21/05/2026
এমআরএ/বি২৬/০৮৩৫
তারিখ: ২১ মে, ২০২৬ইং
মিরপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলায় এমআরএ-এর নিন্দা ও প্রতিবাদ
রাজধানীর মিরপুরের কালশী বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় উচ্ছেদের সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ)।
হামলার শিকার সাংবাদিকেরা হলেন—বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটালের সিনিয়র রিপোর্টার নেহাল আহমেদ প্রান্ত এবং বাংলাদেশ টাইমসের স্টাফ রিপোর্টার তাসবির ইকবাল। কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়া আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযান চালানোর বিষয়ে প্রশ্ন করায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাদের ওপর এই হামলা চালায় বলে ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২০ মে) বিকেলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কালশীর বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা সতর্কবার্তা ছাড়াই বুলডোজার দিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙা শুরু হলে স্থানীয় ১০ থেকে ১৫ হাজার বাসিন্দার মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে প্রশাসনের উচ্ছেদকারী দল ও পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকেরা জানান, এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির খবর সংগ্রহ ও ফেসবুক লাইভ করার সময় কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়া এভাবে আকস্মিক উচ্ছেদ কেন করা হচ্ছে—তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশ্ন করেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের রিপোর্টার নেহাল আহমেদ প্রান্ত। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। তারা কোনো কিছু না বুঝেই প্রান্তের ওপর চড়াও হন এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে শুরু করেন।
এমআরএ সভাপতি ফখরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সংস্কারের ঘাটতি ও দায়বদ্ধতার অভাবে এখনও তাদের মধ্যে এক ধরনের স্বৈরাচারী মানসিকতা কাজ করছে। বিনা কারণে দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের ওপর হামলা পুলিশের পেশাগত সীমালঙ্ঘন। এই বর্বরতা শুধু পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে না, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেও বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, দোষীদের শাস্তি না হলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আকতারুজ্জামান বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পূর্বেকার পুলিশি মানসিকতা আজও টিকে আছে। পুলিশের এই বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ ক্ষমতার দাম্ভিকতারই বহিঃপ্রকাশ। আজ সাংবাদিকদের রক্ত ঝরানো হয়েছে—কাল হয়তো জনগণও রেহাই পাবে না। আমরা দাবি জানাই, এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত, দায়ী পুলিশ সদস্যদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা দাবি জানাচ্ছি।
বার্তা প্রেরক-
আবু বক্কার সিদ্দিক
দপ্তর সম্পাদক
মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ)