04/09/2026
🪷 শুভ জন্মাষ্টমী 🪷
জয় শ্রীকৃষ্ণ 🙏💙
অন্ধকারের মাঝে আলো হয়ে, অধর্মের মাঝে ধর্মের পতাকা হয়ে, অন্যায়ের মাঝে ন্যায়ের পথ দেখাতে ধরাধামে আবির্ভূত হয়েছিলেন স্বয়ং পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ।
শৈশব থেকেই তাঁর জীবন ছিল সংগ্রামে পরিপূর্ণ। কংসের অত্যাচার, পুতনা, তৃণাবর্ত, বকাসুর, অঘাসুর থেকে শুরু করে অসংখ্য অসুর ও রাক্ষসের বিনাশ প্রতিটি ঘটনাই যেন আমাদের শেখায়, অন্যায় যত শক্তিশালীই হোক, সত্য ও ধর্মের কাছে তার পরাজয় অনিবার্য। বৃন্দাবনের মধুর লীলার আড়ালেও ছিল এক মহান উদ্দেশ্য, ধর্মকে রক্ষা করা এবং মানুষকে সত্যের পথে ফিরিয়ে আনা।
কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গনে অর্জুন যখন কর্তব্যের দ্বিধায় ভেঙে পড়েছিলেন, তখন শ্রীকৃষ্ণ শুধু তাঁকে যুদ্ধের শিক্ষা দেননি; তিনি সমগ্র মানবজাতিকে দিয়ে গেছেন জীবনের শ্রেষ্ঠ দর্শন,'শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা।'
"কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন।
মা কর্মফলহেতুর্ভূর্মা তে সঙ্গোস্ত্বকর্মণি॥”
~শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ২.৪৭
অর্থাৎ, কর্ম করার অধিকার আমাদের আছে, কিন্তু কর্মের ফলের ওপর আমাদের অধিকার নেই। তাই ফলের চিন্তায় থেমে না গিয়ে নিজের কর্তব্য নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করাই জীবনের পথ।
আর জীবনের সুখ-দুঃখ, জয়-পরাজয়, লাভ-ক্ষতিতে যে ব্যক্তি অবিচল ও ধীর থাকে, শ্রীকৃষ্ণ তাঁকেই প্রকৃত জ্ঞানী ও মহৎ বলে নির্দেশ করেছেন,
“যং হি ন ব্যথয়ন্ত্যেতে পুরুষং পুরুষর্ষভ।
সমদুঃখসুখং ধীরং সোংমৃতত্বায় কল্পতে॥”
~শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ২.১৫
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি সুখ-দুঃখে সমভাবাপন্ন, ধীর ও অবিচল থাকে, সেই প্রকৃত জ্ঞানী, সেই ব্যক্তি পরম সত্যের পথে অগ্রসর হওয়ার যোগ্য।
আজ শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথিতে তাই শুধু তাঁর জন্মের আনন্দ উদ্যাপন নয়, তাঁর আদর্শকে নিজের জীবনে ধারণ করার সংকল্প হোক।
অন্যায়ের সামনে নত না হওয়া, কর্তব্য থেকে পিছিয়ে না আসা, সুখে অহংকার না করা, দুঃখে ভেঙে না পড়া এবং সর্বদা সত্য ও ধর্মের পথে চলাই হোক আমাদের জীবনের সাধনা।
এই পবিত্র জন্মাষ্টমীতে সকলের জীবনে শ্রীকৃষ্ণের আশীর্বাদ, জ্ঞান, শান্তি ও ধর্মবোধ প্রতিষ্ঠিত হোক।