11/09/2026
একজন চালক, একটি রেলব্যবস্থা এবং একটি দেশের গল্প।
১৯৯২ সালে হান চুনজিয়া যখন মাত্র ৪০ মাইল গতির কয়লা-ধোঁয়া ছড়ানো বাষ্পীয় ইঞ্জিনের চালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন, তখন চীনের রেলব্যবস্থা আজকের চীন থেকে বহু দূরে।
২৫ বছর পর সেই একই মানুষ ২১৭ মাইল গতির বুলেট ট্রেন চালাচ্ছেন।
আর তাঁর কর্মজীবনের এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে পুরো দেশের রেলব্যবস্থাও।
এখানে আসল গল্পটি শুধু একজন চালকের নয়।
এটি একটি রাষ্ট্রের পরিবর্তনের গল্প।
একটি দেশ যখন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে, প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করে, অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দেয় এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই লক্ষ্যের দিকে এগোয়, তখন পরিবর্তন শুধু রেললাইনে আসে না, মানুষের জীবন ও সক্ষমতার মধ্যেও তার ছাপ পড়ে।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করতে গেলে অবশ্যই ইতিহাস, অর্থনীতি, জনসংখ্যা, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার পার্থক্য বিবেচনায় নিতে হবে। তবু একটি প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া কঠিন।
আমাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কি রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে?
আমাদের নেতাদের অনেকের রাজনৈতিক বয়স ৪০-৫০ বছর।
কিন্তু এত দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পরও কেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, নগর ব্যবস্থাপনা, গবেষণা কিংবা কর্মসংস্থানে আমরা বারবার একই সমস্যার সামনে দাঁড়াই?
ক্ষমতা বদলায়, সরকার বদলায়, স্লোগান বদলায়।
কিন্তু নাগরিকের মৌলিক সমস্যাগুলোর অনেকগুলো যেন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে।
সমস্যা কি শুধু রাজনীতিবিদদের?
নাকি আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃতিতেও বড় ঘাটতি রয়েছে?
৪০ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা যদি ৪০ বছরের রাষ্ট্রীয় অগ্রগতিতে রূপ না নেয়, তবে সেই অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন কীভাবে হবে?
প্রশ্নটা কোনো একটি দলের বিরুদ্ধে নয়।
প্রশ্নটা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কাছে।
কারণ একটি দেশের সাফল্য শুধু কে কত বছর ক্ষমতায় ছিল, তার হিসাব নয়।
একটি প্রজন্ম পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কী রেখে গেল, সেটিই শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের বড় প্রশ্ন।
— ব্লগবাড়ি | Blogbari