30/05/2025
খোলা বার্তা
========
প্রিয় সহকর্মী / সহযোদ্ধাবৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম।
আশা করছি আপনারা সকলে ভালো ও সুস্থ আছেন।
সারকথা: বাংলাদেশের শিল্প ও বেসরকারি খাতে কর্মরত প্রকৌশলীদের ন্যায্য অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং সকল বৈষম্য দূরীকরণে ২০২০ সালের ১১ ডিসেম্বর এক বিশেষ প্রেক্ষাপটে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইইএবি) গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে, ১৬ ডিসেম্বর ২০২০ ইং তারিখে জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে আইইএবি’র আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
২০২১ সালের জানুয়ারিতে এক বিশেষ সাধারণ সভায়, কোনরূপ দ্বিমত ছাড়াই সর্বসম্মতিক্রমে আমাকে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয় এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শূন্যতায় সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমাকে সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে নির্বাচিত করা হয় এবং জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উক্ত কমিটির সদস্য পদেই বহাল থাকেন। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় দুই বছর সাধারণ সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য ছিল। পরবর্তীতে, জাতীয় প্রেসিডিয়াম কাউন্সিলের বৈঠকে ভোটের মাধ্যমে এসব পদে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যদের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে সংগঠনের কাঠামোগত রূপ স্পষ্ট হয় এবং সংগঠনের কার্যক্রমে নতুন গতি লাভ করে।
প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে আপনাদের অকুণ্ঠ সমর্থনে আমি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হই। দীর্ঘ এই পথচলায় আইইএবি অনেক অর্জন ও সফলতা লাভ করেছে, যার অংশীদার আপনারা সবাই। আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা ছাড়া এতোসব অর্জন সম্ভব হতো না। এজন্য আমি আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
তবে পথচলা কখনোই সহজ ছিল না। সংগঠন পরিচালনার সময় নানা বাধা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি। আপনাদের সহযোগিতায় সেসব সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পেরেছি।
তবে মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়— সংগঠন পরিচালনার প্রয়োজনে আমার কোনো সিদ্ধান্তে বা কাজে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে, তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে ও সংগঠনের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি।
ইতিমধ্যে আমাদের সংগঠনের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে এবং আইইএবি পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ করেছে। আপনারা অবগত ছিলেন যে, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রেজিস্টার্ড মেম্বারশিপ প্রক্রিয়া চালু না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করা এতাদিন সম্ভব হয়নি। তবে ইতোমধ্যে রেজিস্টার্ড মেম্বারশিপ প্রক্রিয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রায় এক বছর ধরে সাফ্যলের সাথে পরিচালিত হচ্ছে এবং সদস্যদের ইউনিক মেম্বারশিপ নম্বর প্রদান করা হচ্ছে, যা এই প্রক্রিয়াকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। অপরদিকে, মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা/সমমান, উপজেলা/সমমান, পৌরসভা/সমমান ও পোর্টাল কমিটিগুলো বিলুপ্ত ঘোষণা করে নতুন করে কমিটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক শূন্যতা পূরণ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, গত ২০ মে ২০২৫ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় কাউন্সিলের বিশেষ সভায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করার লক্ষ্যে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
অনেকে জানতে চেয়েছেন, জেলা/সমমান, উপজেলা/সমমান, পৌরসভা /সমমান কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি, জাতীয় প্রেসিডিয়াম কাউন্সিল এবং জাতীয় কাউন্সিল কমিটির মেয়াদ কবে শেষ হবে বা কবে পুনর্গঠন হবে। আমি সকল সদস্যকে আশ্বস্ত করতে চাই— কোনো কমিটি স্থায়ী নয়। সময়ের পরিক্রমায় সকল পর্যায়ের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পর্যায়ক্রমে পুনর্গঠন করা হবে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির গঠন সেই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ।
আমাদের সকলের বিশ্বাস, এই নির্বাচন হবে সদস্যদের মতামতের প্রতিফলন এবং যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। আইইএবি একটি জাতীয় সংগঠন। নির্বাচনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নেওয়ার ফলে সাধারণ সদস্যরা সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। যোগ্য নেতৃত্বের হাত ধরে সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন সহজ হবে— এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই নতুন কমিটি আইইএবি’কে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে, সংগঠনের কার্যক্রমে নতুন গতি ফিরিয়ে আনবে এবং আমাদের সকল স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ সুগম করবে। নতুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির জন্য আগাম শুভ কামনা রইল।
পরিশেষে, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নির্বাচনে যদি সভাপতি পদে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং আমি ভোটে পরাজিত হই, তাতেও আমার কোনো দুঃখ বা অস্বস্তি থাকবে না। আমি সদস্যদের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবো এবং নির্বাচিত কমিটিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। নতুন কমিটি যদি আমাকে সংগঠনের কোনো কাজে প্রয়োজন মনে করে, আমি পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি ইনশাআল্লাহ। কারণ, পদ-পদবি নয়, ব্যক্তি স্বার্থ নয়— সংগঠনের স্বার্থই সবচেয়ে বড়।
[বি:দ্র: ওয়েবসাইট সংক্রান্ত দীর্ঘসূত্রিতার কারণে পূর্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করা সম্ভব না হওয়ায় সংগঠনের প্রধান নির্বাহী হিসেবে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।]
আইইএবি পরিবারের সার্বিক সাফল্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।
প্রকৌ. জাহাঙ্গীর আলম তুষার
সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত)
জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি
ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইইএবি)