14/05/2026
ইপসা-র উঠান বৈঠকের মাধ্যমে এসআরএইচআর বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রম শুরু
ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (ইপসা) কর্তৃক বাস্তবায়িত “বাংলাদেশে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (SRHR) উন্নীতকরণ এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা জোরদারকরণ” প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকার এক্সেন কলোনিতে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা এবং হেলথব্রিজ ফাউন্ডেশন অব কানাডার সহযোগিতায় পরিচালিত এ প্রকল্পটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রিভেনশন অব সেপটিক অ্যাবরশন, বাংলাদেশ (BAPSA), মমতা (MAMATA) এবং ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (YPSA)।
প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত ওয়ার্ডসমূহে কিশোর-কিশোরী, যুব নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এসআরএইচআর সেবা বিষয়ে তথ্য প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
উঠান বৈঠকে স্থানীয় নারী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে কৈশোরকালীন শারীরিক পরিবর্তন, প্রজননতন্ত্র, মাসিক ও মানব জন্মের রহস্য, বাল্যবিবাহ, নিরাপদ মাতৃত্ব, পুষ্টি, অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ ও এমআর, পরিবার পরিকল্পনা এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও অংশগ্রহণকারীদের নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় এসআরএইচআর সেবা গ্রহণের জন্য রেফারেল সুবিধা সম্পর্কে অবহিত করা হয়। প্রকল্পের আওতায় সকল উঠান বৈঠকের অংশগ্রহণকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা গ্রহণের জন্য রেফারেল সুবিধা প্রদান করা হবে।
অংশগ্রহণকারীদের নিজ নিজ বন্ধু-বান্ধব, পরিবার ও প্রতিবেশীদের এসআরএইচআর বিষয়ে সচেতন করা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে উৎসাহিত করার আহ্বান জানানো হয়।
ইপসা প্রকল্প কর্মকর্তা জানান, প্রতি মাসে ১০টি করে উঠান বৈঠক আয়োজন করা হবে। প্রকল্পের পুরো সময়কালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৭০০টিরও বেশি উঠান বৈঠক, অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা, এবং ৬০টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৮০ জন শিক্ষকের সহায়তায় এসআরএইচআর বিষয়ে ২৮৮০০ জন শিক্ষার্থীদের সাথে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়াও ৭৫ জন পিয়ার এডুকেটরের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩০০টি সেশন পরিচালনা করে প্রায় ৪৫,০০০ কিশোর-কিশোরীর কাছে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, কুসংস্কার দূরীকরণ এবং নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে জনগণকে উৎসাহিত করা হবে।
উঠান বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে এর ধারাবাহিক বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। উল্লেখ্য উক্ত প্রজেক্টের কার্যক্রম মার্চ ২০৩০ পর্যন্ত পরিচালিত হবে।