আমি সাঈদা ভূঞা পাপিয়া। পাঁচ ভাই বোনের মাঝে আমি চতুর্থ। আমি যেমন আমার বাবার খুব আদরের মেয়ে ছিলাম, তেমনি আমাকে নিয়ে আমার বাবা-মায়ের স্বপ্নও ছিলো অনেক।
আমি ২০০৪-০৫ সেশনে, শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগ, চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। ইচ্ছে ছিলো এম.এফ.এ কমপ্লিট করে উচ্চতর শিক্ষার জন্য ইউরোপে যাওয়ার এবং উচ্চতর শিক্ষা শেষে দেশে ফিরে এসে শিক্ষকতা পেশার সাথে নিজেকে নিযুক্ত করার। কিন্তু হঠাৎ
করেই অসুস্থ হয়ে যাবার কারণে স্বপ্ন আমার স্বপ্নই রয়ে গেলো।
প্রতি বছর চারুকলায় যে যাত্রাপালার আয়োজন করা হয়, অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়াকালীন সময়ে আমি এই যাত্রাপালাতে অংশগ্রহণ করেছিলাম। বরাবর-ই অভিনয়ের প্রতি আমার একটা ঝোঁক ছিলো। তবে চারুকলার যাত্রাপালায় প্রথম অভিনয় করার পর থেকে অভিনয়ের প্রতি আমার ঝোঁকটা আরো বেড়ে গিয়েছিলো। ফলে আমি পরবর্তী সময়ে টিএসসি তে একটা থিয়েটার সংগঠনের সাথে যুক্ত হই। এর কিছুদিন পর আমি প্রাচ্যনাটের ১৮ তম ব্যাচে স্কুলিং করি।
অসুস্থতার শুরুর দিকে আমি যখন কিছু শারীরিক সমস্যা অনুভব করছিলাম, তখন থেকেই আমি ডাক্তার দেখাচ্ছিলাম। আমার এই সমস্যার কারণে আমি ২০১১ থেকে ডাক্তার দেখাচ্ছি। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারি যে আমি 'ডিস্টাল মায়োপ্যাথি' নামক এক বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েছি। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থেকেও যখন দিন দিন আমার অসুস্থতা একটু একটু করে বেড়েই চলছিলো, তখন একটা সময় আমি সব কিছু থেকেই নিজেকে দূরে সরিয়ে নেই।
দিন যতোই যাচ্ছে, আমার শরীরের মাংসপেশিগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে ফেলছি স্বাভাবিক চলাফেরার ক্ষমতা। বাংলাদেশ ও ভারতে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার চিকিৎসা করেছি। কিন্তু তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। ভালো মতো খোঁজ নিয়ে জানতে পারি এই ধরণের রোগের চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড সেরা। যেখানে চিকিৎসার জন্য প্রায় ৪ মাস থাকতে হবে। চিকিৎসা ব্যয় প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ, ভারতে চিকিৎসা করতে গিয়ে আমার পরিবারের অনেক টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। এখন আমার পরিবারের পক্ষে এই ৪০ লাখ টাকা জোগাড় করা একপ্রকার অসম্ভব।
তাই আপনার/আপনাদের একটু সহযোগিতা হয়তো আমাকে ফিরিয়ে দিতে পারে স্বাভাবিক জীবন ও চলাফেরার সক্ষমতা।