UITS Islamic Pioneer's

UITS Islamic Pioneer's “অবশ্যই রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ” [সূরা আল-আহযাব, ২১]

13/04/2026

নববর্ষ একটি প্যাগান উৎসব
----------------------------------------
নববর্ষ উদযাপন কি ইসলাম থেকে এসেছে? আসেনি। নববর্ষ উদযাপন যাদের কাছে থেকে এসেছে এরা সবাই প্রকৃতি পূজা করতো, নববর্ষকে প্রকৃতির পুনর্জন্ম হিসেবে দেখতো। উপমহাদেশে নববর্ষ উদযাপনের ঐতিহাসিক ভিত্তি মুশরিকদের হাতে।

আবার, নববর্ষ উদযাপনের যে থিম সং 'এসো হে বৈশাখ', এটাও প্যাগানিজম/প্রকৃতি পূজার উপর লিখা: বৈশাখকে পবিত্র সত্তা ভেবে তার কাছে আহ্বান করা হচ্ছে, তার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা হচ্ছে। সারা বছরের আবর্জনা দুর করার জন্য বৈশাখের কাছে আহ্বান করা হচ্ছে।-

এসো হে বৈশাখ, এসো, এসো
তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক॥

তাওহীদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এই প্রকৃতি পূজার গান।

একদল ছেলেমেয়ে কতকগুলি পশুপাখির বিকৃত মূর্তি নিয়ে প্রকৃতি পূজার (paganism) উপর লিখা গান 'এসো হে বৈশাখ' গাইতে গাইতে, নাচতে নাচতে বৈশাখ মাসকে উপাস্য ঘোষণা করছে। যার নাম মঙ্গল শোভাযাত্রা। এই জাহিলি সংস্কৃতি মুসলিমদের হয় কিভাবে? এর ইসমাইজেশন হয় কিভাবে?

জাহিলিয়াতের সমস্ত রীতি রসূলুল্লাহ (সা.) তার পায়ের নীচে পিষ্ট করে গিয়েছেন। আমরা কি আত্মমর্যাদা হারিয়েছি? যা কিছু রসূলুল্লাহ (সা.) পিষ্ট করেছেন, তা আমরা নিজেদের পরিচয় হিসেবে মাথায় তুলে নিচ্ছি! রসূলুল্লাহ (সা.) মুশরিকদের দেশে বসবাসকারী মুসলিমদের জন্যই নববর্ষ উদযাপন কত কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। তাহলে আমাদের জন্য নববর্ষ উদযাপন কতটা ভয়াবহ। -

“যে ব্যক্তি মুশরিকদের দেশে গৃহ নির্মাণ করে, তাদের ‘নওরোজ’ (নববর্ষ) ও ‘মেহেরজান’ (জাতীয় দিবস) এর উৎসব পালন করে এবং এ অবস্থায় মারা যায়, কিয়ামতের দিনে তাদের সাথে তার হাশর হবে”।[সুনানুল বায়হাকী, ৯/২৩৪]

-খন্দকার মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান স্যার

নববর্ষ, শোভাযাত্রা এবং হেজেমনি: প্রতিসংস্কৃতি বনাম পপুলিস্ট শর্টকাটিং ১. আমাদের একটা প্রবণতা আছে—যেকোনো বিষয়ে সবচেয়ে শক্...
13/04/2026

নববর্ষ, শোভাযাত্রা এবং হেজেমনি:
প্রতিসংস্কৃতি বনাম পপুলিস্ট শর্টকাটিং

১.
আমাদের একটা প্রবণতা আছে—যেকোনো বিষয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তির বদলে আমরা প্রায়শই সেই কথাটাই বলি, যেটা তুলনামূলকভাবে বেশি সহজবোধ্য, বেশি 'পপুলার' হবার সম্ভাবনা রাখে।
উদাহরণ দেই।
বয়কট আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত—যায়ো-ব|দকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করা কোম্পানির পণ্য বর্জন। কিন্তু এটা একটু ব্যাখ্যা করে বুঝাতে হয়। তার চেয়ে “ইস্রা—লি পণ্য বর্জন করুন” বলা অনেক সহজ। তাই সেটাই আমরা হরহামেশা বলি।
কিন্তু এই সহজ পথ জটিল সমস্যা তৈরি করে।
যখন আপনি ঢালাওভাবে “ইস্রা—লি পণ্য” বললেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই কেউ বলবে—এই কোম্পানি তো আমেরিকার, ঐ কোম্পানি তো ব্রিটেনের—এসবও কি বর্জন করবেন? কেন করবেন?
অর্থাৎ, মানুষকে সহজে বোঝাতে গিয়ে আমরা যুক্তির মস্ত বড় ফাঁক রেখে দেই। আমরা কনটেন্ট এর চেয়ে কনভিনিয়েন্সে ফোকাস করি। আর শুরুর এই সুবিধার দিকে তাকাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আমাদের পুরো অবস্থানটাই দুর্বল হয়ে পড়ে।
আমি এই প্রবণতাকে বলি: পপুলিস্ট শর্টকাটিং।
২.
আমরা পহেলা বৈশাখ উদযাপনের বিরোধিতা কেন করি? এটা কি শুধুই মঙ্গল শোভাযাত্রার কারণে?
না। আমাদের আপত্তি নববর্ষ উদযাপন নিয়েই। পহেলা বৈশাখের বিরোধিতা আমরা করি, কারণ নববর্ষ উদযাপনের ব্যাপারটাই ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক। এটাই প্রধান কারণ। আর কোন কারণ না থাকলে এই এক কারণই কাফি।
দ্বিতীয় কারণ হিসেবে বলা যায়, যুগে যুগে নববর্ষ পালন পৌত্তলিক সমাজ, জাহেলি কালচার এবং প্রকৃতিপূজারীদের ঐতিহ্যের সাথে জড়িত। নববর্ষ উদযাপন আদি ও অকৃত্রিমভাবে পৌত্তলিকদের উৎসব। এই ঐতিহাসিক বাস্তবতা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না, যদি তারা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সৎ হয়।
তাহলে মুসলিমরা, তাওহীদের অনুসারীরা কেন এই উৎসবে অংশগ্রহণ করবো? কেন এই উৎসব আত্মীকরণ করবো? আমরা বিজাতী ও বিধর্মীদের অনুকরণ করবো কেন? যেখানে ইসলাম এসেছে এইসব রেওয়াজ মুছে দিয়ে তাওহীদের উপর একটা নতুন সভ্যতা দাঁড় করাতে?
তৃতীয় কারণ হিসেবে গত ষাট বছরে এ ভূখন্ডে পহেলা বৈশাখ পালনের ইতিহাসের দিকে তাকানো যায়। শুরু থেকেই পহেলা বৈশাখ উদযাপন বাঙালি জাতীয়তাবাদী প্রজেক্টের অত্যন্ত শক্তিশালী সাংস্কৃতিক রূপ।
কলকাতারা বেঙ্গল রেনেসাঁর অনুকরণে 'হাজার বছরের বাঙ্গালি সংস্কৃতি', বাঙ্গালিয়ানা নির্মাণের অংশ হিসেবে সাংস্কৃতিকভাবে একটা শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে পহেলা বৈশাখকে সামনে আনা হয়েছে, ব্যবহার করা হয়েছে। কাজেই এই উৎসব উদযাপন করা মুসলিমদের জন্য সমীচিন না।
পহেলা বৈশাখ উদযাপন বর্জনের জন্য প্রথম দুটি কারণ স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং যথেষ্ট। পরের আর্গুমেন্টটাও বৈধ এবং শক্তিশালী। তবে এখানে আরও অনেক কারণ যুক্ত করা সম্ভব।
৩.
সমস্যা হলো, আমরা নববর্ষ উদযাপনের যে বিরোধিতা করেছি, সেটা অনেকটাই এক্সক্লুসিভলি মঙ্গল শোভাযাত্রার দিকে চলে গেছে।
মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম, প্রতীক, চরিত্র—এসব নিয়ে আলোচনা এসেছে। এই শোভাযাত্রা পৌত্তলিক সংস্কৃতির অংশ, এতে যেসব চিত্র ও প্রতীক ব্যবহৃত হয়, সেগুলো মুসলিমদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়, এইসব আলাপ-ও এসেছে। এবং মোটের উপর সেসব ঠিকই ছিল।
কিন্তু একটা বড় সমস্যা থেকে গেছে। এই আলাপগুলো একটা মাস্টারফ্রেইমের মধ্যে থাকার দরকার ছিল। ইসলামের জায়গা থেকে আপত্তি কেবল নববর্ষ উদযাপনের তরীকা নিয়ে না, নববর্ষ উদযাপন নিয়েই—এ কথাটা স্পষ্ট করা আবশ্যক ছিল। আমরা সেখানে যথেষ্ট জোর দেইনি।
আমরা শেকড়ের দিকে তাকাইনি, শুধু ডালপালার দিকে তাকিয়েছি।
ফলে কী হয়েছে?
সেক্যুলার শক্তির সামনে আমরা একটা ক্রিটিকাল ওপেনিং দিয়ে দিয়েছি। সেক্যুলারদের মধ্যে যারা সেয়ানা বুঝে ফেলেছে, ‘মঙ্গল’ শব্দটা বাদ দিয়ে, কিছু 'ইনক্লুসিভ' টোকেন—দু-চারটা আরবি ক্যালিগ্রাফি, এক-দুজন মুসলিম মুখ—জুড়ে দিলে এই উৎসবটাকে 'ইনক্লুসিভ' ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা সম্ভব।
এভাবে অল্প কিছু পরিবর্তন এনে একই কাঠামো, একই উৎসব, একই হেজেমনি ঠিকঠাকভাবে চালিয়ে নেওয়া যাবে।
তারা ঠিক সেটাই করেছে। এবং এ সুযোগটা আমরাই তাদের করে দিয়েছি। কারণ আমরা পুরো কাঠামোটাকে প্রশ্ন না করে শুধু তার কিছু অংশ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।
৪.
এখানেই শেষ না। আমরা আরও বড় এক ফাঁদে পা দিয়েছি।
আজকাল অনেকেই কাউন্টার-কালচার বা “প্রতিসংস্কৃতি” গড়ার কথা বলছে। ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এই প্রচেষ্টাগুলোর বেশিরভাগই মূল ফ্রেমওয়ার্কটা ধরে রেখে কেবল কনটেন্ট পাল্টানোর চেষ্টা করছে।
ওরা 'শহীদ' মিনারে গিয়ে গান গায়, কেউ 'শহীদ' মিনারে গিয়ে ফাতিহা পড়া শুরু করেছে।

ওরা পহেলা বৈশাখে পান্তা ইলিশ খায়, কেউ বলছে জেয়াফতের কথা, কেউ বলছে ডাল আলুভর্তা দিয়ে ভাত খাওয়ার কথা।
অর্থাৎ, ওরা মূল কাঠামো ঠিক করে দিয়েছে:

- নববর্ষ উদযাপন করতে হবে,
- এই দিনে রাস্তায় এসে মিছিল হবে,
- নির্দিষ্ট পোশাক থাকবে,
- বিশেষ খাওয়াদাওয়াহ হবে,
- উৎসব হবে,
- সমবেত কন্ঠে উচ্চারণ হবে, ইত্যাদি।
এসব কিছুই প্রস্তাবিত ‘কাউন্টার-কালচারে’ থাকছে। মূল কাঠামো আগেরটাই রয়ে গেছে। শুধু এই কাঠামোর মধ্যে নতুন কিছু কনটেন্ট ঢোকানো হচ্ছে। তারা x, y, z করতো তার বদলে এখন e, f, g হচ্ছে।
আপনি কাউন্টার-কালচার করতে যাচ্ছেন পুরোপুরি তার ফ্রেইমওয়ার্ক মেনে। এভাবে ‘কাউন্টার’ কোন কিছুই বানানো যায় না। এটা কাউন্টার-কালচার হচ্ছে না, বিদ্যমানতার একধরণের সংস্কারের প্রয়াস হচ্ছে।
মূল ফ্রেইমওয়ার্ক ঠিক রেখে শুধু কনটেন্ট পাল্টে হেজেমনিকে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। হয়তো কিছু ছোটখাটো পরিবর্তন আনা যায়, কিন্তু সেটা হয় অ-মৌলিক। ফর্মের পর্যায়ে, মর্মের পর্যায়ে না।
কাঠামো ঠিক রেখে শুধু শব্দ বদলানো, খাবারের মেনু বদলানো বা পোশাক বদলানো মানে মূল চিন্তা-ব্যবস্থাকে অক্ষত রেখে কিছু কসমেটিক পরিবর্তন আনা।
অন্যদিকে যারা এইভাবে "প্রতিসংস্কৃতি" গড়তে চায়, তাদেরকেও ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসতে হয়—মানে তারা নিজেদের চিন্তা, ভাষা, এমনকি মূল্যবোধের জায়গায়ও কিছুটা হলেও ছাড় দিতে বাধ্য হয়।
এই গেমে শেষ পর্যন্ত লাভবান হয় সেই পক্ষ, যে পুরো কাঠামো বানিয়ে দিয়েছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই পক্ষ, যে ওই কাঠামোর মধ্যে থেকে বিকল্প বানাতে চেয়েছিল, কিন্তু নিজের মাটি ধরে রাখতে পারেনি।
৫.
মুসলিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক পরিচয় অবশ্যই নির্মাণ করতে হবে। তবে সেটা ওদের নিয়ন্ত্রন, ওদের ফ্রেইম, ওদের ঠিক করা রুলস অফ এনগেইজমেন্ট থেকে বের হয়ে।
এবং অবশ্যই ইসলামের স্পিরিট এবং সীমানাকে মাথায় রেখে। তা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক কোন কিছু দিয়ে প্রতিসংস্কৃতি নির্মাণ করলে তো হবে না। শরীয়াহর সীমাকে উপেক্ষা করে যা-ই করা হবে সেটা হবে জাহেলিয়াতের নতুন ধারা।
তাই আমরা বলছি: এই উৎসবের বিরোধিতা করতে হলে শিকড় থেকে করতে হবে, শুধু ডালপালা ছেঁটে লাভ নেই।
এভাবে করতে গেলে সময় বেশি লাগবে; সত্য। অপশান কমে আসবে; সত্য। কিন্তু পপুলিস্ট শর্টকাট নেয়া এটার সমাধান না। শর্টকাটের পথে গেলে সাময়িক কিছু হাইপ উঠলেও শেষ বিচারে আম ও ছালা, দুটোই যাবে।
লেখা:
মুহতারাম Asif Adnan হাফিজাহুল্লাহ
লেখক ও গবেষক

#সংস্কৃতি_বনাম_শরীয়াহ
#কোনটা_বেছে_নেবেন
#পহেলা_বৈশাখ_আমাদের_না
#দ্বীন_ঈমান_আত্মপরিচয়

EID MUBARAK! 🌙✨May Allah accept our fasting and prayers, forgive our shortcomings, and grant us all the strength to cont...
20/03/2026

EID MUBARAK! 🌙✨
May Allah accept our fasting and prayers, forgive our shortcomings, and grant us all the strength to continue being better every day. Eid Mubarak to you and your family!

 #একচুমুকসীরাহহেরা পর্বতে যখন উঠেছিলাম, চুড়ায় উঠে কিছুটা ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিলাম, এখানেই তো প্রথম নূর আসে, এজন্য নাম জাবাল...
20/03/2026

#একচুমুকসীরাহ
হেরা পর্বতে যখন উঠেছিলাম, চুড়ায় উঠে কিছুটা ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিলাম, এখানেই তো প্রথম নূর আসে, এজন্য নাম জাবালে নুর। তবে গুহার ভেতরে গিয়ে ইমোশনাল হবার চেয়ে ধাক্কাধাক্কি অ্যাভয়েড করাটাই বেশি কনসার্নিং ছিল। গুহার ভেতরে খুব অল্প জায়গা, ঠিকমত মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোও দায়। কিন্তু একটা ব্যাপার, এই ধরেন ১০-২০ স্কয়ার ফিট জায়গার মধ্যে নিশ্চিতভাবেই রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং জিব্রীল আলাইহিস সালাম ছিলেন, এই অনুভূতিটাই বেশ এক্সাইটিং।

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তো স্মৃতি অনেক জায়গাতেই আছে, তবে জিব্রীল আলাইহিস সালাম এর কনফার্ম কোথাও এসেছিলেন যা পিনপয়েন্ট করা সম্ভব - আমাদের জন্য সেটা মনে হয় হেরা গুহাই। জিব্রীল আলাইহিস সালাম এর অ্যাপিয়ারেন্স এর বর্ণনা বেশ ফ্যাসিনেটিং লাগে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনে মাত্র দুইবার তাঁকে দেখেছিলেন আসল রুপে, ৬০০ ডানা বিশিষ্ট যা থেকে অনবরত হীরা-মুক্তা ঝড়ছে, এবং সাইজে পুরা দিগন্ত ছেয়ে গেছে। এটাও যে আসল সাইজ, সেটাও আপেক্ষিক, কারণ মালাইকাদের মধ্যে সবচেয়ে বৃহদাকার হবার কথা জিব্রীল আলাইহিস সালাম। একটু কম্পেয়ার করা যাক। যে ফেরেশতারা আল্লাহর আরশ ধরে আছেন, তাদের একজনের কান থেকে কাঁধের দুরত্ব হচ্ছে ৭০০ বছরের দূরত্ব, অর্থাৎ একটা পাখি ৭০০ বছর ধরে উড়লে কান থেকে কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছাবে। পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। এই দুরত্বের প্রায় ১.২ গুন হবে সেই কান থেকে কাঁধের দূরত্ব। তাহলে চিন্তা করুন আরশ ধারণকারী ফেরেশতার ফুল সাইজ কী, এবং জিবরীল যেহেতু তাঁর চেয়েও বড়, তাঁর সাইজ কী, অকল্পনীয়।

আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে জিব্রীল আলাইহিস সালাম হচ্ছেন প্রাণ আছে এরকম প্রথম মাখলুক, বলা যায় খাস লোক। আমাদের ঈমানের দ্বিতীয় স্তম্ভ হচ্ছে ফেরেশতাদের উপর বিশ্বাস আনা, সম্ভবতঃ ইমাম আন নববী (রহ) এর মতে এই ফেরেশতাদের উপর ঈমান আনা জিবরীল আলাইহিস সালামকে অনেকটা বুঝিয়েছেন, কারণ তিনিই ওয়াহীবাহক। তিনি-ই সব গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে ছিলেন। নবীজীর প্রথম বক্ষ বিদীর্ণ করা, ইসরা ওয়াল মি'রাজে নিয়ে যাওয়া, হেরা গুহায় প্রথম ওয়াহী নিয়ে আসা, প্রসব বেদনার সময় মারিয়াম আলাইহিস সালাম এর কাছে আসা, ফিরআউন ডুবে মারা যাবার সময় মুখে মাটি এঁটে দেয়া, ইউসুফ আলাইহিস সালামকে যখন তার ভাইরা কুপে নিক্ষেপ করে তখন সেখানে তাকে ধরা, লুত আলাইহিস সালামের কওমকে গজব দেবার পূর্বে ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সাথে দেখা করা এবং ইসহাক আলাইহিস সালামের আগমনের সুসংবাদ দেয়াসহ সব ইম্পর্ট্যান্ট ইভেন্টে তিনি আছেন। তিনি হচ্ছেন ফেরেশতাদের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ, অভিজাত।

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পর জিব্রীল আলাইহিস সালাম এর এ পৃথিবীতে আসা বন্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু লাইলাতুল ক্বদরে নাকি তিনি নিম্নাকাশে আসেন, আকাশ তাঁর জন্য আলোকিত হয়ে যায়। এজন্য প্রতিরাতেই আকাশে একবার তাকাতাম, আলোকিত কিনা, রুহুল কুদুস জিব্রীল আলাইহিস সালাম আসলেন কিনা, এটা ভাবতেই আলাদা এক্সাইটমেন্ট কাজ করে।

জান্নাতে গিয়ে পৃথিবীর এই ইভেন্টগুলা ফুল এইচডিতে দেখতে চাওয়ার খায়েশ, আগেও উল্লেখ করেছি, এর মধ্যে জিবরীল আলাইহিস সালামের ঘটনাগুলো দেখারও আলাদা ইচ্ছা।

-M. Mahbubur Rahman Hafi.

আজ ২৮ রমজান…কত দ্রুত চলে গেল এই বরকতময় দিনগুলো! মনে হয় সেদিনই তো শুরু হয়েছিল—প্রথম সাহরি, প্রথম রোজা, প্রথম তারাবীহ। আর ...
18/03/2026

আজ ২৮ রমজান…
কত দ্রুত চলে গেল এই বরকতময় দিনগুলো! মনে হয় সেদিনই তো শুরু হয়েছিল—প্রথম সাহরি, প্রথম রোজা, প্রথম তারাবীহ। আর আজ… বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে প্রিয় রমজান।

রমজান মাস ছিল যেন ২৯/৩০ পৃষ্ঠার চেকবই। প্রতিটি পৃষ্ঠা একটি দিন—প্রতিটি দিন এক একটি স্বর্ণালী সুযোগ।

চেকবইয়ের প্রায় সব পৃষ্ঠাই পূর্ণ হয়ে গেছে—শেষের দু/একটি এখনো আমাদের হাতে।

এই চেকবইয়ের কত পৃষ্ঠা আমরা পূর্ণ করেছি?
কতগুলো পৃষ্ঠা হয়তো অবহেলায় ফাঁকা রেখে দিয়েছি…
কতগুলো পৃষ্ঠায় হয়তো ছোট অংক লিখেছি—যেখানে বড় কিছু লেখার সুযোগ ছিল!

আজ ২৮ রমজান—এটা শুধু একটি দিন নয়, এটা যেন শেষ সুযোগের আহ্বান।
শেষ পাতাগুলোয় কী লিখব আমরা?

আজও তো দরজা খোলা…
আজও তো রহমত নাযিল হচ্ছে…
আজও তো সেই মহান রব অপেক্ষা করছেন—
কোনো বান্দা ফিরে আসবে কি না!

হয়তো আজ রাতই হতে পারে লাইলাতুল কদর…
হয়তো এই রাতেই আমাদের তাকদীর লেখা হবে নতুন করে…

আজ শেষ পৃষ্ঠা…
এটা যেন ফাঁকা না থাকে!

আসুন—
আজকের দিনটিকে আমরা ভরে তুলি তাওবা দিয়ে,
ভরে তুলি ইস্তিগফার দিয়ে,
ভরে তুলি কুরআনের তিলাওয়াত দিয়ে,
ভরে তুলি দো‘আর অশ্রু দিয়ে।

হয়তো এটাই আমাদের জীবনের শেষ রমজান…
হয়তো আগামী বছর আমরা আর এই চেকবই হাতে পাব না…

তাই আজ—শেষ সুযোগটুকু হাতছাড়া না করি।

হে আল্লাহ!
আমাদের অপূর্ণতাকে আপনি পূর্ণ করে দিন,
আমাদের অল্প আমলকে আপনি কবুল করে নিন,
আমাদের এই রমজানকে নাজাতের সনদ বানিয়ে দিন।

আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন।

-শায়েখ উমায়ের কোব্বাদি হাফিজাহুল্লাহ

যারা নফল নামাজ পড়তে অলসতাবোধ করেন কিংবা পিরিয়ডের কারণে নামাজ ও তিলাওয়াত থেকে দূরে আছেন, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু আমল...
16/03/2026

যারা নফল নামাজ পড়তে অলসতাবোধ করেন কিংবা পিরিয়ডের কারণে নামাজ ও তিলাওয়াত থেকে দূরে আছেন, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু আমল দেওয়া হলো। কদরের রাতে এই আমলগুলো করলে আশা করি অনেক উপকৃত হবেন এবং মনেও আনন্দ লাভ করবেন, ইনশাআল্লাহ।

(১) কমপক্ষে ১০০ বার নিচের তাসবিহ ও যিকিরটি।

لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ

[লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া‘হদাহু লা শারি-কা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল ‘হামদু ওয়া হুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদি-র]

অর্থ: আল্লাহ্ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি এক; তাঁর কোনো অংশীদার নেই। রাজত্ব এবং প্রশংসা কেবল তাঁরই; তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি দৈনিক ১০০ বার এটি পড়বে—
◉ সে ১০টি গোলাম মুক্ত করার সওয়াব পাবে;
◉ তার জন্য ১০০ সওয়াব লেখা হবে;
◉ তার ১০০ গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে;
◉ ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান থেকে নিরাপদ থাকবে এবং (সন্ধ্যায় বা রাতে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে)
◉ ওই দিনের হিসেবে কেউ তার চেয়ে উত্তম সওয়াবের কাজ করতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, ওই ব্যক্তি সক্ষম হবে, যে এর চেয়ে বেশি পড়বে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৩২৯৩; ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৫০৭৭]

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘‘যে ব্যক্তি এগুলোর প্রত্যেকটি ১০ বার করে বলবে, সে ইসমাঈল (আ.)-এর বংশের চারজন ক্রীতদাস মুক্ত করে দেওয়ার নেকি পাবে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৭৩৭]

(২) কমপক্ষে ১০০ বার নিচের তাসবিহ ও যিকিরটি।

سُبْحَانَ اللّٰهِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَر

সুবহানাল্লাহ্, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ এবং আল্লাহু আকবার—প্রতিটি ১০০ বার করে মোট ৪০০ বার পড়া।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু হানি (রা.)-কে বলেন—
◉ তুমি ১০০ বার তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) বলবে, এটি তোমার পক্ষে ইসমাইল (আ.)-এর বংশের ১০০ ক্রীতদাস মুক্ত করার সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার আল্লাহর হামদ বা প্রশংসা (আলহামদুলিল্লাহ) বলবে, এটি তোমার পক্ষে আল্লাহর রাস্তায় যু[দ্ধে]র জন্য ১০০ টি সাজানো ঘোড়ায় মু[জা]হিদ প্রেরণের সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলবে, এটি তোমার পক্ষ থেকে ১০০টি মাকবুল (কবুলকৃত) উট কুরবানির সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) বলবে, এত সওয়াব পাবে, যার ফলে আসমান ও যমিন পূর্ণ হয়ে যাবে। [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ২৬৯১১; শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ১৫৫৩; হাদিসটি হাসান]

(৩) কদরের রাতের বিশেষ আমল (দোয়া) বেশি বেশি করা:

আয়িশা (রা.) বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি জানতে পারি, কোনটি কদরের রাত, তাহলে ওই রাতে কী বলবো?’ নবিজি বলেন, তুমি বলো—
اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ
[আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউ-উন, তু‘হিব্বুল ‘আফওয়া ফা’ফু ‘আন্নি]
অর্থ: হে আল্লাহ্! আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ৩৮৫০; হাদিসটি সহিহ]

(৪) শ্রেষ্ঠ ইস্তিগফারগুলোর মধ্যে অন্যতম নিচের ইস্তিগফারটি সাধ্যানুসারে বেশি বেশি পড়া:
ইবনু মাস‘উদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি এটি পড়বে, তার গুনাহ্ ক্ষমা করে দেওয়া হবে—যদিও সে জিহাদের ময়দান থেকে পলায়নকারী হয়।”
ﺃَﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠّٰﻪَ ﺍﻟَّﺬِﻱْ ﻻَ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻻَّ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﺤَﻰُّ ﺍﻟْﻘَﻴُّﻮْﻡُ ﻭَﺃَﺗُﻮْﺏُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ

[আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযি লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল ‘হাইয়ুল ক্বাইয়ু-মু ওয়া আতু-বু ইলাইহি]
অর্থ: আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই—তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী—এবং আমি তাঁর নিকট তাওবাহ করছি। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৫১৭; হাদিসটি সহিহ]

(৫) ব্যাপক অর্থবোধক একটি দোয়া বেশি বেশি পড়া:

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ

[আল্লা-হুম্মা ইন্নি আসআলুকাল ‘আ-ফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আ-খিরাহ]

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের আফিয়াত (নিরাপত্তা, সুস্থতা) প্রার্থনা করছি। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৫০৭৪; হাদিসটি সহিহ]

(৫) দ্বীনের উপর অটল থাকার দু‘আ করা:

উম্মু সালামাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দু‘আটি সবচেয়ে বেশি পড়তেন, তা হলো–

يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي

[ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলু-ব, সাব্বিত ক্বলবি ‘আলা দি-নিকা]
অর্থ: হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আপনি আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের (ইসলামের) উপর অটল রাখুন।
[ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৫২২; হাদিসটি সহিহ]

(৬) অধিক পরিমাণে দরুদ পড়া: নিচে সহিহ হাদিসে বর্ণিত একটি ছোট্ট দরুদ দেওয়া হলো।

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ، وَعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ

আরও যারা অধিক পরিমাণে আমল করতে চান:

سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيْمِ وبِحَمْدِهِ (কমপক্ষে ১০০ বার)

سُبْحَانَ اللّٰهِ وبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيمِ (যত খুশি)

لَا ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻻَ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻَّ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ (যত খুশি)

যারা কুরআন পড়তে পারবেন, তারা সুরা ইখলাস পড়বেন বেশি পরিমাণে। ঘণ্টাখানেক সময় অন্তত কুরআন তিলাওয়াত করবেন। সাধ্যানুসারে তাহাজ্জুদ পড়বেন। কিছু দান-সাদাকাহ করবেন। এছাড়া অন্যান্য আমল করবেন। অবশ্যই আন্তরিকতার সাথে লম্বা সময় নিয়ে দোয়া করতে হবে। হায়েয অবস্থায় দোয়া করতে কোনো সমস্যা নেই। শুধু নামাজ, রোজা ও কুরআন তিলাওয়াত করা যায় না।

আলোকিত রমাদান (শায়খ আহমাদ মুসা জিবরিলের লেকচারসিরিজের অনুবাদ ‘ধূলিমলিন উপহার রমাদান’ অবলম্বনে) ১. রমাদানে বান্দার জন্য ত...
18/02/2026

আলোকিত রমাদান

(শায়খ আহমাদ মুসা জিবরিলের লেকচারসিরিজের অনুবাদ ‘ধূলিমলিন উপহার রমাদান’ অবলম্বনে)

১. রমাদানে বান্দার জন্য তিনটি সুযোগ আসে। সিয়াম, কিয়াম, কদর। বান্দা যদি এই তিনটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারে, এই তিন বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে রবের দিকে এগুতে পারে, তবে তার জন্য রয়েছে ক্ষমা পাওয়ার অকল্পনীয় সুযোগ।

২. আল্লাহর দিকে আমাকে এগিয়ে যেতে হবে। আমি এগুলেই রব আমার কাছে আসবেন। যে পথ এখন মনে হচ্ছে অনেক দূরের, শীঘ্রই তিনি সেই পথ নিকটে করে দিবেন। যে পথকে ভাবছি বন্ধুর ও দুর্গম, রব সে পথে এগুনো আমার জন্য সহজ করে দিবেন ইনশাআল্লাহ। আমাকে তাই হিম্মত করতে হবে। সাহসে ভর করে এগিয়ে যেতে হবে।

৩. গোপন আমলের শ্রেষ্ঠ সময় রমাদান। ইলম অর্জন করি গোপনে, আমল করি গোপনে, কিয়াম করি গোপনে। শুধু রব জানুক, আর কেউ না।

৪. আমাদের রব আল্লাহ বলেছেন, সিয়াম তাঁর জন্য এবং তিনিই এর প্রতিদান দিবেন। এই ঘোষণার পর আর কী লাগে আমাদের জন্য। এই এক ঘোষনাই যথেষ্ট আমাদের আমলের গতি বাড়ানোর জন্য। সাওম আল্লাহর নিকট প্রিয় ইবাদত। এটি একই সাথে তাকওয়া, আল্লাহর প্রতি প্রেম এবং আল্লাহর প্রতি ভয় সৃষ্টি করে। সাওমের মাধ্যমে তিন ধরণের ধৈর্য অর্থাৎ, আল্লাহর আনুগত্যের ধৈর্য, হালাল-হারাম মেনে চলার ধৈর্য, এবং আল্লাহর বিধান ও নির্ধারিত তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকার ধৈর্যের পরীক্ষা হয়। ফলে সাওমের প্রতিদান অনেক বেশী তা সহজেই অনুমেয়। সাওম এমন এক ইবাদত যার মাঝে শিরকের সম্ভাবনা নেই।

৫. রমাদানে বোনেরা দুঃখকষ্টে ভোগেন তাদের কিছু শরয়ী ওজরের কারণে। তারা ভাবতে থাকেন, তাদের কাছে নেক আমল করার সুযোগ নেই। ফলে তারা টিভির সামনে বসে থাকেন এবং বিরাট নিয়ামত হতে নিজেকে বঞ্চিত করেন। বস্তুত রামাদানে সিয়াম না করার মাধ্যমে আল্লাহর আদেশ পালন করে বোনেরা সারাদিন সওয়াবের সুযোগ পান। সুস্থ অবস্থায় সিয়াম আদায় করা যেমন রবের আদেশ, বিশেষ অবস্থায় সিয়াম আদায় না করাও রবের আদেশ। ফলে তাদের হতাশার কিছু নেই।

৬. রমাদান এমন এক মৃদুমন্দ বাতাস, যা শরীর ও মনন শীতল করে দেয়। তাই এই বাতাসের পরশে, মিষ্টি ঘ্রাণ নিয়ে জীবন গোছানো আমাদের জন্য অপরিহার্য। সময়ের সদ্ব্যবহার করে, নিজের চেয়ে উত্তম আমল, আখলাকওয়ালা বান্দার সোহবতে এসে, গোপনে তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করে এই রামাদানের সুবাস নেওয়া যায়। তাছাড়া নেক আমল করার আগে প্রস্তুতি নেওয়া, (যেমন রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদ পড়ার আগে দুই রাকাত নফল সালাত পড়তেন প্রস্তুতি হিসেবে), নেক আমল ছুটে গেলে হৃদয় বিগলিত হওয়া, কাফফারা হিসেবে আরও কিছু নেক আমল করা আমাদের রমাদানের সুবাস পেতে সাহায্য করবে ইনশাআল্লাহ।

৭. সালাফদের মত আমল না করে আমরা কীভাবে আশা করতে পারি যে, সালাফদের মত আমরা একই জান্নাতে প্রবেশ করব? সালাফদের মত একই জান্নাত পেতে চাইলে আমাদের সালাফদের সাথে প্রতিযোগীতা করতে হবে। নেক আমলের গতি বাড়াতে হবে।

৮. আল্লাহ মুনিব ব্যক্তিকে পছন্দ করেন। যে ব্যক্তি তাওবাহর পর নিজেকে বদলে ফেলে, আল্লাহর দিকে একধাপ এগিয়ে যায়, বিরতিহীন তাওবাহ করে আল্লাহর দিকে ছুটে যায়, গুনাহের ছাপে মরচে পড়া অন্তরটাকে কোমল করার কসরত করে, অনুনয় বিনয় করে কাঁদে, নিজেকে ইসলামের ছাঁছে পরিশুদ্ধ করে, তার চেয়ে উত্তম আর কে আছে? রামাদান হোক ইনাবার শুরু। চলতে থাকুক আজীবন।

৯. দোয়ায় লেগে থাকা জরুরি। আমাদের রব চান আমরা যেন দোয়া করি। আমরা যদি দোয়া করতে থাকি, তবে এই দোয়া কবুল হয়ে আমাদের জরুরত পুরা হওয়ার পাশাপাশি দোয়া করার জন্যও আমরা সাওয়াব পাব।

১০. গোপন আমল করা। যতটুকু পারা যায়। যত গভীরভাবে আমল গোপন করা যায়। আল্লাহ বান্দার গোপন আমলের উসিলায় বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। তার দোয়া কবুল করেন। শেষরাতের কিয়াম এমন এক তীর যা কখনও লক্ষভ্রষ্ট হয় না। আজ বিশ্বব্যাপী মজলুম উম্মাহর উপর হওয়া জুলুমের ব্যাপারে আমি আপনিও সমান দায়ী। আমাদের দোয়া থেকে যেন তাদের কথা বাদ না পড়ে। অন্তত আল্লাহকে বলতে তো পারব, ইয়া আল্লাহ! আমি দোয়া করেছিলাম।

১১. হারিয়ে যাওয়া আমলগুলো নিয়ে সময় কাটানো হতে পারে রমাদানে উত্তম করণীয়।
-ফজরের আগে ইস্তেগফার করা। আশেপাশে সবাই যখন ব্যস্ত, সাহরীতে কিংবা অন্য কাজে। রহমানের বান্দারা তখনই চট করে এককোণে বসে পাঁচ, সাত মিনিট ইস্তেগফার করে নেয়।
-আগে যেসব আমল করতাম না, সেসব আমল শুরু করা।
-তাফাক্কুর করা। এ বিষয়টা যেন আমাদের জীবন থেকে হারিয়েই যাচ্ছে। আমরা আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করি না। আমরা আখিরাত নিয়ে কল্পনা করি না। জান্নাত, জাহান্নাম নিয়ে চিন্তা করি না। অথচ গুনাহের ফলে আমাদের মননে যে মরচে পড়েছে তা ধুয়ে মুছে সাফ করতে তাফাক্কুরের জুড়ি নেই।
-তাবাত্তুল করা, তথা সম্পূর্ণভাবে নিজেকে আল্লাহর জন্য সমর্পণ করা। সাধারণত আমরা তিন ধরণের তাবাত্তুল দেখতে পাই।
*গৃহসংসার থেকে বিরাগ হয়ে যেভাবে খ্রিষ্টান ধর্মযাজকেরা গীর্জায় নিজেকে আবদ্ধ করে রাখে। ইসলাম আমাদের এই তাবাত্তুলের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করে।
*দিনের নির্দিষ্ট অংশে নিজেকে দুনিয়া থেকে পৃথক করে নেওয়া। পাঁচ-দশ মিনিট একমনে দোয়া, কুরআন তিলাওয়াত, আযকারে রত হওয়া এর অংশ। এই তাবাত্তুলের উত্তম সময় হলো রাতের শেষ একতৃতীয়াংশে সবকিছু থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রবের নিকট পড়ে থাকা।
*তৃতীয় প্রকার তাবাত্তুল তাবাত্তুলের সর্বোচ্চ ধাপ। এটা হলো মনকে পুরোপুরি আল্লাহর নিকট সমর্পণ করে দেওয়া। এ নিয়ামত উম্মাহর খুব কম মানুষ পায়। তারা আমাদের সাথেই থাকে। শারীরিকভাবে আমাদের মাঝেই থাকে। কিন্তু তাদের মন ঘোরাফেরা করে আসমানী বিষয়াদির ভাবনায়। প্রতিটা কাজ করার সময় তারা চিন্তা করে সে কাজে রব খুশি হবেন কিনা।

১২. রমাদান কুরআন নাজিলের মাস। সালাফরা রমাদানে হাদিস, ফিকহের দারস পর্যন্ত স্থগিত করে দিতেন যেন রাতদিন কুরআনকে সময় দিতে পারেন। হতাশ হই, দুঃখে জর্জরিত হই, অশান্তিতে থাকি, সুখে ভাসি, আনন্দিত হই, আমরা যেন কুরআন পড়ি। সব কাজের ফাঁকে, কুরআন আমাদের ঠোঁটে লেগে থাকুক। একমাত্র কুরআনকে বন্ধু বানালেই আমরা সফল হবো। কুরআন ছাড়া আমাদের উৎকৃষ্ট কোনও বন্ধু নেই। হতে পারে না। এটা তো সেই কুরআন যা অমুসলিম মুশরিকদের হৃদয়েও প্রভাব ফেলে। এটা সেই বন্ধু যা আমাদের হাত ধরে জান্নাতে পৌঁছে দেয়। আমাদের জন্য সুপারিশ করে।

১৩. প্রথম ধাপেই টার্গেট বড় না করি। আমাদের সালাফরা এক রাতে দুইবারও কুরআন খতম দিয়েছেন। এখন সেটা দেখে শুরুতেই যদি আমরা নির্ধারণ করি, অবশ্যই একরাতে দুই খতম দিবো, এতে বিপত্তি বাঁধতে পারে। নফস আমাদের ওয়াসওয়াসা দিয়ে এক ইবাদতে অনেকক্ষণ আটকে রেখে সব শক্তি নিঃসৃত করে ফেলে। পরবর্তীতে এমন হয়ে যায় যে, খতম তো পরের কথা, আমরা প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াতই ছেড়ে দিই। আল্লাহর শপথ, আল্লাহ সেসব আমল পছন্দ করেন যা নিয়মিত করা হয়। কাজেই আমাদের দরকার অল্প আমল হলেও এমন পরিমাণে নির্ধারণ করা যা আমরা নিয়মিত করতে পারব।

১৪. সদাকাহ। রমাদানের উৎকৃষ্ট আমল। সালাফরা লুকিয়ে, গোপনে, ছোট, বড় সদাকায় মেতে থাকতেন। সদাকাহর মাধ্যমে আমরাও আমাদের রমাদানে সুশোভিত করতে পারি। এ রমাদানে যাকাত দেওয়ার অথবা সদাকাহ করার সবচেয়ে ভালো খাত হচ্ছে এমন একটি পরিবারকে খুঁজে বের করা, যেখানে কারো স্বামী জেলখানায় আছে। যে মহিলার স্বামী জেলখানায় আছে, তাকে বিধবার মতই বলা চলে।

১৫. আমরা অনেকেই রমাদান শেষ হওয়ার আগে রমাদানের স্বাদ হারিয়ে ফেলি। আমরা গতানুগতিকভাবে সিয়ামরত হই, তাই আমাদের মধ্য থেকে রমাদানের মিষ্টতা চলে যায়। যদি আমরা মনের মাঝে গেঁথে ফেলতে পারি এই সিয়াম কেবল আল্লাহর জন্য, তবে রমাদান আমাদের নিকট সুপেয় মিষ্টি পানির মত মনে হবে। ইবাদাতের মাঝে আনন্দ সবাই পায় না। তারাই পায়, যাদের প্রতি আল্লাহ ইহসান করেছেন। আমরা যদি আল্লাহকে প্রচণ্ড ভালবেসে, আল্লাহকে খুশি করতে সিয়ামরত হই, ঠিকই আমরা সাওমে আনন্দ, প্রশান্তি খুঁজে পাব। আমাদের হৃদয় যদি এসবের উপর গভীর মনোনিবেশ ও তাফাক্কুর করার পরও পুলকিত না হয়, আমরা যদি সাওমের মিষ্টতা অনুভব না করি, আফসোস! আমাদের দূর্ভাগ্য।

১৬. মানুষ যখন কাউকে ভালবাসে, তখন সে চায় তার সাথে একাকী সময় কাটাতে। রহমানের বান্দারাও তেমন। তারা আল্লাহর সাথে একাকী সময় কাটাতে ভালবাসে। আর একাকী সময় কাটানোর জন্য, কেবল আল্লাহর দিকেই মনোনিবেশ করার জন্য ইতেকাফের চেয়ে শ্রেষ্ঠ সুযোগ আর হতে পারে না। নবিজি সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত কক্ষনো ইতেকাফ ছাড়েন নি। আফসোস আজ মুসলিম হয়ে আমরা ইতেকাফ ছেড়ে দিই, ইতেকাফকে মাজলুম, হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহয় পরিণত করেছি। রামাদানের শেষ দশদিনকে নবিজি এতই গুরুত্ব দিয়েছেন যে তিনি তার স্ত্রীদের সময় দেওয়ারও সুযোগ পেতেন না। কেবল আল্লাহর সাথে, আল্লাহর মাঝে মশগুল থাকতেন। আমাদেরও তেমনই হওয়া চাই। সালাত, যিকির, তিলাওয়াত, প্রশংসা, সাদাকাসহ যত ধরণের ইবাদতের কথা আমাদের মনে পড়ে, আমাদের উচিত তত ধরণের ইবাদত নিয়েই আল্লাহর কাছে চলে আসা, নিজের সবটুকু উজাড় করে ঝাঁপিয়ে পড়া। আল্লাহকে ভালবেসে, আল্লাহর মাঝে, আল্লাহর সাথে সময় কাটানো। নিজেকে পাপমুক্ত করে আল্লাহর প্রিয় বান্দার তালিকাভুক্ত করার এখনই সময়।

১৭. লাইলাতুল কদর। আমাদের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান রাত। এই রাতের ইবাদত হাজার রাতের চেয়েও উত্তম। আমাদের জীবনের সবচেয়ে খুশির রাত হওয়া উচিত লাইলাতুল কদর। কেননা, এ রাতে আমাদের কাঁধ থেকে আমাদের গুনাহ সরিয়ে নেওয়া হয়। এ রাতে অল্প কয়েকঘন্টার আমল করে আমরা হাজার রাতের সমান সওয়াব পেয়ে যাই। একবার আলহামদুলিল্লাহ বললে আমরা হাজার রাতের সমান আলহামদুলিল্লাহ বলার সওয়াব পাই। একবার তাওবা করলে হাজার রাত একনাগাড়ে তাওবাহর সওয়াব পাই। ওয়াল্লাহি আমার জানা নেই আর কোন রাত এ রাত অপেক্ষা উত্তম হতে পারে। এ রাত যে গাফলতে কাটিয়ে দেয়, আল্লাহর কসম, সে নিজের প্রতি নিজে জুলুম করে, নিজেকে নিজে ধোঁকায় রাখে।

১৮. রমাদানে আমাদের মাঝে ইযযাহ বৃদ্ধি করে। রমাদানে আমরা কামনা, বাসনা, নিচ, জঘন্য কাজ, পাপাচার থেকে মুক্ত থাকার মাধ্যমে সম্মান অর্জন করি। আমরা যখন সাদাকাহ করি, আল্লাহ আমাদের সম্মান বাড়িয়ে দেন। কেননা, নিচের হাত অপেক্ষা উপরের হাত উত্তম। নবিজি আমাদের মানুষের কাছে না চেয়ে আল্লাহর কাছে চাইতে বলেছেন। এই রামাদান ইযযাহের মাস।
আমরা মুসলিমরা বড় একটা সমস্যায় ভুগি। ইযযাহের অভাবে ভুগি আমরা। দেখা যায় আমরা কোনো মজলিশে থাকলে যদি সেখানে গীবত, পরচর্চার আড্ডা চলে তবে তা ভেঙে দেওয়ার সাহস করি না, সালাতের সময় হলে দাঁড়িয়ে যাই না। সামনের জন কী ভাববে তা নিয়ে চিন্তা করি। ইসলামের সব বিধান নিয়ে গর্ববোধ করি না, সম্মানিত বোধ করি না। পশ্চিমা নোংরা যুক্তির কবলে পড়ে দ্বীনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলি। একজন মুসলিমের চরিত্র কীভাবে এমন হতে পারে? আমরা কীভাবে আমাদের দ্বীন নিয়ে, ধর্মীয় বিধান নিয়ে সম্মানিত বোধ করি না? আমরা কীভাবে আমাদের শারীয়াহ নিয়ে গর্ববোধ না করে থাকতে পারি!

১৯. আমাদের জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ছোট্ট মাংসপিণ্ডের জিহ্বাই যথেষ্ট। গীবত, পরনিন্দা, কুৎসা রটানো, গালিগালাজ, মিথ্যাচার, ফন্দি আঁটাসহ যাবতীয় গুনাহ আমরা জিহ্বার মাধ্যমেই করি।

-সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের কল্যাণে অনেকে আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখির ব্যাপারে সতর্ক হই না। আমরা মনে করি যেহেতু জবানের মাধ্যমে আমরা কিছু বলছি না, তাই এটা হিফাযতের দরকারের নেই। বস্তুত এটা ভুল। গীবত গীবতই, মিথ্যাচার মিথ্যাচারই। যেখানেই হোক, যেভাবেই হোক।
-নবিজি এই ব্যাপারে আমাদের মূলনীতি শিখিয়ে গেছেন। হয় আমরা চুপ থাকবো, নয় ভাল কথা বলবো।
-মুখের কথাকে নিছক হারাম হালালের সাথে তুলনা করা যাবে না। অকল্যাণকর কথা থেকে বিরত তো থাকতেই হবে, বরং যেসব কথার মাঝে কল্যান নেই, অকল্যানও না, সেসব থেকেও দূরে থাকতে হবে। খায়েশ মেটাতে কিংবা বাচালতার দরুণ জিহ্বা চালিয়ে যেতে হবে না। যদিও চালাতে হয়, তবে যেন তা কল্যাণ বয়ে আনে।
-যদিও সিয়ামরত অবস্থায় জবানের হেফাযত না করলে আমাদের সিয়াম ভেঙে যায় না, তবে অনবরত সওয়াব আসা থেমে যায়, পুরষ্কারপ্রাপ্তি থেমে যায়।
-একমাত্র জিহ্বার সংযম না করার কারণে আমরা আমাদের ভাল আমলগুলো অন্যকে দিয়ে দিই। আমরা হয়তো হজ করি, উমরা করি, কিয়ামুল লাইল করি, কিন্তু অল্প একটু গীবত, মিথ্যাচার, সমালোচনা, গালি দেওয়ার কারণে আমরা আমাদের সব আমল অন্যকে বিলিয়ে দিই।

-গীবত শ্রবণকারীও গুনাহের ভাগিদার। তাই কোথাও গীবতের পসরা বসলেই আমাদের অনতিবিলম্বে সেই মজলিশ ভেঙে দিতে হবে। যদি আমাদের সামনে কেউ পরনিন্দা করে, তবে যাকে নিয়ে করা হচ্ছে, তার সম্মান রক্ষার্থে আমরা প্রতিবাদ করে উঠি আল্লাহ আমাদের জাহান্নাম হতে হেফাযত করবেন ইনশাআল্লাহ।
-যদি আমরা কারো ব্যাপারে জবানের খিয়ানত করে ফেলি, তবে আমাদের কর্তব্য হলো প্রথমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া, জবানের খেয়ানত সম্পর্কে সর্বোচ্চ সচেতন থাকা এবং যার ব্যাপারে খেয়ানত করা হয়েছে তার কাছে ক্ষমা চাওয়া। যদি ক্ষমা চাইলে পরিস্থিতি বিগড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে আমাদের কর্তব্য হলো সে ব্যক্তির জন্য দোয়া করা, সাদাকা করা, তার ব্যাপারে ভাল কথা বলা।

২০. রমাদান আত্মশুদ্ধির মাস, তাকওয়া অর্জনের মাস। এই রামাদানে আমরা গুনাহ থেকে বিরত হওয়ার পর, আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিষ্পাপ হওয়ার পর যেন আমরা আবার গুনাহে না জড়াই।

-রামাদানজুড়ে শয়তান থাকে শেকলে বাঁধা, বন্দী। তাই বন্দীত্ব থেকে ছোটার পরপরই সে আমাদের সামনে গুনাহের পসরা সাজাবে। রঙবেরঙের গুনাহ। আমরা যেন সেই পাতা ফাঁদে পা না দিই। আমরা যেন রামাদানে সিজনাল মুসলিম না হই।
-রামাদান আমাদের ঈমানদার মুসলিম তৈরি হওয়ার সময়। আমরা যেন এই সময়কে চূড়ান্তভাবে কাজে লাগাই এবং রামাদান শেষে গুনাহে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিফাকে না পতিত হই।
-শয়তান একমাত্র মুমিন ছাড়া বাকি সবার উপর প্রভাব বিস্তার করে। আমরা যেন শয়তানকে পরাজিত করি। মুমিন হয়ে যাই। মুমিনদের দলে ভিড়ি। অন্তত মুমিন হওয়ার পেছনে কসরত করতে থাকি, আঠার মত লেগে থাকি।
-রামাদানের পর আমরা যেন প্রতিদিন অল্প কিছু আয়াত কুরআন পড়া, শেষরাতটুকু আল্লাহকে দেওয়া, সাদাকা করা, মাসের অন্তত দুই তিনটা দিন সিয়াম পালন করায় ব্যস্ত থাকি। অল্প থেকে শুরু করি। যাতে আল্লাহর পছন্দের বান্দা হতে পারি। আল্লাহ বান্দার নিয়মিত আমল পছন্দ করেন। আমরা যেন আমাদের আমলে নিয়মিত হই।

-ইবাদত করলেই তা কবুল হবে এই ব্যাপারে গ্যারান্টি কার্ড আমাদের কাছে নেই। তাই আমাদের উচিত প্রতিদিন, অন্তত রামাদানের শেষ দশদিন আল্লাহর কাছে দোয়া করা, তিনি যেন আমাদের ইবাদত, আমাদের রামাদান কবুল করে নেন। আমাদের ইস্তিকামাতের ওপর রাখেন।
-যাদের সাথে আমরা সম্পর্ক ছিন্ন করেছি, অবিলম্বে তাদের সাথে আপোস করা উচিৎ। রামাদান শেষ হওয়ার আগেই। দোষ যারই হোক, আপোসের ক্ষেত্রে নিজে এগিয়ে গিয়ে আল্লাহর পছন্দের বান্দা আমাদেরই হতে হবে। নুন্যতম সালামের বিনিময় করি।
-অন্তর থেকে রাগ, ক্ষোভ, ঘেন্না ঝেড়ে ফেলি। সকলকে ক্ষমা করে দিই। সব ক্ষোভ মুছে ফেলি। আমাদের রবের সন্তুষ্টিই আমাদের জন্য উত্তম বিনিময় হবে।

রামাদান চলে যাবে। আমরা জানিনা আমরা আগামী রামাদান পাব কিনা। আমরা জানিনা আমরা এই রামাদান পুরা করতে পারব কিনা। আমরা যেন আল্লাহর নেককার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাই। আল্লাহ আমাদের উপর রাজিখুশি থাকুন। এবং আমাদের জান্নাতুল ফিরদাউসে মিলিত করুন।

#নির্মল_জীবন


03/02/2026

উলামায়ে সালাফের উক্তির আলোকে শবে বরাত
মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক

১. শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আব্দুল হালীম ৭২৮ হি.)

শায়েখ ইবনে তাইমিয়া রাহ. বলেন, ‘পনেরো শাবানের রাতের ফযীলত সর্ম্পকে একাধিক ‘মারফূ’ হাদীস ও ‘আসারে সাহাবা’ বর্ণিত রয়েছে। এগুলো দ্বারা ওই রাতের ফযীলত ও মর্যাদা প্রমাণিত হয়। সালাফে সালেহীনের কেউ কেউ এ রাতের নফল নামাযের ব্যাপারে যত্নবান হতেন। আর শাবানের রোযার ব্যাপারে তো সহীহ হাদীসসমূহই রয়েছে।

কোনো কোনো আলেম যদিও এই রাতের ফযীলত অস্বীকার করেন; কিন্তু হাম্বলী ও গায়রে হাম্বলী অধিকাংশ আলেমই এই রাতের ফযীলতের কথা স্বীকার করে থাকেন। ইমাম আহমাদ রাহ.-এর মতও তাই। কেননা এর ফযীলত সম্পর্কে একাধিক হাদীস বর্ণিত হয়েছে এবং এগুলোর সমর্থনে সালাফ (সাহাবী ও তাবেয়ী)-এর ‘আসার’ও বিদ্যমান আছে; যেগুলো ‘সুনান’ ও ‘মুসনাদ’ শিরোনামে সংকলিত হাদীসের কিতাবে [বরং কতক ‘সহীহ’ শিরোনামের কিতাবেও যেমন সহীহ ইবনে খুযাইমা (কিতাবুত তাওহীদ) সহীহ ইবনে হিব্বান প্রভৃতিতে] রয়েছে।

অবশ্য শুধু পনেরো তারিখের দিনে রোযা রাখার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া মাকরূহ। (ইবনে তাইমিয়া রাহ.-এর মত এটিই। তাঁর মতে পনেরো তারিখের সাথে দু-একদিন মিলিয়ে নেওয়া উত্তম।) আর এই দিন বা রাতে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা এবং সাজ-সজ্জার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া ইত্যাদি বিদআত ও ভিত্তিহীন। তেমনি এই রাতে ‘সালাতে আলফিয়া’ নামের মনগড়া নামাযের জন্যে সমবেত হওয়াও বিদআত।’ -ইকতিযাউস সিরাতিল মুস্তাকীম ২/৬৩১-৬৩২

ইবনে তাইমিয়া রাহ.-এর যুগে ‘সালাতে আলফিয়া’-এর রেওয়াজ ছিল। লোকেরা একটি জাল রেওয়ায়াতের ভিত্তিতে মনে করত যে, শবে বরাতে প্রতি রাকাতে ১০ বার করে সূরা ইখলাস পড়ে ১০০ রাকাত নফল নামায পড়া উচিত।

উক্ত রেওয়ায়াতটি সম্পূর্ণই জাল। (আললাআলিল মাসনূআ, ইমাম সুয়ূতী ২/৫৮-৬০; আলফাওয়াইদুল মাজমূআ, ইমাম শাওকানী ১/৭৬) আমার জানা মতে আজ কোথাও এর রেওয়াজ নেই। তবে এর স্থলে ‘মকসূদুল মুমিনীন’-এর বাতানো পদ্ধতির মনগড়া একটি নামায কতিপয় লোকের মাঝে প্রচলিত রয়েছে। মনে রাখতে হবে, ‘মকসূদুল মুমিনীন’-এর ওই বিশেষ পদ্ধতির নামায ও এর রেওয়ায়াতসমূহ সবই ভিত্তিহীন। (দেখুন, চলতি সংখ্যার প্রচলিত ভুল বিভাগ) এসব পরিহার করে এই রাতে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সাধারণ নফল নামাযের মত নফল নামায পড়া উচিত। হাদীস দ্বারা শুধু এতটুকুই প্রমাণিত হয় যে, এই রাতের নফল হবে লম্বা, সেজদা হবে দীর্ঘ দীর্ঘ। দু রাকাত করে যত ইচ্ছা পড়া যাবে; রাকাত সংখ্যাও নির্দিষ্ট নেই; কোনো নির্দিষ্ট সূরার সীমাবদ্ধতাও নেই। -আলআসারুল মারফূআ, আল্লামা আব্দুল হাই লাখনোভী ৮০-৮৫; মারাকিল ফালাহ শরহে নূরুল ইযাহ ২১৯

২. ইমাম যাইনুদ্দীন ইবনে রজব দামেস্কী (৭৯৫ হি.)

ইমাম ইবনে রজব রাহ. তাঁর ‘লাতায়িফুল মাআরিফ ফীমা লিমাওয়াসিমিল ‘আমি মিনাল ওয়াযায়েফ’- এ শবে বরাত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তাঁর আলোচনার সার-সংক্ষেপ হচ্ছে-

“শাবান মাসের পনেরো তারিখে রোযা নিষেধ হওয়ার প্রশ্নই আসে না। কেননা ওই দিন তো ‘আইয়ামে বীজ’ (চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ)-এর অন্তর্ভুক্ত। আর প্রতি মাসেই আইয়ামে বীজ-এ রোযা রাখা মুস্তাহাব। তাছাড়া ১৫ শাবানের রোযা সম্পর্কে একটি স্বতন্ত্র হাদীসও রয়েছে; যদিও এর ‘সনদ’ দুর্বল। সুনানে ইবনে মাজাহ-এ হযরত আলী রা. এর মাধ্যমে বর্ণিত, “যখন ১৫ শাবানের রাত আসে তখন তোমরা রাত জেগে নামায পড় এবং সামনের দিনে রোযা রাখ...।”

এরপর শবে বরাতের ফযীলত সর্ম্পকে একাধিক হাদীস উল্লেখ করার পর তিনি লেখেন- “সঠিক কথা হচ্ছে এই রাতের ইবাদত ব্যক্তিগতভাবে করা উচিত। এ রাতে নফল নামাযের জন্য মসজিদে ভিড় করা বা মাহ্ফিল করা মাকরূহ।”

তিনি আরো বলেন, “একজন মুমিন বান্দার উচিত, এ রাতে যিকির ও দুআর জন্য পুরোপুরি অবসর হওয়া। প্রথমে খাঁটি মনে তওবা করবে; এরপর মাগফেরাত ও ক্ষমা প্রার্থনা করবে; আপদ-বিপদ দূর হওয়ার জন্য দুআ করবে এবং নফল নামায পড়বে। সবসময় সেসব গুনাহ থেকে বিরত থাকবে যেগুলো ওই রাতের বিশেষ ফযীলত (ব্যাপক ক্ষমা) থেকে মানুষকে বঞ্চিত করে। যেমন শিরক, হত্যা, যিনা, হিংসা ইত্যাদি।”

তিনি আরো বলেন, “(ওই রাতের ফযীলত স্বীকৃত তবে) একথা সঠিক নয় যে, সূরা দুখান-এর আয়াতে যে ‘লায়লাতুম মুবারকা’-এর উল্লেখ এসেছে তার দ্বারা উদ্দেশ্য এই শবে বরাত। কেননা সঠিক এটাই যে, তা দ্বারা শবে কদর উদ্দেশ্য।” -লাতায়িফুল মাআরিফ ১৫১/১৫৭



৩. ইমাম ইবনুল হাজ্জ (আলমাদখাল গ্রন্থকার ৭৩৭হি.)

শায়েখ ইবনুল হাজ্জ রাহ. যাঁর গ্রন্থ ‘আলমাদখাল’ বিভিন্ন রসম-রেওয়াজ ও বিদআত খ-নে এবং সুন্নত জিন্দা ও প্রচার প্রসারে উৎকৃষ্ট গ্রন্থাবলির অন্তর্ভুক্ত, তিনি এই গ্রন্থের ১ম খ-ের শেষাংশে শবে বরাতের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। অন্তরের অত্যন্ত দরদ নিয়ে ওইসব বিদআত ও কুসংস্কার সম্পর্কে সবিস্তারে সতর্ক করেছেন, যেগুলো মানুষ শয়তানের ধোঁকা ও প্ররোচনায় এই রাতের ফযীলত লাভের বৈধ পদ্ধতি ছেড়ে অবলম্বন করেছে এবং এখনো করছে।

তিনি বলেন, “এ রাত যদিও শবে কদরের মত নয়; কিন্তু এর অনেক ফযীলত ও বরকত রয়েছে। আমাদের পূর্বসূরি পুণ্যাত্মারা এই রাতের যথেষ্ট মর্যাদা দিতেন এবং এর যথাযথ হক আদায় করতেন। কিন্তু আজ সাধারণ লোকেরা বিষয়টিকে সম্পূর্ণ উল্টো করে ফেলেছে। তারা রসম-রেওয়াজ ও কুসংস্কারের পেছনে পড়ে (মনের অজান্তেই) এর খায়ের বরকত ও কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

একে তো ওরা এ রাতে আলোকসজ্জার নিকৃষ্টতম রসম যা অগ্নিপূজকদের প্রতীক, তা আবিষ্কার করেছে; অপরদিকে মসজিদসমূহে সমবেত হয়ে শোরগোল করে পবিত্র পরিবেশকে নষ্ট করেছে। তাছাড়া মহিলাদের কবরস্থানে যাওয়া, তা-ও আবার বেপর্দা অবস্থায়, পাশাপাশি পুরুষদেরও কবর যিয়ারতের নামে ওখানে ভিড় সৃষ্টি করা- এ সব কিছুই নব-আবিষ্কৃত বিদআত এবং নববী সুন্নত ও সলফে সালেহীনের পথ ও পদ্ধতির পরিপন্থী। -আলমাদখাল ১/২৯৯-৩১৩



৪. শায়েখ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী রাহ. (১০৫২ হি.)

তিনি তাঁর ‘মা সাবাতা বিস্সুন্নাহ ফী আইয়ামিস সানাহ’ (যার উর্দূ অনুবাদ ‘মুমিন কে মাহ ও সাল’ নামে করাচি থেকে আরবীসহ প্রকাশিত হয়েছে)-এ যেখানে তিনি এই রাতের ফযীলত তুলে ধরেছেন, পাশাপাশি এই রাত সম্পর্কে কিসসা-কাহিনীকারদের বানানো মিথ্যা ও বাতিল বিষয়াবলির খ-ন করেছেন এবং সেসব গর্হিত বিষয়েও সতর্ক করেছেন যেগুলো পরবর্তী লোকেরা আবিষ্কার করেছে।

তিনি বলেন, “এই রাতের নিকৃষ্টতম বিদআতসমূহের মাঝে নিচের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত-

ঘর-বাড়ি, দোকান-পাটে আলোকসজ্জা করা, খেলাধুলা ও আতশবাজির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়া ইত্যাদি। এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এগুলোর সপক্ষে কোনো জাল রেওয়ায়েতও কোথাও নেই। প্রবল ধারণা যে, এগুলো হিন্দুদের ‘দেওয়ালী’ প্রথা থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।” -মা সাবাতা বিস্সুন্নাহ ৩৫৩/৩৬৩

শবে বরাত সম্পর্কে পূর্বসূরিদের বহু উক্তি রয়েছে। এখানে উদাহরণস্বরূপ কিছু উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো গভীর মনোযোগের সঙ্গে পড়লে একদিকে যেমন এই রাতের ফযীলত, এ রাতে ব্যক্তিগত ইবাদত যথা নফল নামায, যিকির ও দুআ, তওবা ইস্তেগফার, দরূদ শরীফের অযিফা ও কুরআন তিলাওয়াত প্রভৃতির গুরুত্ব জানা যাবে; তেমনি এ রাতের সেসব রসম-রেওয়াজ ও কুসংস্কার সম্পর্কেও জানা যাবে, যেগুলো মূলত লোকদের এই রাতের প্রভূত কল্যাণ থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে শয়তানের ধোঁকা ও প্ররোচনায় আবিষ্কৃত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে কল্যাণের তাওফীক দান করুন এবং সর্বপ্রকার অকল্যাণ থেকে নিরাপদ রাখুন- আমীন।

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when UITS Islamic Pioneer's posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to UITS Islamic Pioneer's:

Share