18/02/2025
*★জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমের রিপোর্টে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের ঘটনার বর্ণনা★*
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) সত্যানুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখিত বাংলাদেশের জুলাই এবং আগস্ট ২০২৪-এ সংঘটিত প্রতিবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা এবং নির্যাতনের ঘটনাসমূহ-
*উক্ত রিপোর্টে উল্লেখিত হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা এবং নির্যাতনের ঘটনাগুলোর সারসংক্ষেপ-*
এই রিপোর্টের VI চ্যাপ্টারের Violation and abuses in the aftermath of protest শিরোনামে-
★ 211 নাম্বার পয়েন্টে বলা হয়েছে যে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও হিন্দু ধর্মাবলম্বী, তাদের বাড়িঘর এবং উপাসনালয়ে হামলা করা হয়েছে।
★ 230 নাম্বার পয়েন্টে বলা হয়েছে যে, চট্টগ্রাম পার্বত এলাকাতে সংখ্যালঘু ও হিন্দু সম্প্রদায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হয়েছে। একইসাথে তাদের নিরাপত্তা সংকটও তৈরি হয়েছে।
★ 232 নাম্বার পয়েন্টে বলা হয়েছে, সরকার পতনের পরে ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, দিনাজপুরসহ সিলেট, খুলনা এবং রংপুরে হিন্দুদের ঘরবাড়ি, ব্যবসায় ও উপাসনালয়ে ব্যাপকভাবে আক্রমণ হয়েছে।
★ 233 নাম্বার পয়েন্টে বলা হয়েছে, হিন্দুদের ঘরবাড়ি, ব্যবসায় ও শশ্মান, উপাসনালয়ে ব্যাপকভাবে আক্রমণ, হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও এর প্রায় ৩-৪ হাজার হিন্দু ভয়ে দেশত্যাগের জন্য ভারতের বর্ডারে গিয়ে দাড়িয়েছিলো।
★ 235 নাম্বার পয়েন্টে বলা হয়েছে, উত্তেজিত জনতা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জোরপূর্বক হিন্দু প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকদের পদত্যাগে বাধ্য করেছেন।
★ 236 নাম্বার পয়েন্টে বলা হয়েছে, ৫ থেকে আ৫ আগস্টের মধ্যে যশোর, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, নাটোর, দিনাজপুর, চাদপুর, শরীয়তপুর, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, মেহেরপুর, বরগুনা, বরিশাল, রাজবাড়ী, ঠাকুরগাঁও, ফরিদপুর, পিরোজপুর এবং নেত্রকোণা জেলায় সংখ্যালঘুদের টার্গেট ৩৭ টি ঘটনা ঘটার কথা বলা হয়েছে। এসব ঘটনায় তাদের বাড়ি, ব্যবসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও পুলিশের বরাত দিয়ে ৪ থেকে ২০ আগস্টের মধ্যবর্তী সময়ের ২০ টি সামপ্রদায়িক ঘটনা ও অন্যান্য কারণে ১২৩৪ টি ঘটনার তথ্য দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ১ জন মহিলার জিহ্বা কেটে ফেলা ও অন্য একজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের তথ্য দেওয়া হয়েছে।
★ 239 নাম্বার পয়েন্টে, লালমনিরহাট জেলার হাতিয়াবান্ধার ভুরাশারডুবিতে ২০ টি হিন্দু পরিবারে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, মেহেরপুর ও নন্দিপারায় মন্দিরে হামলার তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এই রিপোর্টের VIII চ্যাপ্টারে Findings on Responsibilities for Violations of International Law and Human Rights Abuses শিরোনামে-
★ 268 নাম্বার পয়েন্টেও হিন্দু কমিউনিটির উপর হামলার বিষয়টি বলা হয়েছে৷
★ 303 নাম্বার পয়েন্টেও হিন্দুদের বাড়ি, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে হামলা ও আক্রমণের তথ্য দেওয়া হয়েছে৷
*আমাদের দাবি:*
উক্ত রিপোর্টে উল্লেখিত হামলা ও নির্যাতনের ঘটনাগুলো বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর আংশিক চিত্রমাত্র। এসব ঘটনার বাইরেও আরো অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে যা উক্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি।
আমরা এসব ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ভুক্তভোগীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন দাবি করছি।