29/06/2022
ঈমান ও নেক আমলে সমৃদ্ধরা জান্নাতি
'তোমাদের মধ্যে যারা (আল্লাহ তায়ালার ওপর) ঈমান আনে এবং সে অনুযায়ী নেক আমল করে, তাদের সাথে আল্লাহ তায়ালা ওয়াদা করেছেন, তিনি জমিনে তাদের অবশ্যই খেলাফত দান করবেন- যেমনিভাবে তিনি তাদের আগের লোকদের খেলাফত দান করেছিলেন। (সর্বোপরি) যে জীবন বিধান তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন তাও তাদের জন্য (সমাজ ও রাষ্ট্রে) সুদৃঢ় করে দিবেন, তাদের ভীতিজনক অবস্থার পর তিনি তাদের অবস্থাকে (নিরাপত্তা ও) শান্তিতে বদলে দেবেন, (তবে এ জন্যে শর্ত হচ্ছে) তারা শুধু আমারই গোলামী করবে, আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না; এরপরও যে (এবং যারা) তার নেয়ামতের নাফরমানি করবে তারাই গুনাহগার (বলে পরিগণিত হবে)'- সুরা আন নুর ৫৫ আয়াত।
নেক আমলের নির্দিষ্ট কোনো ধরন নেই। আল্লাহ ও তাঁর রসুল সা.-এর আদিষ্ট সকল কাজ করা এবং নিষিদ্ধ সকল কাজ থেকে বিরত থাকাটাই হলো নেক আমল। একজন মুমিনের কথা হলো- 'আমরা শুনলাম ও মেনে নিলাম।' এরই নাম গোলামী করা। রাস্তা থেকে একটি কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে দেয়া একটি নেক আমল। একজন মানুষের সাথে হাসিমুখে কথা বলা, (হাদিসে তো মায়ের প্রতি হাসিমুখে তাকানোকে কবুল হজের সমান বলা হয়েছে), মানুষের প্রতি সুধারণা পোষণ, অধীনস্থদের প্রতি উত্তম ব্যবহার, মানুষ কষ্ট পায় এমন কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা সবই নেক আমল।
নামাজ-জাকাত-রোজা-হজ- নফল ইবাদত বন্দেগি ও দান-খয়রাত সবই নেক আমল। চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য সর্বপ্রকার লেন-দেনে সততা অবলম্বন নেক আমল। নগ্নতা-বেহায়াপনা থেকে দূরে থেকে পর্দা মেনে চলা, অফিসে ঘুষ-দুর্নীতি ও জন-হয়রানি না করে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন- বলা যায় এ যুগের জিহাদের সমতূল্য। ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তা-চেতনা লালনের কারণে অনেকের মাঝে নেক আমলের ধারণা অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। কিছু লোক মনে করে যে আনুষ্ঠানিক ইবাদত অনুষ্ঠান এবং মসজিদ-মাদ্রাসা-ইয়াতিমখানা নির্মাণ ও পরিচালনা বড় নেক আমল। নি:সন্দেহে এগুলো নেক আমল। কিন্তু সাথে সাথে অর্থ উপার্জনে স্বচ্ছতা এবং মানুষের সাথে আচার-আচরণে ইসলামের নির্দিষ্ট মানদণ্ড অবশ্যই মেনে চলতে হবে। নেক আমলের দিক দিয়ে আমরা খুবই পেছনে পড়ে রয়েছি। যার কারণে আল্লাহপাকের ওয়াদার বাস্তবায়ন আমরা লক্ষ করছি না।
আমরা যারা দ্বীনের বিজয় কামনা করি- আসুন, সবাই মিলে সমাজে নেক আমলের উদাহরণ হই। আমানত রক্ষা ও ওয়াদা-প্রতিশ্রুতি পালনে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করি। সর্বপ্রকার ধোকা-প্রতারণা, হিংসা-বিদ্বেষ, গিবত, কূ-ধারণা পোষণ, অপচয়-অপব্যবহার ও আল্লাহর নাফারমানির পর্যায়ে পড়ে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে নিজেদেরকে মুক্ত রাখি।
আমরা প্রতিপক্ষের মোকাবেলায় ভদ্রতা-শালীনতা বজায় রাখি। কথা ও কাজে এবং আচরণে একান্তই আল্লাহর অনুগত হয়ে যাই এবং তাতে আল্লাহও আমাদের হয়ে যাবেন। আল্লাহ কখনই তাঁর প্রতিশ্রুতি ভংগ করেন না।
হে আল্লাহ তুমি আমাদেরকে তোমার পথে কবুল করে নাও। আমিন।
প্রফেসর তোহুর আহমদ হিলালী।