13/01/2026
অর্ক ফাউন্ডেশন পরিচালিত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্যে স্কুল "অর্ক একাডেমি"তে প্রতিদিন কত যে অভিনব ঘটনার সাক্ষী হই।
আজ আফতাবনগর বাঘাপুর (আফতাবনগরের ভিতর একটি স্থানীয় লোকবসতিদের পাড়া) এসেছিলেন একজন মা তার দুই মেয়ে খাদিজা ও আয়েশাকে ভর্তি করাতে।
এই মা আফতাবনগরের বাঁশের সাকোর মাথায় একটি ছোট চায়ের দোকান চালিয়ে সংসারের ব্যয় বহন করে। তার বড় মেয়েটা পড়ত আফতাবনগরের নোবেল স্কুল এ কিন্তু সেখানের খরচ বহন করতে না পারায় আজ এসেছে অর্ক একাডেমিতে ভর্তি করাতে। অর্ক একাডেমিতে পড়তে কোনো বেতন লাগেনা, স্কুল ড্রেসসহ স্কুল থেকেই যাবতীয় শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হয়।
এই মাকে তার মেয়েদের লেখাপড়া করানোর সুফল ও সুবিধাগুলো যখন বুঝাচ্ছিলাম তিনি তখন অঝোরে কাঁদলেন। চোখের পানি সুখের না দুঃখের তা বুঝে উঠতে না পেরে জানতে চাইলাম কেন কাঁদছেন। উনি বললেন জানেন মিস, "আমার বাবা অসুস্থ হয়ে থাকায় আমার লেখাপড়া হয়নি, আজ যখন আমি আমার দু`মেয়েকে পড়তে বসিয়ে পড়তে বলি তখন তারা আমাকে বলে যে মা তুমি পড়াও, তখন আমি বলি মা রে আমি যে পড়তে জানিনা, তোমরা পড়ো। তখন তারা আমাকে বলে নিজে পড়তে পারো না তাহলে আমাদেরকে কেন পড়তে বলো, আমরাও পড়ব না। তুমি পড়তে পারো না আমিও পড়ব না"।
কথাগুলো হৃদয়ে বড় আঘাত করল, খুবই দুঃখজনক পরিস্থিতি। আমি মনে করি মানুষের অক্ষর জ্ঞানের শিক্ষা দুনিয়ার জীবনে অনেক বড় প্রাপ্তি, আল্লাহর পক্ষ থেকে এটা অনেক বড় নিয়ামত। সে নিয়ামত থেকে কত শত মানুষ বঞ্চিত, ভাবতেই কষ্ট লাগে। অথচ উপযুক্ত সুযোগ, উত্তম পরিবেশ আর সময় পেলে এ মানুষগুলোর ভেতর থেকেও তৈরি হতো কত শত সুনাগরিক। একটু চিন্তা করে আমি তাকে ভরসা দিয়ে বললাম, আপনিও চাইলে এখানে এসে পড়তে পারেন আমাদের কোনো সমস্যা নেই আর একটি কাজও করতে পারেন, বাঘাপুরে আপনি আপনার মত ১০/১৫জন দিনের একটা সময় ম্যানেজ করে একঘন্টা করে দিনে বা সপ্তাহে বসার ব্যবস্থা করেন আমরা আপনাদেরকে পড়াব ইনশাআল্লাহ।
আমি জানিনা এটা আমি অর্ক ফাউন্ডেশন থেকে করতে পারব কিনা কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে হলেও এ কাজটি করতে চাই। এটা আমার অনেক বড় একটি ইচ্ছে ও আকাঙক্ষা আজ থেকে।
কত মানুষের কত রকম কষ্ট কত রকম অভাব!
আমরা যারা সক্ষম, অন্তত একজন মানুষকেও যদি অক্ষর জ্ঞান শিক্ষা দিয়ে যেতে পারি হতে পারে এটাই আমাদের পরকালের জান্নাত লাভের উসিলা। ইচ্ছে থাকলে কতভাবেই যে অপরের জন্যে উপকার ও কল্যাণ করা যায়।
একজন ভালো মুসলিম হওয়া আমার চির প্রত্যাশা, একজন উপকারি মানুষ হয়ে পৃথিবীর বুকে বিচরণ করতে চাওয়া আমার একটা বড় স্বপ্ন।
আমাদের সক্ষম প্রত্যেকেরই উচিৎ ভালো কাজে অগ্রগামী হওয়া। যারা এসব কাজ করে তাদেরকে সহযোগিতা করা।
আসুন, আমরা কল্যাণকর মানুষ হই।