YPSA RHL Project

Directions

YPSA RHL Project Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from YPSA RHL Project, Non-Governmental Organization (NGO), Ramu, Cox's Bazar.

GCF & PKSF Supported "Resilient Homestead and Livelihood support to the vulnerable coastal people of Bangladesh (RHL) Project", Implemented by: Young Power in Social Action (YPSA)

সৌর বিদ্যুতের আলোয় আয়েশা বেগমের ঘরে ফিরেছে নতুন স্বপ্নের আলোকক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের মাঝের পাড়ার বাস...
23/07/2026

সৌর বিদ্যুতের আলোয় আয়েশা বেগমের ঘরে ফিরেছে নতুন স্বপ্নের আলো
কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের মাঝের পাড়ার বাসিন্দা আয়েশা বেগম (ইনডেক্স আইডি: ৪৪৫৮৪) দীর্ঘদিন বিদ্যুৎবিহীন একটি ঘরে তাঁর পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। কেরোসিনের বাতির ক্ষীণ আলোয় দুই প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে প্রতিটি রাত ছিল সংগ্রামের।
YPSA বাস্তবায়িত "Resilient Homestead and Livelihood Support to the Vulnerable Coastal People of Bangladesh (RHL) Project"-এর আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল ঘরের সঙ্গে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পাওয়ার পর বদলে গেছে তাঁদের জীবন।
এখন তাঁর সন্তানরা রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনা করতে পারে, পরিবারের সবাই একসঙ্গে নিরাপদে রাতের খাবার খেতে পারে, আর অন্ধকারে টয়লেটে যেতে হয় না। সৌর বিদ্যুতের আলো শুধু তাঁদের ঘরই আলোকিত করেনি, আলোকিত করেছে তাঁদের ভবিষ্যতের স্বপ্নও।
আয়েশা বেগমের ভাষায়-
"আগে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক কষ্ট হতো। এখন আমার সন্তানরা ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারে, আমরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারি। এই সহযোগিতার জন্য PKSF ও YPSA-কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।"
জলবায়ু সহনশীল আবাসন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বিত উদ্যোগ একটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের জীবনমান, নিরাপত্তা ও আশার আলো ফিরিয়ে আনতে পারে, আয়েশা বেগম তারই এক অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ।

অদ্য ০৭ জুলাই, ২০২৬, মঙ্গলবারকক্সবাজার জেলার রামু উপজেলায় পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (PKSF) এর সহায়তায় ইয়ং পাওয়ার ইন ...
07/07/2026

অদ্য ০৭ জুলাই, ২০২৬, মঙ্গলবার
কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলায় পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (PKSF) এর সহায়তায় ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (YPSA) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “Resilient Homestead & Livelihood Support to the vulnerable coastal people of Bangladesh (RHL)” প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন ও বিল-ভাউচার অডিট (যাচাই-বাছাই) করেন জনাব আল-ইমরান, সহকারী প্রকল্প সমন্বয়কারী (ভ্যালু চেইন স্পেশিয়ালিস্ট), RHL, প্রকল্প, পিকেএসএফ, জনাব এ এস এম ইমরুল কায়েস, সহকারী প্রকল্প সমন্বয়কারী (ইএসএস), RHL, প্রকল্প, পিকেএসএফ, জনাব ওয়াসিমুর রহমান সায়েম চৌধুরী, সহকারী প্রকল্প সমন্বয়কারী (ফাইন্যান্স এন্ড একাউন্টস), RHL, প্রকল্প, পিকেএসএফ। উক্ত মাঠ পরিদর্শনে ইপসা’র পক্ষ হতে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোহাম্মদ হারুন, ফোকাল পারসন, ইপসা কক্সবাজার, জনাব পম্পু বড়ুয়া, এরিয়া ম্যানেজার, EDP, ইপসা, কক্সবাজার, জনাব মোঃ আমিনুর রহমান, প্রকল্প সমন্বয়কারী, YPSA-RHL প্রকল্প এবং YPSA-RHL প্রকল্পের সকল কর্মকর্তা বৃন্দ।
ইপসা কর্তৃক বাস্তবায়িত RHL প্রকল্পের আওতায় মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শনকালে সম্মানিত পরিদর্শকগণ রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা, ফতেখারকুল ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম/পাড়ায় অতি দরিদ্র উপকারভোগীদের জন্য নির্মিত দূর্যোগ সহনশীল ঘর, আধুনিক পদ্ধতিতে (মাঁচা পদ্ধতিতে) ছাগল পালনের জন্য নির্মিত ছাগলের ঘর, উপকারভোগীদের বিকল্প জীবিকায়ন এবং পারিবারিক আয় বৃদ্ধির জন্য প্রকল্পের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় আধুনিক উপায়ে কাঁকড়া মোটাতাজাকরণ, নার্সারী, পারিবারিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের জন্য বস্তায় আদা ও বসতভিটায় শাক-সবজি চাষ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে ঘর-বাড়ী ও পরিবেশ রক্ষার জন্য বসতবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে বায়ুরোধী বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এসময় সম্মানিত পরিদর্শকগণ প্রকল্পের সহায়তা পাওয়া উপকারভোগী এবং সম্প্রদায়ের অংশীদারদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের কথা শোনেন। মতবিনিময়কালে তারা বলেন যে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় জনগণের জন্য নিরাপদ আবাসন, জীবিকা নির্বাহ এবং আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্পের কার্যক্রম সমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম পরিদর্শন ও অডিট-এর পর সম্মানিত পরিদর্শকগণ YPSA-HRDC, Cox’s Bazar-এ YPSA-RHL প্রকল্প স্টাফদের সাথে ভিজিট পরবর্তী অভিজ্ঞতা বিনিময় মিটিং-এ বসেন। মিটিং-এ সম্মানিত পরিদর্শকগণ YPSA-RHL প্রকল্প টীম, ম্যানেজমেন্ট টীম ও ইপসা কর্তৃক মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এসময় তারা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত কার্যক্রমের সফলতা, ভবিষৎ কর্মকান্ড বাস্তবায়নের বিভিন্ন আধুনিক কলা-কৌশল, চ্যালেন্জ এবং চলমান প্রকল্পের আওতায় ভবিষতে বাস্তবায়ন যোগ্য সম্ভাব্য কার্যক্রমের পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আন্তরিকতা এবং উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং কার্যক্রমগুলিকে আরও টেকসই এবং উপকারভোগী-বান্ধব করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

অল্প জায়গায় অধিক ফলন: বস্তায় আদা চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন ইপসা আরএইচএল প্রকল্পের প্রান্তিক উপকারভোগীগণবাড়ির উঠান ও পতিত জম...
25/06/2026

অল্প জায়গায় অধিক ফলন: বস্তায় আদা চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন ইপসা আরএইচএল প্রকল্পের প্রান্তিক উপকারভোগীগণ
বাড়ির উঠান ও পতিত জমিতে খুব সহজেই লাভজনক আদা চাষ করা যায়-এই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ইপসা আরএইচএল প্রকল্প।
পিকেএসএফ (PKSF)-এর সার্বিক সহায়তায় এবং ইপসা (YPSA) কর্তৃক বাস্তবায়িত কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলায় আরএইচএল (RHL) প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগী পর্যায়ে ‘বস্তায় আদা চাষ’ পদ্ধতি এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
বস্তায় আদা চাষ- সনাতন পদ্ধতির চেয়ে এই পদ্ধতিতে রোগবালাইয়ের আক্রমণ অনেক কম হয়। বাড়ির চারপাশের অনাবাদি বা ছায়াযুক্ত জায়গার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। মাটি, জৈব সার ও ছাইয়ের সঠিক মিশ্রণ ব্যবহারের ফলে আদার ফলন ভালো হয়। অতিবৃষ্টি বা বন্যায় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
আরএইচএল (RHL) প্রকল্পের মাধ্যমে উপকারভোগীদের (বিশেষ করে নারীদের) বস্তায় আদা চাষের ওপর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, কারিগরি পরামর্শ এবং উপকরণ দিয়ে সার্বক্ষণিক সহায়তা প্রদান করছে ইপসা। নিজেদের পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত আদা বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন আমাদের উপকারভোগীরা।
আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষির প্রসারে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ইপসা ও পিকেএসএফ-এর এই যৌথ প্রচেষ্টা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। আসুন, বাড়ির চারপাশের পতিত জায়গা ফেলে না রেখে আমরাও বস্তায় আদা চাষে এগিয়ে আসি।

দূর্যোগ সহনশীল ঘরঃ ইছমত আরা বেগমের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের ভিত্তিকক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন...
20/06/2026

দূর্যোগ সহনশীল ঘরঃ ইছমত আরা বেগমের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের ভিত্তি
কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চর পাড়া গ্রামে এক অন্যরকম আনন্দ নিয়ে এসেছে ইছমত আরা বেগম ও তাঁর পরিবারের জন্য। পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচজন, তিন মেয়ে সন্তান আর স্বামী সিকান্দর আলী, যিনি একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী।
বছরের পর বছর বাঁকখালি নদীর উপকূলে থেকে প্রতি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও নদীভাঙনের ভয়াবহতার মুখোমুখি হতে হয়েছে এই পরিবারকে। তাদের পুরনো কাঁচাঘরে প্রতিবছর বর্ষার সময় হাঁটু পরিমাণ পানি উঠে যেত, রান্নাবান্না বন্ধ থাকত।
”আগে বর্ষাকাল আসলে প্রায়ই পানি সেচে ঘর শুকাতে ব্যস্ত থাকতে হতো। মেয়ে তিনটার মুখে কোনোদিন হাসি দেখিনি, যেটা এখন দেখছি," -বললেন ইছমত আরা বেগম।
এই দুর্দশা কাটিয়ে ইছমত আরা বেগম পেয়েছেন একটি জলবায়ু সহনশীল ঘর, যা তৈরি করা হয়েছে মাটি দিয়ে বসতভিটা উঁচু করে যাতে জলাবদ্ধতার পানি ঘরে না ঢোকে। ঘরটি সিমেন্টের তৈরি, উঁচু প্ল্যাটফর্মে নির্মিত এবং সুন্দর ছাউনি ও বারান্দাসহ একটি মজবুত গৃহ। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে সৌর বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে।
"আগে সন্ধ্যার পর অন্ধকারে বসে থাকতাম। এখন ঘরে আলো জ্বলে, ফ্যান চলে। মেয়েরা রাতে পড়তেও পারে।" - বলছিলেন ইছমত আরা।
নতুন ঘর, নতুন আনন্দ-মেয়েরা এখন মনের আনন্দে ঘুম থেকে উঠে ঘর পরিষ্কার করে, ঘরে নতুন পর্দা টানিয়েছে, মেয়েরা ঘরের ভেতর নিজেদের হাতে সাজিয়ে নিয়েছে" এগুলো আমাকে আন্দোলিত করে। মেয়েগুলোর মুখে হাসি, এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ," -বললেন ইছমত আরা।
আর্থিক উন্নয়ন ও স্থিতি-নতুন ঘরের কারণে ঘর মেরামতের খরচ কমে গেছে। প্লিন্থ রেইজিংয়ের ফলে পানি ঢুকে আসার ভয় নেই, এবং সৌরবিদ্যুৎ থাকায় আলোর জন্য কেরোসিন বা ব্যাটারির খরচও কমেছে। ছোট একটি হস্তশিল্পের কাজ শুরু করেছে তার মেয়ে, যা বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করছে।
একটি ঘর, একটি স্বপ্নপূরণ-এই একটি ঘর যেন নতুন জীবনের শুরু। যেখানে আগে ছিল অনিশ্চয়তা, এখন আছে স্থিরতা ও সম্ভাবনা। দূর্যোগ সহনশীল ঘর, পরিবারটির জন্য এটা এক নতুন জীবনের শুরু, আত্মবিশ্বাস আর সম্মানের প্রতীক।
“যারা আমাদের এই ঘর দিয়েছে, তাদের জন্য দোয়া করি সবসময়। এখন আর ভয় পাই না, এখন শুধুই খুশি” - শেষ কথায় বললেন ইছমত আরা বেগম।
তিনি বলেছেন-দূর্যোগ সহনশীল ঘর—আসলে এটা আমাদের জীবনের সেরা উপহার। ইপসা এবং পিকেএসএফ-কে আন্তরিক ধন্যবাদ, যাদের জন্য আমরা আমাদের স্বপ্ন পূরণে সক্ষম হয়েছি।

"জ্ঞানই প্রস্তুতি, প্রস্তুতিই সুরক্ষা। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সচেতন হই, সক্ষম হই।"বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম...
16/06/2026

"জ্ঞানই প্রস্তুতি, প্রস্তুতিই সুরক্ষা। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সচেতন হই, সক্ষম হই।"

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠী ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি, খরা, নদীভাঙন এবং লবণাক্ততার মতো বিভিন্ন জলবায়ুজনিত দুর্যোগের কারণে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব দুর্যোগ মানুষের জীবন, জীবিকা, কৃষি উৎপাদন এবং আবাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এই প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে উপকারভোগীদের জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে পিকেএসএফ-এর সহায়তায়, ইপসা কর্তৃক বাস্তবায়িত আরএইচএল প্রকল্পের আওতায় :জলবায়ু পরিবর্তন, অভিযোজন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা” বিষয়ক প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়।

প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল—
১) জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ, প্রভাব ও ঝুঁকি সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
২) স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীল অভিযোজন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা।
৩) দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি, ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ক্ষয়ক্ষতি কমানোর কৌশল সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা।
৪) জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নিরাপদ আবাসন ও টেকসই জীবিকায়নের গুরুত্ব তুলে ধরা।
৫) কমিউনিটিভিত্তিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা।
৬) দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ-পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান প্রদান করা।

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নিম্নলিখিত ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়—
১) জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
২) অভিযোজন প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
৩) দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নত হয়েছে।
৪) নিরাপদ আবাসন ও টেকসই জীবিকায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা সুদৃঢ় হয়েছে।
৫) দুর্যোগকালীন ঝুঁকি কমাতে পরিবার ও কমিউনিটির করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করেছে।
৬) পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে উঠেছে।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা জানান যে, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাব, অভিযোজন কৌশল এবং দুর্যোগ মোকাবিলার বিভিন্ন কার্যকর পদ্ধতি সম্পর্কে নতুন জ্ঞান অর্জন করেছেন। তারা ভবিষ্যতে এসব জ্ঞান নিজেদের পরিবার ও কমিউনিটির মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সর্বপরি, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে সচেতনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইপসা আরএইচএল প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত “জলবায়ু পরিবর্তন, অভিযোজন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা” বিষয়ক প্রশিক্ষণ অংশগ্রহণকারীদের জলবায়ু সহনশীল জীবনযাপন, নিরাপদ আবাসন এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ে কার্যকর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করেছে। এই প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতে একটি অধিক সচেতন, সক্ষম এবং জলবায়ু সহনশীল কমিউনিটি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

🌳 জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় YPSA RHL Project-এর আওতায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী🌳জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশ...
13/06/2026

🌳 জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় YPSA RHL Project-এর আওতায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী🌳
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, অতিবৃষ্টি, খরা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, মাটির ক্ষয় এবং পরিবেশগত অবক্ষয়ের কারণে উপকূলীয় জনগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। এই বাস্তবতায় পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীল পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে PKSF-এর সহায়তায়, YPSA RHL (Resilient Homestead and Livelihood Support to the Vulnerable Coastal People of Bangladesh) Project রামু উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে উপকারভোগীদের বসতভিটা ও স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষ রোপনের জন্য বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে, যাতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
বৃক্ষরোপণ শুধুমাত্র পরিবেশকে সবুজ করে তোলার একটি উদ্যোগ নয়, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলারও একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান। গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ কমাতে সহায়তা করে, মাটির ক্ষয় রোধ করে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল হতে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি ফলজ গাছ থেকে প্রাপ্ত ফল পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং অতিরিক্ত আয় অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
চারা বিতরণের সময় উপকারভোগীদের গাছের সঠিক পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সচেতনতামূলক বার্তাও প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
🌍 একটি গাছ মানে শুধু একটি চারা নয়, বরং একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ, একটি সবুজ পৃথিবী এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে একটি কার্যকর পদক্ষেপ।

ছাগল পালন কার্যক্রমে কোহিনুরের আর্থ-সামাজিক অগ্রযাত্রা কক্সবাজারের রামু উপজেলার দক্ষিণ খুনিয়াপালং গ্রামের কোহিনুর আক্তার...
10/06/2026

ছাগল পালন কার্যক্রমে কোহিনুরের আর্থ-সামাজিক অগ্রযাত্রা

কক্সবাজারের রামু উপজেলার দক্ষিণ খুনিয়াপালং গ্রামের কোহিনুর আক্তার একসময় শুধুমাত্র দিনমজুর স্বামীর অনিয়মিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। PKSF-এর সহায়তায় এবং YPSA বাস্তবায়িত RHL প্রকল্পের আওতায় তিনি একটি উঁচু মাচা পদ্ধতির (Raised Slatted Goat House) ছাগলের ঘর, আধুনিক ছাগল পালন বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত কারিগরি সহায়তা লাভ করেন।

প্রশিক্ষণ ও সহায়তার ফলে তিনি উন্নত পদ্ধতিতে ছাগল পালন শুরু করেন। ২০২৬ সালের ঈদ-উল-আযহায় তিনি ৭টি ছাগল বিক্রি করে প্রায় ৫৩,০০০ টাকা আয় করেন এবং প্রায় ৪০,০০০ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেন। এই আয় দিয়ে তিনি একটি গরু ক্রয় করেছেন, যা তাঁর ভবিষ্যৎ আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

বর্তমানে তাঁর খামারে ৯টি ছাগল রয়েছে এবং ছাগল পালন এখন পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। কোহিনুরের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, অবকাঠামোগত সহায়তা ও কারিগরি পরামর্শ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কোহিনুর আক্তার বলেন, “RHL প্রকল্প থেকে পাওয়া স্ল্যাটেড ঘর, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা আমাকে উন্নত পদ্ধতিতে ছাগল পালন করতে সাহায্য করেছে। ভবিষ্যতে আমি একজন সফল উদ্যোক্তা হতে চাই।”

ইট ভাটার শ্রমিক থেকে সফল কাঁকড়া চাষি ; বেদার আলমের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পকক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের...
07/06/2026

ইট ভাটার শ্রমিক থেকে সফল কাঁকড়া চাষি ; বেদার আলমের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পশ্চিম উমখালী গ্রামের বাসিন্দা বেদার আলম। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চালিয়ে আসছিলেন। পেশায় ইট ভাটার শ্রমিক হওয়ায় তার আয় ছিল সম্পূর্ণ মৌসুমনির্ভর । ইট ভাটা চলার মৌসুমে কিছুটা রোজগার হলেও বছরের বাকি সময় সংসারে টানাটানি লেগেই থাকত। তিন সন্তানের লেখাপড়ার খরচ, সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় এবং অনিশ্চিত আয় মিলিয়ে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক চাপের মধ্যে দিনযাপন করছিল। কাঁকড়া চাষ সম্পর্কে বেদার আলমের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না, তবে পরিবারের আয় বাড়ানোর তীব্র প্রয়োজনীয়তা তাকে নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা দিয়েছিল।
PKSF-এর আর্থিক সহায়তায় এবং Young Power in Social Action (YPSA) কর্তৃক বাস্তবায়িত "Resilient Homestead and Livelihood Support to the Vulnerable Coastal People of Bangladesh (RHL)" প্রকল্পের আওতায় বেদার আলম কাঁকড়া চাষের প্রশিক্ষণ, অনুদান এবং নিয়মিত কারিগরি সহায়তা লাভ করেন। প্রশিক্ষণে কাঁকড়ার ঘের ব্যবস্থাপনা, সঠিক খাদ্য প্রদান, রোগ প্রতিরোধ এবং আংশিক আহরণ পদ্ধতি বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বেদার আলম সরাসরি এক্সপোজার ভিজিটে যেতে না পারলেও তার এলাকার যেসব চাষি সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও বাগেরহাটের মংলায় ভিজিটে গিয়েছিলেন, তাদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং তাদের তোলা ছবি ও ভিডিও দেখে বাস্তব চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নিয়েছেন। এই আগ্রহ ও স্বপ্রণোদিত শিক্ষার মনোভাবই তাকে চাষ কার্যক্রমে সফল হতে সহায়তা করেছে।
বানা দিয়ে ঘেরা পদ্ধতিতে ৪ শতকের ঘেরে কাঁকড়া চাষ পরিচালিত হওয়ায় কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক উপকরণ ব্যবহারের প্রয়োজন হয়নি। প্রাকৃতিক উৎস থেকে সংগৃহীত কাঁকড়া লালনপালনের এই পদ্ধতি স্থানীয় জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি এলাকার অন্যান্য চাষিরাও এই পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি দেখে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
একজন সাধারণ ইট ভাটার শ্রমিক থেকে সফল কাঁকড়া চাষিতে পরিণত হওয়ার এই যাত্রা বেদার আলমকে এলাকায় একটি নতুন পরিচয় এনে দিয়েছে। প্রতিবেশী ও সমাজের মানুষজন এখন তাকে একজন উদ্যোগী ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। তার সাফল্য দেখে এলাকার অন্যান্য দিনমজুর পরিবারগুলোও বিকল্প আয়ের পথ হিসেবে কাঁকড়া চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, যা সামগ্রিকভাবে এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রকল্পের সহায়তায় ৪ শতকের ঘেরে বানা দিয়ে ঘেরা পদ্ধতিতে কাঁকড়া চাষ শুরু করে বেদার আলম আংশিক আহরণ পদ্ধতিতে মোট আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ কেজি কাঁকড়া উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন। কাঁকড়াগুলো প্রাকৃতিক উৎস থেকে সংগ্রহ করায় মজুদ বাবদ কোনো আলাদা খরচ হয়নি। চাষকালীন সময়ে খাদ্য ও পরিচর্যা বাবদ মোট আনুমানিক ৪,০০০ টাকা ব্যয় হয়েছে।
বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি কেজি কাঁকড়ার গড় বিক্রয়মূল্য ৫৫০ টাকা হারে মোট ১৯,২৫০ টাকা। উৎপাদন ব্যয় বাদ দিলে নিট মুনাফা ১৫,২৫০ টাকা, যা একজন মৌসুমি দিনমজুরের জন্য অত্যন্ত উৎসাহজনক একটি অর্থনৈতিক ফলাফল।
উপার্জিত এই অর্থ দিয়ে বেদার আলম এখন তার তিন সন্তানের স্কুলের বেতন, বই-খাতা ও অন্যান্য শিক্ষা ব্যয় অনায়াসে মেটাতে পারছেন, যা আগে তার কাছে বড় একটি দুশ্চিন্তার বিষয় ছিল। পাশাপাশি তিনি কিছু অর্থ সঞ্চয় করছেন, যা ভবিষ্যতে চাষ কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণের কাজে ব্যবহার করবেন বলে পরিকল্পনা রয়েছে।
বেদার আলম বলেন-"ইট ভাটায় কাজ করতাম, সারা বছর আয় থাকত না। ছেলেমেয়েদের স্কুলের খরচ দিতে গিয়ে অনেক কষ্ট হতো। ইপসা প্রশিক্ষণ দিয়েছে, সহায়তা দিয়েছে — আমি নিজে এক্সপোজার ভিজিটে যেতে পারিনি, তবে যারা গিয়েছিল তাদের কাছ থেকে শুনেছি, ছবি-ভিডিও দেখে শিখেছি। এখন আলহামদুলিল্লাহ ছেলেমেয়েদের পড়ার খরচ নিজেই দিতে পারছি। ইনশাআল্লাহ ভবিষৎতে খামার আরও বড় করব।"
বেদার আলমের এই গল্প প্রমাণ করে যে সীমিত সুযোগের মধ্যেও একজন মানুষ যদি শেখার আগ্রহ ও পরিশ্রমের মনোভাব ধরে রাখেন, তাহলে সঠিক সহায়তায় তিনি তার পরিবারের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন। একজন মৌসুমি ইট ভাটার শ্রমিক থেকে স্বনির্ভর কাঁকড়া চাষিতে রূপান্তরিত হওয়ার এই যাত্রা উপকূলীয় প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠীর জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা এবং কারিগরি সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের কার্যক্রম উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে এবং জলবায়ু সহনশীল টেকসই জীবিকা গড়ে তুলতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

নতুন ঘর, নতুন আশার আলো: ইপসা-আরএইচএল প্রকল্পে বদলে যাওয়া উপকূলীয় পরিবারের জীবনকক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার উপকূলীয় ও জলব...
04/06/2026

নতুন ঘর, নতুন আশার আলো: ইপসা-আরএইচএল প্রকল্পে বদলে যাওয়া উপকূলীয় পরিবারের জীবন

কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার উপকূলীয় ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী হতদরিদ্র পরিবার, যারা দীর্ঘদিন ধরে ঝড়, অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে সংগ্রাম করে আসছিল। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিগণ অনিয়মিত দিনমজুরি, সাগরে মাছ আহরন সহ অন্যান্য স্বল্প আয়ের মাধ্যমে সংসার চালাতেন। যাদের বসবাস ছিল একটি জরাজীর্ণ ও পলিথিনে মোড়ানো ঝঁপড়ি ঘরে, যা সামান্য ঝড়েই ভেঙ্গে যেত, অল্প বৃষ্টিতেই ঘরের ভিতর পানিতে ভিজে যেত, ক্ষতিগ্রস্ত হতো তাদের ব্যবহ্নত জিনিসিপত্র, দেয়াল ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত এবং ঘরের ভেতরে নিরাপদে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ত। দুর্যোগের সময় পরিবারগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হতো। ফলে তাদের জীবনযাত্রা ছিল অত্যন্ত অনিরাপদ ও অনিশ্চিত।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে PKSF-এর সহায়তায় Young Power in Social Action (YPSA) কর্তৃক বাস্তবায়িত “Resilient Homestead and Livelihood Support to the Vulnerable Coastal People of Bangladesh (RHL)” প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত পরিবার সমূহকে দূর্যোগ সহনশীল ঘর নির্মাণে সহায়তা প্রদান করা হয়/হচ্ছে।

ঘর গুলো এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যাতে ঘূর্ণিঝড়, ভারী বর্ষণ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়। উন্নত নির্মাণ উপকরণ, শক্তিশালী কাঠামো এবং নিরাপদ নকশার মাধ্যমে ঘর গুলো পরিবার সমূহের জন্য একটি টেকসই আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে উঠেছে।

নতুন ঘর পাওয়ার পর উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী হতদরিদ্র পরিবার সমূহের জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এখন তারা ঝড়-বৃষ্টি নিয়ে আগের মতো আতঙ্কিত হন না। বর্ষাকালে আর ঘরের ভেতরে পানি পড়ে না এবং পরিবারের সদস্যরা নিরাপদে বসবাস করতে পারছেন।

তারা বলেন, “আগে ঝড়-বৃষ্টি হলেই আমরা ভয়ে থাকতাম। রাত জেগে ঘর পাহারা দিতে হতো। এখন নিজের একটি মজবুত ঘর হয়েছে। বাচ্চাদের নিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারছি। এই ঘর আমাদের জীবনে নিরাপত্তা ও সম্মানের অনুভূতি এনে দিয়েছে।”

তারা আরোও বলেন, “আমাদের পক্ষে এমন একটি ঘর নির্মাণ করা কখনোই সম্ভব ছিল না। এখন পরিবারকে নিয়ে নিরাপদে থাকতে পারছি। দুর্যোগ এলেও আগের মতো ভয় লাগে না।”

দূর্যোগ সহনশীল ঘরটি শুধু নিরাপদ আবাসনই নিশ্চিত করেনি, বরং পরিবারটির সামাজিক মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি করেছে। নিরাপদ আবাসন থাকায় তারা এখন জীবিকা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারছেন। পরিবারের শিশুদের পড়াশোনার জন্যও একটি উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ আবাসন শুধু একটি ঘর নয়, বরং একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের ভিত্তি। ইপসা-আরএইচএল প্রকল্পের আওতায় নির্মিত দূর্যোগ সহনশীল ঘর উপকূলীয় অঞ্চলের অসংখ্য পরিবারের জীবনে নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং নতুন আশার সঞ্চার করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় এ ধরনের উদ্যোগ উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

Address

Ramu
Cox's Bazar

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when YPSA RHL Project posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share