25/03/2025
রামু অখণ্ড মণ্ডলীতে আবির্ভাব উৎসব উদযাপিত
রামু অখণ্ড মণ্ডলী কর্তৃক অখণ্ডমণ্ডলেশ্বর শ্রীশ্রীস্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেবের শুভ আবির্ভাব উৎসব পালনের ৫৪ তম আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে বিগত ২৮ ও ২৯ ফাল্গুন, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ। বাংলাদেশ অখণ্ড সংগঠন কক্সবাজার জেলা শাখার সহযোগিতায় রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন স্বর্গীয় শ্রী সতীশ চন্দ্র শর্মার বাড়ি প্রাঙ্গনে অবস্থিত রামু অখণ্ড মন্দিরে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৮ ফাল্গুন, বৃহষ্পতিবার বিকাল তিনটায় মঙ্গল শঙ্খধ্বনি ও সমবেত প্রেমধ্বনি সহযোগে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এরপর, গুরুভ্রাতা শ্রী অরণ্য শর্মার পরিচালনায় স্কুল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অখণ্ড সংহিতা পাঠ, স্বরূপানন্দ সংগীত, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতাসহ বাবামনির জীবন ও কর্ম নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যে সাতটায় নবীন যুগের নববেদ শ্রীশ্রী অখণ্ড সংহিতা পাঠ ও সন্ধ্যে সাড়ে সাতটায় অনুষ্ঠিত হয় শুভ আবির্ভাবোৎসবের অধিবাস দিবসের সমবেত উপাসনা। রামু ও কক্সবাজার অখণ্ড মণ্ডলীর গুরুভ্রাতা ও ভগ্নীদের সাথে সমবেত উপাসনায় যোগদান করেন অযাচক আশ্রম বাংলাদেশ প্রধান শ্রীমৎ ডা. যুগল ব্রহ্মচারী মহারাজ। সমভিব্যাহারে ছিলেন যাত্রাপুর শ্রীশ্রীস্বামী স্বরূপানন্দ সেবাশ্রমের সেবক শ্রী নন্দদুলাল সরকার, ভ্রাতা শ্রী যুধিষ্ঠির দেবনাথ, অযাচক আশ্রম বাংলাদেশ চট্টগ্রাম শাখার ভ্রাতা শ্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, শ্রী প্রণব নাথ মহোদয়। উপাসনান্তে ধর্মদেশনা অনুষ্ঠিত হয়। সমবেত ভক্তমণ্ডলীর উদ্দেশ্যে ধর্মদেশনা প্রদান করেন বাংলাদেশে অখণ্ডগণের প্রাণপুরুষ অযাচক আশ্রম বাংলাদেশ প্রধান শ্রীমৎ ডা. যুগল ব্রহ্মচারী মহারাজ। তিনি বলেন, অখণ্ড মণ্ডলীর উদ্দেশ্য হচ্ছে ঘরে ঘরে মহামানব সৃষ্টি। ঘরে ঘরে যে শিশুরা আছে তাদেরকে মহামানবে পরিণত করার জন্য আমাদের সকলকে সচেষ্ট হতে হবে। এই সংকটময় পৃথিবীতে, এই দূর্যোগময় সমাজে, আমাদের ভয়ের কিছু নেই। কারণ, ভগবান মংগলময়। প্রতিটি শিশুর ঘুম ভাঙুক হরিওঁ কীর্তন শুনে। শিশুদের জীবন গঠনের জন্য সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। আমাদের জীবনের মহত্তম সহায় হচ্ছেন ভগবান। এই ভগবানকে স্মরণ করার শিক্ষা আমাদের শিশুদের দিতে হবে। শুধু অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে নয়। প্রতিদিন শিশুদের আমরা ঘুম ভাঙাবো। হরিওঁ ঈশ্বর আছেন, হরিওঁ ঈশ্বর এক, হরিওঁ ঈশ্বরই সব- এই আহ্বান শুনে শিশুদের ঘুম ভাঙবে। সে ভালো মানুষ হবে। এই প্রত্যাশায় ভগবানের কাছে আমরা তাঁর এই মহিমাসূচক কীর্তন করে প্রার্থনা জানাবো। ঘরে ঘরে প্রত্যেকটি শিশুকে আমরা শিক্ষা দেবো তারা ঘুম থেকে উঠে বাবাকে প্রণাম করবে, মা’কে প্রণাম করবে। হিন্দু ধর্মের বুনিয়াদ হচ্ছে মাতৃ-পিতৃ ভক্তি। যতদিন হিন্দুর ঘরে মাতৃ-পিতৃ ভক্তির অনুশীলন যথোপযুক্তভাবে হয়েছে ততদিন হিন্দুর জীবন বিবর্ণ হয় নি”। এছাড়া তিনি, কুমারি কন্যা ও যুবা নরনারীর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করেন ও শ্রী ভগবানকে সবসময় স্মরণে রাখার প্রেরণা দিয়ে উপস্থিত সকলকে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেন। এরপর, স্বরূপানন্দ সংগীত পরিবেশন করেন তালবাড়িয়া অখণ্ড মণ্ডলীর গুরুভ্রাতা শ্রী লিংকন দেবনাথ ও রামু মণ্ডলীর ভ্রাতা শ্রী আয়ুষ শর্মা দিপ্র। পরিশেষে, কক্সবাজার অখণ্ড মণ্ডলীর সহ-সভাপতি ও অধিবাস দিবসের অনুষ্ঠানমালার সভাপতি প্রবীন গুরুভ্রাতা শ্রী অরুণ পালিত মহোদয় তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে অধিবাস দিবসের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
পরদিন, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩১ ও ১৪ মার্চ ২০২৫ শুক্রবার ছিল আবির্ভাবোৎসবের মূল দিবস। ভোর পাঁচটায় মঙ্গল শঙ্খধ্বনি ও সমবেত প্রেমধ্বনি সহযোগে হরিওঁ কীর্তনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয় এবং সাড়ে পাঁচটায় হরিওঁ কীর্তন সহকারে পল্লী পরিক্রমা এবং সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত আবারো হরিওঁ কীর্তন। সকাল সাড়ে আটটা থেকে নবীন যুগের নববেদ শ্রীশ্রী অখণ্ড সংহিতা পাঠ করেন গুরুভ্রাতা শ্রী তাপস দত্ত ও সকাল সাড়ে নয়টায় অনুষ্ঠিত হয় সমবেত উপাসনা। প্রচুর ভক্ত নরনারী এতে অংশ নেয়। এরপর, অযাচক আশ্রম বাংলাদেশ প্রধান শ্রীমৎ ডা. যুগল ব্রহ্মচারী মহারাজের পরিচালনায় ব্রহ্ম গায়ত্রী গীত ও নীরব নামজপ যজ্ঞ, ও হরিওঁ কীর্তন অনুষ্ঠিত হয়। পরিশেষে, শান্তি বাচনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে ও মহা প্রসাদ বিতরণ হয়।
রামু অখণ্ড মণ্ডলীতে অখণ্ডমণ্ডলেশ্বর শ্রীশ্রীস্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেবের শুভ আবির্ভাব উৎসবে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন রামু অখণ্ড মণ্ডলীর সহ-সভাপতি শ্রী তপন শর্মা, বাংলাদেশ অখণ্ড সংগঠন কক্সবাজার জেলা শাখার ভূতপূর্ব সভাপতি শ্রী অমৃত লাল শর্মা ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শ্রী সুভাষ বিশ্বাস মহোদয়।