06/02/2024
পীর ধরা কি জায়েজ ?
আসুন সবার আগে আমরা জানি কিছু সব্দের অর্থ
_________________________________________________
১। "নামাজ" শব্দটি ফার্সি ভাষা থেকেই উদ্ভব' ফার্সি, হিন্দি, উর্দু, তুর্কি,এবং বাংলা ভাষায় একে নামাজ ( ফার্সি ভাষা থেকে উদ্ভব ) বলা হয় ।
কিন্তু এর মুল আরবি ভাষায় সালাত ( একবচন ) বা সালাহ্ ( বহু বচন ) বলা হয় ।
মুল কথা - ফার্সি ভাষায় যাকে 'নামাজ' বলে আরবিতে তাকে সালাত বলে ।
২। "রোজা"ফার্সি ভাষা, আরবিতে যাকে স্বাউম বা সিয়াম বলা হয়"শব্দের পার্থক্য হলেও রোজার কোনো পার্থক্য নাই কাজটি এক ।
৩ । "হুজুর" এর অর্থ জনাব- সন্মান জনক শব্দ"হুজুর শব্দটি ফার্সি ভাষার শব্দ' যার অর্থ- জনাব ।
হিন্দু ,উর্দু ,বাংলায় ভাষায় একটি সন্মানসূচক শব্দ হিসেবে ব্যাপক ব্যবহার করা হয়।
৪। "মিলাদ"একটি আরবী শব্দ,যার অর্থ জন্ম বা জন্মকাল বা জন্মদিন বুঝায়" মিলাদ-মাওলেদ ও মাওলুদ এই তিনটি শব্দের আভিধানিক অর্থ জন্মদিন,জন্মকাল ও জন্মস্থান ।
৫ । পীর" শব্দটি ফারসি ভাষা,যাকে কুরআন ও হাদীসে আউলিয়া, মুর্শিদ বা শায়খ বলা হয় । পীর এর অর্থ-জ্ঞানী, বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি বা মুরুব্বী, উর্দুতে ভাষায় বুজুর্গ বলা হয় ।
অর্থাৎ - যিনি বান্দার সঙ্গে আল্লাহ কে পাইয়ে দেবার ক্ষেত্রে বা আল্লাহর সাথে রুহানি সংযোগ স্থাপন করিয়া দেবার অভিজ্ঞ ব্যক্তি,সেই ব্যক্তিকেই পীরে কামেল বলা হয় ।
পীরে কামেল সেই ব্যক্তি হবে - যার মধ্যে ইলমে তাসাউফ জ্ঞান থাকবে"অর্থাৎ -ইলমে শরিয়ত, ইলমে হাকিকত, ইলমে তরিকত ও ইলমে মারেফতের জ্ঞান অর্জন করতে পারবে সেই পীরে কামেল হবার যোগ্যতা রাখে ।
৬ । অলি" আরবি শব্দ,যার অর্থ- বন্ধু, অভিভাবক, মুরুব্বী ব্যক্তি।
আরবি ভাষায় আউলিয়া শব্দটি অলির বহুবচন,অলির অর্থ - বন্ধু,মিত্র বা অনুসারী ।
আল্লাহর ওলী অর্থাৎ আল্লাহর বন্ধু,পবিত্র কুরআন শরীফে অলি এবং আউলিয়ার কথা বহু জায়গায় বলা হয়েছে ।
📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗
যারা কুরআন শরীফে "পীর, নামাজ, রোজা, দোজখ, বেহেশত শব্দ' খুঁজতে যায় তাঁরা মুর্খের পরিচয় দেয়,এটা বোকামি ছাড়া আর কিছু না ।
কুরআন শরীফে পীর"শব্দ নাই বলে যদি পীরকে মানা বা পীরের কাছে ইলমে তাসাউফ বা ইলমে মারেফত শিক্ষা করা যদি নাজায়েয হয়...তাহলে কুরআন শরীফে,ভাত,রুটি,পানি শব্দ নাই তাহলে কি এই গুলো খাওয়া নাজায়েয হবে ❓
বাবা ,ভাই, বোন,মা,বাবা, শব্দ নাই তাহলে কি এই নাম ধরে ডাকা যাবেনা ❓
হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে প্রত্যেক মুসলমান নরনারী জ্ঞান অর্জন করা ফরজ ।
এমনকি এক শ্রেণীর উচ্চ শিক্ষিত লোকেরাও পীর বা শায়খ না ধরার পক্ষে বিভিন্ন রকমের
মনগড়া যুক্তি প্রদর্শন করে থাকেন"তাদের ধারণা পাঁচ ওয়াক্ত নামায, রোজা,হজ,জাকাত"ঠিক রাখলেই যথেষ্ট পীর ধরতে বা পীরের কাছে যাওয়া চলবে না ।
আসলেই সবখানে মনগড়া যুক্তি প্রচার করে নিজেকে বুদ্ধিজীবি বলে জাহির করাটা ঠিক নয় এটা মূর্খের পরিচয়"।
হযরত রাসূলে (সাঃ) ফরমান“যে ব্যাক্তি নিজের বুদ্ধিকে যথেষ্ট মনে করে, সেই ব্যক্তি গোমরাহ্
( পথ ভ্রষ্ট ) ।
হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে প্রত্যেক মুসলমান নরনারী জ্ঞান অর্জন করা ফরজ।”
ইলম বা জ্ঞান দু’প্রকার -
💓💓💓💓💓💓💓💓💓💓💓💓💓💓💓📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗..................................
১- ক্বলবী ইলম্ যা উপকারী ইলম, এবং জবানী ইলম যা আল্লাহ পাকের তরফ থেকে বান্দার জন্য দলিল স্বরূপ ।
অর্থাৎ - একটি হল ইলমে ফিকাহ্ ও ইলমে তাসাউফ, ইলমে শিক্ষা করা ফরজ বলতে বোঝায়, ইলমে ফিকাহ্ ও ইলমে তাসাউফ উভয়টিই ।
মেশকাত শরীফের শরাহ্ “মেরকাত” শরীফে হযরত ইমাম মালেক (মালেকী মাযহাবের ইমাম) এর উক্তি উল্লেখ করেছেন,যে ব্যক্তি ইলমে ফিকাহ্ শিক্ষা করল ইলমে তাসাউফ (মারেফাত) শিক্ষা করল না সে ফাসেক অর্থাৎ গুনাহ্গার ।
আর যে ইলমে তাসাউফ শিক্ষা করলো কিন্তু শরীয়তের ধার ধারলোনা,সে যিন্দিক"আর যে ব্যক্তি দু’টিই শিক্ষা করল সে মোহাক্কিক।
হযরত ইমাম গাজ্জালী (রঃ) কিমিয়ায়ে সাআদাত” কিতাবে একই কথা বলেছেন যে ইলমে ফিকাহ বা শরীয়তের শিক্ষা...
অর্থাৎ নামাজ, রোজা,হজ, জাকাত,ওযু, গোসল, ইস্তিঞ্জা ইত্যাদি শিক্ষার জন্য যেমন ওস্তাদ বা মোল্লা গ্রহণ করা ফরয এর জন মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে বা বাড়ীতে কোন আলেমের কাছ থেকে ইলমে ফিকাহ্ অর্থাৎ - শরীয়তের জ্ঞান লাভ করা সম্ভব হয় ।
ঠিক তেমনি কামেল পীর বা ওলী আউলিয়াগণ ছাড়া ইলমে তাসাউফ অর্থাৎ মারেফতের জ্ঞান লাভ করা কারো পক্ষে সম্ভব হয় না"।
কারন-নবীদের নবুয়াতের বেলায়েত এবং অলিদের অলির বেলায়েতের ফায়েজ প্রয়োজন হয় ।
এমনকি হাফেজ, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিস জাহেরি শিক্ষা অর্জন করবার পরেও ইলমে তাসাউফ শিক্ষা,বা ইলমে মারেফত জ্ঞান অর্জন করতে হয় ।
কিন্তু দুঃখের বিষয় এখনকার বেশির ভাগ আলেম মাওলানা এই শিক্ষা থেকে দুরে থাকে ।
এখনকার বেশিরভাগ আলেম মাওলানা দ্বীন ইসলামের শিক্ষা অর্জন করে শুধু মাত্র টাকা ইনকাম করবার জন্য,নিজেকে আল্লাহ ওয়ালা তৈরি করবার জন্য নয় ।
♿🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐
২- ইলমে তাসাউফ ও মারেফতের জ্ঞান কি ?.......................................................
ইলমে মারেফত অর্থ আল্লাহকে চেনা"পৃথিবীতে থেকে জান্নাত ও জাহান্নামকে দেখা"জান্নাতি সুগন্ধি অর্জন করা,রুহানি শক্তি অর্জন করে ফারিস্তাদের দেখা"রুহানি ভাবে মৃত্যু কবরবাসী,কবরে মধ্যে কি করছেন তার অবস্থা দেখা ইত্যাদি ।
আল্লাহকে চেনা ফরয"আত্নশুদ্ধি লাভ করা যেহেতু ফরয,সেহেতু ইলমে তাসাউফ বা মারেফাত শিক্ষ করাও ফরয ।
বিশ্ববিখ্যাত "দোররোল মোখতার” কিতাব"একটি উসুল উল্লেখ করা হয়েছে যে আমল ছাড়া ফরজ পূর্ণ হয়না,সেই আমল করাও ফরয,আর যে আমল ছাড়া ওয়াজিব পূর্ণ হয় না সে আমল করাও ওয়াজিব।
ইলমে মারেফত অর্থাৎ আল্লাহকে চেনার জন্য জ্ঞান লাভ করতে হলে,অবশ্য কামেল পীরের প্রয়োজন।
যেহেতু পীর ছাড়া মারেফাত শিক্ষা করা যায়না,আল্লাহকে চেনা যেহেতু ফরয,আর যে ফরয কাজটির জন্য পীর ছাড়া হচ্ছে না"বা যে আমল ছাড়া ফরয পূর্ণ হয়না"সে আমল করাও ফরয ,সুতরাং কামেল পীরের সান্নিধ্যে যাওয়া ফরয
♿🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐
কামেল পীর,অলি,শায়খ,নেককার বান্দাদের অনুস্বরন করা যাবে কিনা আল্লাহ তায়ালা "কুরআন শরীফে" কি বলেছেন আসুন জেনে নেওয়া যাক ।
১। সুরা ফাতিহা আয়াত নম্বর-6,7
اِہۡدِ نَا الصِّرَاطَ الۡمُسۡتَقِیۡمَ ۙ﴿۶﴾
ইহদিনাসসিরা-তাল মুসতাকীম।
অর্থ- আমাদেরকে সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করুন।
صِرَاطَ الَّذِیۡنَ اَنۡعَمۡتَ عَلَیۡہِمۡ ۬ۙ غَیۡرِ الۡمَغۡضُوۡبِ عَلَیۡہِمۡ وَ لَا الضَّآلِّیۡنَ ٪﴿۷﴾
সিরা-তাল্লাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম,গাইরিল মাগদূ বি ‘আলাইহিম ওলাদ্বল্লিন।
অর্থ - তাদের পথ, যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন ( তাদের আপনি উপহার দান করেছেন, নিয়ামত প্রাপ্ত বান্দা,যাদের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়েছে )
তাদের পথে নয়, যাদের প্রতি আপনার গযব বর্ষিত হয়েছে, তাদের পথও নয় যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। আমীন!!
অর্থাৎ : ইহদিনাসসিরা-তাল মুসতাকীম ) এর মানে - সোজা সরল পথ,যে পথের মধ্যে কোনো ডান দিক বাম দিক তাকাবার পথ নাই , সেই পথ যে পথটি সম্পূর্ণভাবে পুরো পুরি আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে এই পথটি হাকিকতের পথ ।
সুতরাং,এই পথের পথিক কারা বা এই পথ কারা অর্জন করেছে ,এই পথ ধরে করা আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে ? আল্লাহ তায়ালা তার পরের আয়াতে বলছেন...
সূরা আল ফাতিহা (الفاتحة), আয়াত: ৭
صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ
অর্থঃ সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।
সুতরাং -যাদের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়েছে, আল্লাহ রাজি খুশি আছেন ।
এই সকল বান্দা কারা - নবীগণ,রাসূল গান,সাহাবায়ে গান,, অলি আল্লাহ গান , গাউস, কুতুব, নুজবা,, নুকবা,অখাইয়ার,আওতাদ, আবদাল , কারামতে আউলিয়া, এবং পীরে কামেল,এই সকল বান্দাদের আল্লাহ তায়ালা এক প্লাটফর্মে এনে বলছেন এরাই হলেন আমার নিয়ামত প্রাপ্ত বান্দা,তোমরা এদের পথ অনুসরণ করো।
যদি কেউ মনে করেন এই সকল বান্দা নয়,তবে আপনার মতে কারা আপনিই বলুন ❓❓❓❓
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় অনেকেই বলেন ,এই আয়াতে শুধু মাত্র "নবী ও সাহাবায়ে কেরামদের কথা বলেছেন !
তাই যদি হয় আমি ওনাদের বলতে চাই নবীগণ এবং সাহাবায়ে কেরাম দুনিয়া থেকে পর্দা নেবার পর আর কেউ কি আল্লাহর নেয়ামত প্রাপ্ত প্রিয় বান্দা হননি ❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓
কোনো নেককার বান্দা আসেনি ❓❓❓❓❓❓
কোনো আল্লাহর অলি কি হননি ❓❓❓❓❓❓
সুরা নিসা আয়াত নম্বর - 69
_________________________
وَ مَنۡ یُّطِعِ اللّٰہَ وَ الرَّسُوۡلَ فَاُولٰٓئِکَ مَعَ الَّذِیۡنَ اَنۡعَمَ اللّٰہُ عَلَیۡہِمۡ مِّنَ النَّبِیّٖنَ وَ الصِّدِّیۡقِیۡنَ وَ الشُّہَدَآءِ وَ الصّٰلِحِیۡنَ ۚ وَ حَسُنَ اُولٰٓئِکَ رَفِیۡقًا ﴿ؕ۶۹﴾
ওয়া মাইঁ ইউতি‘ইল্লা-হা ওয়াররাছূলা ফাউলাইকা মা‘আল্লাযীনা আন‘আমাল্লা-হু ‘আলাইহিম মিনান্নাবিইয়ীনা ওয়াসসিদ্দীকীনা ওয়াশ শুহাদাই ওয়াসসা-লিহীনা ওয়াহাছুনা উলাইকা রাফীকা-।
অর্থ-আর যে কেহ আল্লাহ ও রাসূলের অনুগত হয়, তারা ঐ ব্যক্তিদের সঙ্গী হবে যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন; অর্থাৎ নাবীগণ, সত্য সাধকগণ, শহীদগণ ও সৎ কর্মশীলগণ; এবং
এরাই সর্বোত্তম সঙ্গী ।
অর্থাৎ- আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতে পরিস্কার করে জানিয়ে দিচ্ছেন - আল্লাহ ও নবী পাকের সঙ্গী তাঁরাই হবে যারা আল্লাহর নিয়ামত প্রাপ্ত বান্দা,বা যারা আল্লাহর তরফ থেকে উপহার পেয়েছেন ।
এই জায়গায় ভালো করে লক্ষ্য করে দেখুন,এই খানে কোনো হাফেজ,মাওলানা,মুফতী,মুহাদ্দিসগণের কথা বলা হয়নি ।
আল্লাহ তায়ালা আবার তার বান্দাদের জানিয়ে দিচ্ছেন কারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের(সা:) সঙ্গী এরা হলেন- নবীগণ,সত্য সাধকগণ,শহীদগণ, এবং নেককার লোক এরাই সর্বোত্তম সঙ্গী এদের উপর আল্লাহ তায়ালা নিয়ামত দান করেছেন ।
নিয়ামত প্রাপ্ত বান্দা বলতে- কেরামতে আউলিয়া যাদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায় ওনারাই আল্লাহর নিয়ামত প্রাপ্ত বান্দাগণ ।
তাই নবীগণ, আউলিয়া, কামেল পীর ও মুর্শিদ এবং নেককার বান্দাদের সঙ্গী হওয়া আল্লাহর হুকুম ।
উম্মতি মুহাম্মাদিদের জন্য শুধু যদি "কুরআন ও হাদীস"যথেষ্ট হত তাহলে আল্লাহ তায়ালা অলিদের এবং নিয়ামত প্রাপ্ত বান্দাদের অনুসরণ করার কথা কেন বললেন,( সুরা ফাতিহা আয়াত নম্বর -৬'৭) এই আয়াত দ্বারা বুঝা যায় আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাঃ) পাবার জন্য শুধু মাত্র কুরআন ও হাদীস যথেষ্ট নয় ।
সুরা নিসা আয়াত নম্বর- 59......................................
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَطِیۡعُوا اللّٰہَ وَ اَطِیۡعُوا الرَّسُوۡلَ وَ اُولِی الۡاَمۡرِ مِنۡکُمۡ ۚ فَاِنۡ تَنَازَعۡتُمۡ فِیۡ شَیۡءٍ فَرُدُّوۡہُ اِلَی اللّٰہِ وَ الرَّسُوۡلِ اِنۡ کُنۡتُمۡ تُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَ الۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ ؕ ذٰلِکَ خَیۡرٌ وَّ اَحۡسَنُ تَاۡوِیۡلًا ﴿٪۵۹﴾
ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূ আতী‘উল্লা-হা ওয়া আতী‘উররাছূলা-ওয়া" উলিল আমরি" মিনকুম ফাইন তানা-ঝা‘তুম ফী শাইইন ফারুদ্দূহু ইলাল্লা-হি ওয়ার রাছূলি ইন কুনতুম তু’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়াল ইয়াওমিল আ-খিরি যা-লিকা খাইরুওঁ ওয়া আহছানু তা’বিলা-।
অর্থ - হে ঈমানদারগণ ! তোমরা আল্লাহর ও রাসূল এবং আওলিয়াগণের আনুগত্য করো অতঃপর যদি তোমাদের মধ্যে কোন বিষয়ে কোন মতবিরোধ হয় তাহলে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তিত হও, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস করে থাক; এটাই কল্যাণকর ও শ্রেষ্ঠতর পরিসমাপ্তি ।
অর্থাৎ- আল্লাহ এই আয়াতে উলিল আমরির কথা বলেছেন - প্রথমে বলে রাখি "উলিল আমরি" কোনো সাধারণ বেক্তি মসজিদের ইমাম, হাফেজ, মাওলানা বা নেতা,বাদশা,ও কোনো গোষ্ঠীর শাসক ব্যক্তি নয়"কারনঃ আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতে তিনজনকে অনুসরণ করার কথা বলছেন, "আল্লাহ"ও আল্লাহর রসুল এবং উলিল আমরি" এর আনুগত্য করো ।
এই খানে আল্লাহ বলছেন হে,"ঈমানদারগণ" তোমরা আল্লাহ, রসুল, এবং উলিল আমরি, অনুসরণ করো ।
এবং আল্লাহ ও আল্লাহর রসুলের পরের স্থান "উলিল আমরি"সুতরাং উলিল আমরি" কোনো সাধারণ বেক্তি নয়, এবং হাদীস শরীফে এসেছেন আল্লাহর অবাধ্য কোনো সৃষ্টির আনুগত্য নেই
( মিশকাত শরীফ - 3696"মুসলিম শরীফ -1840 )
এবং বোখারি শরিফে এসেছে আনুগত্য হবে কেবল ভালো কাজে ( 7145 ) ।
অর্থাৎ - আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতে "ঈমানদারগণদের" উদ্দেশ্য করে বলছেন"যে তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর তার রসুলের এবং উলিল আমরির আনুগত্য করো।
কিন্তু যারা ঈমানদার"ওনাদেরও আলাদা সন্মান মর্যাদা অবশ্যই আছে , সুতরাং-"উলিল আমরি এমন মোকাম্মেল এবং নিয়ামত প্রাপ্ত আল্লাহর মনোনীত ব্যক্তি যার মর্যাদা ঈমানদারগণের ঊর্ধ্বে ।
এবং এই "উলিল আমরি" সম্পর্ক সমস্ত কেরামতি আওলিয়াগণ, এরাই হচ্ছেন নবী পাকের ( সা:) নায়েব বা প্রতিনিধি ।
সুরা ইউনুস,আয়াত নম্বর- 62,65
-----------------------------------------------
اَلَاۤ اِنَّ اَوۡلِیَآءَ اللّٰہِ لَا خَوۡفٌ عَلَیۡہِمۡ وَ لَا ہُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ ﴿ۚۖ۶۲﴾
আলাইন্না আওলিয়াআল্লা-হি লা-খাওফুন ‘আলাইহিম ওয়ালা-হুম ইয়াহঝানূন।
অর্থ- মনে রেখ, নিশ্চয়ই (ওলী বা আউলিয়াগণ)
তাদের কোনো ভয় নাই তারা দুঃখিত হবে, আর না তারা বিষন্ন হবে।
👑অর্থাৎ - আল্লাহ এই আয়াতে পরিস্কার করে দিচ্ছেন যে অবশ্যই আমার ,ওলী,আউলিয়াদের কোনো চিন্তা নাই ভয় নাই এরা ইহকালে নয় ও পরকালে নয়,এরা হলো আমার বন্ধু ।♿🛐
যাদের সাক্ষী স্বয়ং আল্লাহ নিজেই দিচ্ছেন ।♿🛐
কিন্তু দুঃখের বিষয় বর্তমান কিছু মানুষ আছে যারা বলে কুরআন আছে হাদীস আছে ওলী আউলিয়াদের কথা,ওনাদের আকিদা না.. মানলেও চলবে !
তাহলে চিন্তা করুন "সিরাতাল মুস্তাকিমের রাস্তা কথায় খুঁজে পাবেন ❓❓❓❓❓❓❓❓❓
নাকি গুমরাহ হয়ে পথভ্রষ্ট হয়ে জাহান্নামে যাবার জন্য তৈরি হচ্ছেন ।
الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ کَانُوۡا یَتَّقُوۡنَ ﴿ؕ۶۳
অর্থ - তারা হচ্ছে সেই লোক যারা ঈমান এনেছে এবং (পাপ হতে) পরহেয করে থাকে।
لَہُمُ الۡبُشۡرٰی فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَ فِی الۡاٰخِرَۃِ ؕ لَا تَبۡدِیۡلَ لِکَلِمٰتِ اللّٰہِ ؕ ذٰلِکَ ہُوَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡمُ ﴿ؕ۶۴﴾
লাহুমুল বুশরা-ফিল হায়া-তিদ দুনইয়া-ওয়াফিল আ-খিরাতি লা-তাবদীলা লিকালিমাতিল্লা-হি যা-লিকা হুওয়াল ফাওঝুল ‘আজীম।
অর্থ - তাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে পার্থিব জীবনে এবং পরকালেও। আল্লাহর বাক্যসমূহে কোন পরিবর্তন হয়না; এটা হচ্ছে বিরাট সফলতা ।
অর্থাৎ - আল্লাহ তায়ালা তাদের তার ওলী আউলিয়াদের সুসংবাদ দিচ্ছেন যে নিশ্চয়ই এই দুনিয়াতে ও আখেরাতে তাদের কোনো ভয় নাই , এবং আল্লাহর ওয়াদা কোনো দিন পরিবর্তন হবেনা ।
📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗
📗সূরা আল বাকারা (البقرة), আয়াত: ১৫৪
وَلَا تَقُولُوا۟ لِمَن يُقْتَلُ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ أَمْوَٰتٌۢ بَلْ أَحْيَآءٌ وَلَٰكِن لَّا تَشْعُرُونَ
উচ্চারণঃ ওয়ালা-তাকূলূ লিমাইঁ ইউকতালুফী ছাবীলিল্লা-হি আমওয়া-তুন বাল আহইয়াউওঁ ওয়ালা-কিল্লা-তাশ‘উরূন।
অর্থঃ আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝ না।
❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓
📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗
সূরা আল ইমরান (آل عمران), আয়াত: ১৬৯
وَلَا تَحْسَبَنَّ ٱلَّذِينَ قُتِلُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ أَمْوَٰتًۢا بَلْ أَحْيَآءٌ عِندَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ
উচ্চারণঃ ওয়ালা-তাহছাবান্নাল্লাযীনা কুতিলূফী ছাবীলিল্লা-হি আমওয়া-তাম বাল আহইয়াউন ‘ইনদা রাব্বিহিম ইউরঝাকুন।
অর্থঃ আর যারা আল্লাহর রাহে নিহত হয়, তাদেরকে তুমি কখনো মৃত মনে করো না। বরং তারা নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিত ও জীবিকাপ্রাপ্ত।
❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓
📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗📗
♿🛐অর্থাৎ- সুরা ইমরান ও সুরা বাকারা"এই দুই আয়াতের ব্যাখ্যা অনেক মিল আছে ।
আল্লাহ তায়ালা বলছেন যারা আমাকে ভালো ভেসে আমার আমার পথে শহিদ হয়েছে... নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন তোমরা তাদের মৃত বলো না, বরং তারা জিন্দা জীবিত তাদের আমি রেজেক দিয়ে থাকি ।
অর্থ- এই খানে আল্লাহর পথ বলতে শুধু মাত্র আল্লাহর পথে জিহাদ করে শহীদ হওয়া পথের কথা নয় ।
বরং , সমস্ত নবী,রসুল, সাহাবায়ে কেরাম, ইমাম,ওলী, আউলিয়া এবং নেককার বান্দাগণ যে পথে চলেছে সেই পথটিও আল্লাহর পথ ,
👑সুতরাং এই দুই পথে আল্লাহকে ভালোবেসে আল্লাহর পথে চলে যারা নিজেদের জীবনকে উৎসর্গ করেছে তারা প্রত্যেকেই জিন্দা জীবিত তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে রেজেক পেয়ে থাকে ।
সুরা মায়িদাহ, আয়াত নম্বর-35
--------------------------------------------
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰہَ وَ ابۡتَغُوۡۤا اِلَیۡہِ الۡوَسِیۡلَۃَ وَ جَاہِدُوۡا فِیۡ سَبِیۡلِہٖ لَعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ ﴿۳۵﴾
ইয়াআইয়ূহাল্লাযীনা আ-মানুততাকুল্লা-হা ওয়াবতাগু ইলাইহিল ওয়াছীলাতা ওয়া জাহিদূফী ছাবীলিহী লা‘আল্লাকুম তুফলিহূন।
অর্থ - হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর নৈকট্য পাবার জন্য একটা অসিলা অর্জন করো ও আল্লাহর পথে জিহাদ করতে থাক। আশা করা যায় যে, তোমরা সফলকাম হবে ।
অর্থাৎ - আল্লাহর পথে সফল হবার জন্য আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতে তিনটি কথা উল্লেখ করেছেন"(১) আল্লাহকে ভয় করো (২) অসিলা অর্জন করো (৩) এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করো।
(২) আল্লাহকে পাবার জন্য একটা অসিলা বা মাধ্যম অর্জন করো ।
প্রথম কথা কথা হলো যে "অসিলা" না কথা বলা কোনো বস্তু হতেই পারে না,সুতরাং কুরআন ও হাদীস অসিলা নয় ।
আল্লাহকে পাবার জন্য অসিলা হবে সেই ব্যক্তি,তার মধ্যে মুকাম্মাল ঈমান থাকবে, ইলমে শরিয়ত ও ইলমে তাসাউফ জ্ঞান থাকবে,ওই ব্যক্তি যে নামাজ কায়েম করতে পেরেছে,যার মধ্যে ইবাদত আমল ভরপুর,তার মধ্যে আল্লাহ ও আল্লাহর রসূলের (সা:) ভালো বাসায় কোনো কমতি থাকবে না এবং যার মধ্যে মোহাম্মদী ইসলামের আদর্শ লক্ষ্য করা যায় ।
এই আয়াতে বলছেন যে আমাকে আমাকে পাবার জন্য অসিলা বা মাধ্যম অর্জন করো ,এই অসিলা কারা হবে - সেই ব্যক্তি যে"সিরাতুল মুস্তাকিমের"রাস্তায় চলে কামিলিয়াত অর্জন করেছে বা আল্লাহর তরফ থেকে নিয়ামত প্রাপ্ত বান্দা ।
অসিলা হবে সেই ব্যক্তি যে সম্পূর্ণ আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে , সুতারাং যে আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে সেই ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহর রাস্তা দেখাতে পারেন।
যে আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি সেই ব্যক্তি কোনো দিন আল্লাহর রাস্তা দেখাতে পারবেনা অসম্ভব।
( সবচাইতে উত্তম এবং আফজাল অসিলা আল্লাহর মনোনীত বান্দা ,যাদের উপর আল্লাহ রাজি খুশি আছেন,যারা আল্লাহ কাছ থেকে নিয়ামত প্রাপ্ত,ওই সমস্ত বান্দা যারা"সিরাতুল মুস্তাকিমের"রাস্তায় চলেছে দলটি হলঃ সাহাবা কেরাম, তাবে তাবেঈন, ইমাম,গোওস কুতুব,অলি আউলিয়াগণ, এবং পীরে কামেল ,আল্লাহকে পাবার জন্য আল্লাহ তায়ালা নিজেই বলছেন তোমরা আমার নেককার বান্দাদের সঙ্গী হয়েযাও )
😇😇😇😇😇😇😇😇😇😇😇😇😇😇😇
ইলমে তাসাউফ বা ইলমে মারেফত জ্ঞান" পীরে কামেল,ওলী আউলিয়াগণ ছাড়া অন্য কেউ এই জ্ঞানে জ্ঞানী বানাতে পারে না।
ইসলামের আদিকাল থেকে এখনো পর্যন্ত এমন কোন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি,যিনি ইলমে তাসাউফ হাসিল না করে শুধু কিতাবী বিদ্যা বা শরিয়ত শিক্ষা দ্বারা আল্লাহর অলি হতে পেরেছেন।
যদি ইলমে তাসাউফ ছাড়া কামেল বা পূর্ণ মোমেন হওয়া সম্ভব হত তাহলে..
💚হজরত ইমাম আবু হানিফা (রহ:)
💚হযরত খাজা বাবা মুঈনুদ্দীন চিশতী (রাহ:)
💚হজরত হাসান বসরী (রহ:)
💚হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ:)
💚হজরত ইমাম আহমদ বীন হাম্বল (রহ:)
💚হজরত শাহজালাল ( রহ:)
💚হযরত শাহাবুদ্দীন আনছারী (রহ:)
💚হজরত শেখ ফরিদ গঞ্জেশকর (রহ:)
💚হযরত আবুল হাছান শাজেলী (রহ:)
💚হজরত বক্তিয়ার কুতুবুদ্দিন কাকী (রহ:)
💚হযরত আবদুল্লাহ্ আনছারী (রঃ)
💚হযরত মোজাদ্দেদে আলফেসানী (রহ:)
💚হযরত শাহ সূফী ফতেহ আলী (রহ:)
💚হজরত আবু বক্কর সিদ্দিক ( রহ:)
💚ইমামে আলা হজরত (রহ:)
💚হজরত ইমাম গাজজালি (রহ:)
💚হজরত নিজামুদ্দীন আউলিয়া (রহ:)
💚হজরত মুস্তাফা মাদানী (রহ:)
💚ও হযরত হাফেজ মুনিরুদ্দীন (রহ:)
এনারা ইলমে মারেফত ও ইলমে তাসাউফ শিক্ষার জন্য প্রত্যেকে এবং পৃথিবীর সমস্ত ওলীগণ যুগ যুগ ধরে কামেল পীরে সঙ্গী হয়ে,হাতে বায়াত হয়ে মুরীদ হয়েছেন ।
সূরা আল মায়িদাহ (المآئدة), আয়াত: ৩৫
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَٱبْتَغُوٓا۟ إِلَيْهِ ٱلْوَسِيلَةَ وَجَٰهِدُوا۟ فِى سَبِيلِهِۦ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
উচ্চারণঃ ইয়াআইয়ূহাল্লাযীনা আ-মানুততাকুল্লা-হা ওয়াবতাগু ইলাইহিল ওয়াছীলাতা ওয়া জাহিদূফী ছাবীলিহী লা‘আল্লাকুম তুফলিহূন।
অর্থঃ হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর, তাঁর নৈকট্য অন্বেষন কর এবং তাঁর পথে জেহাদ কর যাতে তোমরা সফলকাম হও।
উলুল জামির কিতাবে ২৮ পৃষ্ঠা ও হযরত মোজাদ্দেক আল ফেসানী (রঃ) এর মকতুবাত শরীফের দ্বিতীয় খন্ডের, ১২৬ পৃষ্ঠায় এই উসিলা শব্দের অর্থ কামেল পীর গ্রহণ করা,বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রঃ) তাঁর সিররুল আসরার” কিতাবে লিখেছেন,পীরের দেহ আয়না স্বরূপ ।
আল্লাহ্ এবং মুরীদের মধ্যে পীর উসিলা মাত্র"উক্ত কিতাবে ক্বলব যিন্দা করার জন্য ত্বরিকতের পীরের অনুসন্ধান করা ফরয বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন ।
উল্লেখ্য যে - বিশ্ববিখ্যাত ইমাম আল্লামা ফখরুদ্দীন রাজী (রহ:) এর মৃত্যু যন্ত্রণা অর্থাৎ সখরাতের ঘটনার দিকে খেয়াল করলেও পীর গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সহজে অনুভব করা যায়।
ইমাম ফখরুদ্দীন রাজী (রহ:) ছিলেন,বিখ্যাত ইমাম এবং হযরত নজমুদ্দীন কোবরা (রহ:) ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত অলী (রহ:) এর বিশিষ্ট মুরীদ।
মৃত্যু যন্ত্রণার সময় শয়তান এসে তাকে জিজ্ঞাস করল “আল্লাহ”যে এক তার প্রমাণ কি ? তখন তিনি আল্লাহর একত্ববাদের উপর শয়তানের মোকাবেলায় মোট ৩৬০টি দলিল স্থাপন করলেন, মৃত্যুশয্যায় শায়িত ওই সময় শয়তানের সামনে এতগুলো দলিল পেশ করা শুধুমাত্র ইমাম রাজীর জন্যই সম্ভব হয়েছিল।
অন্য কারো পক্ষে এটা সম্ভব হবে কিনা তা বলা মুশকিল।
কিন্তু শয়তানের কাছে তার সব দলিলই হেরে গেল আর একটি দলিল মাত্র বাকী।
শয়তান যদি এটাকেও হারিয়ে দিতে পারে,তাহলে ইমাম রাজীর মত আলেমকে ইহজগত থেকে ঈমান হারা হয়ে অর্থাৎ বেঈমান হয়ে বিদায় নিতে হতো ।
এদিকে তার পীর হযরত নজমুদ্দীন কোবরা (রহ:) স্বীয় রূহানী ক্ষমতার মাধ্যমে বাতেনি চোখ দিয়ে কয়েক’শ মাইলদূরে অবস্থিত তার আস্তানা থেকে দেখলেন যে, ইমাম রাজী ও শয়তানের
মধ্যে তর্কবিতর্ক চলছে"সেই সময় তিনি নামাযের জন্য ওযু করছিলেন" কয়েক বদ্না পানি
শেষ হয়ে যাওয়ার পর ও তাঁর ওযু শেষ হলোনা ।
শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক ক্ষমতার মাধ্যমে তিনি ইমাম রাজীর অবস্থার দিকে লক্ষ্য রাখলেন। পরিশেষে ইমাম রাজীর এই দুর্দশা দেখে তাঁর নিকট জালালীয়াত এসে গেল।
এবং তিনি উচ্চস্বরে ওযুর বদ্না শয়তানের দিকে নিক্ষেপ করে বলে উঠলেন, হে ইমাম রাজী.. তুমি শয়তানকে বলে দাও,আমি অন্তর দিয়ে আল্লাহকে এক স্বীকর করছি , আমার নিকট
দলিলের কোন প্রয়োজন নেই বিনা দলিলে আমার আল্লাহ্ এক ।
কিন্তু আশ্চর্য্যের বিষয়, আল্লাহর অলীর ক্ষমতার মাধ্যমে,নিক্ষিপ্ত এই বদ্না তাঁর আস্তানা থেকে কয়েক’শ মাইল দূরে ইমাম রাজীর মৃত্যু শয্যায় তাঁর মাথার পাশে গিয়ে পড়ল।
তিনি স্বীয় মোর্শেদের সেই আওয়াজ শুনতেপেলেন এবং বলিষ্ঠ কন্ঠে বলে দিলেন, বিনা দলিলে আমার আল্লাহ এক।
এর পর শয়তান সেখানে থেকে চলে গেল এবং ইমাম রাজী (রঃ) কলেমা শরীফ পাঠ
করে ইহজগত ত্যাগ করেন'তখন তাঁর খাতেমা বিল্ খায়ের হয় ।
“নূরানী তকরিরের” এ বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হচ্ছে যে,ত্বরিকতের হক্কানী পীর গ্রহন না করে শুধুমাত্র ইলমে জাহেরীর উপর নির্ভর করে যদি মৃত্যুর সময় শয়তানের সাতে
মোকাবেলা করে কলেমা নসীব হওয়া সম্ভব হত,তাহলে ইমাম রাজীর জন্যই এটা সম্ভব হত।
যখন ইমাম রাজীর পক্ষে তা সম্ভব হলনা, তখন আর কারো পক্ষে সম্ভব হবে বলে ধারণা করা যায় না।
তাই মাওলানা রুমী (রহ:) বর্ণনা করেন" উল্লেখ্য যে, কাগতিয়ার মোর্শেদে বরহক স্বীয় খানকাহ শরীফ থেকে মহিলা মুরীদদেরকে “তাওয়াজ্জু্হ বিল গায়েব” এর মাধ্যমে তাদের বাড়ীতে যে সবক প্রদান করে থাকেন, উপরোল্লিখিত বর্ণনা তারই সত্যতা প্রমাণ করে।
( প্রত্যেক মুসলমান নর-নারী জন্য "অসিলা"অর্থাৎ- কামেল পীর গ্ৰহন করতে হবে )
♿🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐🛐
কিছু পথভ্রষ্ট গুমরাহ "অলি আউলিয়া এবং কামেল পীর" বিরোধী মানুষ আছে-তারা ওলী আউলিয়াগণ এবং কামেল পীর না মানবার অজুহাত দেখিয়ে বলে থাকেন যে"আগের জামানায় প্রত্যেক বুজুর্গ ব্যক্তি ছিলেন পীরে কামেল" আর এখন সব নাকি ভন্ড পীর ,যারা এই ধরনের মুর্খ মানুষদের কথায় বিশ্বাস করেন,তাদের বলতে চাই...
আপনি চার দেওয়ালের ঘরের ভিতর বসে এই কথা বলা খুবই সহজ' কিন্তু বাইরে বেরিয়ে এসে দশটা "পীরের" দরবারে যাওয়া খুবই কষ্ট ।
আপনি বাজারে গিয়ে বাছাই করে সমস্ত জিনিস পছন্দ করে কিনতে বা খরিদ করতে ভালোবাসেন,আর বর্তমানে পীর ধরতে হলে বাছাই করে ধরতে হবে এই কথাটাও কি মনে করিয়ে দিতে হবে ❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓
বর্তমানের পীর আপনাকে যদি আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছে দেবার ক্ষমতা নাও থাকে, অন্তত আপনার ঈমান এবং আপনার কলব পরিষ্কার রাখার জন্য"জিকিরে অজিফার"এলেম এবং ইলমে তাসাউফ শিক্ষা দেবার মতো 'কামেল পীর' অবশ্যই আছে ।
☝☝☝☝☝☝☝☝☝☝☝☝☝☝
একটা কথা অবশ্যই জেনে রাখবেন-- হজরত রাসূল (সা:) জামানার মসজিদ ছিলো,কিন্তু এখন কার মতো পাথরের তৈরি পাকা মসজিদ ছিলো না,তার মধ্যে কোনো ইলেকট্রিক পাখা ছিল না, ঠান্ডায় আরামে নামাজ পড়বার জন্য কোনো এসি ছিল না ।
এখন যদি আপনাকে জিজ্ঞাসা করি , নবী পাকের জামানার মসজিদ আর এখন কার মসজিদ এই দুই মসজিদ কি এক ❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓
অর্থাৎ - আগের কামেল পীর এবং এখনকার পীরের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকলেও আপনার জন্য পীর ধরা ওয়াজিব এবং কোথাও কোথাও 'কামেল পীর' ধরা ফরজ করা হয়েছে ।
( সব বাঁশের কঞ্চি কিন্তু বাঁশের মতো হয়না )
🔳🔳🔳🔳🔳🔳🔳🔳🔳🔳🔳🔳🔳🔳🔳
🔲🔲🔲🔲🔲🔲🔲🔲🔲🔲🔲🔲🔲🔲🔲
🔳🔳🔳🔳🔳🔳🔳🔳🔳🔳🔳🔳🔳🔳🔳
ইলমে মারেফত ও ইলমে তাসাউফ জ্ঞানের
প্রয়োজন কি ❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓❓
শরিয়তের, নামাজ ,রোজা,হজ,জাকাত, জিকির,কলমার মেরুদন্ড হলো ইলমে মারেফত ও তাসাউফের পদ্ধতিতে আমল করা !
"তাসাউফ ও মারেফতের" ইলেম হলো ঈমানের পাত্র,,অর্থাৎ ঈমানের পাত্র যদি মজবুত হয় আপনার অল্প নামাজ,রোজা,হজ,জাকাত,জিকির,কলমায় আপনি নাজাত পেয়ে যাবেন ।
আর যদি আপনার ঈমানের পাত্র ফুঁটো হয় ,তাহলে আপনি যতই নামাজ,রোজা ,হজ, জাকাত, জিকির ,কলমা করেন না কেন, ফুঁটো পাত্রে পানি রাখলে যেমন সেই পানি এক ফোটা করে পড়তে পড়তে কোনো এক দিন শেষ হয়ে যাবে ।
ঠিক তেমনি আপনার ঈমানের পাত্র যদি ফুঁটো হয় আপনার সারা জীবনের এতো আমল ইবাদত কোনো ভুলের কারণে বেড়িয়ে চলে যাবে আপনি নিজেও বুঝতে পারবেন না,তাই আমার প্রত্যেক মুসলিম ভাইদের কাছে অনুরোধ করছি কোন এক কামেল পীরের হাতে বায়াত হয়ে "ইলমে তাসাউফ ও মারেফতের"জ্ঞান অর্জন করুন আর ঈমানকে মজবুত করুন ।
( আর একটা কথা পীর যখন ধরবেন পীরকে যাচাই-বাছাই করে তবেই ওনার কাছে মুরীদ হবেন"এবং ভন্ড পীর থেকে সাবধান থাকবেন ।
প্রশ্ন আসতে পারে--সাধারণ মানুষ কামেল পীর চিনবেন কিভাবে ❓❓❓❓❓❓❓❓❓
যাকে দেখলে আল্লাহ ওয়ালা ও নেককার বান্দা মনে হয়,যে কামেল পীর বা ওলীদের দরবারে শত শত হাফেজ, মাওলানা,মুফতী,কারী , এবং হাজার হাজার মানুষ যাওয়া আসা করে উনি হবেন কামেল পীর ।
কারণ একজন হাফেজ ভুল করতে পারেন , একজন মাওলানা ভুল করতে পারেন, একজন মুফতী ভুল করতে পারেন" কিন্তু শত শত হাফেজ মাওলানা মুফতী ভুল করতে পারে না ।
এবং কামেল পীরের লক্ষণ হবে ,কম খাওয়া,কম ঘুমানো,কম কথা বলা , অতিরিক্ত আরাম আয়েশ থেকে দুরে থাকেন এই সব কোন গুন গুলো একজন কামেল পীরের মধ্যে পাওয়া যাবে )
( মজ্জুব একদল আল্লাহর অলী হন,ওনারা দুনিয়ার সর্ব ত্যাগী দেখলে মনে হবেনা ওনারা আল্লাহর ওলী ,সাধারণ মানুষের ধারনার বাইরে থাকেন আল্লাহর রহস্য উদঘাটন করতে ব্যস্ত থাকেন,দুনিয়ার প্রতি কোন খেয়াল থাকেনা )
🕵🕵🕵🕵🕵🕵🕵🕵🕵🕵🕵🕵🕵🕵🕵
🌍🌏🌎🌍🌏🌎🌍🌏🌎🌍🌏🌎🌍🌏🌎
সারা পৃথিবীর মুসলমানদের উপর এতো অত্যাচার হবার মূল কারণ কি জানেন ❓❓❓❓❓❓❓
সারা পৃথিবীর মুসলমানরা এতো নামাজ, রোজা, হজ ,জাকাত, কুরআন শরীফ পড়া, মসজিদ মাদ্রাসায় যাওয়া ,আমল,ইবাদত সব করার সত্ত্বেও মুসলমানদের উপর দিনের পর দিন জুলুম অত্যাচার বেড়েই চলেছে এর একটা মুল কারন আমরা আল্লাহর ওলীদের কাছ দুরে চলে গেছি আমাদের অন্তরে ওনাদের ভালো বাসা নাই,বরং ওনাদের নিয়ে আরো কটূক্ত করি ।
জেনে রাখুন আমরা আল্লাহর ওলী আউলিয়াদের গোলামি করা ছেড়েদিয়েছি ,আর এই একটা গোলামি ছেড়ে দেবার কারণে আপনাকে হাজার গোলামি করতে হচ্ছে ।
আর আল্লাহর ওলী আউলিয়াগণদের দিকে তাকিয়ে দেখুন'ওনারা আল্লাহর গোলামি করেছে আর ওনারা শত শত গোলাম কে মুক্তি করে দিয়েছেন ,তবুও কি আপনাদের চোখে খুলবেনা ❓
আল্লাহর ওলী আউলিয়াগণ হলেন আল্লাহর প্রিয় বন্ধু নেককার বান্দা ( কুরআন শরীফে আল্লাহ এই কথা বলেছেন
📗সূরা ইউনুস (يونس), আয়াত: ৬২
أَلَآ إِنَّ أَوْلِيَآءَ ٱللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
উচ্চারণঃ আলাইন্না আওলিয়াআল্লা-হি লা-খাওফুন ‘আলাইহিম ওয়ালা-হুম ইয়াহঝানূন।
অর্থঃ মনে রেখো যারা আল্লাহর বন্ধু, তাদের না কোন ভয় ভীতি আছে, না তারা চিন্তান্বিত হবে।
সুতরাং -- আর আপনি আমি আল্লাহর প্রিয় বন্ধু নিয়ে কটূক্তি করি ,ওনাদের কাছে যাওয়া তো দুরের কথা ওনাদের অন্তর থেকে ভালোবাসি না,তাই আপনি আমি নামাজ,রোজা,হজ,জাকাত,
কলমা,কুরআন শরীফ পড়েন না কেন আল্লাহ পাক আপনার এই কাজের উপর খুশি নন ।
উদাহরন স্বরুপ - ছেলের উপর অত্যাচার করে তার মনে কষ্ট দিয়ে বাবা-মাকে খুশি করা যায় না"তার ছেলে মেয়েকে আগে খুশি করুন তার বাবা মা এমনিতেই খুশি হয়ে যাবেন ( এটাই হাকিকত )
এবং আল্লাহর ওলীগণ আপনার থেকে আমার থেকে বিনিময়ে কিছু্ই চাইনা শুধু চাই একটু ভালো বাসা, এতো এতোটুকুও কি আমরা দিতে পারবোনা )
আল্লাহ হাফিজ,দয়াময় পরম করুনাময় মহান মালিক,, আল্লাহ তায়ালা আমার প্রতেক মুসলমান ভাই বোনদের শুখে রাখুন আর বুঝবার তৌফিক দান করুন, আমিন
👑👑👑👑👑👑👑👑👑👑👑👑👑👑👑
মারহাবা ইয়া সূফী সাম্রাট দেওয়ানবাগী (মাঃআঃ)
🕌🕌🕌🕌🕌🕌🕌🕌🕌🕌🕌🕌🕌🕌🕌
♿🛐এ আর গেলাম মোঃ মুরাদ হোসেন রব্বানী।
★ সূফীবাদ সার্বজনীন ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ SSFB..
★ সহ-সভাপতি, আশেকানে হযরত শাঁহ জালাল মুজার্রেদী ইয়ামানী রহঃ পরিষদ সিলেট।