21/08/2026
নেতা আর দলের চামচামি করতে গিয়ে তার জীবনের করুণ দশা হয়তো আগামীর রাজনৈতিক চামচাদের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
চেনা যায়? আমিও প্রথমে চিনতে পারিনি। ছাত্রলীগ কর্মী ২০ বছর বয়সী শাকিলের কথা মনে আছে? বিশ্বজিৎ দর্জি হত্যার প্রধান আসামী এ-ই শাকিল।
২০১২ সালে শিবির সন্দেহে ঢাকার পথে বিশ্বজিৎ দর্জিকে কুপিয়ে হত্যা করেছিল। তখন কিন্তু শিবির হত্যা করা জায়েয ছিল। শাকিল তখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর অনার্স সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্র ছিল। সামনে ছিল উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।
তখন চলছিল ছাত্রলীগ কর্তৃক শিবির নিধন কর্মসূচি। যে যত শিবির মারতে পারবে তার প্রমোশন তত দ্রুত হবে। মুখে দাড়ি টাখনুর উপরে প্যান্ট পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে, তার আর কোন রেহাই নাই। তখন যাকে তাকে শিবির ট্যাগিং দিয়ে হত্যা করা হতো। হত্যা করে নেতাদের খুশি করে বড় বড় পদ ভাগিয়ে নিত।
কিন্তু পাপ বাপকেও ছাড়ে না। প্রকৃতি কাউকে ক্ষমা করে না। সম্ভবত মায়ের জানাযায় প্যারোলে মুক্তি পেয়েছে ছাত্রলীগের কর্মী শাকিল। অশ্রু সিক্ত চোখে মায়ের লাশ ছেলের কাঁধে আর হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো, এর থেকে কষ্টের কিছু হতে পারেনা। ১৪ বছর যাবত জেলে বন্দী আছে। কোন নেতা কিন্তু জামিনের ব্যবস্থা করতে পারল না।
ছাত্রদল কে বলবো, ক্ষমতার দাপট বেশি দিন টিকে থাকেনা। ছাত্রলীগের এই শাকিলের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন। নেতার কথামত কাউকে হত্যা করবেন তো বিপদে পড়বেন আপনি। যাবজ্জীবন কারাদন্ড হবে আপনার।
নেতারা কেউ থাকবে লন্ডনে, আবার কেউ যাবে শিলংয়ে। তারা সেখানে নেতা গিরি করে বেড়াবে। আপনাকে কিন্তু সাথে করে নিয়ে যাবেনা। আপনি কিন্তু দেশেই থাকবেন। সো মাইন্ড ইট, এন্ড চেঞ্জ ইয়োর পলিটিক্স।