30/06/2026
ঢাকার অলিগলিতে, ফুটপাতে কিংবা ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা ছিন্নমূল শিশু-কিশোরদের পলিথিনে ডেন্ডি সেবনের দৃশ্য আমাদের নাগরিক সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি। আমরা অনেক সময় এ দৃশ্য দেখেও না দেখার ভান করি, অথচ এই অবহেলিত শিশুরাই আগামীর পথে বড় হয়ে সমাজের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। আজকের এই ছোট্ট মানুষগুলোই প্রতিকূলতার গোলকধাঁধায় হারিয়ে কাল হয়তো হয়ে উঠছে চোর, ছিনতাইকারী, কিংবা কোনো কিশোর গ্যাংয়ের নেপথ্য কারিগর। আমাদের স্বপ্নের ঢাকা শহরকে যদি প্রকৃত অর্থে একটি সভ্য, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ জনপদে রূপান্তর করতে হয়, তবে উন্নয়নের সংজ্ঞায় সবার আগে এই টোকাই শিশুদের পুনর্বাসনের বিষয়টিই প্রাধান্য পেতে হবে।
ঢাকা শহরকে বিশ্বের বুকে একটি মডেল মহানগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে শুধু রাস্তাঘাট পরিষ্কার বা অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, বরং শহরের প্রাণপ্রবাহে থাকা প্রতিটি মানুষের মানবিক উন্নয়ন অপরিহার্য। টোকাই শিশুদের এভাবে রাস্তায় ফেলে রেখে বা অবজ্ঞার চোখে দেখে আমরা কখনোই একটি সুস্থ নাগরিক সমাজ আশা করতে পারি না। এদেরকে মূলধারার জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকার এবং সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ঢাকা শহরের প্রতিটি শিশুর দায়িত্ব নেওয়ার অর্থ হলো আসলে দেশের আগামীর সম্পদ রক্ষা করা। এই শিশুদের চিহ্নিত করে তাদের জন্য নির্দিষ্ট আশ্রয়স্থল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ব্যবস্থা করতে হবে। যেখানে তাদের হাতের কাজ, কারিগরি শিক্ষা এবং নৈতিক মূল্যবোধের পাঠ দেওয়া হবে, যাতে তারা এক সময় সমাজের বোঝা না হয়ে বরং দেশের অর্থনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী শ্রমশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
শহর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার অভিযান তখনই পূর্ণতা পাবে যখন রাস্তা থেকে টোকাইদের সরিয়ে তাদের একটি সুন্দর ও নিরাপদ ঠিকানায় থিতু করা সম্ভব হবে। প্রতিটি পথশিশুকে দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তোলার এই উদ্যোগ জাতির মেরুদণ্ড শক্ত করবে। রাষ্ট্র যখন প্রতিটি শিশুর জীবনের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দেবে, তখন ঢাকা শহর নিজে থেকেই তার মানবিক মর্যাদা খুঁজে পাবে। সামাজিক বৈষম্য কমিয়ে যখন আমরা এই পথশিশুদের হাতে তুলে দেব বই, কলম কিংবা কারিগরি সরঞ্জাম, তখনই তারা হবে আমাদের উন্নয়নের সঙ্গী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও নীতিনির্ধারকদের এমন জনকল্যাণকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে শুধু ঢাকাই নয়, পুরো দেশই এক মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারায় নতুন করে জেগে উঠবে। শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল একটি সভ্য শহরের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব।
- মানুষ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।