প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি
নাসরুল্লাহ খান আরমান
শিক্ষানুরাগী, বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক, সংগঠক, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।
কে.জি.এফ সংস্থার পরিচিতি, ইতিহাস এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ
কে.জি.এফ ফাউন্ডেশনের পরিচিতিঃ
এই সংগঠন/সংস্থার নাম: "খান জেনারেশন ফাউন্ডেশন" সংক্ষেপে (কে.জি.এফ) (বাংলা) বা "KHAN GENERATION FOUNDATION" in short (K.G.F) (ইংরেজি)। এটি একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অলাভজনক, মানবাধিকার বিষয়ক, সমাজকল্যাণ
মূলক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন/সংস্থা। এই সংগঠন/সংস্থা বাংলাদেশের সংবিধান এবং প্রচলিত আইন-কানুনের প্রতি সর্বদা অনুগত। এই সংগঠন/সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাসরুল্লাহ খান আরমান। তিনি একজন শিক্ষানুরাগী, বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক, সংগঠক ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।
প্রধান কার্যালয়ঃ রামমালা রোড, দক্ষিণ ঠাকুরপাড়া, কুমিল্লা।
ফাউন্ডেশনের ইতিহাসঃ
এই ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাসরুল্লাহ খান আরমান, কুমিল্লা শহরের ঠাকুরপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রথিতযশা রাজনীতিবিদ ও বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম অধ্যক্ষ আফজল খান অ্যাডভোকেট। মা নার্গিস সুলতানা, তিনি পেশায় কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। তার বড় বোন আঞ্জুম সুলতানা সীমা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন রাজনীতিবিদ। তিনি ১১দশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন- ১০ থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য।
এই ফাউন্ডেশন সৃষ্টির ইতিহাস জানতে আমাদেরকে একটু পেছনে ফিরে যেতে হবে। এই ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আরমান খানের বাবা ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য, ঘনিষ্ঠ সহচর। তিনি ১৯৬৫ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সংসদের নির্বাচিত ভিপি, ১৯৬৬ সালে জেলা ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান সহ ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বৃহত্তর কুমিল্লা জেলায় সক্রিয় নেতৃত্ব দান। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসাবে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে রাজাকার-আলবদরদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেন। তিনি হাতীমারা ইয়ুথ ক্যাম্প চীফ হিসাবে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামেই কুমিল্লায় ছিল ওনার অবিস্মরণীয় ভূমিকা।
☞ শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ বি.এ; এলএল.বি।
☞ পেশা- সিনিয়র অ্যাডভোকেট, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি।
☞ সামাজিক, আত্মসামাজিক, সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ততাঃ
তিনি বহু সামাজিক, আত্মসামাজিক, সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।
◑ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর তিনি প্রথম নির্বাচিত ভাইস-চেয়ারম্যান, কুমিল্লা পৌরসভা।
◑ ১৯৯০ সালে চেয়ারম্যান, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা।
◑ সাবেক সভাপতি, সমবায় ইউনিয়ন।
◑ পরিচালক, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং সভাপতি, কুমিল্লা চেম্বার অব কমার্স।
◑ সহ-সভাপতি, জেলা ক্রীড়া সংস্থা কুমিল্লা।
◑ সভাপতি, জাতীয় ক্ষুদ্র কুটিরশিল্প সমিতি।
◑ নির্বাচিত সভাপতি, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকা।
◑ নির্বাচিত সদস্য (পরিচালনা পরিষদ), বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান, কুমিল্লা জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
◑ সভাপতি, ল্যান্ড মরগেজ ব্যাংক, কুমিল্লা।
◑ সহ-সভাপতি, কুমিল্লা রাইফেলস ক্লাব।
◑ সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক ময়নামতি।
☞ জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার অর্জনঃ
◑ সমবায় আন্দোলনে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসাবে স্বর্ণপদক লাভ করেন।
◑ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জাতীয় বৃক্ষ রোপণে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক স্বর্ণপদক লাভ করেন।
☞ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও অবদানঃ
তিনি কুমিল্লার বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা নিম্নে বিস্তারিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম ও প্রতিষ্ঠাতার নাম উল্লেখ করা হলো-
◑ প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ বঙ্গবন্ধু ল' কলেজ।
◑ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুল।
◑ প্রতিষ্ঠাতা, শেখ ফজিলাতুন্নেছা কারিগরি কলেজ, ঠাকুরপাড়া, কুমিল্লা।
◑ প্রতিষ্ঠাতা, জালুয়া পাড়া আফজল খান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়।
◑ প্রতিষ্ঠাতা, আফজল খান কারিগরি ও বাণিজ্যিক মহাবিদ্যালয়, দৌলতপুর।
◑ প্রতিষ্ঠাতা, কালির বাজার নার্গিস আফজল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়।
◑ প্রতিষ্ঠাতা, কালির বাজার নার্গিস আফজল কারিগরি ও কমার্স কলেজ।
◑ প্রতিষ্ঠাতা, কালির বাজার নার্গিস আফজল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়।
◑ প্রতিষ্ঠাতা, কালির বাজার নার্গিস আফজল কিন্ডার গার্ডেন।
◑ প্রতিষ্ঠাতা, জারখন্ড আফজল খান সান সাইন কিন্ডার গার্ডেন।
◑ প্রতিষ্ঠাতা, ছাদেকিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা, গোবিন্দপুর, কুমিল্লা।
◑ প্রতিষ্ঠাতা, গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমিল্লা।
◑ প্রতিষ্ঠাতা, চাঁন খা জামে মসজিদ, গোবিন্দপুর, কুমিল্লা।
◑ সভাপতি, বিসিক শিল্প নগরী জামে মসজিদ।
◑ সাবেক সহ-সভাপতি, ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, কুমিল্লা।
◑ সহ-সভাপতি, শাকতলা উচ্চ বিদ্যালয়।
◑ সম্পাদক, কুমিল্লা মডার্ন স্কুল (প্রাইমারী)।
এছাড়াও তিনি বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনঃ
তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম আহ্বায়ক, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, কোতয়ালী থানা আওয়ামিলীগ এবং কুমিল্লা শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, বৃহত্তর কুমিল্লা আওয়ামীলীগের দুঃসময়ের কান্ডারী বর্ষীয়ান ও প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা ও কুমিল্লা জেলা ১৪ দলের সমন্বয়ক ও জেলা মহাজোটের আহ্বায়ক।
রাজনীতির পাশাপাশি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজেও নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। তার নিজ প্রচেষ্টা ও অর্থায়নে তিনি কুমিল্লায়, গরীব, দুঃখী, অসহায়, দুস্থ ও এতিম শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন "আফজল খান ফাউন্ডেশন"। জীবদ্দশায় মরহুম অধ্যক্ষ আফজল খান অ্যাডভোকেট ছিলেন একজন নিবেদিত সমাজসেবক, বিদ্যানুরাগী এবং ত্যাগী মানুষ। তিনি ২০২১ সালের ১৬ই নভেম্বর পরলোকগমন করেন। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। মরহুমের নামাজে জানাজায় লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লী, ভক্ত অনুরাগী, দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন এবং রাষ্ট্রের পক্ষে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও কুমিল্লা জেলা পুলিশ মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা "গার্ড অব অনার" প্রদান করেন। এইসময় মরহুমের জানাযায় অংশ নেয়া বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের জানাযায় লাখো লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তিনি উক্তি করে বলেন, "এমপি হওয়া যায়, মেয়র হওয়া যায়, মন্ত্রী হওয়া যায়, হুইপ হওয়া যায়, কিন্তু গণমানুষের নেতা সবাই হতে পারে না"। তিনি বলেছেন, মরহুম অধ্যক্ষ আফজল খান অ্যাডভোকেট সাহেব ছিলেন কুমিল্লার মানুষের হৃদয়ে প্রিয় গণমানুষের নেতা হয়ে।
এছাড়াও মরহুমের নামাজে জানাজায় বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সকল পেশাজীবি সংগঠন যেমন- আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ী বৃন্দ উপস্থিত ছিল। লক্ষাধিক মানুষের শোক ও শ্রদ্ধায়, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়, জানাজা শেষে তাকে সমাহিত করা হয়।
ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ
"আফজাল খান ফাউন্ডেশন" নামে প্রতিষ্ঠিত সেই স্মৃতি ট্রাস্ট ও পারিবারিকভাবে অর্জিত মানবসেবার মানসিকতার সূত্র ধরে ২০২২ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারী মরহুম অধ্যক্ষ আফজল খানের সর্বকনিষ্ঠ পুত্র নাসরুল্লাহ খান আরমান বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে, দেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তার নিরলস প্রচেষ্টা, সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন ''খান জেনারেশন ফাউন্ডেশন (কে.জি.এফ)" নামে একটি সমাজকল্যাণমূলক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন/সংস্থা।
এই সংস্থার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে গরীব, অসহায়, হত-দরিদ্র মানুষদেরকে শিক্ষা, চিকিৎসা, আইনি পরামর্শ ও সহায়তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদানের মাধ্যমে সেবায় নিবেদিত এবং মসজিদ মাদ্রাসা এতিমখানা সহ অন্যান্য ধর্মীয় ও সমাজের কল্যাণমূলক যেকোনো কার্যকলাপে সহযোগিতা সহ নানাবিধ সেবা ও সাহায্য কার্যক্রম পরিচালনা করা।