28/11/2025
#সমাবেশ – #খুরুশকূলডেইলপাড়া #গণসমাবেশ
ডেইলপাড়ায় সিইএইচআরডিএফ এর গণসমাবেশ।
কক্সবাজারের সদর উপজেলার খুরুশকূল ইউনিয়নের ডেইলপাড়া স্টেশনে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিইএইচআরডিএফ)-এর উদ্যোগে জুলাই গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুলাই বিপ্লব ২০২৫-এর অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এ গণসমাবেশে এলাকাবাসী, তরুণ-যুব, শ্রমজীবী ও নারী অংশগ্রহণসহ প্রায় তিন শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ব্যক্তি ও সমাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা, দাবি, অধিকার এবং প্রত্যাশার বিষয়গুলো উন্মুক্তভাবে তুলে ধরেন। জনগণ জানান, তারা একটি সুবিবেচনাপূর্ণ, ন্যায্য ও নিরাপদ সমাজব্যবস্থার দাবি নিয়ে এখানে একত্রিত হয়েছেন। এই সমাবেশ তাদের রাজনৈতিক ও নাগরিক শক্তিকে আরও সংগঠিত করেছে।
সভাপতির বক্তব্যে সিইএইচআরডিএফ প্রধান নির্বাহী বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে ধনতন্ত্র ও কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা সাধারণ মানুষের অধিকারকে দুর্বল করেছে। রাষ্ট্রের সম্পদ ও ক্ষমতা ৫% উচ্চবিত্তের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় সাধারণ জনগণের মৌলিক চাহিদা ও গণঅধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অদক্ষতা দেশের ন্যায়বিচার ও সেবা ব্যবস্থাকে জটিল করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে কাঠামোগত প্রশাসনিক সংস্কার ছাড়া ২০ কোটি মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন জরুরি সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, দেশের ৭০ ভাগ মানুষ এখনও দরিদ্র, ৫৫ ভাগ মানুষ ভাত জোগাড় করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। দেশের অর্ধেক মানুষ মর্যাদাপূর্ণ কাপড় পরতে পারেন না, ৪ কোটি মানুষ আশ্রয়হীন, ৮৫ ভাগ শিক্ষা এখনও বেসরকারি আর কোন বয়স্ক, নারী, শিশু, গর্ভবর্তী, প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য কোন চিকিৎসা নাই।
তিনি প্রস্তাব করেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ৭০ ভাগ দরিদ্র জনগণকে তাদের মধ্য হতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে। তিনি বলেন, ৭০ ভাগ গরীব মানুষের নেতা ১০ ভাগ ধনী মানুষ হতে পারে না।
সমাবেশে বিশেষভাবে পাঁচটি মৌলিক মানবাধিকার—ভাত, কাপড়, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসা—প্রতিষ্ঠার দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, এগুলো কোনো রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, বরং জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকারের মূল ভিত্তি এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্মগত অধিকার।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এ গণসমাবেশ শুধু প্রতিবাদের মঞ্চ নয়, বরং একটি পরিবর্তনের যাত্রা শুরু করার বাস্তব ক্ষেত্র। এখান থেকে মানুষ শোষণ, বৈষম্য ও অধিকারবঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর নতুন পথ খুঁজে পাচ্ছে। জনগণই রাষ্ট্রের মালিক—এই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই তারা একটি নতুন সমাজব্যবস্থা গঠনের অঙ্গীকার করেন।
সিইএইচআরডিএফ জানায়, জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তিই দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। গ্রাম থেকে শহর, উপকূল থেকে পাহাড়—সব জায়গায় মাসিক গণসমাবেশ অব্যাহত থাকবে এবং জুলাই বিপ্লব ২০২৫-এর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ধনতন্ত্রের অবসান, আমলাতান্ত্রিক সংস্কার এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
-
#সিইএইচআরডিএফ