20/10/2024
প্রশ্ন: আল-আকীদাতুত তহাবিয়্যাহ কি? এবং এর উদ্দেশ্য কি?
উত্তর: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল-আকীদাতুত তহাবিয়্যাহ হলো সেই কিতাব যেখানে ইমাম তাহাওয়ী রহিমাহুল্লাহর লেখা আকীদা স্থান পেয়েছে। ফলে কিতাবটিকে তার দিকেই সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এই আকীদা জানার জন্য অবশ্যই কয়েকটি দিক বিবেচনা করতে হবে।
প্রথমত:
লেখক: তিনি হলেন ইমাম, মুহাদ্দিস ও ফকীহ আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনে সালামাহ আত-তাহাওয়ী রহিমাহুল্লাহ। মিশরের একটি এলাকার দিকে সম্পৃক্ত করে তার এমন নাম বলা হয়েছে। তিনি বহু শাইখের নিকট পড়াশোনা করেন ও তাদের থেকে উপকৃত হন। তাঁর শাইখের সংখ্যা তিনশ ছাড়িয়ে যাবে।
একাধিক আলেম তার প্রশংসা করেছেন, যেমন,
ইবনু ইউনুস রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, ইমাম তাহাওয়ী রহিমাহুল্লাহ ছিলেন একজন অন্যতম বিশ্বস্ত, ফকীহ ও বিচক্ষণ ব্যক্তি, যার মতো আর কেউ ছিল না।
ইমাম যাহাবী রহিমাহুল্লাহ বলেন, তিনি ছিলেন ফকীহ, মুহাদ্দীস, হাফিয, একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি। এছাড়াও তিনি ছিলেন একজন অন্যতম বিশ্বস্ত, ফকীহ ও বিচক্ষণ ব্যক্তি।
ইবনু কাছীর রহিমাহুল্লাহ বলেন, তিনি ছিলেন একজন অন্যতম বিশ্বস্ত ব্যক্তি এবং অন্যতম হাফিয।
তার অনেক কিতাব রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে কোনটি অত্যন্ত গবেষণাধর্মী এবং খুবই উপকারী। তার কিতাবগুলোর মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কিতাব ‘মাআনিল আছার’। এই কিতাবে দলীলসহ মতভেদপূর্ণ মাসআলাসমূহের ফিকহী আলোচনা রয়েছে এবং তাঁর নিকট যা সঠিক মনে হয়েছে সে মতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তার কিতাবের মধ্যে আরো রয়েছে ‘শারহু মুশকিলিল আছার’। এছাড়াও তার অনেক কিতাব রয়েছে।
আত-তাহাওয়ী রহিমাহুল্লাহ ৩২১ হিজরিতে মারা যান এবং তাকে মিশরের কারাফাতে দাফন করা হয় (দেখুন, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা ২৭/১৫-৩৩, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ১১/১৭৪)।
দ্বিতীয়ত:
ইমাম তাহাওয়ী রহিমাহুল্লাহ এই কিতাবে সালাফে সালেহীনের এবং তাদের অনুসারী আহলুস সুন্নাহর এবং হানাফীদের ইমামদের দ্বারা স্বীকৃতি কিছু আকীদা তুলে ধরেছেন। কেননা ইমাম তাহাওয়ী রহিমাহুল্লাহ হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। তিনি তার কিতাবের ভূমিকাতেই তার উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটি হলো এই উম্মতের ফকীহগণের মাযহাবের ভিত্তিতে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদার বর্ণনা। সেই ফকীহগণ হলেন, আবূ হানীফা নু‘মান ইবনু সাবিত আল-কূফী, আবূ ইউসুফ ইয়াকূব ইবনু ইবরাহীম আল-আনসারী, আবূ আব্দিল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানী, আল্লাহ তাআলা তাদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন। দীনের মূলনীতির বিষয়ে তারা যা বিশ্বাস করতেন এবং যার মাধ্যমে তারা বিশ্বজগতের রবের ইবাদত করতেন এটি হলো তারই বর্ণনা।’
তারপর তিনি এই আকীদার বিভিন্ন মূলনীতি বর্ণনা করতে শুরু করেন, সর্বসাকুল্যে তিনি ১০৫ টি মূলনীতি বর্ণনা করেন, যেগুলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত বিশ্বাস করে।
তিনি শুরু করেন আল্লাহ তাআলার তাওহীদের বর্ণনা দিয়ে, তার রুবুবিয়্যাতের কিছু বৈশিষ্ট্য দিয়ে যেমন, তার চিরঞ্জীব হওয়f, সবকিছুর ধারক হওয়া, সৃষ্টি করা, রিযিক দেওয়া ইত্যাদি। আবার ইমাম তাহাওয়ী রহিমাহুল্লাহ কোনো ধরণ ও সাদৃশ্যতা স্থাপন করা ছাড়াই আল্লাহ তাআলার পরিপূর্ণ গুণাবলিকে সাব্যস্ত করার কথাও বলেছেন। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কোনো কিছুই তার সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা’ (সূরা আশ-শূরা: ১১)।
ইমাম ত্বাহাওয়ী রাহিমাহুল্লাহ আল্লাহ তা‘আলাকে উপরে সাব্যস্ত করেছেন এভাবে যে, ‘তিনি সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন এবং তিনি সবকিছুর উপরে আছেন।’
তারপর ইমাম তাহাওয়ী রহিমাহুল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়ত ও তাকে যে সকলের জন্য প্রেরণ করার হয়েছে তার ওপর ঈমান আনা ফরয হওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করেছেন।
তারপর তিনি পবিত্র কুরআনের পরিচয় তুলে ধরেছেন যে, কুরআন হলো আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্ট নয়।
তারপর তিনি আখিরাতে যে আল্লাহ তাআলাকে দেখা যাবে তা সাব্যস্ত করেছেন।
তারপর তিনি গায়েবী বিষয়ের বর্ণনা দিয়েছেন যেগুলোর ওপর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ঈমান রাখে, যেমন হাওয, শাফাআত, আরশ ও কুরসী।
তারপর তিনি ঈমানের রুকনগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি রুকন আল্লাহর নির্ধারণ (তাকদীর) ও ফায়সালার ওপর ঈমানের কথা বর্ণনা করেন এবং এই বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ যা বিশ্বাস করে তাও তিনি বর্ণনা করেন।
তারপর তিনি ঈমানের সংজ্ঞা ও তার রুকন বর্ণনা করেন, এর সাথে তিনি এই বিষয়ে আহলুস সুন্নাহর বিশ্বাস এবং খারেজী ও মুরজিয়াদের বিশ্বাসও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
তারপর তিনি সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহ যা বিশ্বাস করে তা বর্ণনা করেন, এছাড়াও তিনি বর্ণনা করেন যে, সাহাবায়ে কেরামকে ভালোবাসা হলো দীন, ঈমান ও ইহসানের অন্তর্ভুক্ত, আর তাদেরকে ঘৃণা করা হলো কুফরী, মুনাফিকী ও পাপাচারের অন্তর্ভুক্ত।
তারপর তিনি কিয়ামতের কিছু আলামত ও কিয়ামতের দিনে যা ঘটবে সেগুলোর বর্ণনা তুলে ধরেন।
সবশেষে দীন মধ্যমপন্থী হওয়ার বর্ণনা দিয়ে তিনি তার পুস্তিকার সমাপ্তি টানেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, এই দীন হলো বাড়াবাড়ি করা ও অবহেলা করার মাঝের অবস্থা।
তৃতীয়ত:
এটি এমন আকীদার কিতাব, যার বর্ণনাভঙ্গি খুবই সহজ, অর্থ সুস্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত হলেও ব্যাপক অর্থবোধক। এটি হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদার সারসংক্ষেপ, যেগুলোর অধিকাংশ বিষয়েই আলেমদের মাঝে ইজমা ও ঐকমত্য রয়েছে।
অনেক আলেম এই কিতাবের ব্যাখ্যা, এর শব্দ ও অর্থের ব্যাখ্যা করার দিকে মনোনিবেশ করেছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলেন ইবনু আবিল ইয আল-হানাফী রহিমাহুল্লাহ, যিনি এই কিতাবের দীর্ঘ ব্যাখ্যা লিখেছেন। আর পরবর্তীদের মধ্যে রয়েছেন শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায ও শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী রহিমাহুমাল্লাহ। যে ব্যক্তি বিস্তারিতভাবে আল-আকীদাতুত তহাবিয়্যাহির অর্থ বুঝতে চায় সে যেন এই কিতাবগুলো পড়ে নেয়।
চতুর্থত:
‘আল-আকীদাতুত তহাবিয়্যাহ’ কয়েকটি মাসআলাতেই সীমাবদ্ধ, কিন্ত সালাফীদের মাঝে এর জনপ্রিয়তা ও খ্যাতি বৃদ্ধি করেছে এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যেটি লিখেন আল্লামাহ ইবনু আবিল ইয আল-হানাফী রহিমাহুল্লাহ। এটি হলো এই কিতাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা। ব্যাখ্যাকার আহলুস সুন্নাহর অনুসারীদের কিতাব থেকেই সেগুলো সংগ্রহ করেছেন, বিশেষ করে শাইখুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়্যাহ ও তার ছাত্র ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুমাল্লাহর কিতাবাদি থেকে।
পঞ্চমত:
ইমাম তাহাওয়ী এমন এক সময় দুনিয়াতে এসেছিলেন, যখন কাদারী মতবাদ ও জাবরিয়া মতবাদ প্রচলিত ছিল। খারেজী ও শিয়া মতবাদ প্রচলিত ছিল। মু‘তাযিলা মতবাদ খুব বেশি মানুষের মাঝে প্রভাব ফেলেছিল। বিবেককে প্রাধান্য প্রদানকারী কালাম শাস্ত্রবিদদের প্রাদুর্ভাব ছিল। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার দরকার বেশি সে সময় অনুভুত হয়। তাই তিনি তাদের আকীদার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।
ষষ্ঠত:
ইমাম তাহওয়ীর দুনিয়াতের আগমন করার কিছু আগে মুসলিম বিশ্বে আব্দুল্লাহ ইবন সা‘ঈদ ইবন কুল্লাবের মতবাদ খুব প্রসারিত ছিল। তখনকার অনেকেই হয়ত তার বিভিন্ন কালাম শাস্ত্রীয় শব্দ দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। সে পরিবেশে বেড়ে উঠা ইমামের পক্ষে আকীদার এ ছোট্ট ভাষ্যে কিছু কালাম শাস্ত্রীয় শব্দ ব্যবহার করার কারণটি সহজেই অনুমেয়।
সপ্তমত:
ইমাম তাহাওয়ার জীবনকালে আরব রাষ্ট্রগুলোতে মাতুরিদী মতবাদের প্রচার-প্রসার ছিল না। কারণ আবু মনসুর মাতুরিদী তার সময়কার লোক হলেও আবু মনসুর মাতুরিদী তার পরে মারা গিয়েছিলেন। তাছাড়া আরব হানাফীদের মধ্যে ‘মা ওয়ারাআন নাহর’ (ট্রান্স অক্সিয়ান বা তুরান) এর অপব্যাখ্যা কাজ করতো না। সেজন্য তৎকালীন আরব হানাফীদের মধ্যে সহীহ আকীদার ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়, যে কারণে ইমাম তাহাওয়ী আকীদার অধিকাংশ মাসআলায় বিশুদ্ধ আকীদায় থাকতে সমর্থ হয়েছিলেন। যা পরবর্তী হানাফীদের বেলায় পরিলক্ষিত হয়নি। আর যেহেতু তখনও মাতুরিদী আকীদা ও মানহাজ আরব দেশ বিশেষ করে মিসর ও তার আশে পাশের এলাকায় প্রচলিত হয়নি, সেজন্য ইমাম তাহাওয়ীকে মাতুরিদী নীতির সাথে সম্পৃক্ত করা অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য বলেই বিবেচিত। তিনি কোনোভাবেই মাতুরিদীর নীতির ওপর ছিলেন না।
অষ্টমত:
ইমাম তাহাওয়ী একদিকে একজন মুহাদ্দিস ছিলেন। অপরদিকে তিনি ফকীহও ছিলেন। তাই মুহাদ্দিসদের কিছু বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে কালাম শাস্ত্রবিদরা তাকে সঠিক আকীদা থেকে দূরে সরাতে সমর্থ হয়নি।
নবমত:
আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, ইমাম তাহাওয়ী ইমাম মুযানীর ভাগিনা ছিলেন। আর ইমাম মুযানী থেকে বিশুদ্ধ আকীদার ভাষ্য রয়েছে। তাই এটা অসম্ভব না যে, ইমাম তাহাওয়ী আকীদা বিষয়ে তার মামার পথেই চলেছিলেন।
দশমত:
আমরা এই আকীদার কিতাবের ভালো দিকগুলো এবং আল্লামা ইবনু আবীল ইয রহিমাহুল্লাহর ব্যাখ্যায় সেগুলোর উল্লেখ থাকলেও এ ছোট্ট কিতাবের বেশ কিছু মাসআলাতে সমালোচনা রয়েছে, কেননা সেগুলো সালাফগণ যেই আদর্শের ওপর ছিলেন তার বিরোধী। যেমন,
১- ঈমানের সংজ্ঞাতে বলা হয়েছে, ‘ঈমান হলো জবানের স্বীকৃতি ও অন্তরের সত্যায়ন করা।’ কিন্তু এই দুটি বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা হলো মুরজিয়াদের মাযহাব, যারা অঙ্গ প্রত্যঙ্গের আমলকে ঈমান থেকে বের করে দিয়েছে।
২- অনুরূপভাবে লেখক বলেছেন, ঈমান একই, ইমানদারগণ মূলগতভাবে সকলে একই।’ এই বাক্যেরও বাতিল অর্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বরং বহু বিদআতীরা আহলুস সুন্নাহর আদর্শের বিপরীত বিষয়কে প্রমাণ করার জন্যই এমন বাক্য ব্যবহার করে থাকে। বিশেষ করে যারা ঈমান বাড়া ও কমার বিষয়টি অস্বীকার করে থাকে।
৩- অনুরূপভাবে লেখকের কথা, ‘আল্লাহ তাআলার শেষ সীমা, স্তম্ভ, অঙ্গ থাকা থেকে তিনি অনেক উর্ধ্বে, তাকে কোনো দিক পরিবেষ্টন করতে পারে না।’ এই ধরনের বাক্য মুআত্তিলা সম্প্রদায় (যারা আল্লাহর গুণাবলী অস্বীকার করে তারা) ব্যবহার করে থাকে। আল্লাহ তাআলার পরিপূর্ণতার সাথে মানায় এমন সুন্দর গুণাবলি, যেগুলো তার কিতাব ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতর মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে, যেমন আল্লাহর চেহারা, দুই হাত, দুই চোখ ইত্যাদি, সেগুলোকে অস্বীকার করার জন্য তারা এমন বাক্য ব্যবহার করে থাকে। তারা এগুলোকে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বলে নামকরণ করে সেগুলো থেকে আল্লাহ তাআলাকে পবিত্র ও মুক্ত ঘোষণা করে।
৪- অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির ওপরে হওয়া, আরশের ওপর উঠাকে তারা ‘দিক, স্থান’ নামে নামকরণ করে সেগুলো থেকে আল্লাহ তাআলাকে মুক্ত ও পবিত্র ঘোষণা করে।
৫- অনুরূপভাবে ইমাম তাহাওয়ী রাহিমাহুল্লাহ আল্লাহর জন্য ‘কাদীম’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, সালাফে সালেহীন এ শব্দটিকে আল্লাহর নাম বা গুণের জন্য ব্যবহার করেন না। তারা এর বিকল্প হিসেবে কুরআন ও হাদীসে আসা ‘আল-আউয়াল’ শব্দটি ব্যবহার করেন।
৬- অনুরূপভাবে ইমাম ত্বাহাওয়ীর বক্তব্য ‘তাঁর জন্য রুবুবিয়াতের মর্মার্থ সাব্যস্ত হবে যদিও মারবূব বা যাদের লালন করবেন তারা ছিল না। তাঁর জন্য খালিকের অর্থ সাব্যস্ত হবে যদিও মাখলুক ছিল না।’ এ কথাটি আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের নীতিবিরুদ্ধ। তাদের নিকট আল্লাহ সর্বদাই স্রষ্টা ছিলেন, সর্বদাই সৃষ্টি করেছেন। আগেও করেছেন, এখনও করছেন, ভবিষ্যতেও করবেন। অথচ ইমাম তাহাওয়ীর এ বক্তব্য থেকে কারও এটা বুঝার সুযোগ থেকে যায় যে আল্লাহ এক বিরাট সময় নিষ্ক্রীয় ছিলেন। (নাউযুবিল্লাহ)
৭- তাছাড়া ঈমান চলে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘কোনো বান্দা ঈমান থেকে বের হওয়ার জন্য যা তাকে ঈমানে প্রবেশ করিয়েছে তা অস্বীকার করলেই তা হবে।’ এভাবে সীমাবদ্ধ করা সঠিক হয়নি। মনে রাখতে হবে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নিকট ঈমান চলে যাওয়ার জন্য অস্বীকার ছাড়াও আরও দশোর্ধ্ব কারণ বিদ্যমান।
৮- অনুরূপভাবে তিনি ‘তাকলীফ’ এর মাসআলায় বলেছেন, ‘আর সৃষ্টিকুল আদেশ নিষেধ যা করা হয়েছে তাই কেবল তারা করতে সক্ষম।’ এ কথাটি ভুল। কারণ সৃষ্টিকুল আরো বেশি কাজ করতে সক্ষম। কিন্তু আল্লাহ দয়া করে তাদেরকে স্বল্প তাকলীফ দেয়াই যথেষ্ট করেছেন। তাদের জন্য দীনকে সহজ করে দিয়েছেন।
৯- অনেক জায়গায় তিনি এমন সব শব্দ ব্যবহার করেছেন যা বহুমাত্রিক অর্থ বহন করে, অনেক বিদ‘আতীও সেজন্য তার এর গ্রন্থটিকে বিদ‘আতী ব্যাখ্যা করেছে। সেসব জায়গা অবশ্যই ভালোভাবে বিশুদ্ধ পদ্ধতিতে জানা উচিত।
১০- আকীদার বেশ কিছু অংশে তিনি কথা বলেননি। বিশেষ করে শির্ক ও কুফর ও নিফাকের বিষয়ে তেমন কোনো মূলনীতি প্রদান করেননি।
এই কারণে ছাত্রদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো, আহলুস সুন্নাহদের মধ্যে যারা এই কিতাবের ব্যাখ্যা করেছেন তাদের থেকে এই কিতাবের জ্ঞানার্জন করা। যেমন অতীতে ইবনু আবীল ইয আল-হানাফী রহিমাহুল্লাহ এবং বর্তমান আলেমগণের মধ্যে যারা এই কিতাবের সংক্ষিপ্ত টিকা লিখেছেন, যাদের কথা আমরা ইঙ্গিত করেছি। বিশেষ করে শাইখ ইবন বায এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত টীকা দিয়ে অনেক জায়গায় বিশুদ্ধ মতটি জানিয়েছেন।
এই কিতাবের অনেক অডিও ব্যাখ্যাও রয়েছে। যেমন শাইখ সলিহ আলে-শাইখ এবং শাইখ ইউসুফ আল-গুফাইসসহ আরো অনেক আলেমের ব্যাখ্যা।
আল্লাহ তাআলাই অধিক অবগত।
____________________________
প্রফেসর ড আবু বকর জাকারিয়া
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া