19/09/2026
“অপ্রতিমের মৃত্যুতে শোক, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি”
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে অপ্রতিম (১৩)-এর মরদেহ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইসের পাশে জঙ্গল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোজাম্মেল হোসাইন আবির ও সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম।
এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, “অপ্রতিমের মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। একজন মায়ের একমাত্র সন্তানকে এভাবে হারানোর ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ অপ্রতিমকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং তাঁর পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন।”
তাঁরা বলেন, “কুমিল্লায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড, ছিনতাই, অপহরণ ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা জননিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এর আগেও লোকপ্রশাসন বিভাগের সুমাইয়া আফরিন ও তাঁর মায়ের হত্যাকাণ্ড এবং সর্বশেষ অপ্রতিমের মৃত্যু নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ব্যর্থতাকে স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতির তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”
বিবৃতিতে তাঁরা কুমিল্লার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিম্নোক্ত দাবি উত্থাপন করেন—
১. অপ্রতিমের অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে ।
২. ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি নিরাপত্তা অডিট করতে হবে এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো ক্যাম্পাস ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, সড়ক, আবাসিক এলাকা ও আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত CCTV ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে এবং সেগুলোর সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. ক্যাম্পাসের আশপাশের নির্জন, অন্ধকার ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে পর্যাপ্ত সড়কবাতি স্থাপন, নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন এবং নিয়মিত পুলিশের নিরাপত্তা টহলের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য জরুরি নিরাপত্তা হটলাইন/হেল্পডেস্ক চালু করতে হবে, যাতে কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ বা বিপদের সম্মুখীন হলে দ্রুত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো যায়।
৫. ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় মাদক, ছিনতাই, চুরি, অপহরণসহ অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করতে হবে।
তাঁরা বলেন, “নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের মৌলিক দায়িত্ব। কুমিল্লার মানুষ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আর কোনো অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়।”
বার্তাপ্রেরক
কায়েছুর রহমান
প্রচার সম্পাদক
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।