ করে নিতে চাই।

গত কয়েক সপ্তাহে আমার জীবনে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন এসেছে। ভাবলাম আজ সেগুলো তোমাদের সাথে শেয়ার করি।গতদিন যে কর্মশালায় অংশগ্...
10/06/2026

গত কয়েক সপ্তাহে আমার জীবনে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন এসেছে। ভাবলাম আজ সেগুলো তোমাদের সাথে শেয়ার করি।

গতদিন যে কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছিলাম, সেখান থেকে আমার দুজন নতুন বান্ধবীর সাথে পরিচয় হয়। তাদের একজনের নাম আফসানা। আফসানার মাধ্যমেই আমি একটি ইনফরমাল আড্ডার গ্রুপ সম্পর্কে জানতে পারি। গ্রুপটার নাম “SheLeads Cafe” - সি লিডস্ ক্যাফে। ওখানে সাধারণত ১৪ থেকে ৩৫ বছর বয়সী নারীরা একসাথে বসে। যদিও মাঝে মাঝে এর বাইরেও কিছু বড়আপু/খালামুনিরা এসে বসেন। সবাই মিলে নিজেদের জীবন, নিজের উন্নয়ন, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা, ছোট ছোট সমস্যা, স্বপ্ন এসব নিয়ে কথা বলে। কখনও শুধু আড্ডা হয়, আবার কখনও কেউ নতুন কিছু শিখলে সেটাও সবার সাথে শেয়ার করে।

শুনে আমার খুব ভালো লেগেছিল। তাই আফসানার সাথে আমিও সেখানে যাওয়া শুরু করি।
সত্যি বলতে, প্রথম দিন থেকেই আমার মনে হয়েছিল আমি যেন ঠিক এই জায়গাটাই খুঁজছিলাম। এমন একটা জায়গা, যেখানে আমি কথা বলতে পারি, কেউ আমার কথা মন দিয়ে শোনে, আর আমি অন্যদের কাছ থেকেও নতুন কিছু শিখতে পারি। এই আড্ডাটা সাধারণত সপ্তাহে এক বা দুইবার হয়। এখন পর্যন্ত আমি দুইবার গিয়েছি, আর এর মধ্যেই আরও কয়েকজন নতুন মানুষের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে গেছে।

আগে আমি বেশিরভাগ সময় নিজের মধ্যেই থাকতাম। নতুন মানুষের সাথে কথা বলতে ভয় লাগত। কিন্তু এখানে এসে বুঝলাম, অনেক মেয়েই আমার মতো একই রকম চিন্তা আর সমস্যার মধ্য দিয়ে যায়। এটা বুঝতে পারার পর আমার ভেতরের অস্বস্তিটা অনেক কমে গেছে। আগে ভাবতাম শুধু আমিই হয়তো এত ভয় পাই বা এত দ্বিধায় থাকি। এখন বুঝতে পারছি, এরকম ভয়ভীতি অনেক মানুষেরই কাজ করে।

আমরা সেখানে নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের গল্প শেয়ার করি। কে কী করতে চায়, কার কী স্বপ্ন, কার কী বাধা এসব নিয়েই কথা হয়।

শেষ মিটআপে একজন আপু তার অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন। তিনি কাছের একটি ট্রেনিং সেন্টারে উদ্যোক্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, আর এখন তিনি ছোট একটি খাবারের স্টল শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। তার কথা শুনে আমার খুব অনুপ্রেরণা লাগছিল। তখন প্রথমবার আমি নিজেকেও প্রশ্ন করলাম - “আমি কী করতে চাই?”

হয়তো এখনো আমি পুরো উত্তর জানি না। কিন্তু আগে যেখানে আমি নিজের স্বপ্ন নিয়েই ভাবতে ভয় পেতাম, এখন অন্তত সেটা নিয়ে ভাবতে পারছি।

সি লিডস্ ক্যাফেতে একজন “চ্যাম্পিয়ন” আপু আর একজন ভলান্টিয়ার আপু আছেন। তারা বললেন, আগামী মিটআপে তারা আমাদের “GALS Approach” (Gender and Women Empowerment Tool) নামে একটি বিষয় শেখাবেন। তারা GIZ এর ADVANTAGE প্রজেক্টের অধীনে এই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তারা বলছিলেন, এই পদ্ধতি আমাদের নিজের লক্ষ্য বুঝতে, স্বপ্নগুলো পরিষ্কার করতে এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ খুঁজে বের করতে সাহায্য করে। আমি সত্যিই খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি পরের মিটআপটার জন্য।

বাসায় ফিরে মাঝে মাঝে আম্মুকেও মিটআপের গল্প বলি। উনিও আমার কথা মন দিয়ে শোনেন। পরের মিটআপে আম্মুও যেতে চেয়েছেন। উনি দেখতে চান আমরা সেখানে কী করি।

কিছুদিন আগেও আমি খুব চুপচাপ ছিলাম। নতুন জায়গায় যেতে ভয় লাগত। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, ধীরে ধীরে আমি নিজের ভেতরে নতুন একটা সাহস খুঁজে পাচ্ছি।

হয়তো মানুষ বদলাতে শুরু করে ঠিক এমন ছোট ছোট জায়গা থেকেই।

সরকারি সম্পূর্ণ ফ্রি ট্রেনিং + ভাতা !!সহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্সে ভর্তি চলছে!ASSET Project এর আওতায়I...
24/05/2026

সরকারি সম্পূর্ণ ফ্রি ট্রেনিং + ভাতা !!
সহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্সে ভর্তি চলছে!
ASSET Project এর আওতায়
Ideal Institute of Science & Technology (IIST) নিয়ে এসেছে
৩ মাসের সরকারি ফ্রি স্কিল ট্রেনিং
রেজিস্ট্রেশন করতে এখনই ফর্মটি পূরন করুন
Registration Form:
https://forms.gle/qeTvhDbfXJ6wFpew6
কোর্স ফি: সম্পূর্ণ ফ্রি
কোর্স শেষে উপস্থিতি সাপেক্ষে ১২,০০০ টাকা ভাতা
NSDA অনুমোদিত সার্টিফিকেট
চাকরি ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ

চলমান কোর্স:
নিট সুইং মেশিন অপারেশন (Level-2)

ভর্তির যোগ্যতা:
JSC / SSC বা সমমান
বয়স ১৮–৪৫ বছর
কাজ শিখে ক্যারিয়ার গড়ার আগ্রহ
নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য সুযোগ
তাই আর দেরি না করে এখনই রেজিস্ট্রেশন করুন
Registration Form:
https://forms.gle/qeTvhDbfXJ6wFpew6
স্থান: ১০৫, সেনপাড়া পর্বতা, মিরপুর-১০
(মেট্রোরেল ২৫৫ নম্বর পিলারের পশ্চিমে), ঢাকা-১২১৬
যোগাযোগ: 01324-414572 (WhatsApp Available)
আসন সীমিত, আজই যোগাযোগ করুন!

📚HER SKILLS, HER POWER | তার দক্ষতা, তার শক্তি এখন সবার জন্য উন্মুক্ত।বাংলাদেশের কয়েকজন নারীর বাস্তব গল্প নিয়ে তৈরি এই গ...
12/05/2026

📚HER SKILLS, HER POWER | তার দক্ষতা, তার শক্তি এখন সবার জন্য উন্মুক্ত।

বাংলাদেশের কয়েকজন নারীর বাস্তব গল্প নিয়ে তৈরি এই গ্রাফিক নভেলটি। যারা নিজেদের জীবনে পরিবর্তন আনতে দক্ষতা ও শিক্ষাকে বেছে নিয়েছেন। প্রতিটি গল্পই সাহস, সংগ্রাম আর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর গল্প।
বইটিতে আছে আটটি গল্প যেখানে রয়েছে নারীর জীবন থেকে উঠে আসা অভিজ্ঞতা, স্বপ্ন আর সংগ্রামের কথা। আমাদের ইচ্ছে, এই গল্পগুলো আরও অনেক মানুষের কাছে পৌঁছাক, নতুন করে ভাবতে শেখাক এবং অন্য কাউকেও নিজের পথ খুঁজে নিতে সাহস দিক।
ঢাকাভিত্তিক ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলার শামীম আহমেদের সঙ্গে কাজ করে আমরা এই গ্রাফিক নভেলটি তৈরি করেছি। এটি পরিবার ও সমাজে নারীদের দক্ষতা, কাজ এবং সম্ভাবনাকে নতুনভাবে দেখার অনুপ্রেরণা দেবে।
Goethe-Institute Bangladesh এর সহযোগিতায় বিশ্ব মা দিবসে গ্রাফিক নভেল বইয়ে প্রকাশনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। কড়াইল থেকে মাচান গ্রুপ সংগীত পরিবেশনা করে পুরো আয়োজনটাকে আরও সুন্দর ও অর্থবহ করে তুলেছিল।

বইটি সবার জন্য উন্মুক্ত। পড়ুন, শেয়ার করুন, অন্যদের কাছেও পৌঁছে দিন।

🔗 ডাউনলোড করুন এখানে: https://www.giz.de/en/projects/advanced-vocational-training-and-promotion-employment-female-textile-workers

এক সপ্তাহ আগে, আমার বাড়ির পাশে খালার কাছ থেকে জানতে পারলাম যে আমার পাড়ার একটি ক্লাবে দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের উ...
13/04/2026

এক সপ্তাহ আগে, আমার বাড়ির পাশে খালার কাছ থেকে জানতে পারলাম যে আমার পাড়ার একটি ক্লাবে দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের উপর একটি কর্মশালা হবে, যেখানে মেয়েদের জন্য নতুন সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হবে। প্রথমে আমি একটু ইতস্তত করছিলাম কারণ আমি কাউকে চিনতাম না, যেতে অস্বস্তি হবে না? গতপরশু আমি সাহস করে অংশগ্রহণ করলাম।

যখন আমি ক্লাবে পৌঁছালাম, আমার বুক ধড়ফড় করছিল। আমি একবার প্রায় ফিরেই যাচ্ছিলাম। কিন্তু তারপর দেখলাম বাইরে কয়েকজন মেয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছে আর হাসছে, আর তাতে কেমন যেন আমার একটু ভালো লাগল। আমি চুপচাপ ভেতরে গিয়ে পেছনের দিকে বসলাম।

সেশনটি একটি পরিচিতি পর্ব দিয়ে শুরু হলো। সঞ্চালকরা খুব বন্ধুত্বপূর্ণ ছিলেন এবং তারা আমাদের বললেন যে এটি একটি নিরাপদ জায়গা যেখানে আমরা নির্ভয়ে আমাদের ভাবনাগুলো ভাগ করে নিতে পারি। ধীরে ধীরে আমি স্বাচ্ছন্দ্য হতে শুরু করলাম। তারা বিভিন্ন দক্ষতা নিয়ে কথা বললেন যা আমরা শিখতে পারি যেমন কম্পিউটারের প্রাথমিক জ্ঞান, যোগাযোগ দক্ষতা, এবং এমনকি ছোট ব্যবসার ধারণা যা আমরা বাড়ি থেকে শুরু করতে পারি।

একটি বিষয় যা আমাকে সত্যিই অবাক করেছিল তা হলো যখন তারা আমাদের স্বপ্ন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। প্রথমে আমি কিছুই বলিনি। আমার লজ্জা লাগছিল। কিন্তু তারপর আমি দেখলাম অন্য মেয়েরা কথা বলছে, আর আমি ভাবলাম, আমি কেন পারব না? তাই আমি মৃদুস্বরে বললাম যে আমি একদিন নিজের মতো করে কিছু করতে চাই, হয়তো টাকা উপার্জন করে আমার পরিবারকে সাহায্য করতে চাই।

ওরা আমাকে উৎসাহিত করল। সেই মুহূর্তটা আমাকে অনুভব করালো যে আমার কথাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যেন আমার স্বপ্নেরও একটা মূল্য আছে।

আমরা ছোট ছোট দলে একটি কাজও করেছিলাম, যেখানে মেয়েদের চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হতে হয়, তা নিয়ে আমাদের কথা বলতে হয়েছিল। আমি বলেছিলাম যে কীভাবে কখনও কখনও পরিবারগুলো মেয়েদের বাইরে যেতে বা কাজ করতে দেয় না। অন্যরাও আমার সাথে একমত হলো, এবং আমার মনে হলো যে এই ভাবনাটা শুধু আমার একার নয়।

কর্মশালার শেষে, আমার আর নিজেকে অপরিচিত মনে হচ্ছিল না। আমি এমনকি দুজন নতুন বন্ধুও বানিয়ে ফেলেছিলাম। আমরা একে অপরের ফোন নম্বর নিলাম এবং আরও কর্মশালা হলে আবার আসার প্রতিশ্রুতি দিলাম।

যখন আমি বাড়ি ফিরলাম, আমার অন্যরকম লাগছিল। আমি আরও আত্মবিশ্বাসী বোধ করছিলাম, যেন আমি নিজের জন্য কিছু করতে পারব। আমি সত্যিই খুব খুশি যে আমি আমার ভয়কে, আমাকে থামিয়ে দিতে দিইনি।

হয়তো এটা আমার জন্য কেবল শুরু।

আজ ৮ই মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। সবাইকে নারী দিবসের শুভেচ্ছা।
08/03/2026

আজ ৮ই মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। সবাইকে নারী দিবসের শুভেচ্ছা।

দক্ষতাই শক্তি। দক্ষতাই ক্ষমতার উৎস! দক্ষতাই মানুষ কে অপ্রতিরোধ্য করে তোলে!১৯৯২ এর একেবারে শুরুর দিকের ঘটনা। আমি তখন অষ্ট...
28/02/2026

দক্ষতাই শক্তি। দক্ষতাই ক্ষমতার উৎস! দক্ষতাই মানুষ কে অপ্রতিরোধ্য করে তোলে!

১৯৯২ এর একেবারে শুরুর দিকের ঘটনা। আমি তখন অষ্টম শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণীতে উঠেছি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকেই আমি বেশ কষ্ট করে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। রিউমেটিক ফিভারের কারণে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণের মধ্যে থেকে কোনো রকমে বছরের পর বছর ক্লাশ টপকে যাচ্ছিলাম। ঐ বছরগুলোতে আমার অনেকটা স্থায়ী ঠিকানা হয়ে উঠেছিলো চন্দ্রঘোনার মিশন হাসপাতাল! ডা: বড়ুয়া হয়ে উঠেছিলেন সৃষ্টিকর্তার ডান ও বাম হাত!

এমতাবস্থায় আমি বেঁচে থাকলেই আমার বাবা-মা খুশি! আমার লেখাপড়া নিয়ে তাদের বিশেষ কোনো আব্দার নেই। মধ্যম মানের ছাত্র হিসেবে ক্লাশ পাড়ি দিচ্ছিলাম এতেই উনারা বেজায় খুশি! সমস্যা যত হয়েছিলো তা আমার প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের!

প্রাইমারি স্কুল থেকেই আমার ইচ্ছে ছিলো আমি বিজ্ঞানবিভাগে পড়ব। প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের কারো কারো আপত্তির শেষ নেই! বিজ্ঞানবিভাগে অনেক চাপ তাই আমার বিজ্ঞান পড়া উচিৎ নয়। আমি খুব বেশি হলে এইচএসসি পর্যন্ত পড়ালেখা চালাতে পারব তাই আমার নবম শ্রেণীতেই ভর্তি হবার দরকার নেই! একজন প্রতিবেশী তো আমার বাবাকে বেশ জোরেসোরেই বল্লেন যেন আমার বাবা আমাকে দর্জির কাজ শেখান!

আমি এখন যেমন, ছোটবেলা থেকেই তেমনই ছিলাম। নিজের ইচ্ছা পূরণের জন্য আমি কার্যত ঐশ্বরীক শক্তির উপরেও নীর্ভর করি না। প্রকৃতি, সমাজ ও ভুল চিকিৎসা মিলে আমার দশ বছর বয়স থেকে জীবনটার বাঁকেবাঁকে প্রতিবন্ধকতা বসিয়ে আমার ধৈর্য ও ইচ্ছে শক্তির পরীক্ষা নিয়েছে। তারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে, আমি সেই প্রতিবন্ধকতা গুঁড়িয়ে দিয়ে নিজের যোগ্যতায় সামনে এগিয়েছি! আমিই এগিয়েছি, কেউ আমাকে এগিয়ে দেয়নি!

আমার ইচ্ছাই আমি এক্সিকিউট করলাম। বিজ্ঞান বিভাগে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হলাম। উচ্চতর গণিতে ফেইল করলাম প্রথম সাময়ীক পরীক্ষাতেই। বাবা বোঝাতে চেষ্টা করলেন পারব কি-না? তিনি বল্লেন- চাপ নিও না! আমি তাকে আশ্বস্ত করলাম। ভালোভাবেই এসএসসি পাশ করলাম, যদিও ১৩ নম্বরের জন্য স্টার মার্ক পেলাম না!

যথারীতি উচ্চ মাধ্যমিকেও বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলাম। এবার সৃষ্টিকর্তার বাঁধা আর পেরুতে পারলাম না। ১৯৯৬ এবং ১৯৯৭ সালে পরপর দু’বার এইচএসসি পরীক্ষায় বসতে ব্যার্থ হলাম-এই দুই বছর আমি মুটামুটি হাসপাতালের পারমানেন্ট রোগী হিসেবে ভর্তি ছিলাম। টানা চার মাস ছিলাম সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা: বদরুদ্দোজা চৌধুরীর অধীনে ওনারই কে সি মেমোরিয়াল হাসপাতালে। শারীরিক যন্ত্রণা ও পরীক্ষায় বসতে না পারার কষ্টে হতাশ হয়ে ওনার হাসপাতালেই আমি আত্মহননের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম! শারীরিক অবস্থা আত্মহননের আয়োজন করবার মতো অবস্থায় ছিলোনা বলে হয়তো সেই যাত্রায় বেঁচে যাই! ডা: চৌধুরী আমার মানসিক অবস্থা বোঝে নিজের শার্ট খুলে ওনার বুকের ওপেন হার্ট সার্জারির লম্বা ক্ষত চিহ্নটি দেখিয়ে আমাকে আধা ঘন্টা কাউন্সেলিং করেছিলেন!

বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সংগ্রামটা করছিলাম ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবার উচ্চাভিলাসে নয়, আমার ছোট্ট ইচ্ছে ছিলো আমি একজন কৃষিবিদ হবো! দু’বছর পরীক্ষা দিতে না পারায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির স্বপ্ন ধূলিস্যাৎ হয়ে গেলো কারণ ওরা স্টাডি গ্যাপ থাকলে ভর্তি করে না!

শিক্ষা ব্যবস্থায় নানান গেইট কিপিং এর কারনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ছিঁটকে গেলাম! অবশেষে আইনের ছাত্র হলাম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করলাম। আইনজীবী হলাম। সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিসের অনুমতি পেলাম। অধিকার কর্মী হলাম। দেশে ও বিদেশে অসংখ্য মানুষের সাথে কাজ করতে করতে নিজের ইচ্ছেগুলোকেই এক্সিকিউট করলাম এবং এখনো করছি।

বলা যায় প্রকৃতি ও রাষ্ট্র জোর করে আমাকে বিজ্ঞানের কক্ষপথ থেকে তুলে নিয়ে আইনের কক্ষপথে সেট করে দিয়েছে।

আপনি নদী শাসন করে নদীর দুই পাড়ের প্রশস্ততা কমিয়ে আনতে পারেন, তবে সেই শাসন বা অপশাসনে বা দুঃশাসনে ক্ষুব্ধ নদী যদি গতিপথ পরিবর্তন করে আপনার কলিজার ভেতর দিয়েই নতুন পথে প্রবাহিত হতে শুরু করে- তবে সেটি ঠ্যাকাবেন কি করে?

আমাকেও ঠেকানো যায়নি! প্রকৃতি ও রাষ্ট্রের বুক চিড়ে যে অভিযান এখন আমি চালাচ্ছি তার সার্টিফিকেট দিতে পারবে মানবাধিকার লঙঘনকারী দুর্বৃত্তরা এবং আমার আইনীসেবা প্রাপ্ত ব্যক্তিরা। নিজের জীবন আমাকে প্রতিবন্ধকতা গুঁড়িয়ে দেবার যে দক্ষতা ও কায়দা-কানুন শিখিয়েছে, অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে আইনী যে দক্ষতা আমি অর্জন করেছি তাই দিয়ে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উপজেলা-জেলা-সচিবালয় পেরিয়ে জাতিসংঘের জেনেভাস্থ কার্যালয় পর্যন্ত সফল লড়াই করেছি, শত শত প্রান্তিক মানুষকে বিনামূল্যে আইনী সহায়তা দিয়ে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি।

আইন কে আইনবিজ্ঞান (Jurisprudence) বানিয়ে, সামাজিক প্রকৌশলী হিসেবে সমাজ মেরামতের কাজটা নিষ্ঠা ও মনোযোগের সাথেই করছি, যাতে শেষঅব্দি বলতে পারি আমি এখনো “বিজ্ঞানেরই ছাত্র”!

আমাকে কেউ হারায়নি, আমি হেরেছি হয়তো!

আমার দৌড়ানোর ট্র্যাকের ধরণ ও দৈর্ঘ্য সম্পর্কে আমি ওয়াকেবহাল ছিলাম। আমি বিজ্ঞানের বিজ্ঞানের দৌড়াতে চেয়েছিলাম। এটা আমার স্বাধীনভাবে পেশা নির্ধারণের অধিকার। এটা মানবাধিকার। পেশা হিসেবে গায়ক, শিল্পী বা দর্জি বা যেকোনো কাজ বেছে নেয়ার অধিকারও মানবাধিকার। রাষ্ট্রকে এমন একটা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে যাতে প্রত্যেক নাগরিক তার নিচের পছন্দের পেশাটি বেছে নিতে পারে। এমন কোনো পরিস্থিতি যাতে তৈরী না হয় যাতে নাগরিক নিজের পছন্দের পেশা বেছে নিতে না পেরে অন্য একটি চাপিয়ে দেয়া পেশা বেছে নিতে বাধ্য হয়!

আমি যদি আমার পেশা নির্বাচনের বিষয়ে নবম শ্রেণীতেই দৃঢ়তার পরিচয় না দিতাম তাহলে হয়তো আমি দর্জির পেশা বেছে নিয়ে তৈরী পোষাক শিল্পের লম্বা ট্র্যাকে সফল হতাম- কিন্তু সেই সফলতায় আমার অন্তর তৃপ্ত হতনা। আবার আমি যদি ছোটবেলায় দর্জি থেকে তৈরী পোষাক শিল্পের মালিক হবার পেশা বেছে নেবার স্বপ্ন দেখতাম তাহলে আইনজীবী হয়েও আমি তৃপ্ত হতে পারতাম না!

প্রত্যেক পেশা-ই ততক্ষণ পর্যন্ত সুন্দর ও সম্মানের, যতক্ষণ পর্যন্ত এটা মানুষ স্বেচ্ছায় ও স্বাগ্রহে বেছে নিতে পারে!

প্রকৃতি, সমাজকাঠেমো ও রাষ্ট্র কে চ্যালেঞ্জ করে আমার ট্র্যাকে এই যে অপ্রতিরোধ্যভাবে দৌড়ে চলেছি- এই শক্তির উৎস কি?

আমি মনেকরি, আমার মর্জি ও দক্ষতা- এই দু’টোই আমার সকল ক্ষমতা ও শক্তির উৎস!

আমি একজন বহুমাত্রীক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার আন্দোলনের সাথে দেড় যুগ ধরে যুক্ত আছি। আমাদের প্রতিবন্ধী নারীদের মধ্যেও আমরা দেখতে পাই হাজারো সম্ভাবনাময় “মিলি”! চলুন তাদের সহযোগিতা করি, দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা করি যেন তারা ”অপ্রতিরোধ্য মিলি” হয়ে উঠতে পারে। আমাদের প্রত্যেক প্রতিবন্ধী নারী যেন বাঁধাহীনভাবে দৌড়াতে পারে তার পছন্দের বেছে নেয়া লম্বা রেসিং ট্র্যাকে!

”আমাদের মিলি” পেইজটি ফলো করুন,
আমাদের মিলিদের পাশে থাকুন।

Rejaul Karim Siddiquee
আইনজীবী
সুপ্রীমকোর্ট অব বাংলাদেশ।
ইমেইলঃ [email protected]

08/02/2026
02/01/2026

সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা!

আমি মিলি। এখন থেকে আমি আপনাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও চাকরি–সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য দিয়ে নিয়মিত সহযোগিতা করবো। আপনাদের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সংযোগ বৃদ্ধিতে কাজ করবো এবং আপনাদের সাথে মতবিনিময় করবো। আপনারাও আপনাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করে একে অন্যকে সহযোগিতা করবেন-এই প্রত্যাশা রাখি। আমাদের যোগাযোগ নিয়মিত থাকবে।

নতুন বছর আমাদের সবার জন্য নতুন সম্ভাবনা, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক।

শুভেচ্ছান্তে,
মিলি

সোশ্যাল ডায়লগ এওয়ার্ড ২০২৩
29/02/2024

সোশ্যাল ডায়লগ এওয়ার্ড ২০২৩

26/01/2024

একজন সুস্মিতা আক্তারের গল্প | আমাদের মিলি

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Amader Mili - আমাদের মিলি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share