02/09/2025
লিখেছেন: Shikder Golam Mostafa Tipu
◉ ২ সেপ্টেম্বর‘ ১৯৯৬ইং সাল‘ আজকের এই দিনে-
আমাদের শ্রদ্ধেয়-আব্দুল ওয়াহেদ মাস্টার নানা ভাই-
মহান আল্লাহ তায়ালার ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন । মহান আল্লাহ তায়ালা নানা ভাইকে জান্নাতের সুউচ্চ স্থানে রাখুন ।আমীন ।
◉ যখন ছোট ছিলাম সে সময়টায় নানা বাড়িতেই থাকা হতো বেশি । সেই সুবাদে নানা ভাইয়ের সান্নিধ্য পেয়েছি । ওনাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি ও জেনেছি । নানা ভাই ওনার শৈশব কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত কতশত গল্প শুনিয়েছেন আমাদের । যা আজো কানে ভাসে ।
◉ নানা ভাই গৌরীপুর প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন । যদিও আমি ওনাকে শিক্ষক হিসেবে দেখিনি । আমার জন্মগ্রহনের আগেই মনে হয় শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন । শুনেছি শিক্ষকতায় ওনি যেমন পারদর্শী ছিলেন তেমনি হাঁসি খুশি ও প্রাণবন্ত স্বভাবের হওয়ায় এলাকায় ও আশে পাশের দশ গ্রামেও বেশ সুপরিচিত ছিলেন । নানা ভাইয়ের পুরো জীবনটাই আমাদের জন্য আদর্শ ও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে ।
◉ কিভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে নিজের ও অন্যের নানাবিধ সমস্যার সমাধান করা যায় এবং শত দুঃখ কস্টের মাঝে থেকেও কিভাবে হাঁসি খুশি থাকতে হয় এটা ওনি বেশ ভালো ভাবেই রপ্ত করেছিলেন ।
◉ মনে পরে, ছোট বেলায় নানা ভাই আমাকে প্রায়ই বলতেন আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দাও, সাথে হাত পা গুলো ম্যাসাজ করে দাও । এর বিনিময়ে আমিও বায়না ধরতাম, নানা ভাই গৌরীপুর বাজারের দাশা‘র দোকানের ছোট ছোট জাম মিষ্টি খাওয়াতে হবে ।
◉ যেই আবদার সেই কাজ । পরের দিন সকালে যখন গৌরীপুর বাজারে যেতেন, আসার সময় পলিথিন ব্যাগে করে ৪/৫ পিস জাম মিষ্টি নিয়ে আসতেন । জাম মিষ্টির স্বাদ যেন এখনো জিহ্বায় লেগে আছে । গৌরীপুর বাজারে দাশা‘র দোকান এখনো আছে কিন্তু সেই স্বাদ এখন আর আছে কিনা জানা নেই ।
◉ ছোট বেলায় দেখেছি-নানা ভাইয়ের মাছ ধরার একটা কুনি জাল আর একটা নৌকা ছিল । বর্ষা মৌসুমে নানা বাড়ির- উত্তর দক্ষিনে অথৈ জলে টইটুম্বুর থাকতো । এই সময়টাতে নানা ভাই কুনি জাল আর নৌকা নিয়ে বাড়ির দক্ষিনে বের হয়ে যেতেন মাছ ধরার জন্য ।
◉ নানা ভাই মাঝে মাঝে আমাকেও নিয়ে যেতেন মাছ ধরায় সহযোগিতা করার জন্য । নানা ভাই কুনি জাল যখন সজোরে ছুড়ে মারতেন পুরো জালটা তখন গোলাকার হয়ে পানিতে ছড়িয়ে পরতো । তারপর জাল যখন আস্তে আস্তে টেনে তুলতেন তখন জালের সাথে নানা রকমের মাছ উঠে আসতো ।
◉ মাছের মধ্যে বিশেষ করে বাঙরা, ট্যাংরা, চিংড়ি ও বেলে মাছ গুলো বেশি পাওয়া যেতো । আহ! কি সুন্দর ও আনন্দময় দিন কাটিয়েছি । কোথায় গেল সে দিন !
◉ চিরন্তন সত্য । জন্মেছি যখন মৃত্যুর স্বাদ একদিন গ্রহন করতে হবেই । যে চলে যায় সে-হাজারো স্মৃতি রেখে যায় ।
◉ নানা ভাই আজ থেকে প্রায় ২৯ বছর আগে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গিয়েছেন । রেখে গিয়েছেন হাজারো স্মৃতি । সে স্মৃতি অম্লান হয়ে থাকবে বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ ।
◉ মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে নানা ভাইয়ের জন্য প্রার্থনা-আল্লাহ তায়ালা যেন নানা ভাইকে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করে নেন । আমীন ।