26/05/2026
১৪০০ বছর আগে আজকের এই দিনে, আরাফার ময়দানে দাঁড়িয়ে মহানবী (সা) মানব মন্ডলীকে উদ্দেশ্য করে বললেন-
'শোনো।'
'মানুষে মানুষে কোনো ভেদ নেই। আরব-অনারব, কালো-সাদা কেউ কারো চেয়ে বড় নয়। শ্রেষ্ঠত্বের একটাই মাপকাঠি, তাকওয়া'।
'সুদ হারাম। প্রথম যে সুদ আমি বাতিল করছি, তা আমার নিজের পরিবারের। দুর্বলের রক্ত শুষে নেওয়া অর্থব্যবস্থা আর চলবে না।' আজ থেকে ১৪ শত বছর পরেও পৃথিবী এই ক্ষতের সমাধান খুঁজছে।
মহানবী (সা) বললেন,
'আমানত ফিরিয়ে দাও। ঋণ শোধ করো।' বিশ্বাস ও চুক্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকে সভ্যতা- এটা ভেঙে পড়লে সমাজ ভেঙে পড়ে। আমাদের সমাজের প্রধানতম সমস্যা গুলোর একটি এখনও এটিই।
'স্ত্রীদের অধিকার আছে, যেমন তোমাদের অধিকার আছে। তারা আল্লাহর আমানত, সম্পত্তি নয়।' পারিবারিক সহিংসতা ও নারী-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সভ্যতার এ কণ্ঠস্বর সার্বজনীন ।
'অধীনস্থদের সাথে মানবিক আচরণ করো। তুমি যা খাবে, তাদেরও তা খাওয়াও। তুমি যা পরবে, তাদেরও তা পরাও।' শ্রমিকের মর্যাদার এই স্বীকৃতি আজও বিশ্বের অনেক প্রান্তে পৌঁছায়নি।
মহানবী (সা) বললেন,
'ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি করো না। জোরপূর্বক কাউকে ধর্মে টানবে না। যারা এই পথে গেছে, ইতিহাস তাদের ধ্বংস করেছে।' ধর্মীয় উগ্রতার বিরুদ্ধে এটি ছিল নবীজির (সা) স্পষ্ট সতর্কবার্তা।
'কোনো পিতার অপরাধে পুত্র দায়ী নয়, পুত্রের অপরাধে পিতা নয়। প্রতিটি মানুষ তার নিজের কর্মের জন্য দায়ী।' এটি ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ব্যক্তিদায়িত্বের সবচেয়ে পুরনো ঘোষণাগুলোর একটি।
১৪০০+ বছর পরেও প্রতিটি আরাফার দিনে লক্ষ লক্ষ মানুষ সেই ময়দানে দাঁড়িয়ে মনে করিয়ে দেয় 'সমতা, ন্যায়, মানবিক মর্যাদা'র গুরুত্ব। আজ আরাফার দিন। যারা হজ্জে আছেন, আল্লাহ কবুল করুন। আমরা যারা যেতে পারিনি, আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যাতে আমরা সাম্য ও ইসনাফের পক্ষে, মজলুমের পক্ষে থাকতে পারি।
— ইয়াওমুল আরাফা মোবারক।
| | |