15/12/2025
১৯৭১ সালের এই দিনে আমরা একটি পতাকা পেয়েছিলাম। সেই পতাকা শুধু স্বাধীনতার নয়, আত্মমর্যাদা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক।
মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল উপনিবেশিক শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে। কিন্তু যুদ্ধের পর সেই উপনিবেশিক সিস্টেম পুরোপুরি ভাঙা হয়নি। রাষ্ট্র সেই কাঠামোকে নিজেদের মতো করে চালিয়ে গেছে। এর ফলেই দেশ আজও সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে না।
নারীরা যেভাবে যুগের পর যুগ কৃষি ব্যবস্থা সামলেছে, ঠিক সেভাবেই মুক্তিযুদ্ধেও তাদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ও অনিবার্য। খাদ্য, আশ্রয়, যোগাযোগ ও প্রতিরোধে নারীর ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়। অথচ স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সিদ্ধান্তের জায়গা থেকে তাদের সরিয়ে রাখা হয়েছে।
এক সময় কৃষি নারীর হাতে ছিল। বীজ সংরক্ষণ থেকে খাদ্য নিরাপত্তা পর্যন্ত নারীর জ্ঞানই ছিল মূল শক্তি। আজ সেই কৃষি বাজার, প্রকল্প ও ঋণনির্ভর সিস্টেমের অধীনে চলে গেছে। নারীরা শ্রম দেয়, কিন্তু কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি পায় না।
জলবায়ু সংকট কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। এটি ভুল উন্নয়ন সিদ্ধান্ত ও রাষ্ট্রীয় সিস্টেমের ফল। নদী দখল, বন উজাড়, পাহাড় কাটা, উপকূল ধ্বংস; এসবই সংকটকে গভীর করেছে। এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে নারী, কৃষক ও উপকূলবাসী মানুষ।
পরিবেশ রক্ষা মানে শুধু প্রকৃতি বাঁচানো নয়।
পরিবেশ রক্ষা মানে মানুষের অধিকার রক্ষা।
আর আমাদের কাছে সেটিই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।
এই বিজয় দিবসে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি সকল শহীদকে এবং সম্মান জানাই সেই সব নারী ও পুরুষকে
যাদের ত্যাগে আমরা আজ এই ভূমিতে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারি।
ক্লাইমেট জাস্টিস বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে সকলকে মহান বিজয় দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা।
ন্যায়, মর্যাদা ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদের এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। ✊