02/08/2026
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল কর্তৃক গণরুম সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তির প্রতিবাদ, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের দুটি কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মতান্ত্রিক আসন বরাদ্দ প্রক্রিয়া অমান্য করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কর্তৃক রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী তুলে বিলুপ্ত ‘গণরুম প্রথা’ পুনরায় চালুর ন্যাক্কারজনক অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। রবিবার (২ আগস্ট) শাখার সভাপতি মোজাম্মেল হোসাইন আবির ও সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান। একইসঙ্গে তারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মতান্ত্রিক আসন বরাদ্দ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে গণরুম সংস্কৃতি বিলুপ্তির পর শিক্ষার্থীদের মেধা, সিনিয়রিটি, হল থেকে দূরত্ব ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দের নীতিমালা কার্যকর রয়েছে। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হল প্রশাসনের পূর্বানুমোদন ছাড়াই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একাধিক শিক্ষার্থীকে আবাসিক হলে তোলা হয়েছে বলে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। হল প্রভোস্টের বক্তব্যেও এ বিষয়ে গুরুতর প্রশ্নের অবকাশ তৈরি হয়েছে।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আবাসিক হল কোনো রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণ বা গণরুম সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তির জায়গা নয়; বরং এটি শিক্ষার্থীদের ন্যায্যতার ভিত্তিতে আবাসন এবং পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিষ্ঠান। প্রশাসনের নির্ধারিত নীতিমালা উপেক্ষা করে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আবাসিক হলে আসন বরাদ্দের চর্চা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ, সমঅধিকার ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অতীতে ছাত্রদল ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের হাত ধরে গণরুম, গেস্টরুম, হল দখল, ভয়ভীতি ও রাজনৈতিক আধিপত্যের যে তিক্ত অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে, জাতি আর কখনো সেই অন্ধকার অধ্যায়ে ফিরে যেতে চায় না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংঘটিত অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়েও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে একই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তির অভিযোগ উঠেছে। স্বাধীন মতপ্রকাশ, শিক্ষার্থীদের মর্যাদা ও নিরাপদ শিক্ষাজীবনের পরিপন্থী সেই সংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার যেকোনো অপচেষ্টা শিক্ষার্থীসমাজ কখনোই মেনে নেবে না।”
আমরা উত্থাপিত অভিযোগের অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা জাতির সামনে প্রকাশ এবং দোষী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের নিকট দাবি জানাচ্ছি। একইসাথে একটি স্বচ্ছ, লিখিত ও বৈষম্যহীন আবাসন নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন তার ন্যায্য আবাসনের জন্য রাজনৈতিক পরিচয় বা কোনো ব্যক্তির সুপারিশের ওপর নির্ভরশীল না হয়, তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সবসময় শিক্ষার্থীদের অধিকার, ন্যায়ভিত্তিক প্রশাসন এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত শিক্ষাঙ্গনের পক্ষে ছিল, আছে এবং থাকবে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণরুম-গেস্টরুম, হল দখল ও রাজনৈতিক আধিপত্যের সব অপসংস্কৃতির স্থায়ী অবসানই আমাদের প্রত্যাশা।
বার্তা প্রেরক:
কায়েসুর রহমান
প্রচার সম্পাদক
বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়