21/04/2026
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনার প্রতিবাদ
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবিরের জনশক্তিদের ওপর ছাত্রদল ও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত সশস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ। আজ (২১ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন ও সেক্রেটারি রাকিবুল ইসলাম এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “আজ সকাল ১২ ঘটিকায় জুলাই বিপ্লবের শহীদদের বাণী সংবলিত ফেস্টুন ও আধিপত্যবিরোধী পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার মতো ধৃষ্টতা দেখায় ছাত্রদল। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের সাথে কথা বলতে ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা যখন ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিল, তখন ছাত্রদল বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় ১২জন শিক্ষার্থী আহত হন। হামলার প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুনরায় ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের মতো ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়, যাতে আরও ৩০জন আহত হন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, তাদের এই উন্মত্ততা থেকে কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও উপস্থিত শিক্ষকবৃন্দও রেহাই পাননি। শিক্ষকদের আঘাত করার মতো এমন জঘন্য ও নীতিভ্রষ্ট কাজ কেবল বিকারগ্রস্ত সন্ত্রাসীদের পক্ষেই সম্ভব।"
নেতৃবৃন্দ বলেন, "শিক্ষাঙ্গন হলো জ্ঞানচর্চা, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের পবিত্র প্রাঙ্গণ—এখানে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। সেখানে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালানো মানে জাতির ভবিষ্যতের ওপর আঘাত হানা। মূলত জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে নস্যাৎ করতে এবং শিক্ষাঙ্গনে পুনরায় দখলদারিত্বের রাজত্ব কায়েম করতেই তারা এই রক্তক্ষয়ী পথ বেছে নিয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব হলেও প্রশাসনের নিস্পৃহতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।"
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "আমরা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় যেকোনো পরিস্থিতির জন্য কর্তৃপক্ষই দায়ী থাকবে। সেইসাথে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষাঙ্গনকে সহিংসতামুক্ত রাখতে আমরা সকল মহলকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।"