সুস্থ ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে সুন্দর আগামী নির্মাণ সম্ভব
’৫২, ’৬২, ’৬৮, ’৬৯, ’৭১, ’৯০ সবগুলো আন্দোলনে ছাত্ররাই নেতৃত্ব দিয়েছে। ছাত্র নেতৃত্বে এসব আন্দোলন সফল হয়েছে। প্রত্যেকটা আন্দোলনে ছাত্রদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপুর্ণ। অথচ ছাত্র রাজনীতিতে এখন দখলদারিত্ব চলছে। রাজনীতি এখন বিত্তশালীদের নিয়ন্ত্রণে। সমাজের অসামপ্রদায়িক চেতনাও কলুষিত হয়ে গেছে। ফলে রাজনীতির মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের দিনবদলের চিন্তা যারা
করেছিলেন তারা আর সামনে এগুতে পারছেন না।
যেসব ছাত্রছাত্রী বর্তমান রাজনীতি বিষয়ে বীতশ্রদ্ধ তারা তথ্যপ্রযুক্তি ও বিশ্ব রাজনীতি বিষয়ে অনেক বেশি খোঁজ রাখেন। সুষম অর্থনৈতিক বণ্টন আর অসামপ্রদায়িক চেতনা এখন কলুষিত হয়ে গেছে। রাজনীতি ও ক্ষমতা এখন লুটেরাদের দখলে। এ জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন। ১৯৯১ সালের ২৩ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (যার পূর্বনাম ছিল ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন) সহযোগী ছাত্র সংগঠন। বাংলাদেশের ধমীর্য় ও রাজনৈতিক নেতা সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) এটি প্রতিষ্ঠিত করেন।
ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
‘সত্যের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের প্রতিরোধ’ এর মধ্যেই মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত। এ কাজ সাধ্যানুযায়ী সর্বাত্মকভাবে আঞ্জাম দেওয়া প্রত্যেক মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব। বিশেষ করে ছাত্রসমাজ এ কাজের যোগ্য সৈনিক কারণ ছাত্রসমাজই দেশ ও জাতির সক্রিয় ও কার্যকর জনশক্তি। এর দেশের অমূল্য সম্পদ, ভবিষ্যত কর্ণধার। ছাত্রদের ক্লানি-হীন শ্রম, অপ্রতিরোধ্য শক্তি এবং তীক্ষ্ম মেধার সঠিক চর্চা ও প্রয়োগের ওপর নির্ভর করে দেশের গতি-প্রকৃতি, সুখ-সমৃদ্ধি তথা জাতির আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। ছাত্রদের শ্রম দেশগড়ায় ও মানব কল্যাণে প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের শক্তি অন্যায়-অবিচার-জুলুম তথা বাতিলের বিরুদ্ধে আর তাদের মেধা সত্য অন্বেষণ, দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে ব্যবহৃত হওয়ার মাধ্যমেই সার্থক হয়ে ওঠে। ছাত্রজীবনই সৎ ও আদর্শ মানুষ হওয়ার প্রথম সোপান।
ছাত্রদের মন ও মানস সর্বদাই অনুসন্ধিৎসু। একজন সচেতন ছাত্রের সম্মুখে থাকে দু’টি প্রশ্ন। একটি জীবন-জিজ্ঞাসা; সে কোত্থেকে এসেছে, এ দুনিয়ার জীবনে তার করণীয় কী এবং পরিণামে তার গন-ব্য কোথায়? দ্বিতীয়টি, যুগ-জিজ্ঞাসা; দেশব্যাপী অন্যায়, অবিচার, জুলুম, নির্যাতন, হাহাকার, অশানি- কেন? দেশের স্থায়ী শানি- এবং মানুষের সার্বিক মুক্তির পথই বা কী? নৈতিক আদর্শ বিবর্জিত বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা এসবের উত্তর দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তাছাড়া বিদ্যমান জাহিলী সমাজব্যবসস্থার ধারক ও বাহকেরা ছাত্রদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে অক্ষম। আমাদের অনেকেই নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে ছাত্রসমাজকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তারুণ্যের শ্রম, শক্তি ও মেধা ভুল পথে পরিচালনার মাধ্যমে এই বিভ্রান- নেতৃত্ব নিষ্কলুষ ছাত্রসমাজের মসৃণ ও নির্মল ঐতিহ্যকে কলঙ্কময় করে তুলছে।
বারবার আমাদের সরকার পরিবর্তনে ছাত্রসমাজের বলিষ্ঠ ভূমিকা থাকলেও শিক্ষাঙ্গণে সুষ্ঠু পরিবেশ কখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। হয়নি তাদের দাবি-দাওয়ার বাস-ব প্রতিফলন। যার কারণে ছাত্রদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম হতাশা। তারা আস্থা হারিয়ে ফেলছে নৈতিকতা বিবর্জিত এই ধর্মহীন শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি। তাদের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে যুদ্ধংদেহী মনোভাব। ছাত্রদের এহেন ভূমিকার কারণে সমগ্র জাতি আজ দিশেহারা এবং তাদের ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে আতংকিত। এরূপ নাজুক ও সংকটময় মুহূর্তের কথা চিন্তা করে দেশের বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম, পীর মাশায়েখ এবং দীনদার বুদ্ধিজীবীগণের ঐকানি-ক প্রচেষ্টায় ছাত্রদের ভবিষ্যৎ কল্যাণচিন-ায় এবং তাদের শ্রম, শক্তি ও মেধার সঠিক চর্চা করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি, আদর্শ মানুষ হওয়ার শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন এবং প্রচলিত জাহিলী সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন সাধন করে ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে পরিপূরক শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালনের নিমিত্তে দেশের সর্বস-রের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিশ্রুতিশীল, প্রতিভাবান ও প্রতিনিধিত্বশীল ছাত্রদের নিয়ে ১৯৯১ সালের ২৩ আগস্ট, শুক্রবার ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের তরুণ ছাত্রসমাজকে চারিত্রিক ও নৈতিক অধঃপতন থেকে তুলে এনে সিরাতুল মুস-াকীমে পরিচালিত করে মুসলিম মিল্লাতের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্যের অভিমুখে পরিচালিত করার লক্ষ্যেই আমাদের এ অভিযাত্রা।