15/10/2021
আজ কাউকে শুভ বিজয়া বলতে পারলাম না। কখনো ভাবি নি যে আজ আমার নোয়াখালীতে আমি ভয়ে বের হতে পারব না নিজের বাসা থেকে। নিজের বিশ্বাস নিয়ে স্বাধীনভাবে রাস্তায় বের হতে পারব না। ভাবি নি নিজের জীবন নিয়ে আমাকে ভয়ে থাকতে হবে। আজ নিজের অস্তিত্বে আমি আঘাত অনুভব করছি।
আজ নোয়াখালীর চৌমুহনীতে যে ঘটনা ঘটে গেল সেখানে একজন মানুষকে হত্যা করা হল। ২০০ বছর আগের মন্দিরের বিগ্রহে ভাংচুর, সকল প্যান্ডেলে এসে পুড়িয়ে ফেলা হল, মানুষদের মারধর করা হল কোন পুলিশ, কোন প্রশাসন কোন বাধা দিল না। পুলিশ কাউকে আটকালো না, বিজিবি আসে নি। এমনকি ৯৯৯ নম্বরে কল করে কাউকে পাওয়া যায় নি। ঘটনার ৩-৪ ঘন্টায় কোন পুলিশ আসে নি এলাকায়, যেই ৫০০ লোক আসলো এই অপকর্ম করতে তাদের বাধা দেয়ার জন্য কেউ ছিল না!!!!!! আমার মনে হচ্ছে যেন নোয়াখালীতে এর বেশি লোক ছিল না , এর বেশি প্রশাসনিক লোক ছিল না যে তাদের বাধা দিতে পারে নি।।।।।।।।
কতোটা পরিকল্পিত ঘটনা হলে মন্দিরের গেটের উপরে রাখা কিছু প্রতীমা ভাংতে তারা মই নিয়ে এসে হামলা চালায়। আর আমার প্রশাসন তাদের বাধা দিতে পারল না। সকালে ভয়ে প্রতীমা বিসর্জন দেয়ার পরও রক্ষা পায় নি চৌমুহনীর একটা মন্দিরও।
যখন দেশে মানুষ বিদেশের ফিলিস্তিনে মানবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল, আজ সেই সকল মানুষকে বলতে চাই কোথায় আপনারা যখন আপনার বাসার পাশের একজন সংখ্যালঘুর সাথে এমন অত্যাচার হচ্ছে???
আমি এতদিন যেসব মানুষ দেশ ছেড়ে ভারত যায় তাদের অনেক খারাপ চোখে দেখতাম, বলতাম কেন নিজের মাতৃভূমি, জন্মস্থান ত্যাগ করে ভারত যায়। কিন্তু আজ তাদের মনের সেই সুপ্ত ভয় বুঝতে পারলাম। তাদের জন্য আজ আমার কোন ঘৃণা নেই, তারা তাদের জীবনভয়ে শুধু দেশ ত্যাগ করেছে.....
যারা এইসব ভাংচুরকে তাদের নিউজফিডে স্বাগত জানিয়েছেন, যারা ভাংচুরের ভিডিওতে হাসির রিয়াকশন দিয়ে মজা অনুভব করেছেন, আপনাদের মনুষ্যত্বকে আর বিবেক আছে বলে মনে হয় না, যেন মনে হয় উগ্রবাদীতায় আর সাম্প্রদায়িকতায় সবকিছু পঁচে গিয়েছে!!
আমি ধন্যবাদ বলতে চাই, নোয়াখালীর কবিরহাটের সেই সব মুসলিম ভাইদের যারা রাত জেগে গতকাল প্রতীমা পাহারা দিয়েছিলেন, যারা আজ আমার পাড়ার প্রতীমা বিসর্জনে আমাদের পাশে ছিলেন, যারা কাছে থেকে পারেন নি কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের পাশে দাড়িয়েছেন। আপনাদের জন্যই নিজেকে এখনো বাঙালি, বাংলাদেশি বলতে পারছি। ভবিষ্যতের এক অসাম্প্রদায়িক দেশের সম্ভাবনা আজও বুকে নিয়ে বেঁচে আছি!!!!