13/05/2025
পলাশ সাহা মারা যায়নি ❌
ধরেন গল্পটা যদি এমন হতো.. পলাশ সাহা মারা যায়নি.. মা এবং বউরের মাঝে সমস্যা দেখে অতিষ্ট হয়ে একদিন পলাশ সাহা সিদ্ধান্ত নিয়েই নিলো মাকে আর তার কাছে রাখবেনা.. ভাইদের সাথে আলোচনা করে অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে সুপুরুষ এর মতো ভাই এর বাসায় রেখে আসার সিদ্ধান্ত নিলো... তবে তার মা তো অন্য ছেলেদের কাছে থাকতে চায়না.. সে তার আদুরে ছেলে পলাশের সাথেই থাকতে চায়।
পলাশ অনেকটা জোর করেই মাকে তার ভাইয়ের বাড়িতে দিয়ে আসলো.. তার মা অনেক কষ্ট পেলো, তার আদূরে ছেলের এমন ব্যাবহারে কষ্ট পেয়ে মা আত্নহত্যা করে নিলেন।
সোস্যাল মিডিয়া তখন তোলপার হয়ে গেলো.. একজন বৃদ্ধ মাকে বৌয়ের প্রয়োচনায় ছেলে ভাইয়ের বাসায় ফেলে আসায় কষ্টে মা আত্নহত্যা করেছে.. পুরো দেশ জুরে পলাশ কে ধিক্কার জানানো শুরু.. কাপুরুষ এর মতো বউকে খুশি করতে মাকে নিজের থেকে আলাদা করায় সমাজে তার প্রতি মানুষের ঘৃনা উপচে পরলো। সারাজীবন পলাশ এই অপরাধ বোধ আর মানুষের ঘৃনা নিয়ে বেচে থাকতো.. হয়তো সমাজ ভুলে যেতো তবে সে নিজেকে কখনোই ক্ষমা করতে পারতোনা।
পলাশ আত্নহত্যা করেও কাপুরুষ হয়েছে.. সুপুরুষ এর মতো বউকে নিয়ে সুখে থেকে মাকে আলাদা করলেও পলাশ কাপুরুষ হয়েই বেচে থাকতো..।
এমন অনেকেই আজকাল নিজের শাশুড়ি কে নিয়ে পোস্ট করেন তাদের শাশুড়ি কতোটা অত্যাচার করেন.. কই তার পরেও তো তাদের স্বামীরা আত্নহত্যা করেনা.. কারন তারা মানিয়ে নেয়.. কষ্ট হলেও স্বামীর কথা ভেবে এডজাস্ট করে চলে। হ্যা মানলাম পলাশের মা শাশুড়ি হিসেবে ভালো ছিলো না, তবে কি কারনে ছেলের বউ এতোটাই শত্রু হয়ে গেলো তার শাশুড়ির কাছে যে ডিভোর্স দেয়ার কথা বলে ছেলেকে? ছেলের সংসার ভাঙতে দ্বীধা করেনা? যদি শাশুড়ির অপরাধ ৯৫% ও হয় ৫% দায় তার বউকে ও নিতেই হবে। তার ও কিছু দায়িত্ব ছিলো যা হয়তো সেটা করেনি বলেই সব কিছু এতোটা এলোমেলো হইছিলো..
সব কথা কিন্তু আমরা জানিনা পরিবারের মাঝে কি চলেছে.. তাদের স্বামী স্ত্রীর মাঝের সব কথা আমরা কখনোই জানবো না এটাই স্বাভাবিক... তবে একটা কথা কিছু মানুষকে বলতে চাই.. আত্নহত্যা টা সহজ কোন বিষয় নয়.. আত্নহত্যা করার ঠিক আগে জীবনের প্রতি মায়া আসার পরেও সেই মায়া কে দূরে ঠেলে দিয়ে সবাই আত্নহত্যা করতে পারেনা।
দিন শেষে মরে গিয়েও পলাশরা কাপুরুষ ই হয়.. আর নারীরা অসহায় এবং নিঃস্পাপ।