12/04/2019
বিতর্ক কি?
তর্ক-বিতর্ক-কুতর্ক!
তোমাদের মধ্যে অনেকে "বিতর্ক" শব্দটি শুনলে ঘাবড়ে যাও। অনেকে আবার বিতর্ক নিয়ে ঠাট্টা করে বলে ফেলে এটা তো আজাইরা ঝগড়াঝাঁটি। তর্ক-ফর্ক দিয়ে কি হবে! অনেকে আবার এটাকে কুতর্কও বলে ফেলে। আসলে বিতর্ক এমনটি একদমই নয়। বিতর্ক হল বিশেষ ভাবে তর্ক। যেখানে শান্ত গলায়, নম্রতার সহিত যুক্তি দিয়ে লড়াই করতে হয়। যেটা একদিনেই সম্ভব না, ধীরে ধীরে রপ্ত করতে হয়। তাই বিতর্ক হল একটি শিল্প।
একটুখানি মোটিভেশনঃ-
আমি অনেক আড্ডাবাজ বন্ধু দেখেছি যারা বিভিন্ন বিষয়ে তর্ক করে। এক পর্যায়ে সমাধা করতে না পেরে পরস্পরের দফারফাও করে ফেলে বৈ কি!
কিন্তু বিতার্কিকদের বিচার বিশ্লেষণ হয় সবার থেকে আলাদা। বিতর্ক করতে গিয়ে পররাষ্ট্রনীতি, সংবিধান, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, সাম্রাজ্যবাদ, তথ্যপ্রযুক্তির ইত্যাদির মত বিষয় নিয়ে জেনে ফেলো। ফলে যেকোনো আলোচনায় পরীক্ষার প্রশ্নের মত তোমার কাছে বিষয় গুলা কমন পড়ে যায়! এমন কি বাসায় যখন আব্বুরা টক শো দেখে তোমার কাছে বোরিং মনে হয় না! পত্রিকায় বিজ্ঞের মত বিনোদন পাতা উল্টিয়ে সম্পাদকীয় পড়ে ফেল! তখন আব্বু ভাবে "ভাহহ, আমার সন্তানতো দিন দিন মেধাবী হয়ে যাচ্ছে! এর রহস্য কি?" এর রহস্য হল বিতর্ক হতে প্রাপ্ত জ্ঞান। আর এটা একদিনে রপ্ত করা সম্ভব না, আবার কুংফু ক্যারাটের মতও না! ভার্সিটিতে অনেকে প্রেজেন্টেশন /ভাইবা বোর্ডে নার্ভাস হয়ে যেতে দেখা যায়। আর যে বন্ধুরা স্কুল-কলেজে টুকিটাকি বিতর্ক করে এসেছে তারা বাজিমাত করে দে! তাছাড়া, উচ্চ শিক্ষার জন্য স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয় যাবে অথবা দেশের বাইরে পড়তে যাবে তখন তোমার স্কুল-কলেজ থেকে এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিসে অর্জিত "Skill" আর সার্টিফিকেটগুলা তোমাকে এক অনন্য জায়গায় পৌছে দিবে! যদিও আধুনিক বিশ্বে তোমার Skill দিয়েই তোমাকে বিচার করা হবে, তোমার সার্টিফিকেট না। তোমার সার্টিফিকেট শুধু তুমি যে Skillful সেটার প্রমাণ দিবে মাত্র।
তোমার যে বন্ধু বিতর্ক করে না এবং তোমাকে, পাশাপাশি রেখে কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করলে, যে কেউ তোমাকে আলাদা করতে পারবে। তোমার নিজেকে বলতে ইচ্ছে করবে "আরে, আমিতো স্মার্ট! "। আবার বিতর্ক করতে হলে তোমাকে ক্লাসে ফার্স্টও হতে হবে না। কিন্তু বিতর্কের উদ্দেশ্য একদমই এটা নয় যে, তোমাকে স্মার্ট বানাবে। এটা বিতর্কের সয়ংক্রিয় প্রসেস। বিতর্কের উদ্দেশ্য হল তোমাকে যুক্তিবাদী মানুষ করে গড়ে তোলা, চিন্তা জগতকে প্রসারিত করা, সমাজে নেতৃত্বগুণাবলী প্রদান করা প্রভৃতি।
বিতর্কে আসলে কি?
২০১৮ ফুটবল বিশ্বকাপ যখন হচ্ছিল তখন তুমি এবং তোমার বন্ধুরা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কে সেরা এটা নিয়ে তর্ক করা শুরু করে দিলে। যারা ব্রাজিল সাপোর্টার তারা লজিক দিল যে, ব্রাজিলতো ৫বার ওয়ার্ল্ড কাপ নিসে, আর কেউ কি পেরেছে? আবার আর্জেন্টিনা সাপোর্টাররা বলল, "ম্যারাডোনা, মেসির মত সেরা খেলাওয়াড় কি কোনো দলে আছে?" এভাবে একে একে তোমরা তথ্য দাও এবং শেষে লজিক দিয়ে বল যে কোনো দল সেরা! আবার প্রতিপক্ষের লজিক মেনে না নিতে পেরে মেঘনাদ বধ কাব্য রচনা করে ফেলো কখনো কখনো!
বিতর্কও হুবহু এই রকম কিন্তু এখানে বধ কাব্য রচিত হয়না । বিভিন্ন বিষয় দিয়ে এভাবে তোমাকে তর্ক করতে বলা হয়। তবে, একটা নিয়মে নীতির মধ্য দিয়ে করলে ভালো হয়, তাহলে দফারফা হওয়ার চান্স থাকবে না! এভাবে কিছু নিয়ম কানুন মেনে একজন বিতার্কিক অন্য বিতার্কিককে যুক্তির মারপ্যাঁচ দিয়ে কাবু করে ফেলে। তাই, যুক্তি দিয়ে, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তর্ক করার নামই বিতর্ক। মনীষীরা বলছেনঃ- Logic is the sword। বিতার্কিকদের বিতর্ক জীবন থেকে ব্যক্তিগত জীবন সবখানে তাদের কাছে যুক্তিই হল অস্ত্রের ন্যায়।
বিতর্ক কীভাবে পারব? এর তো অনেক নিয়ম!
ক্রিকেট-ফুটবলকে তোমরা অনেক ফর্মেটে খেলো। যেমন, ক্রিকেটে শর্টপিচ ফরমেট খেল যেখানে নিয়ম বানাও ব্যাটসম্যান সিক্স মারলে আউট হয়ে যাবে। আবার ফুটবলে মিনিবারে গোলকিপার হাতে বল ধরতে পারবে না। বিতর্কেরও এমন অনেক ফরমেট রয়েছে। এসব ফরমেটের হালকা কিছু নিয়ম নীতি রয়েছে। এগুলা জেনে নিয়ে প্রেকটিস করলেই ব্যস! তুমি একটা পাক্কা ডিবেটার! আমাদের দেশে, সনাতনী, সংসদীয়, বারোয়ারী বিতর্ক অধিক হয়ে থাকে।
তোমরা অনেকে হয়ত বিটিভিতে বিতর্ক দেখে থাক। স্বপ্ন দেখো, "আমিও একদিন টেলিভিশন বিতর্ক করব"। বিটিভির এই বিতর্কটা সনাতনী ফরমেটে হয়ে থাকে। এটি অন্যতম জনপ্রিয় বিতর্ক ফরমেট। এই ফরমেট যারা ভালো করে রপ্ত করতে পারে, তাদের অন্যান্য ধরনের বিতর্ক সহজ হয়ে যায়। প্রেকটিসের জন্য বিতর্কের এই ফরমেটটা দারুণ কাজে দে। বিতর্কের নিয়ম কানুন আপাতত দৃষ্টিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে, একবার নিয়ম শিখে গেলে নিয়মের বেড়াজাল ধরা সহজ হয়ে যায়। যেমনটা, তোমরা মোবাইলে একটা গেইম খেলার আগে, গেইমটার নিয়ম কানুন জেনে নাও, তারপর বেচারা একটাকে SUBWAY কিংবা কোনো Temple এর রাস্তাতে অনবরত দৌড়ায়ে কয়েন জমা কর। তাই বেশি বেশি বিতর্ক করে নিজের যুক্তিবোধ বৃদ্ধি কর।
সকল বিতার্কিকদের জন্য শুভকামনা!
লিংকঃ
তর্ক-বিতর্ক-কুতর্ক! তোমাদের মধ্যে অনেকে "বিতর্ক" শব্দটি শুনলে ঘাবড়ে যাও। অনেকে আবার বিতর্ক নিয়ে ঠাট্টা করে বলে ফেল...