06/09/2026
প্রতিবন্ধী মানুষকে নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর কথা আমরা প্রতিনিয়ত বলি। বলতেই হবে।
কারণ এখনো অনেকেই প্রতিবন্ধী মানুষকে করুণার চোখে দেখেন, সক্ষমতার বদলে অক্ষমতা দিয়ে বিচার করেন, চাকরি দিতে ভয় পান, নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য মনে করেন না।
কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন প্রয়োজন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুধু সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে সুযোগ-সুবিধা দাবি করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। আমাদের নিজেদেরও প্রশ্ন করতে হবে—আমরা কি নিজেদের সক্ষমতা, দায়িত্ব ও মর্যাদার জায়গা থেকে দেখছি?
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো অনুষ্ঠান, সভা বা কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হলে অনেক সময় প্রত্যাশা থাকে—আয়োজক যাতায়াত ভাড়া, খাবার বা অন্যান্য খরচ বহন করবেন। প্রয়োজন বা বাস্তব পরিস্থিতির কারণে যাতায়াত সহায়তা দেওয়া অবশ্যই যৌক্তিক হতে পারে। বিশেষ করে যখন কোনো ব্যক্তি আর্থিকভাবে অসচ্ছল বা দূরবর্তী স্থান থেকে অংশগ্রহণ করছেন, তখন যাতায়াত সহায়তা তার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি যুক্তিসংগত ব্যবস্থা হতে পারে।
কিন্তু যদি প্রতিটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই “যাতায়াত ভাতা” বা “কিছু পাওয়ার” প্রত্যাশা যুক্ত হয়ে যায়, তাহলে বিষয়টি অধিকার থেকে ধীরে ধীরে নির্ভরশীলতার সংস্কৃতিতে পরিণত হতে পারে। একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কোনো অনুষ্ঠানে যাবেন শুধু ভাতা পাওয়ার জন্য নয়; তিনি যাবেন নিজের মতামত দিতে, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভাগ করতে, নেটওয়ার্ক তৈরি করতে, নেতৃত্ব দিতে এবং সমাজে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে।
আমাদের মনে রাখতে হবে—
প্রতিবন্ধিতা একজন মানুষের সক্ষমতাকে সংজ্ঞায়িত করে না।
সমাজকে যেমন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে করুণার চোখে দেখা বন্ধ করতে হবে, তেমনি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকেও সবসময় নিজেকে অসহায় বা সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হিসেবে দেখার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।