প্রিয় রায়পুর

Call Directions

প্রিয় রায়পুর প্রিয় রায়পুর
দৃষ্টি পুরো ইউনিয়ন জুড়ে ।

‎অন্ধ পৃথিবীর মানুষ‎✍️সুমাইয়া জান্নাত প্রেমা‎‎পৃথিবী আজ আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত। মানুষ আকাশ ছুঁয়েছে, সমুদ্রের গভীর রহস...
12/08/2026

‎অন্ধ পৃথিবীর মানুষ
‎✍️সুমাইয়া জান্নাত প্রেমা
‎
‎পৃথিবী আজ আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত। মানুষ আকাশ ছুঁয়েছে, সমুদ্রের গভীর রহস্য উন্মোচন করেছে, প্রযুক্তির বিস্ময়কর অগ্রগতির মাধ্যমে পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় এনে ফেলেছে। কিন্তু এই উন্নতির ঝলমলে আলোর আড়ালে একটি ভয়ংকর অন্ধকারও ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করছে। সেই অন্ধকার হলো মানুষের হৃদয়ের অন্ধত্ব।
‎এই পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ বাস করে। তাদের ভাষা আলাদা, সংস্কৃতি আলাদা, পোশাক আলাদা, জীবনযাত্রা আলাদা। কিন্তু একটি জায়গায় সবাই এক—তারা সবাই মানুষ। আর মানুষ হিসেবে তাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো বিবেক, অনুভূতি ও মানবতা। এই গুণগুলোর কারণেই মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কি সত্যিই সেই মর্যাদার যোগ্য হয়ে উঠতে পেরেছি?
‎
‎প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই চোখে পড়ে অসংখ্য হৃদয়বিদারক ঘটনা। কোথাও ক্ষমতার লোভে মানুষ মানুষকে হত্যা করছে, কোথাও অর্থের জন্য প্রতারণা করছে, কোথাও দুর্বল ও অসহায় মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। আমরা এসব ঘটনা দেখি, শুনি, আলোচনা করি, তারপর আবার নিজেদের কাজে ব্যস্ত হয়ে যাই। অন্যের কষ্ট যেন আমাদের স্পর্শই করে না।
‎
‎একসময় মানুষ প্রতিবেশীর দুঃখে কাঁদত, অন্যের বিপদে ছুটে যেত। আজ অনেক ক্ষেত্রেই সেই মানবিকতা হারিয়ে যেতে বসেছে। এখন মানুষ অন্যের কান্না দেখেও নির্বিকার থাকতে শিখেছে। রাস্তায় দুর্ঘটনায় আহত একজন মানুষ সাহায্যের অপেক্ষায় পড়ে থাকে, অথচ অসংখ্য মানুষ তাকে সাহায্য না করে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে ব্যস্ত থাকে। যেন মানুষের জীবনের চেয়ে দৃশ্য ধারণ করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
‎এ কেমন সভ্যতা?
‎
‎চোখ দিয়ে দেখা যায় পৃথিবীর রূপ, কিন্তু হৃদয় দিয়ে দেখা যায় মানুষের বেদনা। আজ আমাদের অনেকের চোখ খোলা, কিন্তু হৃদয় বন্ধ। আমরা দেখতে পাই ধন-সম্পদ, ক্ষমতা ও বাহ্যিক সাফল্য; কিন্তু দেখতে পাই না ক্ষুধার্ত শিশুর মুখ, অসহায় বৃদ্ধের দীর্ঘশ্বাস কিংবা নির্যাতিত মানুষের কান্না। তাই তো পৃথিবীতে চোখওয়ালা অন্ধ মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে।
‎
‎এই অন্ধত্ব জন্মগত নয়; এটি বিবেকের অন্ধত্ব। যখন মানুষের হৃদয় লোভে আচ্ছন্ন হয়ে যায়, যখন স্বার্থপরতা মানবতাকে গ্রাস করে, তখন সে ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে পারে না। তখন অন্যের কষ্ট তার কাছে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। সে নিজের সুখের জন্য অন্যের জীবনকে ধ্বংস করতেও দ্বিধা করে না। তবে পৃথিবী এখনও পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যায়নি। এখনও কিছু মানুষ আছে, যারা অপরিচিত মানুষের বিপদে এগিয়ে আসে। এখনও কিছু মানুষ আছে, যারা নিজের সুখের চেয়ে অন্যের হাসিকে বড় মনে করে। এখনও কিছু মানুষ আছে, যারা নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে জানে, সাহায্য করতে জানে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে জানে। তারাই এই পৃথিবীর আলো। তারাই মানবতার শেষ আশ্রয়।
‎
‎আমাদের মনে রাখতে হবে, মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার চেহারায় নয়, তার চরিত্রে। মানুষের প্রকৃত শক্তি তার সম্পদে নয়, তার মানবিকতায়। পৃথিবীকে সুন্দর করতে বড় বড় ভবন কিংবা আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন সুন্দর হৃদয়ের।
‎
‎যেদিন আমরা অন্যের কষ্টকে নিজের কষ্ট হিসেবে অনুভব করতে শিখব, যেদিন মানুষের পরিচয় হবে মানুষ—ধনী বা গরিব নয়, শক্তিশালী বা দুর্বল নয়, সেদিনই এই পৃথিবী সত্যিকারের সুন্দর হয়ে উঠবে।
‎
‎ প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর অন্ধত্ব চোখের অন্ধত্ব নয়; সবচেয়ে ভয়ংকর অন্ধত্ব হলো হৃদয়ের অন্ধত্ব। আর যে হৃদয়ে মানবতার আলো জ্বলে না, সে মানুষ চোখ খুলেও অন্ধ হয়ে থাকে।
‎
‎
‎লেখক:
‎কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ, দ্বাদশ শ্রেণি।
‎ গ্রাম:জালুয়াপাড়া, জেলা :কিশোরগঞ্জ, উপজেলা :কিশোরগঞ্জ।

এক টুকরো কৈশোর ✍️ সাওবান আল মামুনআমার সর্বপ্রথম দেখা ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ ছিল '১৮ বিশ্বকাপের ফাইনাল। এর আগে তো নয়ই, পর...
10/08/2026

এক টুকরো কৈশোর
✍️ সাওবান আল মামুন

আমার সর্বপ্রথম দেখা ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ ছিল '১৮ বিশ্বকাপের ফাইনাল। এর আগে তো নয়ই, পরেও '২২-এর ফাইনাল ছাড়া আর কোনো ম্যাচ দেখা হয়নি। ক্রিকেটপ্রেমী হওয়ায় ফুটবল খেলা কিংবা দেখার প্রতি ছোটবেলা থেকেই আমার তেমন কোনো আগ্রহ ছিল না।

তখন ছিলাম নবম শ্রেণিতে। আম্মুর কঠোর শাসনের বেড়াজালে আবদ্ধ ছিল জীবন। ম্যাচ ছিল রাত আটটা কি নয়টার দিকে। দিনের বেলায় প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়াই যেখানে স্বপ্নের মতো ছিল, সেখানে রাতে—ঘোর পড়ার সময়ে—বের হতে দেবেন, তা ছিল কল্পনাতীত। আর খেলা দেখার কথা বললে তো নিস্তারই ছিল না।

তবুও—বিশ্বকাপ তো চার বছর পরপর আসে। এবার মিস করলে আবার কবে? চার বছর পর! পাড়া-পড়শি, গোটা দেশ, এমনকি বিশ্বও মেতে আছে ফাইনালের আনন্দে—এসব চিন্তা ঘুরছিল মাথায়। কোনোমতেই পড়ায় মন বসছিল না।

ঘরে টিভি ছিল না। তখন খেলাধুলার যাবতীয় খবর জানার একমাত্র মাধ্যম ছিল ক্লাসের বন্ধুরা। টিফিনের সময় বা ক্লাসের ফাঁকে তারা বলাবলি করত, “ভাই, কাল রাতে দেখছিলি? মেসি কীভাবে ড্রিবল করল! রোনালদোর ফ্রি-কিকটা সেরা ছিল! অমুক দলের গোলকিপার কী চমকটাই না দেখাল গতকাল...” আমি চুপচাপ তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে শুনতাম, আর কৌতূহলবশত আরও নানা কিছু জেনে নিতাম। চোখ বন্ধ করলে যেন সত্যি সত্যিই সবুজ মাঠ, গ্যালারিভর্তি দর্শক, গোলের পর উন্মাদনা—সবকিছু ভেসে উঠত।

শুধু ফুটবল নয়, ক্রিকেটের আপডেটও তাদের কাছ থেকেই পেতাম। বন্ধুরাই ছিল আমার তখনকার টেলিভিশন। তাদের মুখে শোনা ধারাভাষ্য আর বর্ণনা দিয়েই কল্পনায় এঁকে নিতাম টানটান উত্তেজনার মাঠ, দর্শকদের উন্মাদনা আর গোলের পর উচ্ছ্বাসের দৃশ্য।

এরই মধ্যে মনে মনে একটা পরিকল্পনা এঁটে ফেলেছিলাম—ফাইনাল ম্যাচটা দেখব নুরু আংকেলদের ঘরে। অন্য কোথাও যেতে দেবে না। তাদের সঙ্গে আমাদের সৌজন্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। অনেক চিন্তা-ফিকিরের পর, ভয়ে-ভয়ে শেষমেশ আবদার করেই বসলাম আম্মুর কাছে।

শুনেই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন।
“এই পড়ার সময়ে পড়া ফেলে রাতের বেলা অন্যের বাড়িতে খেলা দেখতে যাবি? এত্ত বড় সাহস!”
।
ধমক শুনে থমকে গেলেও হাল ছাড়িনি। একের পর এক যুক্তি সাজিয়ে চললাম, নানা ফন্দিফিকির করে বোঝাতে লাগলাম। আম্মু আর না পেরে ফোন দিলেন আব্বুকে।

আব্বু সেদিন ঘরে ছিলেন না। আম্মু ফোনে এমনভাবে বললেন, যাতে আব্বুও আমাকে যেতে নিরুৎসাহিত করেন।

পরদিনের ক্লাসের সব পড়া এশার আগেই রেডি করে রেখেছিলাম। কারণ, জানতাম, আব্বু অনুমতি দিন বা না-দিন, ক্লাসের পড়া শেষ হয়েছে কি না, সেটাই আগে জিজ্ঞেস করবেন।

আব্বু প্রথমে না করে দিলেন—পড়া বাদ দিয়ে খেলা দেখার কোনো দরকার নেই। এরপরও অনুনয় করতে থাকায় জিজ্ঞেস করলেন, ক্লাসের পড়া সব রেডি কি না। তারপর তাড়াতাড়ি ফিরে আসার শর্তে অনুমতি মঞ্জুর হলো। অনুমতি মিলতেই বুকের ভেতর যেন আনন্দের আতশবাজি ফুটে উঠল। জগতের তাবৎ আনন্দ যেন এসে জড়িয়ে ধরল আমাকে।

ম্যাচ দেখা শেষে যখন ঘরে ফিরছিলাম, তখন মাথায় শুধু খেলার দৃশ্যগুলোই ঘুরছিল। অনেক রাত পর্যন্ত ঘুম আসেনি। বারবার মনে হচ্ছিল, পরদিন ক্লাসে বন্ধুদের সঙ্গে আমিও ম্যাচ বিশ্লেষণের আলোচনায় যোগ দিতে পারব।

সে রাতটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোর একটি। আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে সেই স্মৃতি। বিশ্বকাপ এলেই সেটি হৃদয়াকাশে জ্বলজ্বল করে ওঠে।

এরপর আরও বিশ্বকাপ এসেছে, আসবে আরও। সময়ের স্রোত আমাকে কৈশোর থেকে তারুণ্যে এনে পৌঁছে দিয়েছে। এখন হয়তো আমার ওপর কৈশোরের সেই বাঁধাধরা নিয়ম নেই। হয়তো আরও অনেক ম্যাচ দেখব। কিন্তু সেই প্রথম ম্যাচ দেখার অনুভূতি, অনুমতি আদায়ের উৎকণ্ঠা, সেই চাপা উত্তেজনা, ভয়-আনন্দের মিশ্রণ, অধীনতার কঠিন দেয়াল ভেঙে পাওয়া ছোট্ট স্বাধীনতার মধুর স্বাদ—সেগুলো কি আর কখনো ফিরে আসবে?
কৈশোরের কিছু মুহূর্ত বোধহয় জীবনে একবারই আসে।

আহ্, কৈশোর!
মনে পড়ে তোমাকে।

‎সমালোচক আমার সখা‎✍️মো. রাশেদুল ইসলাম রাজু‎‎সমালোচকগোষ্ঠী হে! কান পেতে শুনো,‎তোমরা আছো প্রিয় সখাদের তালিকায়।‎পুলকিত হৃদয়...
09/08/2026

‎সমালোচক আমার সখা
‎✍️মো. রাশেদুল ইসলাম রাজু
‎
‎সমালোচকগোষ্ঠী হে! কান পেতে শুনো,
‎তোমরা আছো প্রিয় সখাদের তালিকায়।
‎পুলকিত হৃদয়ে আমি হই উজ্জীবিত,
‎তোমাদের নিত্যনতুন তীব্র সমালোচনায়।
‎
‎গহীন হৃদয় হতে আসা বাক্যগুচ্ছ দিয়ে
‎পরম মমতায় আমি গাহি তোমাদেরই গান।
‎তোমাদের কথামালায় হিংস্রতা না থাকলে
‎আমার জীবন হতো ভীষণ ম্রিয়মাণ।
‎
‎তোমাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আমার শত ‘অপরাধ’,
‎পাড়ায় পাড়ায় রটে যায় আমার সব ‘বিচ্যুতি’।
‎তাই ক্রমশ চলতে থাকি শুদ্ধতার পথে,
‎যেন সমাজের চারদিকে ছড়াতে পারি হেরার জ্যোতি।
‎
‎এই জগতে যত ছিলেন মহাজ্ঞানী মহীয়ান,
‎ছিলেন যত আলোর দিশারী মহৎপ্রাণ,
‎বিষাক্ত সমালোচনায় থেমে যায়নি তাঁদের পথচলা;
‎দূরন্ত, দুর্বার গতিতে ছিল তাঁদের ছুটে চলা।
‎
‎রবের দরবারে কায়মনোবাক্যে করি প্রার্থনা—
‎আমার হৃদয়ও স্পর্শ করুক সেই মহান চেতনা;
‎সমালোচনাকে ভয় নয়, করি যেন আপন,
‎সত্যের পথে কাটুক আমার সমগ্র জীবন।
‎
‎লেখক : সদস্য, প্রিয় রায়পুর
‎

প্রিয় রায়পুরের ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন।
07/08/2026

প্রিয় রায়পুরের ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন।

অবহেলিত সরেঙ্গা ✍️এ.আর রবিউল আলমআনোয়ারার বুকে ছোট্ট এক গ্রাম, সরেঙ্গা তার নাম,সবুজ-শ্যামল ছায়ায় ঘেরা ছিল এক অপরূপ ধাম।পা...
06/08/2026

অবহেলিত সরেঙ্গা
✍️এ.আর রবিউল আলম

আনোয়ারার বুকে ছোট্ট এক গ্রাম, সরেঙ্গা তার নাম,
সবুজ-শ্যামল ছায়ায় ঘেরা ছিল এক অপরূপ ধাম।
পাখির ডাকে ভোর হতো, সন্ধ্যা নামত শান্তির রঙে,
স্বপ্ন বুনত সাধারণ মানুষ সুখের দিনের সঙ্গে।

কিন্তু আজ সেই জনপদে জমেছে কত দীর্ঘশ্বাস!
উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি যেন শুধুই কথার বিলাস।
বছর যায়, সরকার বদলায়, বদলায় কত স্লোগান!
তবুও সরেঙার বুকে জমে আছে বিষাদ-অভিমান।

পথের পরে পথ ভাঙাচোরা, কাদা-জলে ভরা,
দুর্ভোগ যেন নিত্যসাথী, কষ্টের নেই ধরা।
শিশুরা যায় স্কুলের পথে, পা ফেলে ভয়ে ভয়ে,
বৃদ্ধ মানুষ হাঁটতে গিয়ে পড়ে যায় হোঁচট খেয়ে।

নেই কোনো হাসপাতাল, নেই কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা,
অসহায় মানুষের হৃদয় কাঁপে—কী করুণ অবস্থা!
আতঙ্কগ্রস্ত মানুষের চোখে ভাসে প্রাণের মায়া,
এই বুঝি হারিয়ে যাবে জীবনের ছায়া!

সাপমারা খালের বুকে দাঁড়িয়ে ক্লান্ত বাঁশের সাঁকো,
বিপদ যেন ওত পেতে রয়, যেদিকেই তাকাও নাকো।
যুগের পর যুগ কেটে গেল, বদলায়নি কোনো চিত্র,
অবহেলার দীর্ঘ ইতিহাস সরেঙার নিত্য মিত্র।

ভাঙা বেড়িবাঁধের দীর্ঘশ্বাসে ভারী সরেঙার আকাশ,
নদীর গ্রাসে হারায় মানুষ স্বপ্নে গড়া সুখের বাস।
উন্নয়ন আজ বন্দী হয়ে আছে স্বার্থেরই জালে,
জলোচ্ছ্বাসের ভয়ে মানুষ জেগে থাকে রাত্রিকালে।

নতুন সরকার, নতুন শপথ, নতুন দিনের ডাক,
বঞ্চিত জনপদ পাবে কি আজ উন্নয়নের স্বাদ?

সরেঙ্গার পথে ছড়িয়ে পড়ুক অগ্রগতির আলো,
রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে হার মানুক না ভালো।
ভেঙে যাক অবহেলার দেয়াল, জাগুক নতুন প্রাণ,
বাঁশের সাঁকো, ভাঙা বাঁধে উঠুক উন্নয়নের গান।

04/08/2026

সামাজিক মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রিয় রায়পুরের ১০ বছরে পদার্পণ।

এই যাত্রায় যারা পাশে ছিলেন আন্তরিকতা ভালোবাসা নিয়ে সকলে প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

ইলিশের জনপদ গহিরা✍️ মুহাম্মদ রাশেদুল আলমসবুজ-শ্যামল ফসল আর নদীর দেশ বলা হয় বাংলাদেশকে। এই দেশের মানুষ খুবই কর্মঠ এবং পর...
03/08/2026

ইলিশের জনপদ গহিরা
✍️ মুহাম্মদ রাশেদুল আলম

সবুজ-শ্যামল ফসল আর নদীর দেশ বলা হয় বাংলাদেশকে। এই দেশের মানুষ খুবই কর্মঠ এবং পরিশ্রমী। তেমনই অসংখ্য পরিশ্রমী মানুষের বসবাস চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার গহিরা জনপদে। এই জনপদটি ইলিশের জন্য খুবই বিখ্যাত। ইলিশ এবং গহিরা যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। গহিরা এলাকার শত শত পরিবারের সদস্য মৎস্যজীবী। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাছ শিকার করেই জীবিকা নির্বাহ করেন গহিরার অধিকাংশ মানুষ। এই এলাকার মৎস্যজীবীদের মূল ঘাঁটি হলো গহিরার উঠান মাঝির ঘাট আর হাজি খুইল্যা মিয়ার ঘাট। বছরের যে সময়টাতে মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে, সে সময়টুকু ছাড়া বাকি সময়টাতে মাছ শিকারে ব্যস্ত থাকেন এই দুই ঘাটের মাঝিমাল্লারা। বিশেষ করে আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাস এবং আশ্বিন মাসের আংশিক সময়জুড়ে ইলিশের মৌসুমে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে পুরো জনপদ। ইলিশের মৌসুমে এই দুই ঘাট থেকেই প্রায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি ইলিশ বেচাকেনা হয়। এসব ইলিশ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। এমনকি দেশের বাইরেও রপ্তানি হয় গহিরার ইলিশ।

গহিরার এই ঘাট দুটিতে মাছ শিকারের কাজে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসেন অনেক শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে কুতুবদিয়া, কক্সবাজার, রাজাখালী, মহেশখালী, বাঁশখালী, পেকুয়া ও ছনুয়া এলাকার শ্রমিকরা উল্লেখযোগ্য।

এই দুই ঘাটের মাঝিমাল্লারা সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য ব্যবহার করেন সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে ভেসে বেড়াতে সক্ষম এক ধরনের নৌকা, যার নাম ‘সাম্পান’। এই নৌকাগুলোর সামনের দিকটা উঁচু ও বাঁকানো, পেছনের অংশ থাকে সোজা। এগুলো কাঠের তক্তা ও বিভিন্ন অংশ জোড়া দিয়ে তৈরি করা হয়। এসব সাম্পান নিয়ে মাছ ধরেন এই দুই ঘাটের মাঝিমাল্লারা। এরকম আনুমানিক পাঁচশো সাম্পান রয়েছে ঘাট দুটিতে। এই দুই ঘাটের মাঝিমাল্লারা ইলিশ শিকারের জন্য গভীর সমুদ্রে যান না; তাঁরা উপকূল থেকে সর্বোচ্চ চার-পাঁচ নটিক্যাল মাইল দূরে যান।

মধ্য গহিরার বাচা মাঝির ঘাট উঠান মাঝির ঘাট বা হাজি খুইল্যা মিয়ার ঘাটের মতো জমজমাট না হলেও কম ব্যস্ত নয়। এই ঘাটে আছে পঞ্চাশটিরও বেশি সাম্পান। এই ঘাটের মাঝিমাল্লারাও ইলিশ শিকারের জন্য গভীর সমুদ্রে যান না। অপরদিকে পূর্ব গহিরায় রয়েছে বড় বড় ট্রলার। সেখানকার মাঝিমাল্লারা বড় বড় ট্রলারে করে বছরের যেসব সময়ে ইলিশ পাওয়া যায়, সেসব সময়ে ইলিশ শিকার করে থাকেন। এই ট্রলারগুলো মাছ শিকারের জন্য ছুটে যায় গভীর সমুদ্রে। মাঝিমাল্লারা ১০ দিন, ২০ দিন, এমনকি মাঝে মাঝে এক মাসেরও খাবার মজুত রাখেন ট্রলারে। গভীর সমুদ্রে জাল ফেলে ইলিশ শিকার করেন তাঁরা। ইলিশ ছাড়াও তাঁরা বছরের প্রায় পুরো সময়জুড়ে অন্যান্য মাছও শিকার করে থাকেন।

পাশাপাশি উত্তর পরুয়াপাড়া ও দক্ষিণ পরুয়াপাড়া এলাকাজুড়েও বর্তমানে অসংখ্য মৎস্যজীবী রয়েছেন, যাঁরা ইলিশসহ নানা প্রজাতির মাছ শিকার করছেন বহু বছর ধরে। এই দুটি গ্রাম থেকেও বছরে কোটি কোটি টাকার ইলিশ সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়। দক্ষিণ পরুয়াপাড়া এবং উত্তর পরুয়াপাড়া গ্রাম দুটিও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে গহিরা নামেই পরিচিত।

দেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশ আহরণে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন গহিরার মৎস্যজীবীরা। কিন্তু সমুদ্রে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আজও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। সমুদ্রে তাঁরা যেসব ঝুঁকির সম্মুখীন হন, তার মধ্যে অন্যতম হলো জলদস্যুদের আক্রমণ। জলদস্যুরা শিকার করা মাছ, মাছ ধরার সরঞ্জাম ও অন্যান্য সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়; এমনকি অনেক সময় মাঝিমাল্লাদের হত্যাও করে। এ ছাড়া বড় বড় জাহাজের বেপরোয়া চলাচলের কারণে মাছ ধরার জাল ও বিভিন্ন সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি হয়। কখনও কখনও সাম্পান ডুবে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। ফলে যেকোনো দুর্ঘটনায় সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন অনেক মৎস্যজীবী।

রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সমুদ্রে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে এ অঞ্চলের মৎস্যজীবীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে মাছ শিকার করতে পারবেন এবং দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

চট্টগ্রাম জেলা শহর থেকে শাহ আমানত সেতু অতিক্রম করে আনোয়ারা চৌমুহনী পর্যন্ত এসে সিএনজি অটোরিকশাযোগে সরাসরি গহিরায় পৌঁছানো যায়। এ ছাড়া পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত থেকে কর্ণফুলী টানেল পেরিয়ে আনোয়ারার কান্তিরহাটে নেমে সেখান থেকে সিএনজিযোগেও সহজেই গহিরায় যাওয়া সম্ভব।
ইলিশের জনপদ হিসেবে খ্যাত গহিরার মানুষ যেমন পরিশ্রমী, তেমনি অত্যন্ত সরল, আন্তরিক ও অতিথিপরায়ণ। দেশের মৎস্য অর্থনীতিতে তাঁদের অবদান নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

লেখক :
নির্বাহী পরিচালক, দেশিটিউব ও
সদস্য, প্রিয় রায়পুর

‎শিশু-কিশোরদের অনলাইন আসক্তি: মেধাশূন্য জাতির আশঙ্কা✍️‎মুহাম্মদ ইরফান উদ্দীন‎‎শৈশব মানুষের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও গুরুত্...
02/08/2026

‎শিশু-কিশোরদের অনলাইন আসক্তি: মেধাশূন্য জাতির আশঙ্কা
✍️‎মুহাম্মদ ইরফান উদ্দীন
‎
‎শৈশব মানুষের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ সময়। ‘শৈশব’ শব্দটি শুনলেই মনে নির্মল আনন্দের অনুভূতি জাগে। শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের অমূল্য সম্পদ। অথচ আজ তাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ ভয়াবহ হুমকির মুখে। ইন্টারনেটের আগ্রাসী প্রভাবে সমাজের নানা শ্রেণির মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর সবচেয়ে ভয়াবহ শিকার হচ্ছে শিশু ও কিশোররা।
‎
‎ইন্টারনেটের প্রভাব ও শিশু-কিশোরদের আসক্তি
‎বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া আধুনিক জীবনে গতিশীলতা আনা প্রায় অসম্ভব। ইন্টারনেটের যেমন অসংখ্য ইতিবাচক দিক রয়েছে, তেমনি এর কিছু নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। তাই এর নিরাপদ ও সচেতন ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। ইন্টারনেট মানবসভ্যতার এক বিস্ময়কর আবিষ্কার হলেও বর্তমান প্রজন্ম দ্রুত এর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। দুই যুগ আগেও শিশু-কিশোরদের খেলার সঙ্গী ছিল সমবয়সী বন্ধু, মাঠ-ঘাট, পুতুল, মাটির হাঁড়ি-পাতিল কিংবা বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খেলা। কিন্তু বর্তমানে তাদের খেলার জগৎ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে মোবাইল ফোন, কার্টুন, ইউটিউব, ভিডিও গেম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এখন শিশুরা কান্না করলে তাদের শান্ত করার সহজ উপায় হিসেবে অভিভাবকরা হাতে তুলে দেন স্মার্টফোন। “বাবু, কান্না করো না, টিকটক দেখো, কার্টুন দেখো”এভাবেই শুরু হয় তাদের মোবাইল-আসক্তি। ধীরে ধীরে এই আসক্তি ভয়ংকর রূপ নেয়। অনেক শিশু-কিশোর অনলাইন গেম, অনলাইন জুয়া কিংবা অনৈতিক কনটেন্টে জড়িয়ে পড়ে, যা তাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। যে বয়সে শিশুদের বই পড়া, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে মনোযোগী হওয়ার কথা, সে বয়সে তারা ভার্চুয়াল জগতে ডুবে যাচ্ছে। ফলে তারা পড়ালেখায় অমনোযোগী হয়ে পড়ছে, মনোসংযোগ হারাচ্ছে এবং ধীরে ধীরে বইবিমুখ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে জাতি ভয়াবহ মেধা-সংকটে পড়তে পারে।
‎
‎সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন আসক্তির নেতিবাচক প্রভাব ‎বর্তমান তরুণ প্রজন্ম ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশাল তথ্যভান্ডারে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু সচেতনতার অভাবে অনেকেই এর অপব্যবহারের শিকার হচ্ছে। অনেক সময় কেউ একটি ভালো ওয়েবসাইট বা শিক্ষামূলক পেজে প্রবেশ করলেও বিভিন্ন বিজ্ঞাপন ও অনাকাঙ্ক্ষিত লিংকের মাধ্যমে ক্ষতিকর কনটেন্টের দিকে আকৃষ্ট হয়। বয়সজনিত কৌতূহল থেকে তারা এসব লিংকে প্রবেশ করে এবং একসময় আসক্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে অনলাইন জুয়া, ভিডিও গেম কিংবা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ‎গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৬৪ জন প্রতিদিন গড়ে চার ঘণ্টার বেশি সময় কোনো না কোনো স্ক্রিনের সামনে কাটায়। প্রযুক্তির অপব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে পৃথিবীতে প্রতিদিন ৭০০ মানুষ আত্মহত্যা করছে। বাংলাদেশেও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১২ কোটি ৬১ লাখ। একটি বেসরকারি গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৬০ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাকিং, ব্ল্যাকমেইল, ভুয়া পরিচয়ে হয়রানি ও প্রতারণার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ (UNICEF) পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের ১৩ শতাংশ শিশু-কিশোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানির শিকার হয়েছে। একাধিকবার হয়রানির শিকার হয়েছে ৩.৬ শতাংশ শিক্ষার্থী।
‎
‎সমাধানের উপায় ও অভিভাবকদের ভূমিকা
‎ইন্টারনেটের অপব্যবহার রোধে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সবচেয়ে বেশি সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের শিক্ষা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। ‎মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন আসক্তি কমাতে অভিভাবকদের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র বকাঝকা করা বা স্মার্টফোন কেড়ে নেওয়া সমস্যার সমাধান নয়; বরং এতে উল্টো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। ‎অভিভাবকদের আগে বুঝতে হবে কেন সন্তান অনলাইনে আসক্ত হয়ে পড়ছে। শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে তাদের জন্য বিকল্প বিনোদন ও খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। পরিবারের সদস্যদেরও অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার কমাতে হবে, যাতে শিশুরা ইতিবাচক অনুপ্রেরণা পায়।
‎পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে সময় কাটানো, ভ্রমণে যাওয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে তারা ভার্চুয়াল জগতের পরিবর্তে বাস্তব জীবনের সম্পর্ক ও আনন্দের প্রতি আকৃষ্ট হবে। যদি এখনই সচেতন হওয়া না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের শিশু-কিশোররা মেধাহীন ও আত্মকেন্দ্রিক প্রজন্মে পরিণত হতে পারে। তারা একসময় পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। তাই সন্তানদের সুস্থ মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
‎
‎শেষ কথা
‎শিশু-কিশোরদের সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সচেতনতা, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং পারিবারিক বন্ধনই পারে আমাদের নতুন প্রজন্মকে অনলাইন আসক্তির ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে। তবেই আমরা একটি সুন্দর, সুস্থ ও মেধাবী সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।
‎
‎তথ্য সংগ্রহ: ওয়ার্ল্ড ইন্টারনেট কনফারেন্স,
‎বাংলা ট্রিবিউন, এনটিভি, অ্যাকশনএইড, বিবিএস, বিবিসি নিউজ।
‎
‎লেখক: সদস্য, প্রিয় রায়পুর।
‎

‎প্রিয় রায়পুর‎✍️আরিফুল বশর‎‎সাঙ্গুর কলতানে জাগে যেথা ভোর,‎সরেঙ্গার বুকে বয়ে যায় জীবনের সুর;‎ভাঙা-গড়ার খেলাতেও আশা থাকে অ...
01/08/2026

‎প্রিয় রায়পুর
‎✍️আরিফুল বশর
‎
‎সাঙ্গুর কলতানে জাগে যেথা ভোর,
‎সরেঙ্গার বুকে বয়ে যায় জীবনের সুর;
‎ভাঙা-গড়ার খেলাতেও আশা থাকে অটল, তরুণেরা গড়ে তোলে ঐক্যের দৃঢ় বল।
‎
‎সাগরছোঁয়া গহিরায় রূপালি ইলিশের মেলা, লবণাক্ত বাতাসে যেন জলপরীর খেলা; বঙ্গোপসাগরের ঢেউ এসে ছুঁয়ে যায় তীর, জেলেদের স্বপ্ন বোনে সাগরের নীর।
‎
‎গহিরার বুকে আছে প্যারাবনের ছায়া,
‎"মিনি সুন্দরবন" নামে যার অপার মায়া;
‎সবুজের নিবিড়তায় জেগে ওঠে প্রাণ,
‎প্রকৃতির কোলে মেলে শান্তির সন্ধান।
‎
‎পরুয়া পাড়ার তীরে বালুচরে নামে মেলা,
‎ফুলতলী সৈকতে চলে জল-পবনের খেলা;
‎দিগন্তের টানে আসে পর্যটকের সারি,
‎সাঁঝের স্নিগ্ধতায় জুড়ায় ক্লান্ত প্রাণভারি
‎
‎এই ভূমিতেই জেগে আছে পবিত্র স্মৃতি,
‎আহমদ হাসান (র.)-বেলায়াতের দীপ্ত জ্যোতি;
‎তার দরবারে মেলে শান্তি প্রশান্তির ছোঁয়া,
‎রূহানি সুধায় ভরে ওঠে পরুয়া পাড়ার মায়া।
‎
‎চুন্নাপাড়ার ডাকঘরে চিঠির ভিড় জমে,
‎খামে খামে ভালোবাসা হৃদয়ে এসে নামে;
‎দূরদেশের খবর আসে হৃদয়ের টানে,
‎মানুষে মানুষে বন্ধন গড়ে অটুট প্রানে।
‎
‎রায়পুর-ইউনিয়নের প্রাণ, ঐতিহ্যের ধারা,
‎পরিষদ, স্কুল, মাদ্রাসা-জ্ঞানচর্চার সাড়া;
‎আলোকিত প্রাঙ্গণে গড়ে ওঠে স্বপ্নের গান,
‎শিক্ষা আর সংস্কৃতিতে এগিয়ে চলে প্রাণ।
‎
‎এই মাটির সন্তান ছড়ায় জ্ঞানের দান,
‎দেশ-বিদেশে গড়ে তোলে রায়পুরের মান; ম্যাজিস্ট্রেট, ডাক্তার, পুলিশ-দৃপ্ত পরিচয়,
‎মেধার আলোয় আলোকিত তাদের জয়।
‎
‎লন্ডন, চীন, কোরিয়ার দূর আকাশপানে,
‎স্কলাররা হাসে আজ বিজয়ের গানে;
‎পরবাসেও বুকে রাখে মাটির টান,
‎রায়পুরই তাদের গর্ব, তাদের প্রাণ।
‎
‎প্রবাসের পথে যারা পাড়ি দিয়েছে দূর,
‎মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপে গড়েছে জীবনের সুর;
‎ঘামে ভেজা দিনে, নির্ঘুম রাত পেরিয়ে,
‎পরিবারের স্বপ্ন তারা বুনে চলে নীরবে।
‎
‎তাদের পাঠানো টাকায় জ্বলে ঘরের আলো,
‎হাসে মা-বাবা, ঘুচে জীবনের কালো;
‎রাস্তা, ঘর, শিক্ষা-সবখানে তাদের ছোঁয়া,
‎প্রবাসীর ভালোবাসায় রায়পুর জেগে ওঠা।
‎
‎"প্রিয় রায়পুর"-মানবতার আলোকশিখা,
‎সেবা আর উন্নয়নে এগিয়ে চলে দীক্ষা;
‎সংহতি, শিক্ষা, ভালোবাসার মিছিলে ধরা,
‎দীপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে চলে রায়পুর সারা।
‎

Address

৩নং রায়পুর ইউনিয়ন, আনোয়ারা, চট্টগ্রাম।
Chittagong

Telephone

+97470948808

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when প্রিয় রায়পুর posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share