06/08/2024
অনেক কেই দেখছি স্ট্যাটাস দিচ্ছেন - "আ.লীগ, বিএনপি, জামায়াত কাউকেই ক্ষমতায় চাই না" অথবা, "শিক্ষার্থীদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাওয়ার চেষ্টা করছে ছাত্রদল, শিবির"
আমার ফ্রেন্ড লিস্টে বিভিন্ন আদর্শের ব্যক্তি রয়েছেন তাদের কাছে জিজ্ঞাসা - স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণ আ.লীগ, বিএনপি, জা. পার্টির শাসন-শোষন উপভোগ করেছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী কখনোই এককভাবে শাসন ক্ষমতায় যায় নি। তবে জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে অধিকাংশের নেতিবাচক মনভাবের কারণ কি?
অথচ আপামর জনসাধারণ সৎ, যোগ্য, দেশপ্রেমিক, দূর্নীতি মুক্ত নেতৃত্ব প্রত্যাশা করেন। যা জামায়াত -শিবির এর প্রতিটি কর্মীর সাংগঠনিক ভিশন।
স্বাধীনতার পর থেকে জামায়াতে ইসলামীর ২জন মন্ত্রী ও ৫০এর মত এমপি এবং অসংখ্য স্থানীয় সরকার এর চেয়ারম্যান, মেম্বার হয়েছেন। কিন্তু কারো বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ কেউ করতে পারে নি। বরং সকল স্তরেই স্থানীয় জনগণ তাদের শাসনে সন্তুষ্ট ছিলেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠিত ইসলামি ব্যাংক যা স্বৈরাচারী সরকার এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে দখলের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশে সবচেয়ে আস্থার ব্যাংক ছিল। এবং এতটাই প্রফিটেবল ছিল যে এত বছর ধরে ব্যাংক থেকে লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার পরেও(কিছু অভিযোগ থাকলেও) ব্যাংকটি এখনো স্বমহিমায় টিকে আছে।
ইবনে সিনা ও ইসলামি ব্যাংক হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবায় এক অনন্য উচ্চতায় আরোহন করেছিল। যা দেশের সেবা গ্রহণকারী সকলেই স্বীকার করতে বাধ্য হবেন।
এছাড়া জামায়াতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে তাদের প্রতিষ্ঠিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই সুনামের সাথে পরিচালিত হয়েছে। যা সম্ভব হয়েছে জামায়াতের কর্মীদের সততা, যোগ্যতা ও দেশপ্রেমের কারণে।
দেশের অর্থনৈতিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে জামায়াত সবসময়ই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করে আসছে।
স্বাধীনতার পর থেকেই জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির বিভিন্ন ভাবে মিথ্যা প্রপাগান্ডার স্বীকার হয়ে আসছে।
স্বাধীনতার সময়ে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের সমর্থক ছিল এটা সত্য। কারণ তখন ভারতের পূর্ব পাকিস্তানের বিষয়ে ষড়যন্ত্র ও কার্যকলাপ এবং ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ কতটা নিরাপদ থাকবে এ বিষয়ে জামায়াত সন্দিহান ছিল। ভারতের এই গ্রাস করার নীতি বাংলাদেশের মানুষ এখন খুব ভালো ভাবেই বুঝতে পারছে। কিন্তু তৎকালীন জামায়াতের কোন কর্মী কারো কোনো ক্ষতি করেছে তার প্রমাণ কোন আদালত এখন পর্যন্ত করতে পারেনি। মিথ্যা যুদ্ধাপরাধী মামলা দিয়ে জামায়াতের নেতা কর্মীদের ফাঁসি দিলেও বাংলাদেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে ফ্যাসিবাদি সরকার একটা অভিযোগ ও প্রমান করতে সক্ষম হয়নি।
বরং দেশপ্রমিক হিসেবে যেই ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলেছে ভারত তাদের কেই নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা করেছে। যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ - পিলখানা হত্যাকান্ড, আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ড ইত্যাদি ।
এছাড়া বিভিন্ন সময়ে রাজাকার, জ*ঙ্গি, রগ কাটা, সন্ত্রাসী ইত্যাদি মিথ্যা প্রপাগান্ডা চালিয়ে জামায়াত শিবিরকে মামলা- হামলা, জুলুম-নির্যাতন করা হয়েছে।
ফ্যাসিস্ট সরকারের কাউকে জুলুম নির্যাতন করার প্রয়োজন হলেই তাকে এ সকল মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে দমিয়ে রাখা হতো। যার ভুক্তভোগী সরকারের বিরূদ্ধে কথা বলা প্রতিটি নাগরিক।
যার সর্বশেষ পদক্ষেপ ছিল বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ে জামায়াত শিবির কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।
জামায়াত ইসলামী ও ছাত্রশিবির সম্ভবত বাংলাদেশের একমাত্র দল যারা এমন এক ভূখন্ডে রয়েছে যাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্র তাদের প্রচন্ড ভাবে অপছন্দ করে। ফলে তাদের জন্য কিছু হলেই পাশের রাষ্ট্রে গিয়ে পালানোর সুযোগ কম। তাই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য জামায়াত-শিবির তাদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে চেষ্টা করে যাবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।
আপনারা দেখেছেন গতকাল দেশের ছাত্র -জনতা যখন বিজয় উল্লাসে মগ্ন তখন শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি সবার আগে রাস্তায় দাড়িয়ে অন্যধর্মাবলম্বীদের জান-মাল ও উপাসনালয় সংরক্ষণের জন্য নেতা কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। এবং জামায়াত শিবিরের স্থানীয় নেতাকর্মীরা রাত জেগে বাড়ি ও উপাসনালয় পাহাড়া দিয়েছেন।
দেশের ছাত্র - জনতার প্রতি আহবান থাকবে আপনারা জামায়াত ইসলামী ও ছাত্রশিবির এর বিষয়ে মতামত দেয়ার পূর্বে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম ও অবদান এবং তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার কারীদের সম্পর্কে একটু চিন্তা ও স্ট্যাডি করবেন।
আবারও জিজ্ঞাসা রাখলাম- জামায়াত- শিবিরকে অপছন্দ করার আপনার কারণ কি?