Brajendra-Mallika Welfare Foundation

Brajendra-Mallika Welfare Foundation Brajendra and mallika was a great couple. They have 7 son's and lots of grand son and daughter.

ধম্মস্থানে অধম্ম-অসভ‍্যতা, এ লজ্জা রাখি কোথায়! ড. বরসম্বোধি ভিক্ষুআজ অতীব ভারাক্রান্ত ও হতাশান্বিত হয়ে বরাবরের মতো এবারও...
05/12/2025

ধম্মস্থানে অধম্ম-অসভ‍্যতা, এ লজ্জা রাখি কোথায়!

ড. বরসম্বোধি ভিক্ষু

আজ অতীব ভারাক্রান্ত ও হতাশান্বিত হয়ে বরাবরের মতো এবারও লিখতে বাধ‍্য হচ্ছি যে, আমরা যে বড়ুয়া সমাজে বসবাস করছি এবং যে বড়ুয়াদেরকে ধম্মোপদেশ প্রদান করছি, সে বডুয়াদের অনেকের কাছে সেগুলির কোনো গুরুত্বই নাই। বরং বডুয়া যুব সমাজের অনেকের উশৃঙ্খলতা দিন দিন লাগামহীনভাবে ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কি ঘরে, কি বাহিরে কিংবা কি বিহারে সর্বত্রই তাদের উশৃঙ্খল বেহায়াপনা প্রদর্শিত হচ্ছে। তাদের আচরণ দেখে মনে হয়, আমরা উলু বনে মুক্তা ছড়াচ্ছি। ব্যর্থ আমাদের এ প্রবচন!

তারা লোক দেখানো কিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আমাদেরকে সঙ্ঘদানের নামে আহ্বান করে থাকে। আমরাও নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়ে সেখানে কিছু ধম্মকথা বলে থাকি। উপস্থিত সকলে তখন ভক্তিতে গদ গদ হয়ে করজোড়ে সাধুবাদও দিয়ে থাকে। কিন্তু তা শুনে সেগুলির ছিটে ফোটাও তাদের জীবনে অনুশীলন করতে চোখে পড়েনা। আচরণ সম্পূর্ণ বিপরীত। আমাদের যুব সমাজের ইন্দ্রিয়াসক্তি এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, তারা কোথায় কি করবে তার হিতাহিত জ্ঞান পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছে। অথচ এককালে যারা ভিক্ষু-শ্রামণ রূপে বিহারে অবস্থান পূর্বক অন‍্যদের ধম্ম শিক্ষা দিয়েছে এবং সমাজের কাছ হতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছে তাদের আচরণের মধ্যেও বুদ্ধ, ধম্ম এবং ভিক্ষু সঙ্ঘের প্রতি শ্রদ্ধা, গৌরব ও সম্মানবোধ দেখা যায়না।

আমি বিশেষ করে ফ্রান্সের বিষয়ে উল্লেখ করছি। এতদিন মদ‍্যাদি নেশা পান করে কারো বাড়িতে, পার্কে কিংবা কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের ক্লাবে বিকৃত অঙ্গ-ভঙ্গি করে যৌনোত্তেজক গানের সাথে সাথে উন্মত্ত নৃত‍্য-গীত করতে দেখেছি আধুনিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ‍্যমে। এখন সে উন্মত্ত উদ্দীপনার সীমা অতিক্রম করে বিহারে ধম্মস্থানে পর্যন্ত এসে গিয়েছে। বিহারে অবস্থানরত ভিক্ষু এবং বুদ্ধকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।

বিহারকে সবাই পবিত্র ধম্মস্থানরূপে গৌরব করে থাকে। ধম্মচর্চা ও ধ‍্যান-ভাবনা অনুশীলনের জন‍্যই বিহার প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেখানে কামোন্মত্ত নৃত‍্য-গীত করার স্থান নয়। যে বুদ্ধ আমাদেরকে ধম্ম শিক্ষা প্রদান কেরেছেন, সে বুদ্ধের সামনেই আমরা যেভাবে বেহায়া গানের তালে তালে উদ্দাম নৃত্য-গীত করছি, ইহা কি বুদ্ধ বা ভিক্ষুর প্রতি চরম অবমাননা, অসম্মান, অগৌরব ও অশ্রদ্ধা প্রদর্শন নয় কি? যাদের নিকট সামান‍্য ধম্মজ্ঞান এবং বুদ্ধ ও ভিক্ষুদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকে, তারা কখনও বিহারে গিয়ে এগুলি করার চিন্তাও তো করতে পারবেনা। তাই তাদের এরকম উশৃঙ্খল আচরণে বুঝা যায়, তারা যে একসময় গায়ে চীবর জড়িয়েছিল, বিহারে আশ্রয় নিয়েছিল সেগুলিও কেবল উদর পূর্তির জন‍্য এবং চীবর ও বুদ্ধকে পূঁজি করে বিদেশে পাড়ি জমানোর জন‍্য। কদাপি বুদ্ধ কিংবা ধম্মের প্রতি শ্রদ্ধান্বিত হয়ে নয়। যদি শ্রদ্ধা থাকতো, তাহলে বড়ুয়ার ঘরে জন্ম নেওয়া সন্তান অন্তত: বুদ্ধের সামনে এরকম নাচ-গান করার মতো দৃষ্টতা দেখানোর সাহস করতে পারতোনা। যে বিহারে এসব অনৈতিক অপকর্ম হয়েছে, সেখানে অবস্থান রত ভিক্ষুরাও বিহারে ধম্ম-বিনয় পরিপন্থী কাজ হচ্ছে দেখেও কিভাবে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে চুপ থাকতে পারল তাতে আরও বেশী অবাক হয়েছি। এতে ধরে নেওয়া যায় মৌনতাই সম্মতির লক্ষণ। আমাদের সমাজের কিছু তরুণ-তরুণীরা ধম্ম এবং ধম্মস্থানকে আজ কোন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

যারা অনেক অর্থ ব‍্যয় করে সন্তানের মঙ্গল কামনায় বিহারে ধম্মের নামে এরকম অধম্ম -অনাচারের আয়োজন করেছে, এখানে পুণ‍্য যত, তার চেয়েও অধিক পাপ সঞ্চয় করেছে। কেননা আগুনের সদ্ব‍্যবহারে কল‍্যাণ যেমন হয়, তেমনি অপব‍্যবহার করলে অমঙ্গল হয় ততোধিক। ইহা সার্বজনীন এবং শাশ্বত ধম্ম। ধম্মস্থান হল আগুন সদৃশ। পাপের ফল শীঘ্র বা দেড়ীতে হলেও ভোগ করতে হয়। ভোগ ব‍্যতীত কৃত কর্মের ফল সমাপ্ত হয়না।

অনেকের কাছে কথাগুলি অপ্রিয় হবে জানি। তারপরেও বলতে হচ্ছে। এ সম্পর্কে ধম্মপদে বুদ্ধ বলেছেন-

‘ওবদেয‍্যানুসাসেয‍্য অসব্ভা চ নিবারযে,
সতং হি সো পিযো হোতি, অসতং হোতি অপ্পিযো।’

অর্থাৎ যিনি অসভ‍্যতা নিবারণে অন‍্যদের উপদেশ দেন, অনুশাসন করেন, তিনি অসতের অপ্রিয় হয়ে থাকেন এবং সৎ লোকের হন প্রিয়ভাজন।

কামোত্তেজক নাচ-গানের অনুষ্ঠানাদি সম্পর্কে বুদ্ধ কি বলেছেন তা আমাদের সকলের অবগত থাকা প্রয়োজন।

অঙ্গুত্তর নিকায়ের রুণ্ণ বা রোদন সুত্রে বুদ্ধ তথাগত বলেছেন যে-

‘ভিক্ষুগণ! কামোত্তেজক বা রোমাঞ্চকর ‘গান’ আর্য-বিনয় সম্মত নয়। আর্য-বিনয় অনুসারে সেরকম ‘গান’ হল রোদন সদৃশ।

ভিক্ষুগণ! কামোত্তেজক বা রোমাঞ্চকর যে ‘নৃত্য’ তাও আর্য-বিনয় সম্মত নয়। আর্য-বিনয় মতে ‘নৃত্য’ হল পাগলামি।

ভিক্ষুগণ! যাঁরা দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত দাঁত দেখিয়ে উচ্চ স্বরে হাঁসতে থাকে, তাও আর্য-বিনয় অনুসারে ধর্ম সম্মত নয়। আর্য-বিনয় অনুসারে উচ্চ স্বরে দাঁত প্রদর্শন করে হাঁসা হল নাবালকত্বতা বা অপরিপক্কতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

এজন্য ভিক্ষুগণ! এ যে কামোত্তেজক বা রোমাঞ্চকর যে গান, তার পরিণাম ভাল নয়। সুগতির সেতু নষ্ট বা ধ্বংসকারক। যারা সেরকম নৃত্য করে, তারাও একইভাবে নিজেদের সদ্গতির সেতু নষ্টকারী কাজই করে থাকে।

ধম্মে রমিত বা ধম্মে স্থাপিত সৎপুরুষেরা কখনও দন্ত দেখিয়ে উচ্চ হাস্য করেননা। সেরকম হাঁসা হল সাধারণ কামভোগীদের লক্ষণ।সৎপুরুষগণের মুস্কি হাঁসিই যথেষ্ট, যা হল আর্য-বিনয়ানুকুল।

ভিক্ষুগণ! তিনটি বিষয়ের কখনও তৃপ্তি হয়না। সে তিনটি বিষয় কি কি?

ভিক্ষুগণ! নিদ্রার তৃপ্তি হয়না। যত বেশী নিদ্রা যাবে বা ঘুমাবে, ততবেশী ঘুমের ইচ্ছা হবে।

ভিক্ষুগণ! মদ্য পানাদি নেশা দ্রব্যের সেবন হতেও তৃপ্তি পাওয়া যায়না। যতই পান বা সেবন করা হবে, ততই সেগুলির প্রতি আসক্তি বৃদ্ধি পাবে।

ভিক্ষুগণ! মৈথুন বা কাম সেবনেও কখনও পরিতৃপ্ত হওয়া যায়না। যতই কাম সেবন করা হয়, ততই কাম বা মৈথুন তৃষ্ণা বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়।

ভিক্ষুগণ! এ তিন বিষয়ের সেবনে কখনও তৃপ্তি পাওয়া যায়না। এগুলি সেবন করা বা এগুলিতে আসক্ত হওয়া তোমাদের কখনও উচিত নয়। সর্বথা মদ্য পান ও নেশা দ্রব্যের সেবন হতে বিরত থাকা উচিত। মৈথুন হতেও বিরত থাকা অবশ্যই কর্তব্য।’

উপরোক্ত ‘রোদন সুত্রে’ কামোত্তেজক বা রোমাঞ্চকর নাচ-গান, বাদ্য-বাজনাকে বুদ্ধ কোন দৃষ্টিতে দেখেছেন বা কিভাবে চিহ্নিত করেছেন এবং সেগুলির দুষ্পরিণাম বা বিপাক কি তাও বুদ্ধ তথাগত এ সুত্রে স্পষ্ট করে বলেছেন। বুদ্ধ দ্বারা নিন্দিত ও বর্জিত বিষয়গুলি ধম্মস্থান বিহারের মতো পবিত্র স্থানে যদি করা হয়, তা কতই যে অপ-সংস্কৃতির চর্চা এবং ধম্মের নামে অধম্মের চর্চা তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। বঙ্গীয় বৌদ্ধ সমাজের চিন্তাশীল সুধীজন ও ভিক্ষু সঙ্ঘদের এ বিষয়ে গভীর দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন। এ সমস্ত অপ-সংস্কৃতির চর্চা অন্তত:পক্ষে বিহার প্রাঙ্গনে না হওয়াই বাঞ্ছনীয়। পৃথিবীর অন্য কোথাও কোন বৌদ্ধ বিহারে এরকম অপ-সংস্কৃতির চর্চা আমি কখনও দেখি নাই। জানিনা আমার এ কথাগুলি তাদের কানে পৌঁছে বিবেকবোধকে জাগ্রত করে কিনা।

ভবতু সব্ব মঙ্গলং

অভিজ্ঞতা: বিহারে এসে এই কান্ড-কীর্তন করার জন্য যে ভিক্ষু নিষেধ করবে ঐ ভিক্ষুর মতো খারাপ আর কেউ হয় না। আর অনেক ভিক্ষুরাও নীরব থাকেন বিভিন্ন লাভ-সৎকারের বা প্রতিষ্ঠান/বিহার রক্ষার কারণে। এমনকি একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ থেকে বিরত থাকতে বললে বা এগুলো করলে বিহারে আসতে নিষেধ করলে, ভদ্রতা পোষণ করতে বললে, সংযমতার সাথে আচরণ করতে বললে, এমনকি উচ্চস্বরে কথা বলতে নিষেধ করলেও অপরাধ। অনেক মানুষ বিহারে আসে কাকে ছোট করবে, অসম্মানিত করবে এই মানিসিকতা নিয়ে।

মূলত বিহারে আসতে হয় পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা ও ত্যাগময় মন নিয়ে। খারাপ মন নিয়ে ধর্মস্থানে আসলে নিজেরতো কিছু হবেই না, ধর্মেরও বারোটা বেজে যাবে। যেমনটি চারিদিকে ঘটে চলেছে। বিনয়ী হয়ে ধর্মস্থানে প্রবেশ করতে হয়, সকল মান, অহংকার পিছনে ফেলে। মৈত্রী পরায়ণ হয়ে ধর্মস্থানে প্রবেশ করতে হয়, যেন আমার কারণে কারো মনে পর্যন্ত আঘাত না পায়।

১০১ তম জন্মদিনে বিনত প্রণাম হে মহামহিম শাসনশোভন সঙ্ঘরাজ (ড.)  #জ্ঞানশ্রী মহাথের (১৯২৫-২০২৫) : বঙ্গদেশে সদ্ধর্মের ঐতিহ্য ...
19/11/2025

১০১ তম জন্মদিনে বিনত প্রণাম হে মহামহিম
শাসনশোভন সঙ্ঘরাজ (ড.) #জ্ঞানশ্রী মহাথের (১৯২৫-২০২৫) : বঙ্গদেশে সদ্ধর্মের ঐতিহ্য রক্ষার আলোকিত প্রতিভূ
#নিপুন বড়ুয়া
===========
ব্রিটিশ-ভারত ও পাকিস্তান শাসনের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশ সময়কালেও যে সকল মহাজীবন স্বীয় মেধা ও প্রজ্ঞায়, করুণা ও কান্তি, বিনয় ও ঔদার্যে মানব ও মানবতার জয়গান করে চলেছেন তন্মধ্যে শাসনশোভন, মহাসদ্ধম্মজ্যোতিকাধ্বজ, অগ্রমহাপণ্ডিত (ড.) জ্ঞানশ্রী মহাস্থবির অন্যতম। এই মহাপ্রাণ মনীষা ১৯২৫ সালের ১৮ নভেম্বর রাউজান থানার ডোমখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জীবনের সঞ্চারী পিতার নাম প্রেমলাল বড়ুয়া ও মায়ের। নাম মেনকা বড়ুয়া। জন্মের পর তাঁর নামকরণ করা হয়েছিল লোকনাথ বড়ুয়া।

বিভিন্ন কারণে লোকনাথের পড়াশোনার হাতেখড়ি হয়েছিল বারো বছর বয়সে।
তিনি পঞ্চম শ্রেণির পাঠ চুকিয়েছিলেন আঠারোতে। তিনি চতুর্থ শ্রেণির পাঠ শেষ
করে বিনাজুরী গ্রামের নবীনচন্দ্র মধ্য ইংরেজী উচ্চ বিদ্যালয় হতে পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা না দিয়ে স্কুল ত্যাগ করেন এবং পরে, বিনাজুরী শ্মশান বিহার সন্নিকটস্থ সোনাইরমুখ প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ শেষ করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন, কিন্তু কৃতকার্য হননি।
আপন মামা সারানন্দ ভিক্ষুর প্রত্যক্ষ ব্যবস্থাপনায় ঊনিশ বছর বয়সে ১৯৪৪
খ্রিস্টাব্দে তিনি জোবরা সুগত বিহারে উপসঙ্ঘরাজ গুণালঙ্কার মহাস্থবিরের নিকট
শ্রামণ্য ধর্মে দীক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। অতঃপর ১৯৪৯ সালে রাঙ্গুনিয়ার রাজানগর শাক্যমুনি বিহারে চব্বিশ বছর বয়সকালে তিনি গুরু গুণালঙ্কার মহাস্থবিরের নিকট উপসম্পদা গ্রহণ করেন।

শ্রামণ্য জীবনের পর হতেই তিনি তথাগত সম্বুদ্ধের বিভিন্ন উপদেশাবলী সম্বলিত
পবিত্র ত্রিপিটকের বহুবিধ বিষয়াদি অধ্যয়নে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। ভিক্ষু জীবনে
উপনীত হয়ে তিনি সমাজ সংস্কার, বিহার সংস্কার ও বিহার নির্মাণ, গরীব দুঃখী
অনাথদের জন্য অনাথালয় প্রভৃতি প্রতিষ্ঠা করে সমাজ ও সদ্ধর্ম সেবায় গভীরভাবে
আত্মনিয়োগ করেছিলেন। তাঁর জীবনে তিনি বিভিন্ন স্থানে বর্ষাবাস অধিষ্ঠান করে সমাজ-সদ্ধর্ম ও মানবতার জন্য নিরলস কাজ করে চলেছেন। তাঁর জীবনের প্রথম হতে ষষ্ঠতম
(১৯৪৯-১৯৫৪) বর্ষাবাস অতিক্রান্ত করেন হাটহাজারী থানার মির্জাপুর
শান্তিধাম বিহারে। এরপর রাউজানের বিমলানন্দ বিহারে জীবনে সপ্তম ও অষ্টম
(১৯৫৫-১৯৫৬) বর্ষাবাস অতিক্রান্ত করেন। সেখানে তিনি স্থানীয় দায়ক-দায়িকাদের সহায়তায় ১৯৫৬ সনে গড়ে তোলেন ‘জাতক পরিষদ’।

খাগড়াছড়ির মুবাইছড়িতে ৯ম-১১তম বর্ষাব্রত (১৯৫৭-১৯৫৯) অতিক্রম করার
সময়কালে ১৯৫৭ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মুবাইছড়ি ‘জ্ঞানোদয় পালি টোল’।
খাগড়াছড়ির বোয়ালখালীস্থ মায়ানী দশবল চাকমা রাজবিহারে তিনি ১২তম-২৬তম বর্ষাব্রত (১৯৬০-১৯৭৪) উদ্যাপন করেন। এসময় তিনি ১৯৬১ সালে গড়ে তোলেন ‘বোয়ালখালী ধর্মোদয় পালি টোল’, একইবছর দিঘীনালাতে
গড়ে তোলেন ‘পার্বত্য চট্টল বৌদ্ধ অনাথ আশ্রম। সাহিত্যরতœ অষ্টম সঙ্ঘরাজ শীলালঙ্কার মহাস্থবিরের সাথে যৌথ উদ্যোগে ১৯৬৪ সালে গড়ে তোলেন ‘ত্রিপিটক প্রচার বোর্ড’ এবং ১৯৭৪ সালে রাঙ্গামাটির ভেদভেদীতে তিনি প্রতিষ্ঠা
করেন ‘মোনঘর অনাথ আশ্রম’। মায়ানী দশবল চাকমা রাজবিহারে অবস্থানের সময়কালে তিনি একজন মাত্র দায়কের শ্রদ্ধার তরণীকে গতিময় করার মানসে বোয়ালখালীর তেবাংছড়া বিহারে এক বর্ষাবাস যাপন করেন। উল্লেখ্য,
তেবাংছড়া বিহারের প্রতিষ্ঠাতা ‘ধনার বাপ’ নামক দায়ক সদ্ধম্মের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা স্থির রাখতে পারছিলেন না, তখন ভিক্ষু জ্ঞানশ্রী তাঁর চিত্তকে সদ্ধম্মের অনুসারী করার মানসে তেবাংছড়া বিহারে বর্ষাবাস যাপন করার মন স্থির করেছিলেন। এই তেবাংছড়া বিহার ‘ধনার বাপের বিহার’ নামে সমধিক পরিচিত
ছিল। ১৯৭৫ হতে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত রাউজান থানার কদলপুর সুধর্মানন্দ বিহারে জীবনের ২৭ হতে ৩৭ তম বর্ষাবাস তিনি অতিক্রান্ত করেন। এসময় তিনি ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘সঙ্ঘরাজ ভিক্ষু মহাম-ল ধর্মীয় শিক্ষা পরিষদ’ এবং প্রচার ও প্রকাশ করতে শুরু করেন পরিষদের মুখপত্র ‘ত্রৈমাসিক ধর্মায়তন’
নামক পত্রিকা। হাটহাজারীর জোবরা সুগত বিহারে জীবনের ৩৮তম-৪০তম বর্ষাব্রত (১৯৮৬-১৯৮৮) উদ্যাপনের সময়কালে তিনি নিজের গুরু উপসঙ্ঘরাজ গুণালঙ্কার মহাস্থবিরের স্মৃতির উদ্দেশ্যে ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘জোবরা গুণালঙ্কার বৌদ্ধ অনাথ আশ্রম’। ৪১তম-৪২তম বর্ষাব্রত (১৯৮৮-১৯৯০) তিনি উদযাপন করেন হাটহাজারীর মির্জাপুর গৌতমাশ্রম বিহারে। এই সময়ে, ১৯৮৩ সালে তিনি কদলপুর অনাথ আশ্রম ও ভিক্ষু ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠায় প্রভূত সহায়তা প্রদান করেন পণ্ডিত প্রজ্ঞাবংশ মহাস্থবির ও ভিক্ষু এইচ. সুগতপ্রিয় ভিক্ষুকে। ১৯৮৯ সালে তিনি কাপ্তাইয়ের বড়ইছড়িতে প্রতিষ্ঠা করে ‘চন্দ্রঘোনা জ্ঞানশ্রী শিশু সদন’। ঢাকা আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার, মেরুল বাড্ডা, ঢাকায় ৪৩তম-৪৬তম বর্ষাব্রত (১৯৯১-১৯৯৪) উদ্যাপন করেন। এই সময়কালের মধ্যে তিনি ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন রাউজান ‘পশ্চিম বিনাজুরী উচ্চ বিদ্যালয়’, ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘পশ্চিম বিনাজুরী ধর্মকথিক অনাথ আশ্রম’, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানায় উচাই নামক এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘উচাই সূর্য্যাপুর জ্ঞানশ্রী বৌদ্ধ বিহার’। এরপর ৪৭তম-৪৮তম বর্ষাব্রত (১৯৯৫-১৯৯৬) তিনি অতিবাহিত করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিশ্বশান্তি প্যাগোডায় এবং ৪৯তম-৫৪তম বর্ষাব্রত (১৯৯৪-২০০২) বর্ষাব্রত উদযাপন করেন বিনাজুরী শ্মশান বিহারে। ৫৫তম-৬১তম বর্ষাব্রত (২০০৩-২০১০) বর্ষাবাস তিনি অতিক্রান্ত করেন চট্টগ্রাম মহানগরীর নন্দনকাননস্থ চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে। এই সময়কালের মধ্যে ২০০৬ সালে তিনি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘গুইমারা দেওয়ান পাড়া ড. জ্ঞানশ্রী শিশু নিকেতন’, ২০০৯ সালে ‘গুইমারা দেওয়ান পাড়া ড. জ্ঞানশ্রী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ এবং ২০১০ সালে প্রাগুক্ত জয়পুরহাটের পাঁচবিবির বারকান্দ্রিতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘বারকান্দ্রি উপসংঘরাজ ড. জ্ঞানশ্রী সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহার’। ২০১১ সালে তিনি তাঁর জীবনের ৬২ তম বর্ষাবাস অতিক্রম করেন রাউজানের বিনাজুরী শ্মশান বিহারে। এবং ২০১২ সাল হতে বর্তমান অবধি তিনি চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে অবস্থান করে চলেছেন। এরমধ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন, ‘বাংলাদেশ বুদ্ধ শাসন কল্যাণ ট্রাস্ট’ (২০১৪), ‘দ্বিচানপাড়া ড. জ্ঞানশ্রী বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়’ (২০১৪) এবং ‘নানিয়ারচর দ্বি-চাঁন পাড়া ড. জ্ঞানশ্রী সাধনা বৌদ্ধ বিহার ও শিক্ষা কমপ্লেক্স’ (২০১৫)’। এছাড়া তিনি আরো প্রতিষ্ঠা করেছেন, জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ‘উচাই উপসংঘরাজ ড. জ্ঞানশ্রী নৃ-তাত্ত্বিক উচ্চ বিদ্যালয়’ ও রাউজানের পশ্চিম বিনাজুরীতে ‘উপসংঘরাজ ড. জ্ঞানশ্রী আন্তর্জাতিক বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র’ সহ নানা জনহিতকর বোধিসত্ত্বসুলভ কর্মকীর্তি।

এছাড়া, মহামান্য অষ্টম সঙ্ঘরাজ সাহিত্যরত্ন শীলালঙ্কার মহাস্থবিরের (১৯০০-২০০০) সাথে যৌথভাবে ‘বৌদ্ধ নীতি মঞ্জুরী’ নামক একটি বইও তিনি রচনা করেছেন।

উপরোক্ত, কর্মপ্রতিভাই বলে দেয় একজন ভিক্ষু গৈরিক বসনধারী হয়ে কিভাবে পাহাড় হতে সমতলে, বৌদ্ধ অধ্যুষিত এলাকা হতে অবৌদ্ধ প্রভাবিত এলাকায় কিভাবে অনলসভাবে ধর্ম ও সমাজ, সংস্কৃতি ও সভ্যতার বিকাশে অবদান রেখে চলেছেন। তাঁর গড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় সবকটিই বর্তমানে ফুলে-ফলে সুশোভিত হয়ে সমাজ অঙ্গনে শান্তি ও প্রগতিতে অবদান রেখে চলেছে। তাঁর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বহু অনাথের প্রাণ ও জীবন, পার্বত্য অঞ্চলে ধর্মান্তরের কবল হতে রক্ষা পেয়েছে বহু সম্ভাবনাময় জীবন। বিনয়ের প্রতি তাঁর গারবতা অত্যন্তপ্রণিধানযোগ্য। ভিক্ষু জীবনের
প্রারম্ভিককাল হতেই তিনি একাসনিক পিণ্ড গ্রহণের ধুতাঙ্গব্রত প্রতিপালন করে আসছেন। বিনয়ের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র নিয়মাদি পালনেও তিনি সদা সচেষ্ট থাকেন এবং অপরকেও এই ব্যাপারে উপদেশ দেন। যে কোন পরিস্থিতিতে বিনয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে তাঁকে দেখা যায়।

লোকহিতকর বহুল সুকৃতিময় কর্মের জন্য তিনি নানাদেশ ও সংগঠন হতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সম্মান ও অভিধায় ভূষিত হয়েছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ উপাসক-উপাসিকাগণ কর্তৃক ‘সদ্ধম্মাদিত্য’, থাইল্যাণ্ড সরকার কর্তৃক
‘শাসনশোভন জ্ঞানভাণক’ (১৯৮১), বাংলাদেশ সঙ্ঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা কর্তৃক
‘বিনয়াচার্য’ (২০০১) ও ‘ধর্মভাণ্ডাগারিক’ (২০১২), মায়ানমার সরকার কর্তৃক
‘মহাসদ্ধম্মজ্যোতিকাধ্বজ’ (২০০৭) ও ‘অগ্গমহাপ-িত’ (২০২৩), থাইল্যাণ্ডের
বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় মহাচূললঙ্করণরাজমহাবিদ্যালয় কর্তৃক ‘সাম্মানিক ডক্টর অব ফিলসফি’ (২০০৭), বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ কর্তৃক ‘বিশুদ্ধানন্দ স্বর্ণপদক’, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি কর্তৃক ‘সঙ্ঘরাজ সারমেধ শান্তি স্বর্ণপদক’,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরষ্কার ‘একুশে পদক’ (২০২২) সহ বিভিন্ন উপাধি অর্জন করে তাঁর প্রভূতপ্রতাপশালী লোককল্যাণকর কুশল কর্মের জাগতিক স্বীকৃতি লাভে তিনি সক্ষম হয়েছেন।তাঁর জীবনে তিনি যে সকল সম্মাননা বা বহুবিধ উপাধি লাভ করেছেন সেসকল কিছুকে ছাপিয়ে গেছে তাঁর মাননীয় ‘উপসঙ্ঘরাজ’ ও তৎপরবর্তীর মহামান্য ‘সঙ্ঘরাজ’ উপাধি। বাংলাদেশী বৌদ্ধদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও পরে সর্বোচ্চ বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুর অভিধা।

বিগত ২০০৪ সালের ২৯ জানুয়ারী বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার ৫৭তম অধিবেশনে তাঁকে মাননীয় ‘উপসংঘরাজ’ পদে অভিষিক্ত করা হয়। অতঃপর ২০২০ সালের ২১ শে মার্চ মহামান্য দ্বাদশ সংঘরাজ (ড.) ধর্মসেন মহাস্থবির মহাপ্রয়াণ করার পর সংঘরাজের পদ শূন্য হয়ে গেলে বিগত ২০২০ সালের ২০ মে, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার কারক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শাসনশোভন অগ্রমহাপণ্ডিত (ড.) জ্ঞানশ্রী মহাস্থবির মহোদয়কে ‘মহামান্য ত্রয়োদশ সংঘরাজ’ পদে মনোনীত করা হয়। এরপর ২০২১ সালের ২৫শে মার্চ রোজ বৃহস্পতিবার মহামান্য দ্বাদশ সংঘরাজ ভদন্ত ধর্মসেন মহাস্থবিরের (১৯২৮-২০২০) অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পূর্ব রাত্রির মাহেন্দ্রক্ষণে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার ৭৩তম বার্ষিক সাধারণ অধিবেশনে মহান সংঘের সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে মহামান্য ত্রয়োদশ সংঘরাজ পদে অভিষিক্ত করা হয়।

শতাব্দী ছুঁইছুঁই বয়সেও তিনি কী কর্মশীল ও
শাসনদরদী, বিনয়শীলি ও নিয়ামানুবর্তী ছিলেন ভাবতেও বর্তমান যুগ প্রেক্ষাপটে অবাক লাগে। সেই বয়সেও তিনি নিয়ত ধ্যান চর্চা করেন, সূর্যোদয়ের পূর্বে ঘুম হতে উঠতেন, বহুজন হিতায় ও বহুজন সুখায়ে দেশ ও দেশান্তরে ঘুরে বেড়াতেন।

এই পুণ্যপুরুষের সাথে বর্তমান জীবনীকার বরেণ্য ভিক্ষু জীবনে ২০০৯ সালে মুকুটনাইটে গ্রামে একসাথে পবিত্র ভিক্ষু পরিবাস উদ্যাপনের বিরল সুযোগ লাভ করে ও বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন উপলক্ষে উপদেশ লাভে ধন্য হয়েছে। হাজারো পীড়িতের কল্যাণসিন্ধু, তথাগত বুদ্ধের একালিকসার্থক প্রতিভূ, শীলসৌরভে সুশোভিত ও বিনয়গর্বে গৌরবান্বিত মহামান্য সঙ্ঘরাজ ১৩ নভেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার বিকেল ০৪.৪০ মিনিটে ৯৯ বছর ১১ মাস ২৬ দিন বয়সে দেহত্যাগ করে অনন্তের পথে যাত্রা করেন। তাঁর ভিক্ষু জীবন ছিলো ৭৬ বছর এবং শ্রামণ্য জীবন ছিল ৪ বছর। সর্বমোট ৮০ বছরের ব্রহ্মচর্য জীবনের শেষ ৫ বছর ৫ মাস ২৯ দিন (২০০৯ দিন) সঙ্ঘরাজ হিসেবে বাঙালি তথা বাংলাদেশী ভিক্ষুসঙ্ঘ ও গৃহিদের মহান অভিভাবক হিসেবে ছিলেন। দিনের হিসেবে তিনি ৩৬,৫২০ দিন বেঁচেছিলেন তিনি।

😂হতাশা থেকে মুক্তির কিছু নিনজা টেকনিক😁১) Move! Move! Move!ঘরে শুয়ে-বসে থাকা যাবে না। আপনি যত শুয়ে-বসে চুপচাপ থাকবেন, আ...
19/10/2025

😂হতাশা থেকে মুক্তির কিছু নিনজা টেকনিক😁

১) Move! Move! Move!

ঘরে শুয়ে-বসে থাকা যাবে না। আপনি যত শুয়ে-বসে চুপচাপ থাকবেন, আপনার body তত হতাশাকে accept করে নিবে। তাই body-র movement বাড়ান। Brain-রে confused করে দেন, যে আপনার কিছুই হয় নাই। যখন হতাশ থাকি, আমাদের brain আমাদের body-কে কাজের অনিহার signal দেয়। কিন্তু আপনি তার উল্টা করে brain-রে confused করে দিচ্ছেন। Train করছেন যে হতাশার moment-এ কীভাবে adapt করে নিতে হবে। তাইলে হতাশা আস্তে আস্তে কেটে যাবে।

২) দৌঁড়ান-

হ্যাঁ, দৌঁড় দেন। একটা দৌড় দেন ৩০ সেকেন্ডের জন্য। আচ্ছা, থাক, ১০ সেকেন্ডের জন্য? কেন দৌঁড় দিবেন? দৌঁড় দিলে আপনার body-তে dopamine release হয়, যেটা আপনার মন ভালো করার জন্য help করবে। জোরে জোরে আপনার শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে হয়, body-তে oxygen ঢুকে। এটা অনেক কাজে দেয়।

৩) প্রচুর পানি পান করুন-

দিনে অন্তত ২-৪ লিটার পানি পান করার চেষ্টা করেন। আপনার শরীরের প্রায় ৭০% বা তার বেশিই পানি। তাই পানি পান করতে হবে।

৪) ঘাসে হাঁটুন-

Last কবে খালি পায়ে ঘাসে হেঁটেছেন? সামনে শীতকাল আসছে। ভোরের হালকা কুয়াশাতে সুযোগ পেলেই একটু খালি পায়ে ঘাসের মধ্যে হাঁটুন। কিংবা যখন সকালের হালকা রোদ উঠে যায়, তখন একটু হাঁটুন। গা-এ সূর্যের আলো লাগলো, পায়ে ঘাসের ছোঁয়া লাগলো । ভালো লাগবে।

৫) পিঠা খান-

শীতকালে গরম গরম গুঁড়ের ভাপা পিঠা নারিকেল দিয়ে বানানো, কিংবা সরিষা আর লাল মরিচের ভর্তা দিয়ে চিতল পিঠা, কিংবা পাঁটিসাপটা, ফুল পিঠা!! আহা...গ্রামে বা দেশে যারা আছেন please miss করবেন না!!! আহা, কত রকম পিঠা যে আমাদের দেশে পাওয়া যায়! Enjoy your life. এই সুন্দর শীতটা উপভোগ করেন শীতের মতোই ঠান্ডা আর অনাবিলভাবে।

৬) Cut the negativity-

যেকোনো message, friend, social media comments, content, anything—যেটা আপনার হতাশা বাড়ায়, just life থেকে বাদ দিয়ে দেন। আপনি যখন social media-তে positive জিনিসগুলো দেখা শুরু করবেন, Facebook/Instagram auto আপনাকে motivational page গুলো suggest করবে। আপনার সকালের ঘুম ভাঙলে Facebook-এর scrolling জুড়ে থাকবে powerful mindset আর positive word, ঠিক তেমনি ঘুমানোর আগেও যেন আপনার content scrolling list-এ থাকে life changing thought। আপনি একজন psychiatrist-এর কাছে টাকা দিয়ে যেই therapy নিবেন, এইটা আপনি এই practice করেও করতে পারেন।

৭) Talk to your very nearest one-

খুঁজে বের করেন আপনার life-এর সবচেয়ে বিশ্বস্ত মানুষ কে। হতে পারে এইটা আপনার parents, হতে পারে এইটা আপনার ভাই-বোন, অথবা আপনার কোনো বন্ধু। If you are struggling with something, please share. এমন কারো সাথে share করবেন যে আপনার privacy-কে respect করে। এইটা আপনার মনকে একটু হইলেও হালকা করবে।

৮) This shall too pass-

ভালো সময়ের খারাপ দিক হলো, এটাও একসময় কেটে যায়। আবার খারাপ সময়ের ভালো দিক হলো, এটাও একসময় কেটে যায়। You got this! খারাপ সময় অনন্তকালের জন্য আসেনি। Just আঁকড়ে পড়ে থাকতে হবে। আপনা টাইম আয়েগা!

৯) Stop comparing with others-

কেউ একজন ভালো job পেয়েছে? কারও আগে বিয়ে হয়ে গেছে? কেউ আগে পড়াশুনা শেষ করে ফেলেছে? তো কী হয়েছে? আপনি পিছিয়ে যাচ্ছেন, এইটা ভয়? Stop thinking like that. আমরা প্রত্যেকে আমাদের নিজস্ব journey-টা করতেছি। কেউ হয়তো ৩০-এ banker manager হয়ে গেছে, আর কেউ ৩৫-এ heart attack করে মারা গেলো। কেউ আবার ৬৫-তে business শুরু করে successful হইতেছে। So, we all are in our own timing zone. অন্যের timer-এর সাথে নিজের সময়কে মিলানো যাবে না।

১০) সবারই হতাশা আছে-

No one is exceptional. যেই মানুষের হই-হুল্লোড় দেখে কষ্ট পাচ্ছেন, হয়তো আপনি জানেন না সে ভিতর থেকে কতটা ভঙ্গুর। আমি এমনও মানুষ দেখেছি যে নাকি বাঁচবে মাত্র ৩ মাস, কিছু খাইতে পারে না। তার পরও শেষ ৩ মাস সে কখনো বলেনি যে সে খারাপ আছে। সে কষ্ট পেয়ে মারা গেছে, কিন্তু কষ্ট তার মানসিক শক্তির কাছে হার মেনেছে।

১১) Be brave-

৪-৩০ কোটি শুক্রাণুর সাথে দৌঁড় দিয়ে, fight করে আপনিই একমাত্র মায়ের গর্ভে পৌঁছাইতে পেরেছেন, যে নাকি দুনিয়াতে আসতে পেরেছেন। আর এখন আপনার চোখ, কান, বিবেক আছে...চিন্তা করার ক্ষমতা আছে। এত ভয় কিসের?

কথাগুলো শুধু আপনার জন্য না, প্রত্যেকের জন্য। আমার জন্যও প্রযোজ্য!!!!

একদম মাথায় ঢুকিয়ে ফেলতে হবে!

হতাশ হওয়া যাবে নাআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআ!

18/10/2025

সত্য নারায়ন গোয়েঙ্কাজির “শান্তিপূর্ন সহাবস্থান”
(২০০০ সালের ২৯ আগস্ট ইউনিটেড ন্যাশনস অধিবেশনে দেয়া বক্তৃতার অংশবিশেষ)

অনুবাদকঃ ভিক্ষু জ্ঞানবোধি

প্রিয় বন্ধুগণ, উপস্থিত ধর্মীয় ও আধ্যাত্বিক জগতের নেতৃবৃন্ধ; সর্বপ্রথমে আমি ধন্যবাদ জানাই তাদেরকে যাঁরা আজকের এই মহৎ জনসভা আয়োজনের মাধ্যমে আমাদেরকে মানবের কল্যানের জন্য কিছু কাজ করার সুযোগ সৃষ্ঠি করে দিয়েছেন.
ধর্ম তখনই ধর্ম, যখন এটি একত্রিত করে। ধর্ম তখন আর ধর্ম নয়, যখন এটি বিভক্তি সৃষ্টি করে। ধর্ম মানুষের বিভাজনের জন্য নয়। ধর্ম হচ্ছে মানুষকে একত্রিত করার জন্য।
ধর্মান্তরবাদ নিয়ে এপর্যন্ত অনেক আলোচনা হয়ে আসছে। কেউ এর পক্ষে বলছে কেউ বলছে বিপক্ষে। আমি কিন্তূ ধর্মান্তরবাদের পক্ষে, বিপক্ষে নয়। কিন্তু এ ধর্মান্তরবাদ কোনো এক সংগঠিত ধর্ম থেকে অন্য সংগঠিত ধর্মে পরিবর্তন নয়। ধর্মান্তর হতে হবে দুঃখের অবস্থান থেকে সুখের অবস্থানে পরিবর্তন, বন্ধন থেকে মুক্তিতে পরিবর্তন, নিষ্ঠুরতা থেকে করুণায় পরিবর্তন। আজকের দিনে এই ধরনের ধর্মান্তরই প্রয়োজন এবং এই সংস্থাটির লক্ষ্য হওয়া উচিত এটিকে বাস্তবায়ন করা।
আমাদের প্রাচীন ভারত কেবল শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা বিশ্বের মানুষকে দেয়নি, বরং শান্তি এবং সম্প্রীতি খুঁজে পাওয়ার পদ্ধতি, কৌশল এবং প্রক্রিয়াও দিয়েছে।
আমাদের বোঝা উচিত যে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা ভাবতে গেলে আমরা ব্যক্তিকে উপেক্ষা করতে পারি না।
কেননা, যদি একজন ব্যক্তির মনে শান্তি না থাকে, তাহলে সমাজে কীভাবে সত্যিকারের শান্তি সম্ভব?
প্রকৃতির নিয়ম হচ্ছে যদি আমার মন চঞ্চল হয়, যদি আমার মন সবসময় ঈর্ষা, রাগ, ঘৃণা, এবং হিংসায় পূর্ণ থাকে, তাহলে কীভাবে আমি বিশ্বের জন্য শান্তি বিলিয়ে দিব? কারণ আমার নিজের অন্তরেইতো শান্তি নেই। আমি একজন অশান্ত ব্যক্তি। অতএব, জ্ঞানীগন বারবার বলেছেনঃ প্রথমে নিজের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা কর। তাই আমাদের পর্যবেক্ষণ করতে হবে, আমার মধ্যে সত্যিই শান্তি আছে কি নেই।
বিশ্বের সকল ঋষি, সাধু ও মুনি এই পরামর্শ দিয়েছেন যে “নিজেকে জানো।” এই জানাটা শুধু বুদ্ধির স্তরে নয়, শুধু আবেগিক বা ভক্তিমূলক স্তরে নয়, এটি হতে হবে বাস্তব অভিজ্ঞতার স্তরে। আপনি যখন অভিজ্ঞতার স্তরে নিজের সত্যিকারের প্রকৃতি অনুভব করতে শুরু করবেন, অনেক সমস্যা সহজেই সমাধান হয়ে যাবে। আপনি বুঝতে শুরু করবেন প্রকৃতির এই নিয়ম সার্বজনীন, কেউ এর বাইরে নয়।
যখন আমি নিজেকে পর্যবেক্ষণ করি এবং দেখি, আমি নিজের মধ্যে ঈর্ষা, রাগ, ঘৃণা, এবং হিংসা সৃষ্টি করছি, আমি সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পারি যে আমি নিজেই আমার এই রাগ ও ঘৃণার প্রথম শিকার। আমি নিজেই আমার এই হিংসার প্রথম শিকার। তারপরেই আমি অন্যদের ক্ষতি করতে শুরু করি। এটাই প্রাকৃতিক নিয়ম।
যদি আমি আমার মধ্যে কোনও নেতিবাচক বা খারাপ মনোভাব সৃষ্টি করি, তাতে আমার শরীরে প্রতিক্রিয়া হয়। আমার মনে জ্বালা হয়, মন উত্তপ্ত হওয়া, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পায় এবং আমি দুঃখী হয়ে উঠি। আর আমি যখন আমার এই দুঃখ অন্যের ওপর ছুড়ে দিই, আমার চারপাশের পরিবেশকে এমনভাবে প্রভাবিত করি যে যারা আমার সংস্পর্শে আসে, তারা সবাই দুঃখী হয়ে যায়। আর এদিকে আমি শান্তি এবং সুখের কথা বলি। আমার মধ্যে যা ঘটছে, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটাই প্রাকৃতিক নিয়ম। এটাই আমাকে সবার আগে জানতে ও বুঝতে হবে।
যদি আমি এই নেতিবাচক মনোভাব থেকে মুক্ত থাকি, আমার মন বিশুদ্ধ হয়। আবার প্রাকৃতিক নিয়ম কাজ করতে শুরু করে। আমি নিজের মধ্যে পর্যবেক্ষণ করি—এই মুহূর্তে মনের মধ্যে কোনো নেতিবাচকতা নেই এবং দেখি—প্রকৃতি আমাকে পুরস্কৃত করছেন। আমি শান্তি অনুভব করি। পরম শান্তি। যখনই আমি নেতিবাচকতা সৃষ্টি করি, আমি দুঃখী হয়ে পড়ি। সুতরাং, যে কেউ— সে এই ধর্মের হোক বা ওই ধর্মের, এই পরম্পরার হোক বা ওই পরম্পরার, এই দেশের হোক বা ওই দেশের—যদি কেউ প্রাকৃতিক নিয়ম ভঙ্গ করে, মনের মধ্যে নেতিবাচকতা সৃষ্টি করে, সে দুর্ভোগের শিকার হবে। প্রকৃতি তাকে শাস্তি দেবে। মনের মধ্যে নরকের আগুন জ্বলে উঠবে। এটাই সেই বীজ যা আমি বপন করছি—অন্তরের নারকীয় আগুনের বীজ। এর প্রেক্ষিতে আমি যা পাব তা শুধুই নরকের জ্বলন্ত আগুন। প্রাকৃতিক নিয়ম এমনই।
যদি আমি মনকে বিশুদ্ধ রাখি, ভালোবাসা ও করুণায় পূর্ণ রাখি, আমি আমার মধ্যেই স্বর্গরাজ্য উপভোগ করি। এবং এই স্বর্গরাজ্যের বীজ মৃত্যুর পরও শুধু স্বর্গরাজ্যের ফলই দেবে। আমি হিন্দু হই বা মুসলিম, খ্রিস্টান হই বা জৈন—কোনো পার্থক্য নেই। মানুষ হচ্ছে মানুষ। মনুষের মন হচ্ছে মানুষের মন। কোনোরকমের পার্থক্য সেখানে নেই।
সুতরাং মননশীল ধর্মান্তর মানে হচ্ছে মনকে অশুদ্ধতা থেকে বিশুদ্ধতার দিকে পরিবর্তন করা। এই ধর্মান্তরই হচ্ছে একমাত্র প্রয়োজন।
মানুষ কীভাবে বদলায়? এমন অসাধারণ পরিবর্তন মানুষের মধ্যে আসে। কোনো জাদু নয়, কোনো অলৌকিকতা নয়, এটি একটি বিশুদ্ধ বিজ্ঞান। নিজেদের মধ্যে মন এবং পদার্থের আন্তঃপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা। মন কীভাবে শরীরের পদার্থকে প্রভাবিত করে, শরীর কীভাবে মনকে প্রভাবিত করে। যদি আমরা ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করি, আমরা প্রাকৃতিক নিয়ম এত স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি—যখনই আমি নেতিবাচকতা তৈরি করি, আমি দুঃখ ভোগ করি। আর যখন আমি নেতিবাচকতা থেকে মুক্ত, তখন আমি শান্তি ও সমন্বয় অনুভব করি। এটি সবাই আত্মপরীক্ষণ করে দেখতে পারে। এটি সবাই অনুশীলন করতে পারে।
একটি অসাধারণ পরম্পরা, একটি অসাধারণ প্রযুক্তি, যা আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে জ্ঞানীগন প্রদান করেছিলেন এবং যা এখন বিশ্বের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। আজও, বিভিন্ন সম্প্রদায়, বিভিন্ন পরম্পরা, বিভিন্ন ধর্মের মানুষরা আসে এবং এই অনুশীলন পদ্ধতি শিখে সমান সুফল লাভ করেন। তারা হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম বা খ্রিস্টান যাই হোক না কেন মানুষ হিসেবে তাদের অনুশীলনের অভিজ্ঞতায় কোনো পার্থক্য হয় না। কারন মানুষতো মানুষই। কিসের পার্থক্য? কিন্তু একটি বড় পার্থক্য আসে—তারা ভালোবাসা এবং করুণায় পূর্ণ সত্যিকারের আধ্যাত্মিক মানুষ হয়ে ওঠে। এমন মানুষ যারা নিজেদের জন্য যেমন মঙ্গল চায়, অন্যদের জন্যও একইভাবে মঙ্গল চায়।
যখন আমি আমার মনের মধ্যে শান্তি সৃষ্টি করি, আমার চারপাশের পরিবেশ শান্তির সংস্পর্শে ভরে যায়। এবং যিনি আমার সংস্পর্শে আসেন, তিনি শান্তি অনুভব করতে শুরু করেন। এটিই প্রকৃত ধর্মান্তর যা অত্যন্ত প্রয়োজন আজকের পৃথিবীতে। অন্য কোনো কিছু নয়। এটি মানবজাতির প্রতি প্রাচীন, কল্যাণময় বার্তা।
এখন আমাকে আমার প্রাচীন ভারতের একটি বার্তা পড়তে দিন। আমার প্রাচীন ভারতের একটি কল্যাণময় বার্তা, যা ২৩শ’ বছর ধরে শিলায় খোদিত এবং পুরো মানবজাতির উদ্দেশ্যে উদ্দৃত। এটি মহামান্য অশোকের বার্তা। একজন আদর্শ সম্রাট কীভাবে শাসন করে সেই বার্তা। এই বার্তা বলে: “মানুষের শুধুমাত্র নিজের ধর্মকে সম্মান করা উচিত নয় এবং অন্য ধর্মকে নিন্দা করা উচিত নয়।” আজকের বিশ্বে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। আপনি যদি অন্যদের নিন্দা করতে থাকেন, এবং বারবার বলতে থাকেন, “আমার ধর্মই সেরা!”—এভাবে আপনি মানবজাতির জন্য সমস্যার সৃষ্টি করছেন। বরং, অন্য ধর্মকে সম্মান করুন।
যে কোনো ধর্মের মূল লক্ষ্য হলো ভালোবাসা, করুণা ও মৈত্রী। প্রতিটি ধর্ম এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিবেদিত। বাইরের রূপ অধিকাংশ সময় ভিন্ন। এই পূজা, সেই আচার, এই অনুষ্ঠান, সেই অনুষ্ঠান, এই বিশ্বাস, সেই বিশ্বাস এগুলি হচ্ছে বাহ্যিক খোলস। এগুলিকে নিয়ে ঝগড়া করবেন না। যা অন্তর্নিহিত সার, তা উপলব্ধি করুন, তাহলে ঝগড়া হবে না। এর ফলে, আপনি নিজের ধর্মকে প্রসার পেতে সাহায্য করবেন এবং অন্য ধর্মের সেবা ও প্রসারেও অবদান রাখবেন। অন্যতায় আপনি শুধু নিজের ধর্মের ক্ষতি করবেন এবং অন্য ধর্মেরও ক্ষতি করে যাবেন।
বার্তাটি আরো বলে: “যে নিজের ধর্মকে সম্মান করে এবং অন্য ধর্মকে নিন্দা করে, সে হয়তো নিজের ধর্মের প্রতি ভক্তি থেকে তা করে। মনে করে ‘আমি আমার ধর্মকে মহিমান্বিত করব’, কিন্তু তার কার্যক্রম তার নিজের ধর্মকেই গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।” বার্তাটির আরেকটি কথা—সবাই শুনুন। প্রকৃত ধর্মের বার্তা, সার্বজনীন নিয়মের বার্তা: “শান্তিপূর্ন সহাবস্থানই উত্তম। একমাত্র শান্তিপূর্ন সহাবস্থানই আমাদের সহায়ক। বিভক্তি নয়।” প্রতিটি ধর্মের শিক্ষার অন্তর্নিহিত সারকে গুরুত্ব দিন। একমাত্র তখনই শান্তি ও সমন্বয় প্রতিষ্ঠিত হবে।
জগতের সকলেই সুখী হউক; শান্তিপূর্ন সহাবস্থানে নিরাপদে বসবাস করুক।

ব্রজেন্দ্র-মল্লিকা পরিবারের পরম জ্ঞাতি, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিটন বড়ুয়ার প্রয়াণে শোক ও পুন্যদান।
26/08/2025

ব্রজেন্দ্র-মল্লিকা পরিবারের পরম জ্ঞাতি, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিটন বড়ুয়ার প্রয়াণে শোক ও পুন্যদান।

শ্রীলঙ্কার পেরাদানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমাজের একজন নন্দিত বৌদ্ধ পন্ডিত, দম...
25/07/2025

শ্রীলঙ্কার পেরাদানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমাজের একজন নন্দিত বৌদ্ধ পন্ডিত, দমদমা-নবাবপুর ধর্মকীর্তি বৌদ্ধ বিহারের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ, ধর্মকীর্তি ইন্টারন্যাশনাল পীস এন্ড প্রগ্রেস সোসাইটির চেয়ারম্যান, বিচিত্র ধর্মকথিক ভদন্ত ধর্মকীর্তি মহাথের মহোদয়।
ভান্তের পিএইচডির অভিসন্দর্ভ ছিল "বৌদ্ধ পরলোকগত তত্ত্ব অস্তিত্বের একত্রিশ স্তরের ধারণায় প্রতিফলিত হয়"।
৮৬ তম আনুষ্ঠানিক সমাবর্তনের মাধ্যমে এ পিএইচডি ডিগ্রি আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রহণ করেন।
শ্রীলঙ্কার পেরাদেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের একটি প্রখ্যাত ও স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়। এই স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশী বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মধ্যে প্রথম পূজনীয় ভান্তে সফলভাবে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২৪ জুলাই ২০২৫ ইং পিএইচডি ডিগ্রি (ডক্টর) সনদ গ্রহণ করেন।
ব্রজেন্দ্র-মল্লিকা পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধেয় ভান্তের পি এইচ ডি ডিগ্রি অর্জনে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি

বাবা তোমার তুলনা শুধুই তুমি।পৃথিবীর সকল বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা।
15/06/2025

বাবা তোমার তুলনা শুধুই তুমি।
পৃথিবীর সকল বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা।

ব্রিজিং জেনারেশনস পরিচালিত সমীরণ বড়ুয়া মেমোরিয়াল প্রভাতী বিদ্যালয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস উৎযাপন উপলক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মা...
27/03/2025

ব্রিজিং জেনারেশনস পরিচালিত সমীরণ বড়ুয়া মেমোরিয়াল প্রভাতী বিদ্যালয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস উৎযাপন উপলক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বাধীনতা ছবি আঁকা আয়োজন করা হয়।
এ জন্য শিক্ষক এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

বাইন্যাছোলা, লক্ষীছড়ি, খাগড়াছড়িস্থ পূর্ণজ্যোতি শিশু সদনে ব্রিজিং জেনারেশনস্ পরিচালিত সমীরণ বড়ুয়া মেমোরিয়াল প্রভাতী বি...
18/01/2025

বাইন্যাছোলা, লক্ষীছড়ি, খাগড়াছড়িস্থ পূর্ণজ্যোতি শিশু সদনে ব্রিজিং জেনারেশনস্ পরিচালিত সমীরণ বড়ুয়া মেমোরিয়াল প্রভাতী বিদ্যালয়ে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ সূচনা ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ আজ ১৭ জানুয়ারী, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ পূজনীয় ভিক্ষুসংঘ, সুধীজন, পর্ষদের সভ্যবৃন্দ, দায়ক-দায়িকা, অভিভাবক গ্রামবাসী, ব্রিজিং জেনারেশনস্ প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিতিতিতে সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তাগণ সমীরণ বড়ুয়া মহোদয়ের জীবন-কর্ম-অবদান শীর্ষক আলোচনা পূর্বক অপ্রতুল সুযোগ-সুবিধা, দুষ্কর জীবনযাপন প্রেক্ষিতে জীবিকা নির্বাহ করতে হিমশিম খাওয়া অঞ্চলের প্রজন্মদের শিক্ষাদানে এগিয়ে আসা, পৃষ্ঠপোষকতা ও সমাজ-জাতির উন্নয়নে কাজ করার জন্য ব্রজেন্দ্র-মল্লিকা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন -এর সকল কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রকল্প পরিচিতি:
• প্রতিষ্ঠান: সমীরণ বড়ুয়া মেমোরিয়াল প্রভাতী বিদ্যালয়
• শিক্ষার্থী সংখ্যা ও শ্রেণী: ৫৫ জন, ১ম শ্রেণী হতে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত
• শিক্ষক সংখ্যা: ২ জন (বসু চাকমা ও নিশান চাকমা)
• ঠিকানা: বাইন্যাছোলা মৈত্রী বিহার ও পূর্ণজ্যোতি শিশু সদন, বাইন্যাছোলা, লক্ষীছড়ি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা, বাংলাদেশ।
• পৃষ্ঠপোষক: ব্রজেন্দ্র-মল্লিকা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন
• উদ্বোধন: শনিবার ২২ জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
• শিক্ষা কার্যক্রম সূচনা: সোমবার ০১ জুলাই ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
• পরিচালনায়: Bridging Generations

আমাদের গ্রামের আলোকিত সন্তান, শিক্ষাবিদ, প্রাক্তন বিভগীয় শিক্ষা কর্মকর্তা তরণী সেন বড়ুয়ার মৃত্যুতে ব্রজেন্দ্র-মল্লিকা পর...
04/12/2024

আমাদের গ্রামের আলোকিত সন্তান, শিক্ষাবিদ, প্রাক্তন বিভগীয় শিক্ষা কর্মকর্তা তরণী সেন বড়ুয়ার মৃত্যুতে ব্রজেন্দ্র-মল্লিকা পরিবরের শোক ও পুন্যদন।

মৈত্রীপূর্ণ হৃদয়ে সকলের সহবস্থান কামনায় সবার প্রতি প্রবারণার শুভেচ্ছা।
16/10/2024

মৈত্রীপূর্ণ হৃদয়ে সকলের সহবস্থান কামনায় সবার প্রতি প্রবারণার শুভেচ্ছা।

গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পের স্বীকার হয় চট্টগ্রামের রাউজান থানার হোয়ারা পাড়া গ্রামের...
12/09/2024

গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পের স্বীকার হয় চট্টগ্রামের রাউজান থানার হোয়ারা পাড়া গ্রামের ব্রিজিং জেনারেশনস বৃত্তি প্রাপ্ত দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বর্নালী বড়ুয়ার পরিবার। মানুষরূপী দানবের দেয়া আগুনে পুড়ে যায় তাদের ঘর বাড়ি আসবাবপত্র সহ স্বর্নালীর বই খাতা,শিক্ষা সামগ্রী।
ব্রিজিং জেনারেশনস টিম গত ৬ সেপ্টেম্বর স্বর্ণালী বড়ুয়া পুড়ে যাওয়া বাড়িঘর পরিদর্শন করে এবং স্বর্নালী বড়ুয়ার হাতে শিক্ষা সামগ্রীসহ নগদ বৃত্তি প্রদান করে।
ব্রিজিং জেনারেশনস প্রত্যাশা করে স্বর্ণালী বড়ুয়া খুব দ্রুত মানসিক ঝড় কাটিয়ে ওঠে দ্রুত শিক্ষায় মনোনিবেশ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
স্বর্ণালী বড়ুয়ার শিক্ষা সামগ্রী বিতরনে "Brajendra-Mallika Welfare Foundation" থেকে ব্রিজিং জেনারেশনকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়।

Address

Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Brajendra-Mallika Welfare Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share