07/05/2026
একজন জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা, দীর্ঘদিনের আলোচিত ব্যক্তিত্ব এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য—মুফতি আমির হামজা। অথচ সেই তাকেই একটি কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে তীব্র আলোচনা, উদ্বেগ এবং ক্ষোভ।
জানা যায়, কলেজ পরিদর্শনের সময় ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী তাকে ঘিরে বিক্ষোভ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তিনি কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়ে যান বলে স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মাঝেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সঙ্গে এমন আচরণ অনেকের কাছেই রাজনৈতিক সহনশীলতার জন্য অশনি সংকেত হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
রাজনীতিতে মতভেদ থাকবে, আদর্শিক বিরোধও থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ভিন্নমত যদি ধীরে ধীরে অসহিষ্ণুতা, হুমকি বা অবরুদ্ধ করার সংস্কৃতিতে রূপ নেয়, তাহলে তা শুধু একটি দলের জন্য নয়, পুরো দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্যই বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়। আজ একজন এমপি অবরুদ্ধ হচ্ছেন, কাল হয়তো সাধারণ মানুষও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে।
অনেকেই বলছেন, ছাত্ররাজনীতির নামে কিছু উগ্র ও বেপরোয়া আচরণ দিনদিন বাড়ছে। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ না করা হলে ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে। কারণ ইতিহাস বলে—দলের চেয়ে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর উগ্রতা বড় হয়ে উঠলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো রাজনৈতিক সংগঠনটাই।
বিএনপির হাইকমান্ডের প্রতি এখন অনেকেরই আহ্বান—সময় থাকতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করুন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা হোক যুক্তি ও গণতান্ত্রিক আচরণের মাধ্যমে, ভয়ভীতি বা অবরুদ্ধ করার সংস্কৃতির মাধ্যমে নয়। দেশের মানুষ সংঘাত নয়, শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ দেখতে চায়।