16/09/2025
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও সর্ববৃহৎ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা ১৯২১ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টগ (Philip Joseph Hartog)।তিনি ১৯২১ সালের ১ জুলাই থেকে ১৯২৫ সাল পর্যন্ত উপাচার্য ছিলেন।
বর্তমানে এখানে ১৩টি অনুষদ, ৮০টির বেশি বিভাগ ও প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার পাশাপাশি এটি ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি বিদ্যাপীঠ নয়, বরং জাতির ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র।
আবাসনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় বিশটিরও বেশি হল রয়েছে। ছেলেদের জন্য সালিমুল্লাহ মুসলিম হল, শহীদুল্লাহ হল, ফজলুল হক হল, জগন্নাথ হল, ইকবাল হলসহ একাধিক হল রয়েছে। মেয়েদের জন্য রোকেয়া হল, শামসুন নাহার হলসহ আরও কয়েকটি হল রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ একাডেমিক গ্রন্থাগার। বর্তমানে এখানে প্রায় ছয় লক্ষাধিক বই, ত্রিশ হাজারের বেশি পাণ্ডুলিপি ও বহু দুর্লভ গ্রন্থ রয়েছে। এটি তিনটি অংশে বিভক্ত—কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, সায়েন্স লাইব্রেরি ও আইন গ্রন্থাগার। আধুনিক গবেষণার জন্য এখানে ডিজিটাল ক্যাটালগ ও ই-লাইব্রেরি সুবিধা চালু আছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে একাধিক ভাস্কর্য স্থাপন করা আছে, যেগুলো শুধু শিল্পমানেই নয়, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যেও সমৃদ্ধ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্যগুলো শুধু নান্দনিক নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংগ্রামের প্রতীক। কলাভবনের সামনে থাকা অপরাজেয় বাংলা (১৯৭৯, নভেরা আহমেদ ও হামিদুর রহমান) মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামী চেতনার প্রতীক। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে স্থাপিত স্বোপার্জিত স্বাধীনতা (১৯৯০, সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ) মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র-শিক্ষক ও জনগণের আত্মত্যাগ স্মরণ করায়। টিএসসি এলাকায় অবস্থিত রাজু ভাস্কর্য (১৯৯৭, মৃণাল হক) শহীদ মিছির আলী রাজুর স্মৃতির মাধ্যমে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের প্রতীক হয়ে আছে। এছাড়া স্মারক চিরঞ্জীব শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হককে, আর মধুমালা নান্দনিকতা ও শিল্পচেতনার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। পাশাপাশি বন্যার্ত মানুষ ও শহীদ মিনারের প্রতিরূপ আমাদের জাতির বেদনাময় ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে উপস্থাপন করে।